০৭:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

খেলাফত আন্দোলনও ছাড়ল জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোট

জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে গঠিত ১১-দলীয় ঐক্যজোটে আবারও ফাটল ধরা পড়েছে — এবার যোগ দিয়েই বেরিয়ে গেল বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন। দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব বলছে, রাজনৈতিক আদর্শ ও নির্বাচনী সমঝোতায় সমঝোতা না থাকায় তারা জোট বা সমঝোতা থেকে সংযতভাবে সরে এসেছে।

দলের নায়েবে আমির মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী বলেন, এটা মূলত একটি নির্বাচনী সমঝোতা ছিল। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় সমঝোতা না হওয়ায় তারা আলাদাভাবে অংশ নিয়েছিল এবং সেই সময় থেকেই ‘‘একপ্রকার জোটে নেই’’। তিনি আরো বলেন, নির্বাচনের পর থেকে তারা ১১ দলের কোনো বৈঠক বা অনুষ্ঠানে অংশ নেননি।

খেলাফত আন্দোলনের শীর্ষ নেতাদের অভিযোগ, জোট গঠনের পর থেকেই জামায়াতে ইসলামী একক আধিপত্য কায়েম করে এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত জোটসঙ্গীদের উপর চাপিয়ে দেয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে খেলাফত আন্দোলন জামায়াতের কাছে প্রায় ১০টি আসনে ছাড় চেয়েছিল, কিন্তু কোনও আসনেই ছাড় পাওয়া যায়নি — এ কথাও তাদের অভিযোগ। এছাড়া লিয়াজন কমিটিতেও নিজেদের মতামতকে গুরুত্ব না দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

মহাসচিব ইউসুফ সাদিক হক্কানী জানান, ‘‘আমাদের সমঝোতা ছিল নির্বাচনী সমঝোতা। এখন তো নির্বাচন শেষ। পাশাপাশি আসন নিয়ে আমাদের সঙ্গে কোন সমঝোতাও হয়নি। আগামী ১০ জুন মজলিসে আমেলার মিটিংয়ে জোটে থাকার না থাকার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’’

পটভূমি: ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলন ও পরবর্তী রাজনৈতিক অবস্থার মধ্যেই ইসলামপন্থী দলগুলোর মধ্যে ঐক্যের কথাবার্তা জোরালো হয়। বিভিন্ন মতানৈক্য ভুলে প্রথমে ‘‘আন্দোলনরত আট দল’’ নামে কয়েকটি দলের সমন্বয়ে যাত্রা শুরু করে এই ঐক্যচেষ্টা। পরে এটি ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশসহ আরও কিছু দল যোগ হয়ে ১১-দলীয় জোটে বিস্তার লাভ করে। এক বাক্স নীতি বা ‘‘ওয়ান বক্স পলিসি’’ অনুযায়ী প্রতিটি আসনে একক প্রার্থী তুলে শক্তভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার লক্ষ্যে এই জোটের উদ্যোগ গড়া হয়েছিল।

তবে আসন বণ্টন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিয়ে দীর্ঘ অমীমাংসিত বিষয়গুলোর জেরে গত ১৬ জানুয়ারি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই জোট ত্যাগ করে। তার পরেও জোটে থাকা ও নতুন দলের যোগদানের মধ্যেই রাজনৈতিক সমীকরণ পালটে চলেছে।

খেলাফত আন্দোলনের সিদ্ধান্ত জোটের ঐক্যকে আবার প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। ১১-দলীয় জোটের ভবিষ্যত এবং আগামী রাজনৈতিক কৌশল কী হবে, তা এখন নির্ধারণ করবে সংশ্লিষ্ট দলের অভ্যন্তরীণ বৈঠক ও আলোচনা।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

খেলাফত আন্দোলনও ছাড়ল জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোট

প্রকাশিতঃ ০২:২৫:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে গঠিত ১১-দলীয় ঐক্যজোটে আবারও ফাটল ধরা পড়েছে — এবার যোগ দিয়েই বেরিয়ে গেল বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন। দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব বলছে, রাজনৈতিক আদর্শ ও নির্বাচনী সমঝোতায় সমঝোতা না থাকায় তারা জোট বা সমঝোতা থেকে সংযতভাবে সরে এসেছে।

দলের নায়েবে আমির মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী বলেন, এটা মূলত একটি নির্বাচনী সমঝোতা ছিল। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় সমঝোতা না হওয়ায় তারা আলাদাভাবে অংশ নিয়েছিল এবং সেই সময় থেকেই ‘‘একপ্রকার জোটে নেই’’। তিনি আরো বলেন, নির্বাচনের পর থেকে তারা ১১ দলের কোনো বৈঠক বা অনুষ্ঠানে অংশ নেননি।

খেলাফত আন্দোলনের শীর্ষ নেতাদের অভিযোগ, জোট গঠনের পর থেকেই জামায়াতে ইসলামী একক আধিপত্য কায়েম করে এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত জোটসঙ্গীদের উপর চাপিয়ে দেয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে খেলাফত আন্দোলন জামায়াতের কাছে প্রায় ১০টি আসনে ছাড় চেয়েছিল, কিন্তু কোনও আসনেই ছাড় পাওয়া যায়নি — এ কথাও তাদের অভিযোগ। এছাড়া লিয়াজন কমিটিতেও নিজেদের মতামতকে গুরুত্ব না দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

মহাসচিব ইউসুফ সাদিক হক্কানী জানান, ‘‘আমাদের সমঝোতা ছিল নির্বাচনী সমঝোতা। এখন তো নির্বাচন শেষ। পাশাপাশি আসন নিয়ে আমাদের সঙ্গে কোন সমঝোতাও হয়নি। আগামী ১০ জুন মজলিসে আমেলার মিটিংয়ে জোটে থাকার না থাকার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’’

পটভূমি: ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলন ও পরবর্তী রাজনৈতিক অবস্থার মধ্যেই ইসলামপন্থী দলগুলোর মধ্যে ঐক্যের কথাবার্তা জোরালো হয়। বিভিন্ন মতানৈক্য ভুলে প্রথমে ‘‘আন্দোলনরত আট দল’’ নামে কয়েকটি দলের সমন্বয়ে যাত্রা শুরু করে এই ঐক্যচেষ্টা। পরে এটি ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশসহ আরও কিছু দল যোগ হয়ে ১১-দলীয় জোটে বিস্তার লাভ করে। এক বাক্স নীতি বা ‘‘ওয়ান বক্স পলিসি’’ অনুযায়ী প্রতিটি আসনে একক প্রার্থী তুলে শক্তভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার লক্ষ্যে এই জোটের উদ্যোগ গড়া হয়েছিল।

তবে আসন বণ্টন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিয়ে দীর্ঘ অমীমাংসিত বিষয়গুলোর জেরে গত ১৬ জানুয়ারি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই জোট ত্যাগ করে। তার পরেও জোটে থাকা ও নতুন দলের যোগদানের মধ্যেই রাজনৈতিক সমীকরণ পালটে চলেছে।

খেলাফত আন্দোলনের সিদ্ধান্ত জোটের ঐক্যকে আবার প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। ১১-দলীয় জোটের ভবিষ্যত এবং আগামী রাজনৈতিক কৌশল কী হবে, তা এখন নির্ধারণ করবে সংশ্লিষ্ট দলের অভ্যন্তরীণ বৈঠক ও আলোচনা।