০৫:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

গোলাম মাওলা রনি: ‘ইউনূস অ্যান্ড কোম্পানি’র একাংশ রূপ বদলিয়েছে, অন্য অংশ পালিয়ে গেছে

সাবেক সংসদ সদস্য ও কলামিস্ট গোলাম মাওলা রনি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন ১৮ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন। সম্প্রতি ফেসবুকে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি অভিযোগ করেন, ওই সময়ে ক্ষমতার কেন্দ্রে একটি বিশাল ‘বাণিজ্যকেন্দ্র’ গড়ে ওঠে, যাকে তিনি ‘ড. মুহাম্মদ ইউনূস অ্যান্ড কোম্পানি’ বলে অভিহিত করেছেন। ভিডিওতে তিনি এই গোষ্ঠীর কর্মপরিবেশ, অর্থ লোপাট ও সদস্যদের বর্তমান অবস্থান নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন।

রনি বলেন, ওই ‘কোম্পানি’র মূলত কয়েকটি প্রভাবশালী অংশ ছিল। প্রথমত, ক্ষমতা ব্যবহার করে বড় পরিসরে সুবিধা কাড়ার সুযোগ পেয়েছিল শীর্ষস্থানীয় কিছু ব্যবসায়ী গোষ্ঠী। দ্বিতীয়ত, আমলাতন্ত্র, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সামরিক বাহিন্যের কিছু সদস্যও এতে জড়িত ছিল—অনেকে চট্টগ্রামের হয়ে অথবা ড. ইউনূসের গ্রামীণ ব্যাংক পরিবারের সঙ্গে আত্মীয়তার সম্পর্কের কারণে সংযুক্ত ছিলেন। তৃতীয়ত, এনজিও ও ব্যাংকিং খাতের একটি বড় চক্র ছিল, যারা রিপোর্ট বা জরিপের নামে কোটি কোটি টাকা তুলে বিভিন্নভাবে খরচ করেছে বলে তিনি দাবি করেন।

অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতির প্রসঙ্গে রনি বলেন, ক্ষমতায় থাকা ১৮ মাসে দেশে বৈদেশিক ঋণ যে মাত্রা থেকে বেড়ে হয় সেটি উদ্বেগজনক। তিনি দাবি করেন, বিদ্যমান সরকারের আগে যেখানে বৈদেশিক ঋণ ছিল প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার, ওই সময়ের ১৮ মাসে তা প্রায় ১২০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। এই অতিরিক্ত আনুমানিক ২০ বিলিয়ন ডলার বা আড়াই লাখ কোটি টাকার ব্যয় কোথায় হয়েছে, তা তিনি প্রশ্ন করেছেন।

রনি আরও অভিযোগ করেন, কিছু বড় ব্যবসায়ীর ঋণ মওকুফ এবং রিশিডিউল নামে লেনদেনে সৌজন্যে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে আর্থিক সুবিধা দিয়ে রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যাপক হারে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। এডিপি ও অন্যান্য প্রকল্প মিলিয়ে গত দুই বছরে বলা হয়ে থাকে লক্ষমাত্রায় অর্থ বরাদ্দ হলেও বাস্তবে দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন কাজ হয়নি—এই ধরনের অনিয়মই দেশে গৃহীত বড় ধরনের ক্ষতির কারণ বলে তিনি মনে করেন।

ভিডিওর শেষ অংশে রনি বলেন, ক্ষমতায় থেকেও ওই ‘কোম্পানি’র শীর্ষ ব্যক্তিরা নৈতিকভাবে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে। একসময় ক্ষমতার দ্বারস্থ হয়ে তারা প্রতিপক্ষকে নৃশংসভাবে নোকরনাচার করতেন, ফলে এখন তাদের কোনো নৈতিক সাহস নেই। তিনি দাবি করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এই গোষ্ঠীর একটি বড় অংশ রূপ বদলিয়ে দেশীয় রাজনীতির সাথে সমন্বয় করেছে, অন্য অংশ তাদের চেহারা লুকিয়ে রেখেছে এবং যে অংশ বিচার এড়াতে ভয় পেয়েছে তারা দেশে না থেকে পালিয়ে গেছে।

রনির এসব অভিযোগ সম্পর্কিত যে কোনো অনুসন্ধান বা প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে সংশ্লিষ্টরা নিজেদের বক্তব্য দিতে পারেন—এমন প্রতিনিধিত্বও তিনি ভিডিওতে উল্লিখিত করেছেন।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

