১১:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

পিএসজির চ্যাম্পিয়নস লিগ জয় উদযাপন রণক্ষেত্রে পরিণত, গ্রেফতার ৪১৬

প্যারিস সেন্ট-জার্মেইর (পিএসজি) প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের উল্লাস ছিল উচ্ছ্বাসে ভরা—তবে সেটি দ্রুত ভয়াবহ সহিংসতায় ভেঙে পড়ল। ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যে, বিশৃঙ্খলা ও নাশকতার অভিযোগে এখন পর্যন্ত ৪১৬ জনেরও বেশি মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

শুধু আনন্দ আর উৎসবের জন্য রাস্তায় নেমেছিলেন হাজার হাজার সমর্থক। কিন্তু বিভিন্ন স্থান থেকে এসে শুরু হওয়া দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং ফরাসি পুলিশের সঙ্গে বচসা মারাত্মক রূপ নেয়।

ফাইনালকে ঘিরে অগ্রিম প্রস্তুতি হিসেবে প্রশাসন পুরোফ্রান্সে প্রায় ২২ হাজার পুলিশ মোতায়েন করেছিল; তার মধ্যে প্যারিসে ছিল প্রায় ৮ হাজার। ট্রাম লাইনে, কিছু মেট্রো স্টেশন ও নির্দিষ্ট এলাকায় বাস চলাচলও রাতভর বন্ধ রাখা হয়েছিল—তবু হাজারো সমর্থকের আবেগ শেষ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়নি।

প্যারিস পুলিশ সদর দফতরের সূত্রে জানা গেছে যে সহিংসতার সময় বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ভাঙচুর-চুরির ঘটনা ঘটেছে। উন্মত্ত সমর্থকদের হামলায় ছয়টি যানবাহন ও দুটি বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশের দিকে পাথর ও আতশবাজি ফেলে এক পুলিশ কর্মকর্তা গুরুতর আহত হয়েছেন।

নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনতে নিরাপত্তা বাহিনীকে জলকামান এবং টিয়ারশেল ব্যবহার করতে হয়েছে—যার ফলে রাতের কিছু অংশ একেবারে রণক্ষেত্রের চিত্র নিলে।

উদযাপনের এক পর্যায়ে প্যারিসের রিং রোড পেরিফেরিকে (Périphérique) সম্প্রসারিত একটি পিএসজি সমর্থক দলের হাতে পরিচ্ছন্নভাবে ব্লক করে ফেলা হয়; তারা ফ্লেয়ার জ্বালিয়ে ও ব্যারিকেড তৈরি করে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়। গভীর রাত্রিতে যানজট ও আতঙ্কে সেখানে সাধারণ মানুষ ভয়ভীতিতে পড়েন, এবং পুলিশকে দীর্ঘ সময়ের মধ্য দিয়ে সড়কটি মুক্ত করতে হয়।

এই অনাকাঙ্ক্ষিত সহিংসতা ক্রীড়া অঙ্গনে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। ফরাসি প্রশাসন জানিয়েছে গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে প্যারিসের পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিকের দিকে ফিরছে, তবে গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও স্থানে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে। এই জয়োল্লাসটি এখন কেবল ইতিহাস নয়—একই সঙ্গে ফরাসি ফুটবলের একটি বিতর্কিত অধ্যায় হিসেবেও দাগ কাটবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

পিএসজির চ্যাম্পিয়নস লিগ জয় উদযাপন রণক্ষেত্রে পরিণত, গ্রেফতার ৪১৬

প্রকাশিতঃ ০৭:২২:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬

প্যারিস সেন্ট-জার্মেইর (পিএসজি) প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের উল্লাস ছিল উচ্ছ্বাসে ভরা—তবে সেটি দ্রুত ভয়াবহ সহিংসতায় ভেঙে পড়ল। ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যে, বিশৃঙ্খলা ও নাশকতার অভিযোগে এখন পর্যন্ত ৪১৬ জনেরও বেশি মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

শুধু আনন্দ আর উৎসবের জন্য রাস্তায় নেমেছিলেন হাজার হাজার সমর্থক। কিন্তু বিভিন্ন স্থান থেকে এসে শুরু হওয়া দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং ফরাসি পুলিশের সঙ্গে বচসা মারাত্মক রূপ নেয়।

ফাইনালকে ঘিরে অগ্রিম প্রস্তুতি হিসেবে প্রশাসন পুরোফ্রান্সে প্রায় ২২ হাজার পুলিশ মোতায়েন করেছিল; তার মধ্যে প্যারিসে ছিল প্রায় ৮ হাজার। ট্রাম লাইনে, কিছু মেট্রো স্টেশন ও নির্দিষ্ট এলাকায় বাস চলাচলও রাতভর বন্ধ রাখা হয়েছিল—তবু হাজারো সমর্থকের আবেগ শেষ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়নি।

প্যারিস পুলিশ সদর দফতরের সূত্রে জানা গেছে যে সহিংসতার সময় বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ভাঙচুর-চুরির ঘটনা ঘটেছে। উন্মত্ত সমর্থকদের হামলায় ছয়টি যানবাহন ও দুটি বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশের দিকে পাথর ও আতশবাজি ফেলে এক পুলিশ কর্মকর্তা গুরুতর আহত হয়েছেন।

নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনতে নিরাপত্তা বাহিনীকে জলকামান এবং টিয়ারশেল ব্যবহার করতে হয়েছে—যার ফলে রাতের কিছু অংশ একেবারে রণক্ষেত্রের চিত্র নিলে।

উদযাপনের এক পর্যায়ে প্যারিসের রিং রোড পেরিফেরিকে (Périphérique) সম্প্রসারিত একটি পিএসজি সমর্থক দলের হাতে পরিচ্ছন্নভাবে ব্লক করে ফেলা হয়; তারা ফ্লেয়ার জ্বালিয়ে ও ব্যারিকেড তৈরি করে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়। গভীর রাত্রিতে যানজট ও আতঙ্কে সেখানে সাধারণ মানুষ ভয়ভীতিতে পড়েন, এবং পুলিশকে দীর্ঘ সময়ের মধ্য দিয়ে সড়কটি মুক্ত করতে হয়।

এই অনাকাঙ্ক্ষিত সহিংসতা ক্রীড়া অঙ্গনে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। ফরাসি প্রশাসন জানিয়েছে গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে প্যারিসের পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিকের দিকে ফিরছে, তবে গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও স্থানে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে। এই জয়োল্লাসটি এখন কেবল ইতিহাস নয়—একই সঙ্গে ফরাসি ফুটবলের একটি বিতর্কিত অধ্যায় হিসেবেও দাগ কাটবে।