১১:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

শহীদ জিয়ার পথই উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের রক্ষাকবচ: মির্জা ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন এবং বলেন, শহীদ জিয়ার প্রদর্শিত পথই আজো দেশের উন্নয়ন ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের রক্ষাকবচ।

শুক্রবার (২৯ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল স্মরণ করেন যে, চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণার মতো ঐতিহাসিক কর্মকাণ্ডে জিয়াউর রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। তিনি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার ও জেড ফোর্সের অধিনায়ক—এক নজিরবিহীন সাহস আর নেতৃত্বের প্রতীক। সেই ঘোষণায় অনুপ্রাণিত হয়ে দেশের তরুণ, ছাত্র ও শ্রমিকরা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয় এবং পরিণামে স্বাধীনতা অর্জিত হয়।

বিজয়ের পর রাজনীতিক অনিয়ম ও অগণতান্ত্রিক শাসনের ফলে দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হয় এবং দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বিঘ্নিত হয়—এমনটা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, সেই উন্নতশীল অরাজক পরিস্থিতিতে নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে সিপাহি ও জনতার ঐক্যযজ্ঞ জাগে এবং জিয়াকে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করা হয়।

রাষ্ট্রক্ষমতায় এসে জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনেন; সংবাদ ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার সম্প্রসারণ ঘটান; স্বেচ্ছাশ্রমভিত্তিক উৎপাদননীতি হাতে নিয়ে দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী করার কাজ শুরু করেন—এমন কথাই বলেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি আরও বলেন, জিয়াবনের পরিষ্কার-সুন্দর নীতি, দুর্নীতির বিরুদ্ধে অটল অবস্থান ও জবাবদিহিতার প্রতি ঐতিহাসিক অঙ্গীকার দেশকে স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে সহায়তা করেছে।

জিয়াউর রহমানের নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে প্রসঙ্গ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে সংঘটিত হত্যা ছিল এক নৃশংস ষড়যন্ত্র, যার মধ্য দিয়ে দেশের এক প্রতিভাবান রাষ্ট্রনায়ককে হারাতে হয়। যুদ্ধকালীন এই সংগঠক ও স্বাধীনতা-প্রেমিক ব্যক্তিত্বকে আসলে শক্তি-রতচক্র ভুলতে পারেনি—তার অবদান জনগণের হৃদয়ে চিরস্থায়ী স্থান করে নিয়েছে।

বিগত শাসনামলে গ্যাংস্টার-মামলার অভিযোগ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দীর্ঘকাল ক্ষমতায় থাকা শাসকগোষ্ঠী দেশকে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে পরিচালিত করেছে; গুম, খুন, নির্যাতন ও প্রশাসনিক নির্যাতনের মাধ্যমে জনগণের অধিকার ক্ষুণ্ন করা হয়েছিল। মির্জা ফখরুল আওয়ামী লীগের শাসনামলকে সমালোচনা করে বলেন, জনগণের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত গণতান্ত্রিক অবস্থা পুনরুদ্ধারের তাগিদে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জাতীয় পর্যায়ের আন্দোলন সংঘটিত হয়েছিল—এ কথাগুলো তিনি নিজ দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে উপস্থাপন করেন।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং দলের অঙ্গীকার তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, তরিক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি-জোট সরকার গঠিত হলে জনগণের কাছে জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা হবে। তিনি বলেন, গণতন্ত্রকে টেকসই করতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা এবং জাতীয় ঐক্য গঠনই বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার মূল পথ।

বিবৃতির শেষ অংশে মির্জা ফখরুল বিএনপির নেতা-কর্মী ও দেশের সর্বস্তরের মানুষকে আহ্বান জানান শহীদ জিয়ার স্মৃতিকে মর্যাদার সঙ্গে স্মরণ করতে এবং তার প্রদর্শিত নীতি ও আদর্শ বুকে ধারণ করে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার তাগিদ দেন।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