গোলাম মাওলা রনি: ‘ইউনূস অ্যান্ড কোম্পানি’র একাংশ রূপ বদলিয়েছে, অন্য অংশ পালিয়ে গেছে

প্রকাশিতঃ ০২:২৬:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

সাবেক সংসদ সদস্য ও কলামিস্ট গোলাম মাওলা রনি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন ১৮ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন। সম্প্রতি ফেসবুকে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি অভিযোগ করেন, ওই সময়ে ক্ষমতার কেন্দ্রে একটি বিশাল ‘বাণিজ্যকেন্দ্র’ গড়ে ওঠে, যাকে তিনি ‘ড. মুহাম্মদ ইউনূস অ্যান্ড কোম্পানি’ বলে অভিহিত করেছেন। ভিডিওতে তিনি এই গোষ্ঠীর কর্মপরিবেশ, অর্থ লোপাট ও সদস্যদের বর্তমান অবস্থান নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন।

রনি বলেন, ওই ‘কোম্পানি’র মূলত কয়েকটি প্রভাবশালী অংশ ছিল। প্রথমত, ক্ষমতা ব্যবহার করে বড় পরিসরে সুবিধা কাড়ার সুযোগ পেয়েছিল শীর্ষস্থানীয় কিছু ব্যবসায়ী গোষ্ঠী। দ্বিতীয়ত, আমলাতন্ত্র, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সামরিক বাহিন্যের কিছু সদস্যও এতে জড়িত ছিল—অনেকে চট্টগ্রামের হয়ে অথবা ড. ইউনূসের গ্রামীণ ব্যাংক পরিবারের সঙ্গে আত্মীয়তার সম্পর্কের কারণে সংযুক্ত ছিলেন। তৃতীয়ত, এনজিও ও ব্যাংকিং খাতের একটি বড় চক্র ছিল, যারা রিপোর্ট বা জরিপের নামে কোটি কোটি টাকা তুলে বিভিন্নভাবে খরচ করেছে বলে তিনি দাবি করেন।

অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতির প্রসঙ্গে রনি বলেন, ক্ষমতায় থাকা ১৮ মাসে দেশে বৈদেশিক ঋণ যে মাত্রা থেকে বেড়ে হয় সেটি উদ্বেগজনক। তিনি দাবি করেন, বিদ্যমান সরকারের আগে যেখানে বৈদেশিক ঋণ ছিল প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার, ওই সময়ের ১৮ মাসে তা প্রায় ১২০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। এই অতিরিক্ত আনুমানিক ২০ বিলিয়ন ডলার বা আড়াই লাখ কোটি টাকার ব্যয় কোথায় হয়েছে, তা তিনি প্রশ্ন করেছেন।

রনি আরও অভিযোগ করেন, কিছু বড় ব্যবসায়ীর ঋণ মওকুফ এবং রিশিডিউল নামে লেনদেনে সৌজন্যে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে আর্থিক সুবিধা দিয়ে রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যাপক হারে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। এডিপি ও অন্যান্য প্রকল্প মিলিয়ে গত দুই বছরে বলা হয়ে থাকে লক্ষমাত্রায় অর্থ বরাদ্দ হলেও বাস্তবে দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন কাজ হয়নি—এই ধরনের অনিয়মই দেশে গৃহীত বড় ধরনের ক্ষতির কারণ বলে তিনি মনে করেন।

ভিডিওর শেষ অংশে রনি বলেন, ক্ষমতায় থেকেও ওই ‘কোম্পানি’র শীর্ষ ব্যক্তিরা নৈতিকভাবে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে। একসময় ক্ষমতার দ্বারস্থ হয়ে তারা প্রতিপক্ষকে নৃশংসভাবে নোকরনাচার করতেন, ফলে এখন তাদের কোনো নৈতিক সাহস নেই। তিনি দাবি করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এই গোষ্ঠীর একটি বড় অংশ রূপ বদলিয়ে দেশীয় রাজনীতির সাথে সমন্বয় করেছে, অন্য অংশ তাদের চেহারা লুকিয়ে রেখেছে এবং যে অংশ বিচার এড়াতে ভয় পেয়েছে তারা দেশে না থেকে পালিয়ে গেছে।

রনির এসব অভিযোগ সম্পর্কিত যে কোনো অনুসন্ধান বা প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে সংশ্লিষ্টরা নিজেদের বক্তব্য দিতে পারেন—এমন প্রতিনিধিত্বও তিনি ভিডিওতে উল্লিখিত করেছেন।