০২:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

এআই উদ্বেগে প্রযুক্তি শেয়ারের ধস, এশিয়ার শেয়ারবাজারে বড় পতন

শুক্রবার প্রযুক্তি খাতে আশঙ্কা ও লভ্যাংশ তোলার চাপের কারণে এশিয়ার প্রধান শেয়ারবাজারগুলোতে তীব্র দরপতন দেখা গেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিনিয়োগের ভীষণ বৃদ্ধি আর প্রযুক্তি পণ্যের দাম বাড়ার আশংকায় বিনিয়োগকারীরা একযোগে শেয়ার বিক্রি শুরু করলে বাজারে অস্থিতিশীলতা বাড়ে এবং সূচকগুলো দ্রুত নিচে নামতে থাকে।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধান সূচক কোসপি লেনদেনের একপর্যায়ে ৮ শতাংশ পর্যন্ত পড়ে গেলে বাজারে বিশাল আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামলাতে ২০ মিনিটের জন্য ‘সার্কিট ব্রেকার’ কার্যকর করা হয়—চলতি সপ্তাহে তৃতীয়বার এবং এ বছর দেশটিতে পঞ্চমবার এই ব্যবস্থা নেয়া হলো। দিনের শেষে কোসপি ৫.৮ শতাংশ কমে লেনদেন বন্ধ করে।

বিশ্ববাজারে টেক জায়ান্টদের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তও অস্থিরতার জের বাড়িয়েছে। গত বৃহস্পতিবার অ্যাপল ও মাইক্রোসফট পণ্যের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিলে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ তীব্র হয়। চিপ ও যন্ত্রাংশের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার পর অ্যাপল তাদের আইপ্যাড ও ম্যাকবুকের দাম বাড়ানোর ঘোষণা করলে প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে বড় পতন আসে; মাইক্রোসফটও এক্সবক্স কনসোলের মূল্য বাড়ানোর ঘোষণা দেয়।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রযুক্তি খাতে সাম্প্রতিক সময়ে যে উল্লম্ফন দেখা গেছে, অনেক বিনিয়োগকারী এখন সেটি থেকে মুনাফা তোলার চেষ্টা করছেন। আলফা প্যাসিফিক গ্রুপের জ্যেষ্ঠ অংশীদার ডেভিড মাকারিয়ান বলেন, ‘‘প্রযুক্তি শেয়ারের ব্যাপক উঠানামা দেখেই অনেক বিনিয়োগকারী এখন লাভ কেটে নিচ্ছেন এবং কোম্পানি-গুলোর বর্তমান মূল্য নির্ধারণ কতটা বাস্তবসম্মত, তা পুনর্বিবেচনা করছেন। দীর্ঘমেয়াদে এআইর সম্ভাবনা ভালই, কিন্তু বাজার এখন অনেক বেশি ছাঁটাই করছে।’’

জাপানের শেয়ারবাজারেও ধাক্কা লেগেছে; প্রধান সূচক নিক্কেই ২২5 এদিন চার শতাংশের বেশি কমেছে। বিশেষ করে প্রযুক্তি বিনিয়োগকারী সফটব্যাংকের শেয়ার একদিনেই প্রায় ১২.৫ শতাংশ পতিত হয়েছে। এছাড়া তাইওয়ান ও চীনের প্রধান শেয়ারবাজারগুলোতেও বড় ধরনের সূচক পতন দেখা গেছে।

বিশ্লেষকরা আরও বলেন, এআই অবকাঠামো নির্মাণে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো যে বড় অঙ্কে বিনিয়োগ করছে, তার ব্যয় শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের ওপর চাপানো হবে কি না তা বড় প্রশ্ন। কিয়োটো ইউনিভার্সিটি ইনোভেশন ক্যাপিটালের বিশ্লেষক রেমন্ড উ বলেন, ‘‘প্রতিষ্ঠানগুলো এআই নির্মাণে শতশত বিলিয়ন ডলার খরচ করছে। এখন মূল প্রশ্ন হলো—এই বিনিয়োগের ফলে চাহিদা কত দ্রুত বাড়বে এবং দাম বাড়লে গ্রাহকরা কি ডিভাইস কেনা থেকে বিরত থাকবে?’’

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও অনুরূপ ধারা দেখা গেছে; অ্যাপলের শেয়ার একদিনে প্রায় ৬ শতাংশ পড়ে। বিশ্বব্যাপী যন্ত্রাংশের মূল্যবৃদ্ধি ও প্রযুক্তি খাতে অতিরিক্ত বিনিয়োগের আশঙ্কায় শেয়ারবাজারে এই নিম্নমুখী প্রবণতা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মার্কেট অ্যানালিস্টরা বলছেন, সাময়িক দামের ওঠা-নামা থাকবেই, তবে বিনিয়োগকারীদের মনস্তাত্ত্বিক চাপ ও ব্যয়বৃদ্ধি যদি বাস্তব আকার ধরে, তাহলে প্রযুক্তি খাতের পুনর্সমনের পথ একটু ধীর হতে পারে। বিনিয়োগকারীদের এখন কোম্পানিগুলোর লভ্যাংশ, উৎপাদনব্যয় ও গ্রাহক চাহিদার দূরদৃষ্টিতে আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

