০৩:৫০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

শাহজালালে ফ্রি ওয়াই-ফাই চালু — একযোগে প্রায় ৩৭,৫০০ যাত্রী পাবেন উচ্চগতির ইন্টারনেট

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আধুনিক সেবার আরও একটি প্রতীকী পদক্ষেপ হিসেবে ফ্রি ওয়াই-ফাই সেবা আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়েছে। আজ রোববার (১৭ মে) দুপুর ২টায় বিমানবন্দরের আয়োজিত অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম এই নতুন ডিজিটাল সেবার শুভ সূচনা করেন।

মন্ত্রী বলেন এটি বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখিত ‘সবার জন্য দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট’ নিশ্চিত করার অঙ্গ হিসেবে নেওয়া একটি উদ্যোগ, যা যাত্রীসেবার মান বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিমান প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টাকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান। অনুষ্ঠানেও ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম ও উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রায় ৯৪ হাজার বর্গমিটার এলাকা জুড়ে এই শক্তিশালী ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করা হয়েছে। টার্মিনাল-১, টার্মিনাল-২, অভ্যন্তরীণ টার্মিনাল ছাড়াও ভিআইপি ও ভিভিআইপি টার্মিনাল এবং যাত্রী সুবিধার্থে কার পার্কিং অঞ্চলেও কাভারেজ নিশ্চিত করা হয়েছে। পুরো এলাকাজুড়ে ২৫০টি অ্যাক্সেস পয়েন্ট স্থাপন করা হয়েছে এবং ব্যাকবোন হিসেবে ৪৮ কিলোমিটার অপটিক্যাল ফাইবার ও ইথারনেট কেবল ব্যবহার করা হয়েছে। স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে মোট ৩৭টি আধুনিক অ্যাক্সেস সুইচ নির্মাণে ব্যবহার করা হয়েছে।

প্রযুক্তিগত দিক থেকে নেটওয়ার্কটি উচ্চমানের। প্রতিটি অ্যাক্সেস পয়েন্ট একই সময়ে সর্বোচ্চ ১৫০ জন ব্যবহারকারীকে সেবা দিতে পারবে, ফলে বিমানবন্দরে একযোগে প্রায় ৩৭,৫০০ যাত্রী ফ্রি ওয়াই-ফাই ব্যবহার করতে সক্ষম হবেন। পুরো সিস্টেমটি সর্বোচ্চ ৪০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ সামর্থ্য রাখে, যা দ্রুত ব্রাউজিং, ভিডিও কল ও অন্যান্য অনলাইন কাজ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে সহায়তা করবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্যে মন্ত্রী আফরোজা খানম ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথাও ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন শীঘ্রই বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল উদ্বোধন সম্ভব হবে, যা দেশের এভিয়েশন খাতে একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। উদ্বোধনমুখর অনুষ্ঠানে বক্তারা আরও বলেন, এই ধরনের সুবিধা বিদেশি পর্যটক ও ভ্রমণকারীদের কাছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরো উজ্জ্বল করবে এবং বিজনেস ও পর্যটন সহ বিভিন্ন খাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

উল্লেখ্য, ফ্রি ওয়াই-ফাই চালুর আগে ২৬ এপ্রিল থেকে একটি সফল পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চালানো হয়েছিল। ট্রায়ালের সময় প্রায় ২০ হাজার যাত্রী নেটওয়ার্ক ব্যবহার করেন এবং মোট ২.৩ টেরাবাইট ডেটা খরচ হয়। পরীক্ষামূলক সফলতাকে সামনে রেখে আজ থেকে সেবা পুরোপুরি সাধারণ যাত্রীদের জন্য উন্মুক্ত করা হলো।

এখন যাত্রীরা বিমানবন্দরে অপেক্ষার সময় সহজে ইন্টারনেট ব্যবহার করে তাদের প্রয়োজনীয় ডিজিটাল কাজ সম্পন্ন করতে পারবেন, ভিডিও কল বা বিনোদন গ্রহণ করে ভ্রমণের ক্লান্তি কমাতে পারবেন। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগ বিমানবন্দরকে আরো ‘স্মার্ট’ করে তোলার লক্ষ্যে নেয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

শাহজালালে ফ্রি ওয়াই-ফাই চালু — একযোগে প্রায় ৩৭,৫০০ যাত্রী পাবেন উচ্চগতির ইন্টারনেট

প্রকাশিতঃ ০২:২৬:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আধুনিক সেবার আরও একটি প্রতীকী পদক্ষেপ হিসেবে ফ্রি ওয়াই-ফাই সেবা আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়েছে। আজ রোববার (১৭ মে) দুপুর ২টায় বিমানবন্দরের আয়োজিত অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম এই নতুন ডিজিটাল সেবার শুভ সূচনা করেন।

মন্ত্রী বলেন এটি বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখিত ‘সবার জন্য দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট’ নিশ্চিত করার অঙ্গ হিসেবে নেওয়া একটি উদ্যোগ, যা যাত্রীসেবার মান বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিমান প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টাকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান। অনুষ্ঠানেও ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম ও উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রায় ৯৪ হাজার বর্গমিটার এলাকা জুড়ে এই শক্তিশালী ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করা হয়েছে। টার্মিনাল-১, টার্মিনাল-২, অভ্যন্তরীণ টার্মিনাল ছাড়াও ভিআইপি ও ভিভিআইপি টার্মিনাল এবং যাত্রী সুবিধার্থে কার পার্কিং অঞ্চলেও কাভারেজ নিশ্চিত করা হয়েছে। পুরো এলাকাজুড়ে ২৫০টি অ্যাক্সেস পয়েন্ট স্থাপন করা হয়েছে এবং ব্যাকবোন হিসেবে ৪৮ কিলোমিটার অপটিক্যাল ফাইবার ও ইথারনেট কেবল ব্যবহার করা হয়েছে। স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে মোট ৩৭টি আধুনিক অ্যাক্সেস সুইচ নির্মাণে ব্যবহার করা হয়েছে।

প্রযুক্তিগত দিক থেকে নেটওয়ার্কটি উচ্চমানের। প্রতিটি অ্যাক্সেস পয়েন্ট একই সময়ে সর্বোচ্চ ১৫০ জন ব্যবহারকারীকে সেবা দিতে পারবে, ফলে বিমানবন্দরে একযোগে প্রায় ৩৭,৫০০ যাত্রী ফ্রি ওয়াই-ফাই ব্যবহার করতে সক্ষম হবেন। পুরো সিস্টেমটি সর্বোচ্চ ৪০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ সামর্থ্য রাখে, যা দ্রুত ব্রাউজিং, ভিডিও কল ও অন্যান্য অনলাইন কাজ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে সহায়তা করবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্যে মন্ত্রী আফরোজা খানম ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথাও ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন শীঘ্রই বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল উদ্বোধন সম্ভব হবে, যা দেশের এভিয়েশন খাতে একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। উদ্বোধনমুখর অনুষ্ঠানে বক্তারা আরও বলেন, এই ধরনের সুবিধা বিদেশি পর্যটক ও ভ্রমণকারীদের কাছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরো উজ্জ্বল করবে এবং বিজনেস ও পর্যটন সহ বিভিন্ন খাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

উল্লেখ্য, ফ্রি ওয়াই-ফাই চালুর আগে ২৬ এপ্রিল থেকে একটি সফল পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চালানো হয়েছিল। ট্রায়ালের সময় প্রায় ২০ হাজার যাত্রী নেটওয়ার্ক ব্যবহার করেন এবং মোট ২.৩ টেরাবাইট ডেটা খরচ হয়। পরীক্ষামূলক সফলতাকে সামনে রেখে আজ থেকে সেবা পুরোপুরি সাধারণ যাত্রীদের জন্য উন্মুক্ত করা হলো।

এখন যাত্রীরা বিমানবন্দরে অপেক্ষার সময় সহজে ইন্টারনেট ব্যবহার করে তাদের প্রয়োজনীয় ডিজিটাল কাজ সম্পন্ন করতে পারবেন, ভিডিও কল বা বিনোদন গ্রহণ করে ভ্রমণের ক্লান্তি কমাতে পারবেন। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগ বিমানবন্দরকে আরো ‘স্মার্ট’ করে তোলার লক্ষ্যে নেয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।