১০:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

জিয়াউর রহমান স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বকীয়তার প্রতীক: মির্জা ফখরুল

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং মানুষের স্বকীয়তার এক স্বতন্ত্র প্রতীক ছিলেন। তিনি বলেন, অল্প সময়ের মধ্যেই জিয়াউর রহমান একটি অনন্য জাতীয় পরিচিতি গড়ে তুলেছিলেন।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাজধানীর প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) অডিটরিয়ামে আয়োজিত ‘‘বর্তমান প্রেক্ষাপটে জিয়াউর রহমানের স্বাধীন নির্জোট কূটনীতি’’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও সংবাদপত্র প্রদর্শনীতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি পিআইবি ও তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় যৌথভাবে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজন করে।

অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ। তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের (বিআইপিএসএস) সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) এ এন এম মুনিরুজ্জামান। লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ওরিয়েন্টাল অ্যান্ড আফ্রিকান স্টাডিজের অর্থনীতিবিদ ড. মুশতাক খান বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন। এছাড়া আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন বাংলাদেশ ডিফেন্স জার্নালের সম্পাদক আবু রুশদ এবং ব্রেইনের নির্বাহী পরিচালক ড. সফিকুর রহমান।

স্মৃতিচারণে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘১৯৪৮ সালে জন্ম নেওয়া একজন মানুষ হিসেবে আমি পাকিস্তানি শোষণ, বঞ্চনা এবং একাত্তরের যে বর্বরতার মুখোমুখি হয়েছিলাম তা খুব কাছ থেকে দেখেছি। তখন দেশের মানুষ নেতার কাছ থেকে যুদ্ধ ঘোষণা প্রত্যাশা করলেও তা না আসায় এক সাধারণ মেজর চট্টগ্রাম থেকে বিদ্রোহ ঘোষণা করে যুদ্ধ শুরু করেন—এটাই ছিল মুক্তিযুদ্ধের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক।’’

তিনি আরও বলেন, পাকিস্তানি বাহিনী ১৯৭১ সালে গ্রাম-গ্রাম জ্বালিয়ে, নির্বিচারে মানুষ হত্যা করে যে বর্বরতা দেখিয়েছে তা কখনোই ক্ষমা করা যাবে না। এ অভিজ্ঞতাই তাকে জিয়াউর রহমানকে একজন অনন্য ব্যক্তি মনে করিয়েছে, যিনি মুক্তিযুদ্ধের আহ্বান দিয়ে দেশের মানুষকে সামনের দিকে টেনে নেন।

বিএনপির রাজনৈতিক দর্শন নিয়ে বলতেই মির্জা ফখরুল জানান, ‘‘বিএনপি সবসময় উদার ও বহুমাত্রিক গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেছে। জিয়াউর রহমানের রাজনীতিও ছিল ভেদাভেদ কমিয়ে সবাইকে একসাথে নিয়ে চলার। ধ্বংসপ্রাপ্ত রাষ্ট্রকাঠামো ও অর্থনীতির মধ্যে তিনি নতুন বিভক্তির সৃষ্টি না করে বিভিন্ন রাজনৈতিক ধারা নিয়ে প্রথমে একটি ফ্রন্ট এবং পরে বিএনপি গঠন করেছিলেন। তার রাজনীতির মূলাত্মক সুত্র ছিল রিকনসিলিয়েশন—সবাইকে একসাথে করে উন্নয়নের পথ খুঁজে বের করা।’’

তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান কাউকে শত্রু বানাতে চাননি বরং সব পক্ষের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ ও ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছিলেন এবং এ ক্ষেত্রেও তিনি সফল ছিলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘তারই ধারাবাহিকতায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান নিয়ে দেশে স্বাধীন ও স্বনির্ভর রাষ্ট্র গড়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন।’’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আরও—বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কামাল উদ্দিন সবুজ, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাসির জামাল, ডেইলি ফাইনান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ, বিআইপিএসএস-এর সিনিয়র ফেলো শাফাকাত মনির এবং নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. ওয়ারেস করিম।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