এআই উদ্বেগে প্রযুক্তি শেয়ারের ধস, এশিয়ার শেয়ারবাজারে বড় পতন

প্রকাশিতঃ ০২:২৪:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

শুক্রবার প্রযুক্তি খাতে আশঙ্কা ও লভ্যাংশ তোলার চাপের কারণে এশিয়ার প্রধান শেয়ারবাজারগুলোতে তীব্র দরপতন দেখা গেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিনিয়োগের ভীষণ বৃদ্ধি আর প্রযুক্তি পণ্যের দাম বাড়ার আশংকায় বিনিয়োগকারীরা একযোগে শেয়ার বিক্রি শুরু করলে বাজারে অস্থিতিশীলতা বাড়ে এবং সূচকগুলো দ্রুত নিচে নামতে থাকে।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধান সূচক কোসপি লেনদেনের একপর্যায়ে ৮ শতাংশ পর্যন্ত পড়ে গেলে বাজারে বিশাল আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামলাতে ২০ মিনিটের জন্য ‘সার্কিট ব্রেকার’ কার্যকর করা হয়—চলতি সপ্তাহে তৃতীয়বার এবং এ বছর দেশটিতে পঞ্চমবার এই ব্যবস্থা নেয়া হলো। দিনের শেষে কোসপি ৫.৮ শতাংশ কমে লেনদেন বন্ধ করে।

বিশ্ববাজারে টেক জায়ান্টদের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তও অস্থিরতার জের বাড়িয়েছে। গত বৃহস্পতিবার অ্যাপল ও মাইক্রোসফট পণ্যের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিলে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ তীব্র হয়। চিপ ও যন্ত্রাংশের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার পর অ্যাপল তাদের আইপ্যাড ও ম্যাকবুকের দাম বাড়ানোর ঘোষণা করলে প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে বড় পতন আসে; মাইক্রোসফটও এক্সবক্স কনসোলের মূল্য বাড়ানোর ঘোষণা দেয়।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রযুক্তি খাতে সাম্প্রতিক সময়ে যে উল্লম্ফন দেখা গেছে, অনেক বিনিয়োগকারী এখন সেটি থেকে মুনাফা তোলার চেষ্টা করছেন। আলফা প্যাসিফিক গ্রুপের জ্যেষ্ঠ অংশীদার ডেভিড মাকারিয়ান বলেন, ‘‘প্রযুক্তি শেয়ারের ব্যাপক উঠানামা দেখেই অনেক বিনিয়োগকারী এখন লাভ কেটে নিচ্ছেন এবং কোম্পানি-গুলোর বর্তমান মূল্য নির্ধারণ কতটা বাস্তবসম্মত, তা পুনর্বিবেচনা করছেন। দীর্ঘমেয়াদে এআইর সম্ভাবনা ভালই, কিন্তু বাজার এখন অনেক বেশি ছাঁটাই করছে।’’

জাপানের শেয়ারবাজারেও ধাক্কা লেগেছে; প্রধান সূচক নিক্কেই ২২5 এদিন চার শতাংশের বেশি কমেছে। বিশেষ করে প্রযুক্তি বিনিয়োগকারী সফটব্যাংকের শেয়ার একদিনেই প্রায় ১২.৫ শতাংশ পতিত হয়েছে। এছাড়া তাইওয়ান ও চীনের প্রধান শেয়ারবাজারগুলোতেও বড় ধরনের সূচক পতন দেখা গেছে।

বিশ্লেষকরা আরও বলেন, এআই অবকাঠামো নির্মাণে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো যে বড় অঙ্কে বিনিয়োগ করছে, তার ব্যয় শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের ওপর চাপানো হবে কি না তা বড় প্রশ্ন। কিয়োটো ইউনিভার্সিটি ইনোভেশন ক্যাপিটালের বিশ্লেষক রেমন্ড উ বলেন, ‘‘প্রতিষ্ঠানগুলো এআই নির্মাণে শতশত বিলিয়ন ডলার খরচ করছে। এখন মূল প্রশ্ন হলো—এই বিনিয়োগের ফলে চাহিদা কত দ্রুত বাড়বে এবং দাম বাড়লে গ্রাহকরা কি ডিভাইস কেনা থেকে বিরত থাকবে?’’

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও অনুরূপ ধারা দেখা গেছে; অ্যাপলের শেয়ার একদিনে প্রায় ৬ শতাংশ পড়ে। বিশ্বব্যাপী যন্ত্রাংশের মূল্যবৃদ্ধি ও প্রযুক্তি খাতে অতিরিক্ত বিনিয়োগের আশঙ্কায় শেয়ারবাজারে এই নিম্নমুখী প্রবণতা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মার্কেট অ্যানালিস্টরা বলছেন, সাময়িক দামের ওঠা-নামা থাকবেই, তবে বিনিয়োগকারীদের মনস্তাত্ত্বিক চাপ ও ব্যয়বৃদ্ধি যদি বাস্তব আকার ধরে, তাহলে প্রযুক্তি খাতের পুনর্সমনের পথ একটু ধীর হতে পারে। বিনিয়োগকারীদের এখন কোম্পানিগুলোর লভ্যাংশ, উৎপাদনব্যয় ও গ্রাহক চাহিদার দূরদৃষ্টিতে আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।