০৪:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

ফাঁসির ১৫ ঘণ্টা আগে ঘাতককে ক্ষমা দিলেন সৌদি পিতা

সন্তানকে হারানোর তীব্র বেদনা জয় করে মানবিকতার এক অনন্য নমুনা দেখিয়েছেন সৌদি নাগরিক শেখ ইয়াহিয়া বিন কানস আল-বুশরি। ফাঁসির মাত্র ১৫ ঘণ্টা বাকি থাকা সত্ত্বেও তিনি নিঃশর্তভাবে তার ছেলের হত্যাকারীকে ক্ষমা করে দেন — কোনো আর্থিক অনুদান বা ‘রক্তপণ’ গ্রহণ না করে। এই সত্যিকারের করুণ ও সাহসী সিদ্ধান্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক প্রতিক্রিয়া জাগিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত যুবকের নাম বন্দর এবং দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির নাম ইয়াসের। যদিও শেখ ইয়াহিয়া অতীতেও ধনী ছিলেন, বর্তমানে তিনি সাধারণ জীবনযাপন করছেন। এতেই তিনি সন্তানের রক্তের বিনিময়ে প্রস্তাবিত কয়েক মিলিয়ন রিয়াল রেখেও তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন — স্পষ্ট করেছেন যে তিনি কোনো পার্থিব লাভের আশায় নয়, কেবল মহান সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যেই ক্ষমা জানাচ্ছেন।

শেখ ইয়াহিয়া নিজেই ইয়াসেরের মায়ের বাড়িতে পৌঁছে এই ক্ষমার খবর দেন। সেখানে আবেগঘন কদর্য এক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়: দুঃখে পঙ্গু ওই মা যখন কৃতজ্ঞতাস্বরূপ তার পায়ের চুমু খেতে গেলে শেখ ইয়াহিয়া বিনয়ভরে বাধা দিয়ে মায়ের কপালে করুণাময় চুম্বন করেন এবং তাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে ইয়াসেরের ভাইরাও সেখানে উপস্থিত হয়ে কাঁদতে থাকলে তিনি তাদেরও করুণাভরে আলিঙ্গন করে সান্ত্বনা দেন।

শেখ ইয়াহিয়ার এই ক্ষমাশীল আচরণ বিশ্বব্যাপী প্রশংসার ঝড় তুলেছে। অনেকেই এটিকে মানবিকতার জয় ও প্রতিশোধের বাইরের নৈতিক সাহস হিসেবে দেখছেন। সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে তার শান্ত স্বভাব, সিদ্ধান্তের ন্যায়সংগত ব্যাখ্যা এবং দুই পরিবারের আবেগচঞ্চল মুহূর্তগুলো গভীর ছাপ রেখেছে।

এই ঘটনার মাধ্যমে এক পিতার ব্যক্তিগত ক্ষতি সত্ত্বেও ক্ষমা ও সহমর্মিতার মূল্য কতোটুকু বড়, তা আবারও দৃঢ়ভাবে সামনে এসেছে। শেখ ইয়াহিয়ার সেই মানবিক পদক্ষেপ অনেকের প্রেরণার উৎস হয়েই উঠেছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

ফাঁসির ১৫ ঘণ্টা আগে ঘাতককে ক্ষমা দিলেন সৌদি পিতা

প্রকাশিতঃ ০২:২৩:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

সন্তানকে হারানোর তীব্র বেদনা জয় করে মানবিকতার এক অনন্য নমুনা দেখিয়েছেন সৌদি নাগরিক শেখ ইয়াহিয়া বিন কানস আল-বুশরি। ফাঁসির মাত্র ১৫ ঘণ্টা বাকি থাকা সত্ত্বেও তিনি নিঃশর্তভাবে তার ছেলের হত্যাকারীকে ক্ষমা করে দেন — কোনো আর্থিক অনুদান বা ‘রক্তপণ’ গ্রহণ না করে। এই সত্যিকারের করুণ ও সাহসী সিদ্ধান্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক প্রতিক্রিয়া জাগিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত যুবকের নাম বন্দর এবং দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির নাম ইয়াসের। যদিও শেখ ইয়াহিয়া অতীতেও ধনী ছিলেন, বর্তমানে তিনি সাধারণ জীবনযাপন করছেন। এতেই তিনি সন্তানের রক্তের বিনিময়ে প্রস্তাবিত কয়েক মিলিয়ন রিয়াল রেখেও তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন — স্পষ্ট করেছেন যে তিনি কোনো পার্থিব লাভের আশায় নয়, কেবল মহান সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যেই ক্ষমা জানাচ্ছেন।

শেখ ইয়াহিয়া নিজেই ইয়াসেরের মায়ের বাড়িতে পৌঁছে এই ক্ষমার খবর দেন। সেখানে আবেগঘন কদর্য এক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়: দুঃখে পঙ্গু ওই মা যখন কৃতজ্ঞতাস্বরূপ তার পায়ের চুমু খেতে গেলে শেখ ইয়াহিয়া বিনয়ভরে বাধা দিয়ে মায়ের কপালে করুণাময় চুম্বন করেন এবং তাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে ইয়াসেরের ভাইরাও সেখানে উপস্থিত হয়ে কাঁদতে থাকলে তিনি তাদেরও করুণাভরে আলিঙ্গন করে সান্ত্বনা দেন।

শেখ ইয়াহিয়ার এই ক্ষমাশীল আচরণ বিশ্বব্যাপী প্রশংসার ঝড় তুলেছে। অনেকেই এটিকে মানবিকতার জয় ও প্রতিশোধের বাইরের নৈতিক সাহস হিসেবে দেখছেন। সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে তার শান্ত স্বভাব, সিদ্ধান্তের ন্যায়সংগত ব্যাখ্যা এবং দুই পরিবারের আবেগচঞ্চল মুহূর্তগুলো গভীর ছাপ রেখেছে।

এই ঘটনার মাধ্যমে এক পিতার ব্যক্তিগত ক্ষতি সত্ত্বেও ক্ষমা ও সহমর্মিতার মূল্য কতোটুকু বড়, তা আবারও দৃঢ়ভাবে সামনে এসেছে। শেখ ইয়াহিয়ার সেই মানবিক পদক্ষেপ অনেকের প্রেরণার উৎস হয়েই উঠেছে।