০৩:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্তে দেশের মানুষ পানির ন্যায্য অংশ থেকে বঞ্চিত: মির্জা ফখরুল

ঐতিহাসিক ফারাক্কা দিবস উপলক্ষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আওয়ামী লীগের কারণে দেশের মানুষ পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। ১৬ মে প্রকাশিত এক বাণীতে তিনি দাবি করেন, ভারতের ফারাক্কা বাঁধ চালুর অনুমতি দিয়ে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার দেশের স্বার্থ উপেক্ষা করেছে এবং তার ফলাফল আজও দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ভয়াবহভাবে দেখা যাচ্ছে।

মির্জা ফখরুল বর্ণনা করেন, ১৯৭৬ সালের ১৬ মে মজলুম জননেতা মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ডাকে সারাদেশ থেকে লাখো মানুষ গঙ্গার পানির ন্যায্য অংশ আদায়ের দাবিতে ফারাক্কার উদ্দেশ্যে ঐতিহাসিক লং মার্চে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ওই আন্দোলনের মাধ্যমে ফারাক্কার বিষয়ে জনমানস ও আন্তর্জাতিক মনোযোগ সৃষ্টি হয়েছিল।

তিনি বলেন, ভারতের ফারাক্কা পয়েন্টে বাঁধ নির্মাণ ও তার অপারেশন অব্যাহত রাখায় বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল প্রায় মরুভূমিতে পরিণত হওয়ার উপক্রম করেছে। নদীর স্রোত পরিবর্তিত হওয়ায় সেখানে পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে, মাটি ও জলাভূমি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে এবং জীববৈচিত্র্য বিপন্ন হয়েছে।

বিএনপি মহাসচিব আরও অভিযোগ করেন যে, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশগত ঝুঁকি উপেক্ষা করে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার পরীক্ষামূলকভাবে ফারাক্কা বাঁধ চালুর অনুমতি দেয়, যার ফল এখন ‘‘মরণফাঁদ’’র মতো প্রকট হয়ে উঠেছে।

ফখরুল আরো বলেন, ভারত আন্তর্জাতিক আইন ও বিভিন্ন কনভেনশনকে তোয়াক্কা না করে বাংলাদেশে প্রবাহিত ৫৪টি অভিন্ন নদীতে একের পর এক বাঁধ নির্মাণ করছে এবং একতরফাভাবে পানি প্রত্যাহার করছে, যা বাংলাদেশের টেকসই জীবিকা ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি।

তিনি স্মরণ করান, মাওলানা ভাসানী শুধু ভারতের কাছে প্রতিবাদ জানাননি, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনের মাধ্যমে বিষয়টি বিশ্ব সম্প্রদায়ের নজরেও এনেছিলেন এবং সেখান থেকেই ফারাক্কার বিরূপ প্রভাব আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত হতে থাকে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ফারাক্কা দিবস আজও প্রাসঙ্গিক এবং যে কোনো অধিকার আদায়ের সংগ্রামে জনগণকে অনুপ্রাণিত করে। তিনি এ উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্তে দেশের মানুষ পানির ন্যায্য অংশ থেকে বঞ্চিত: মির্জা ফখরুল

প্রকাশিতঃ ০৭:২৫:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

ঐতিহাসিক ফারাক্কা দিবস উপলক্ষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আওয়ামী লীগের কারণে দেশের মানুষ পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। ১৬ মে প্রকাশিত এক বাণীতে তিনি দাবি করেন, ভারতের ফারাক্কা বাঁধ চালুর অনুমতি দিয়ে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার দেশের স্বার্থ উপেক্ষা করেছে এবং তার ফলাফল আজও দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ভয়াবহভাবে দেখা যাচ্ছে।

মির্জা ফখরুল বর্ণনা করেন, ১৯৭৬ সালের ১৬ মে মজলুম জননেতা মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ডাকে সারাদেশ থেকে লাখো মানুষ গঙ্গার পানির ন্যায্য অংশ আদায়ের দাবিতে ফারাক্কার উদ্দেশ্যে ঐতিহাসিক লং মার্চে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ওই আন্দোলনের মাধ্যমে ফারাক্কার বিষয়ে জনমানস ও আন্তর্জাতিক মনোযোগ সৃষ্টি হয়েছিল।

তিনি বলেন, ভারতের ফারাক্কা পয়েন্টে বাঁধ নির্মাণ ও তার অপারেশন অব্যাহত রাখায় বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল প্রায় মরুভূমিতে পরিণত হওয়ার উপক্রম করেছে। নদীর স্রোত পরিবর্তিত হওয়ায় সেখানে পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে, মাটি ও জলাভূমি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে এবং জীববৈচিত্র্য বিপন্ন হয়েছে।

বিএনপি মহাসচিব আরও অভিযোগ করেন যে, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশগত ঝুঁকি উপেক্ষা করে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার পরীক্ষামূলকভাবে ফারাক্কা বাঁধ চালুর অনুমতি দেয়, যার ফল এখন ‘‘মরণফাঁদ’’র মতো প্রকট হয়ে উঠেছে।

ফখরুল আরো বলেন, ভারত আন্তর্জাতিক আইন ও বিভিন্ন কনভেনশনকে তোয়াক্কা না করে বাংলাদেশে প্রবাহিত ৫৪টি অভিন্ন নদীতে একের পর এক বাঁধ নির্মাণ করছে এবং একতরফাভাবে পানি প্রত্যাহার করছে, যা বাংলাদেশের টেকসই জীবিকা ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি।

তিনি স্মরণ করান, মাওলানা ভাসানী শুধু ভারতের কাছে প্রতিবাদ জানাননি, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনের মাধ্যমে বিষয়টি বিশ্ব সম্প্রদায়ের নজরেও এনেছিলেন এবং সেখান থেকেই ফারাক্কার বিরূপ প্রভাব আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত হতে থাকে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ফারাক্কা দিবস আজও প্রাসঙ্গিক এবং যে কোনো অধিকার আদায়ের সংগ্রামে জনগণকে অনুপ্রাণিত করে। তিনি এ উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন।