০১:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

আল-আকসায় হাজারো মুসল্লি ঈদের নামাজ, সংঘাতের ছায়ায় উৎসব

পবিত্র ঈদুল আজহার সকালে দখলকৃত জেরুজালেমের ঐতিহাসিক আল-আকসা মসজিদের চত্বরে বুধবার (২৭ মে) ভোর থেকেই হাজারো ফিলিস্তিনি মুসল্লি জমায়েত হয়ে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন। চলমান যুদ্ধ ও তীব্র উত্তেজনার মধ্যেও বিশ্বাসভিত্তিক এই সমাগমে তাদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো ছিল।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলুর বরাতে জানা যায়, ঈদুল আজহার চার দিনের ছুটির প্রথম দিনেই আল-আকসা ও আশপাশের চত্বর মুসল্লিদের উপস্থিতিতে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে। ধর্মীয় এই উৎসবের মূল অর্থ হচ্ছে হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর আত্মত্যাগের স্মরণ; মুসলমানরা কোরবানির মাধ্যমে আল্লাহর আদেশ পালনের পাশাপাশি কোরবানির মাংস দরিদ্র ও অসহায়দের মধ্যে বিতরণ করেন।

তবে ধর্মীয় আনন্দের মধ্যেও ফিলিস্তিনে মানবিক সংকট ও সংঘাতের চিত্র বদলায়নি। গত ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটায় গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী অন্তত ৮৮০ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন এবং প্রায় ২,৬৪৫ জন গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন।

আরও বিস্তৃত হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সংঘাতের মধ্যে সরকারি পরিসংখ্যান উল্লেখ করে এতে এখন পর্যন্ত প্রায় ৭২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং আহতের সংখ্যা ১ লাখ ৭২ হাজারেরও বেশি। যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো রীতিমতো ধ্বংসপ্রায়, যার কারণে অধিকাংশ মানুষ গভীর অনিশ্চয়তায় জীবন কাটাচ্ছে।

ধ্বংসস্তূপ ও শোকের আবহে আল-আকসার ময়দানে দাঁড়ানো ফিলিস্তিনিরা তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও সম্প্রদায়ের প্রতি সংহতির প্রমাণ দিলেন; একদিকে তারা আল্লাহর কাছে আশা ও মুক্তির আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করলেন, অন্যদিকে ভালো থাকার অধিকার ফিরে পাওয়ার আকুতি করলেন।

আন্তর্জাতিকভাবে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি, মানবিক সহায়তা ও স্থায়ী শান্তির আহ্বান করা হলেও সংঘাতের অবসান হয়নি। তাই এবারের পবিত্র ঈদও সাধারণ মানুষের কাছে একই সঙ্গে আনন্দ ও দুঃখ বহন করে গেল।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

আল-আকসায় হাজারো মুসল্লি ঈদের নামাজ, সংঘাতের ছায়ায় উৎসব

প্রকাশিতঃ ১০:৩৯:১৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬

পবিত্র ঈদুল আজহার সকালে দখলকৃত জেরুজালেমের ঐতিহাসিক আল-আকসা মসজিদের চত্বরে বুধবার (২৭ মে) ভোর থেকেই হাজারো ফিলিস্তিনি মুসল্লি জমায়েত হয়ে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন। চলমান যুদ্ধ ও তীব্র উত্তেজনার মধ্যেও বিশ্বাসভিত্তিক এই সমাগমে তাদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো ছিল।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলুর বরাতে জানা যায়, ঈদুল আজহার চার দিনের ছুটির প্রথম দিনেই আল-আকসা ও আশপাশের চত্বর মুসল্লিদের উপস্থিতিতে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে। ধর্মীয় এই উৎসবের মূল অর্থ হচ্ছে হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর আত্মত্যাগের স্মরণ; মুসলমানরা কোরবানির মাধ্যমে আল্লাহর আদেশ পালনের পাশাপাশি কোরবানির মাংস দরিদ্র ও অসহায়দের মধ্যে বিতরণ করেন।

তবে ধর্মীয় আনন্দের মধ্যেও ফিলিস্তিনে মানবিক সংকট ও সংঘাতের চিত্র বদলায়নি। গত ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটায় গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী অন্তত ৮৮০ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন এবং প্রায় ২,৬৪৫ জন গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন।

আরও বিস্তৃত হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সংঘাতের মধ্যে সরকারি পরিসংখ্যান উল্লেখ করে এতে এখন পর্যন্ত প্রায় ৭২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং আহতের সংখ্যা ১ লাখ ৭২ হাজারেরও বেশি। যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো রীতিমতো ধ্বংসপ্রায়, যার কারণে অধিকাংশ মানুষ গভীর অনিশ্চয়তায় জীবন কাটাচ্ছে।

ধ্বংসস্তূপ ও শোকের আবহে আল-আকসার ময়দানে দাঁড়ানো ফিলিস্তিনিরা তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও সম্প্রদায়ের প্রতি সংহতির প্রমাণ দিলেন; একদিকে তারা আল্লাহর কাছে আশা ও মুক্তির আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করলেন, অন্যদিকে ভালো থাকার অধিকার ফিরে পাওয়ার আকুতি করলেন।

আন্তর্জাতিকভাবে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি, মানবিক সহায়তা ও স্থায়ী শান্তির আহ্বান করা হলেও সংঘাতের অবসান হয়নি। তাই এবারের পবিত্র ঈদও সাধারণ মানুষের কাছে একই সঙ্গে আনন্দ ও দুঃখ বহন করে গেল।