০৪:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

৫০ ওভারে ৮২২ রানের পাহাড়, প্রতিপক্ষ ২৮ রানে অলআউট — স্করপিয়ন্সের অভূতপূর্ব জয়

জিম্বাবুয়ের ঘরোয়া এক ম্যাচে ৫০ ওভারে ৮২২ রানের অভূতপূর্ব সংগ্রহ করে ক্রিকেট বিশ্বকে চমকে দিয়েছে স্করপিয়ন্স ক্রিকেট ক্লাব। ম্যাচটি লিস্ট ‘এ’ বা আন্তর্জাতিক মর্যাদা পায়নি, তবু এক দলের এত বিশাল স্কোর আর প্রতিপক্ষের আকাশছোঁয়া ধস—দুটোই এক সঙ্গে ঘটায় ক্রিকেট প্রেমীদের মধ্যে তীব্র চর্চা।

স্করপিয়ন্সের এই রীতিমতো ব্যাটিং তাণ্ডবের নেতৃত্ব দেন দুই ওপেনার—তাকুন্ডা মাদেম্বো এবং উইনফেড মাতেন্ডে। ইনিংসের শুরু থেকেই চাপে রেখে মাদেম্বো খেলেন ১৪৩ বলের মধ্যে ৩০২ রানের অসাধারণ এক ইনিংস, যেখানে ৫০টি চার এবং ৭টি ছক্কার মার ছিল। তাঁর সঙ্গে মাতেন্ডে ছিলেন ততটাই বিধ্বংসী; মাত্র ৭৫ বল খেলে ২০৩ রানের মৌসুমী সেঞ্চুরি তুলে নেন, যার মধ্যে ছিল ২৩টি চার ও ১৩টি ছক্কা। এই দমবন্ধ করা শুরু থেকেই রানের গতি কমেনি।

ওপেনাররা গেলে মধ্যঅর্ডারের ব্যাটাররাও খেলায় প্রাণ ফিরিয়ে আনেন। তিন নম্বরে নামা ভিনসেন্টে মোয়ো ৩৯ বলে ঝোড়ো ৭৮ রান করেন। ইনিংসের শেষ দিকে গ্যাব্রিয়েল জায়া মাত্র ৪৯ বলে ১১০ রানে অপরাজিত থেকে দলের সর্বশেষ জাদু বার্তা যোগ করেন। নির্ধারিত ৫০ ওভারের শেষে স্করপিয়ন্স ৪ উইকেটে ৮২২ রানে থামে—একটি আশ্চর্যজনক দলীয় সাফল্য। পুরো ইনিংসে পারফরম্যান্স দেখে মনে হচ্ছিল উইকেটটা ব্যাটিং-বান্ধব; বোলারদের পক্ষে অনেক কিছুই করা সম্ভব হয়নি।

কিন্তু ম্যাচে মোচড় আসে দ্বিতীয় ইনিংসে। ৮২২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মিথেন লায়ন্স একের পর এক ধাক্কা খেতে থাকে। প্রথম ইনিংসে পিচ ব্যাটিং বান্ধব মনে হলেও দ্বিতীয় ইনিংসে সেটিই বোলারদের দাপটে বদলে যায়—মিথেনের ব্যাটাররা খেলতে না পারতেই রানের খাতা প্রায় খালি থেকে যায়। একের পর এক উইকেট হারিয়ে তারা মাত্র ২৮ রানে অলআউট হয়ে যায়, যা কোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে বিরল ও কড়া পরাজয় হিসেবে রেকর্ডে যায়।

ফলশ্রুতিতে স্করপিয়ন্স ক্রিকেট ক্লাব অর্জন করে ৭৯৪ রানের অসাধারণ ব্যবধানের জয়। যদিও ম্যাচটি আন্তর্জাতিক কিংবা লিস্ট ‘এ’ মর্যাদা বহন করে না, তবু একই ম্যাচে ব্যক্তিগত সেঞ্চুরি, ডাবল সেঞ্চুরি, ট্রিপল সেঞ্চুরি এবং দলীয় অস্বাভাবিক স্কোর—এসব মিলিয়ে ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

এই ম্যাচটি আবারও স্মরণ করিয়ে দিল যে ক্রিকেটে কোনোটাই স্থায়ী নয়—একই উইকেটে নির্দিষ্ট দিনে পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে এবং কোনো রেকর্ডই দীর্ঘসময় নিরাপদে থাকবে না।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

