১১:৪৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

এক দশকে স্বর্ণের সবচেয়ে বড় দরপতন

ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম চলমান দশকে নজিরবিহীনভাবে বড়ভাবে নেমে এসেছে। আন্তর্জাতিক লেনদেনে গত মঙ্গলবার প্রতি ট্রয় আউন্স স্বর্ণের দাম দাঁড়ায় ৩,৯৪২.৯৯ ডলার — যা গত নভেম্বরের পর সবচেয়ে নিচু স্তর। বছরের শুরুতে খুচরা চাহিদিতে লাফে ওই ধাতুর দাম রেকর্ড ৫,৫৯৫ ডলারে পৌঁছেছিল; তারপর মাত্র তিন মাসে দাম প্রায় ১৪ শতাংশ কমেছে।

বাজার বিশ্লেষকরাও এই ধারা টানতে কয়েকটি কারণ দেখাচ্ছেন। প্রধানত ফেডারেল রিজার্ভসহ প্রধান কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সুদহার বাড়ানোর সম্ভাব্য ইঙ্গিতের ফলে বিনিয়োগকারীরা সোনার মতো অপ্রতিফলিত সম্পদ থেকে আয়দায়ক সরকারি বন্ড ও কোর ফিক্সড ইনকাম কোর্টের দিকে ঝুঁকছেন। স্বর্ণ থেকে নিয়মিত কোনো লভ্যাংশ বা কুপন পাওয়া যায় না—তাই সুদ বেশি থাকলে তুলনামূলকভাবে বিক্রির চাপ বাড়ে।

এছাড়া জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির কারণে ভবিষ্যৎ মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা এবং উচ্চ সুদের হার বজায় থাকার ভুক্তভোগে অনেকেই ক্ষতি রোধে স্বর্ণ বিক্রি করছেন। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি বা স্পেস-এক্সের মতো সম্ভাব্য বড় আইপিওতে অংশ নিতে পুঁজি সরানোর ফলে স্বর্ণবাজার থেকে দূরে সরে আসছেন।

ট্রি-ইটিএফগুলো থেকে ব্যাপক অর্থ প্রত্যাহার এবং চীনের খুচরা গ্রাহকদের ফিউচার ট্রেডিংয়ে নতুন নিয়মকাঠামো আরোপের ফলে বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়েছে। এসব ঊর্ধ্বগামী ও নিম্নগতির সংকেত মিলেই স্বর্ণে অতিরিক্ত বিক্রির পরিবেশ তৈরি করেছে।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, অতি-কম সময়ের মধ্যে এই ধরনের দরপতন স্বল্পমেয়াদি অস্থিরতা নির্দেশ করে—বিশেষত যদি কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতিতে দ্রুত পরিবর্তন বা জ্বালানি ও জিওপলিটিক্যাল ঝুঁকি ওঠে। বিনিয়োগকারীদের জন্য তারা সতর্কতা দিয়েছেন: পোর্টফোলিওতে বৈচিত্র্য রাখা এবং লম্বা মেয়াদি লক্ষ্য বিবেচনায় রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া যুক্তিযুক্ত।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

এক দশকে স্বর্ণের সবচেয়ে বড় দরপতন

প্রকাশিতঃ ০২:২৪:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম চলমান দশকে নজিরবিহীনভাবে বড়ভাবে নেমে এসেছে। আন্তর্জাতিক লেনদেনে গত মঙ্গলবার প্রতি ট্রয় আউন্স স্বর্ণের দাম দাঁড়ায় ৩,৯৪২.৯৯ ডলার — যা গত নভেম্বরের পর সবচেয়ে নিচু স্তর। বছরের শুরুতে খুচরা চাহিদিতে লাফে ওই ধাতুর দাম রেকর্ড ৫,৫৯৫ ডলারে পৌঁছেছিল; তারপর মাত্র তিন মাসে দাম প্রায় ১৪ শতাংশ কমেছে।

বাজার বিশ্লেষকরাও এই ধারা টানতে কয়েকটি কারণ দেখাচ্ছেন। প্রধানত ফেডারেল রিজার্ভসহ প্রধান কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সুদহার বাড়ানোর সম্ভাব্য ইঙ্গিতের ফলে বিনিয়োগকারীরা সোনার মতো অপ্রতিফলিত সম্পদ থেকে আয়দায়ক সরকারি বন্ড ও কোর ফিক্সড ইনকাম কোর্টের দিকে ঝুঁকছেন। স্বর্ণ থেকে নিয়মিত কোনো লভ্যাংশ বা কুপন পাওয়া যায় না—তাই সুদ বেশি থাকলে তুলনামূলকভাবে বিক্রির চাপ বাড়ে।

এছাড়া জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির কারণে ভবিষ্যৎ মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা এবং উচ্চ সুদের হার বজায় থাকার ভুক্তভোগে অনেকেই ক্ষতি রোধে স্বর্ণ বিক্রি করছেন। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি বা স্পেস-এক্সের মতো সম্ভাব্য বড় আইপিওতে অংশ নিতে পুঁজি সরানোর ফলে স্বর্ণবাজার থেকে দূরে সরে আসছেন।

ট্রি-ইটিএফগুলো থেকে ব্যাপক অর্থ প্রত্যাহার এবং চীনের খুচরা গ্রাহকদের ফিউচার ট্রেডিংয়ে নতুন নিয়মকাঠামো আরোপের ফলে বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়েছে। এসব ঊর্ধ্বগামী ও নিম্নগতির সংকেত মিলেই স্বর্ণে অতিরিক্ত বিক্রির পরিবেশ তৈরি করেছে।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, অতি-কম সময়ের মধ্যে এই ধরনের দরপতন স্বল্পমেয়াদি অস্থিরতা নির্দেশ করে—বিশেষত যদি কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতিতে দ্রুত পরিবর্তন বা জ্বালানি ও জিওপলিটিক্যাল ঝুঁকি ওঠে। বিনিয়োগকারীদের জন্য তারা সতর্কতা দিয়েছেন: পোর্টফোলিওতে বৈচিত্র্য রাখা এবং লম্বা মেয়াদি লক্ষ্য বিবেচনায় রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া যুক্তিযুক্ত।