জিয়াউর রহমান স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বকীয়তার প্রতীক: মির্জা ফখরুল

প্রকাশিতঃ ০৭:২৬:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং মানুষের স্বকীয়তার এক স্বতন্ত্র প্রতীক ছিলেন। তিনি বলেন, অল্প সময়ের মধ্যেই জিয়াউর রহমান একটি অনন্য জাতীয় পরিচিতি গড়ে তুলেছিলেন।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাজধানীর প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) অডিটরিয়ামে আয়োজিত ‘‘বর্তমান প্রেক্ষাপটে জিয়াউর রহমানের স্বাধীন নির্জোট কূটনীতি’’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও সংবাদপত্র প্রদর্শনীতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি পিআইবি ও তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় যৌথভাবে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজন করে।

অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ। তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের (বিআইপিএসএস) সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) এ এন এম মুনিরুজ্জামান। লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ওরিয়েন্টাল অ্যান্ড আফ্রিকান স্টাডিজের অর্থনীতিবিদ ড. মুশতাক খান বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন। এছাড়া আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন বাংলাদেশ ডিফেন্স জার্নালের সম্পাদক আবু রুশদ এবং ব্রেইনের নির্বাহী পরিচালক ড. সফিকুর রহমান।

স্মৃতিচারণে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘১৯৪৮ সালে জন্ম নেওয়া একজন মানুষ হিসেবে আমি পাকিস্তানি শোষণ, বঞ্চনা এবং একাত্তরের যে বর্বরতার মুখোমুখি হয়েছিলাম তা খুব কাছ থেকে দেখেছি। তখন দেশের মানুষ নেতার কাছ থেকে যুদ্ধ ঘোষণা প্রত্যাশা করলেও তা না আসায় এক সাধারণ মেজর চট্টগ্রাম থেকে বিদ্রোহ ঘোষণা করে যুদ্ধ শুরু করেন—এটাই ছিল মুক্তিযুদ্ধের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক।’’

তিনি আরও বলেন, পাকিস্তানি বাহিনী ১৯৭১ সালে গ্রাম-গ্রাম জ্বালিয়ে, নির্বিচারে মানুষ হত্যা করে যে বর্বরতা দেখিয়েছে তা কখনোই ক্ষমা করা যাবে না। এ অভিজ্ঞতাই তাকে জিয়াউর রহমানকে একজন অনন্য ব্যক্তি মনে করিয়েছে, যিনি মুক্তিযুদ্ধের আহ্বান দিয়ে দেশের মানুষকে সামনের দিকে টেনে নেন।

বিএনপির রাজনৈতিক দর্শন নিয়ে বলতেই মির্জা ফখরুল জানান, ‘‘বিএনপি সবসময় উদার ও বহুমাত্রিক গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেছে। জিয়াউর রহমানের রাজনীতিও ছিল ভেদাভেদ কমিয়ে সবাইকে একসাথে নিয়ে চলার। ধ্বংসপ্রাপ্ত রাষ্ট্রকাঠামো ও অর্থনীতির মধ্যে তিনি নতুন বিভক্তির সৃষ্টি না করে বিভিন্ন রাজনৈতিক ধারা নিয়ে প্রথমে একটি ফ্রন্ট এবং পরে বিএনপি গঠন করেছিলেন। তার রাজনীতির মূলাত্মক সুত্র ছিল রিকনসিলিয়েশন—সবাইকে একসাথে করে উন্নয়নের পথ খুঁজে বের করা।’’

তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান কাউকে শত্রু বানাতে চাননি বরং সব পক্ষের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ ও ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছিলেন এবং এ ক্ষেত্রেও তিনি সফল ছিলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘তারই ধারাবাহিকতায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান নিয়ে দেশে স্বাধীন ও স্বনির্ভর রাষ্ট্র গড়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন।’’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আরও—বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কামাল উদ্দিন সবুজ, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাসির জামাল, ডেইলি ফাইনান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ, বিআইপিএসএস-এর সিনিয়র ফেলো শাফাকাত মনির এবং নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. ওয়ারেস করিম।