৫০ ওভারে ৮২২ রানের পাহাড়, প্রতিপক্ষ ২৮ রানে অলআউট — স্করপিয়ন্সের অভূতপূর্ব জয়

প্রকাশিতঃ ১০:৩৭:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

জিম্বাবুয়ের ঘরোয়া এক ম্যাচে ৫০ ওভারে ৮২২ রানের অভূতপূর্ব সংগ্রহ করে ক্রিকেট বিশ্বকে চমকে দিয়েছে স্করপিয়ন্স ক্রিকেট ক্লাব। ম্যাচটি লিস্ট ‘এ’ বা আন্তর্জাতিক মর্যাদা পায়নি, তবু এক দলের এত বিশাল স্কোর আর প্রতিপক্ষের আকাশছোঁয়া ধস—দুটোই এক সঙ্গে ঘটায় ক্রিকেট প্রেমীদের মধ্যে তীব্র চর্চা।

স্করপিয়ন্সের এই রীতিমতো ব্যাটিং তাণ্ডবের নেতৃত্ব দেন দুই ওপেনার—তাকুন্ডা মাদেম্বো এবং উইনফেড মাতেন্ডে। ইনিংসের শুরু থেকেই চাপে রেখে মাদেম্বো খেলেন ১৪৩ বলের মধ্যে ৩০২ রানের অসাধারণ এক ইনিংস, যেখানে ৫০টি চার এবং ৭টি ছক্কার মার ছিল। তাঁর সঙ্গে মাতেন্ডে ছিলেন ততটাই বিধ্বংসী; মাত্র ৭৫ বল খেলে ২০৩ রানের মৌসুমী সেঞ্চুরি তুলে নেন, যার মধ্যে ছিল ২৩টি চার ও ১৩টি ছক্কা। এই দমবন্ধ করা শুরু থেকেই রানের গতি কমেনি।

ওপেনাররা গেলে মধ্যঅর্ডারের ব্যাটাররাও খেলায় প্রাণ ফিরিয়ে আনেন। তিন নম্বরে নামা ভিনসেন্টে মোয়ো ৩৯ বলে ঝোড়ো ৭৮ রান করেন। ইনিংসের শেষ দিকে গ্যাব্রিয়েল জায়া মাত্র ৪৯ বলে ১১০ রানে অপরাজিত থেকে দলের সর্বশেষ জাদু বার্তা যোগ করেন। নির্ধারিত ৫০ ওভারের শেষে স্করপিয়ন্স ৪ উইকেটে ৮২২ রানে থামে—একটি আশ্চর্যজনক দলীয় সাফল্য। পুরো ইনিংসে পারফরম্যান্স দেখে মনে হচ্ছিল উইকেটটা ব্যাটিং-বান্ধব; বোলারদের পক্ষে অনেক কিছুই করা সম্ভব হয়নি।

কিন্তু ম্যাচে মোচড় আসে দ্বিতীয় ইনিংসে। ৮২২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মিথেন লায়ন্স একের পর এক ধাক্কা খেতে থাকে। প্রথম ইনিংসে পিচ ব্যাটিং বান্ধব মনে হলেও দ্বিতীয় ইনিংসে সেটিই বোলারদের দাপটে বদলে যায়—মিথেনের ব্যাটাররা খেলতে না পারতেই রানের খাতা প্রায় খালি থেকে যায়। একের পর এক উইকেট হারিয়ে তারা মাত্র ২৮ রানে অলআউট হয়ে যায়, যা কোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে বিরল ও কড়া পরাজয় হিসেবে রেকর্ডে যায়।

ফলশ্রুতিতে স্করপিয়ন্স ক্রিকেট ক্লাব অর্জন করে ৭৯৪ রানের অসাধারণ ব্যবধানের জয়। যদিও ম্যাচটি আন্তর্জাতিক কিংবা লিস্ট ‘এ’ মর্যাদা বহন করে না, তবু একই ম্যাচে ব্যক্তিগত সেঞ্চুরি, ডাবল সেঞ্চুরি, ট্রিপল সেঞ্চুরি এবং দলীয় অস্বাভাবিক স্কোর—এসব মিলিয়ে ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

এই ম্যাচটি আবারও স্মরণ করিয়ে দিল যে ক্রিকেটে কোনোটাই স্থায়ী নয়—একই উইকেটে নির্দিষ্ট দিনে পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে এবং কোনো রেকর্ডই দীর্ঘসময় নিরাপদে থাকবে না।