শহীদ জিয়ার পথই উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের রক্ষাকবচ: মির্জা ফখরুল

প্রকাশিতঃ ১০:৪০:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন এবং বলেন, শহীদ জিয়ার প্রদর্শিত পথই আজো দেশের উন্নয়ন ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের রক্ষাকবচ।

শুক্রবার (২৯ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল স্মরণ করেন যে, চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণার মতো ঐতিহাসিক কর্মকাণ্ডে জিয়াউর রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। তিনি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার ও জেড ফোর্সের অধিনায়ক—এক নজিরবিহীন সাহস আর নেতৃত্বের প্রতীক। সেই ঘোষণায় অনুপ্রাণিত হয়ে দেশের তরুণ, ছাত্র ও শ্রমিকরা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয় এবং পরিণামে স্বাধীনতা অর্জিত হয়।

বিজয়ের পর রাজনীতিক অনিয়ম ও অগণতান্ত্রিক শাসনের ফলে দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হয় এবং দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বিঘ্নিত হয়—এমনটা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, সেই উন্নতশীল অরাজক পরিস্থিতিতে নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে সিপাহি ও জনতার ঐক্যযজ্ঞ জাগে এবং জিয়াকে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করা হয়।

রাষ্ট্রক্ষমতায় এসে জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনেন; সংবাদ ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার সম্প্রসারণ ঘটান; স্বেচ্ছাশ্রমভিত্তিক উৎপাদননীতি হাতে নিয়ে দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী করার কাজ শুরু করেন—এমন কথাই বলেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি আরও বলেন, জিয়াবনের পরিষ্কার-সুন্দর নীতি, দুর্নীতির বিরুদ্ধে অটল অবস্থান ও জবাবদিহিতার প্রতি ঐতিহাসিক অঙ্গীকার দেশকে স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে সহায়তা করেছে।

জিয়াউর রহমানের নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে প্রসঙ্গ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে সংঘটিত হত্যা ছিল এক নৃশংস ষড়যন্ত্র, যার মধ্য দিয়ে দেশের এক প্রতিভাবান রাষ্ট্রনায়ককে হারাতে হয়। যুদ্ধকালীন এই সংগঠক ও স্বাধীনতা-প্রেমিক ব্যক্তিত্বকে আসলে শক্তি-রতচক্র ভুলতে পারেনি—তার অবদান জনগণের হৃদয়ে চিরস্থায়ী স্থান করে নিয়েছে।

বিগত শাসনামলে গ্যাংস্টার-মামলার অভিযোগ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দীর্ঘকাল ক্ষমতায় থাকা শাসকগোষ্ঠী দেশকে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে পরিচালিত করেছে; গুম, খুন, নির্যাতন ও প্রশাসনিক নির্যাতনের মাধ্যমে জনগণের অধিকার ক্ষুণ্ন করা হয়েছিল। মির্জা ফখরুল আওয়ামী লীগের শাসনামলকে সমালোচনা করে বলেন, জনগণের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত গণতান্ত্রিক অবস্থা পুনরুদ্ধারের তাগিদে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জাতীয় পর্যায়ের আন্দোলন সংঘটিত হয়েছিল—এ কথাগুলো তিনি নিজ দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে উপস্থাপন করেন।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং দলের অঙ্গীকার তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, তরিক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি-জোট সরকার গঠিত হলে জনগণের কাছে জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা হবে। তিনি বলেন, গণতন্ত্রকে টেকসই করতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা এবং জাতীয় ঐক্য গঠনই বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার মূল পথ।

বিবৃতির শেষ অংশে মির্জা ফখরুল বিএনপির নেতা-কর্মী ও দেশের সর্বস্তরের মানুষকে আহ্বান জানান শহীদ জিয়ার স্মৃতিকে মর্যাদার সঙ্গে স্মরণ করতে এবং তার প্রদর্শিত নীতি ও আদর্শ বুকে ধারণ করে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার তাগিদ দেন।