১০:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

বাতিল গোল নিয়ে অভিযোগ: ফিফার ভিএআর নীতি লঙ্ঘনের আভাস

আর্জেন্টিনা–মিশর নকআউট ম্যাচে বাতিল হওয়া একটি গোলকে কেন্দ্র করে বিশ্ব ফুটবলে তীব্র বিতর্ক উঠেছে। বিশেষ করে ফিফার নিজস্ব ভিএআর প্রটোকল লঙ্ঘন হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের সময় ‘সাপোর্ট ভিএআর’ ছিলেন অভিজ্ঞ রেফারি ফার্নান্দো গুয়েরেরো।

ম্যাচের ওই সিদ্ধান্তটিই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু। ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেটেক্সিয়ার দীর্ঘ ভিএআর রিভিউ শেষে মিশরের একটি গোল বাতিল করেন এবং সিদ্ধান্তটি ফাউলের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে জানানো হয়েছিল। কিন্তু গুয়েরেরোর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ফিফার ভিএআর-এর ‘অ্যাটাকিং পজিশন ফেজ’ সম্পর্কিত নিয়ম অনুসারে এই গোলটি বাতিল করার সুযোগ ছিল না। তিনি বলেছেন, গোল হওয়ার আগে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগের খেলোয়াড়রা বলটি উদ্ধার করার জন্য পর্যাপ্ত সময় ও জায়গা পেয়েছিল; তারা অন্তত তিনবার বল ক্লিয়ার করার সম্ভাবনা থাকলেও তা কাজে লাগাতে পারেনি। তাই ফিফার নিজস্ব নীতিমালা অনুযায়ী ডিফেন্ডিং দলে বাস্তবসম্মত নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সুযোগ থাকলে ভিএআর‑এর হস্তক্ষেপ সীমিত হওয়া উচিত ছিল।

ভাইরাল হওয়া রিভিউ ও সিদ্ধান্তটি ম্যাচের গতিপথ বদলে দেয়। শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে মিশরকে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায়ী করে। সেই পরাজয়ের পর মিশরের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের মধ্যে ক্ষোভ প্রকাশ পায়; তাঁরা সিদ্ধান্তটিকে পক্ষপাতদুষ্ট হিসেবে চিহ্নিত করেছেন এবং টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক স্বার্থ ও তারকা খেলোয়াড়দের স্বার্থ রক্ষা করার অভিযোগ তুলেছেন। মাঠে কিছু খেলোয়াড়কে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা গিয়েছিল বলে জানিয়েছে মিশরীয় গণমাধ্যম।

গুয়েরেরো যে ব্যক্তিটি এই সমালোচনা এনেছেন, তিনি বিশ্ব ফুটবলে নিয়ম ও ভিডিও রেফারিং নিয়ে মান্যতা পান এমন একজন রেফারি। ২০২২ বিশ্বকাপে তিনি আর্জেন্টিনা–ফ্রান্স ফাইনালে সাপোর্ট ভিএআর হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন এবং ওই টুর্নামেন্টে জাপান বনাম স্পেন, বেলজিয়াম বনাম মরক্কোর মতো উচ্চপর্যায়ের ম্যাচে ভিএআর বিশেষজ্ঞ হিসাবে কাজ করেছেন। তাঁর মন্তব্যগুলো তাই উল্লেখযোগ্য বলে গণ্য হচ্ছে।

ম্যাচটি শেষ হলেও রেফারিং নিয়ে আলোচনা থামছে না। একজন বিশ্বমানের রেফারিং বিশেষজ্ঞের মন্তব্য ফিফা ও সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি ব্যবহারের স্বচ্ছতা সম্পর্কে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। মিশরের পক্ষের দাবি, মাঠে নেওয়া ওই সিদ্ধান্তই তাদের বিশ্বকাপ স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছে—এমন বিতর্ক এখন আগের চেয়েও জোরালোভাবে চলমান।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

বাতিল গোল নিয়ে অভিযোগ: ফিফার ভিএআর নীতি লঙ্ঘনের আভাস

প্রকাশিতঃ ১০:৩৮:১৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

আর্জেন্টিনা–মিশর নকআউট ম্যাচে বাতিল হওয়া একটি গোলকে কেন্দ্র করে বিশ্ব ফুটবলে তীব্র বিতর্ক উঠেছে। বিশেষ করে ফিফার নিজস্ব ভিএআর প্রটোকল লঙ্ঘন হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের সময় ‘সাপোর্ট ভিএআর’ ছিলেন অভিজ্ঞ রেফারি ফার্নান্দো গুয়েরেরো।

ম্যাচের ওই সিদ্ধান্তটিই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু। ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেটেক্সিয়ার দীর্ঘ ভিএআর রিভিউ শেষে মিশরের একটি গোল বাতিল করেন এবং সিদ্ধান্তটি ফাউলের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে জানানো হয়েছিল। কিন্তু গুয়েরেরোর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ফিফার ভিএআর-এর ‘অ্যাটাকিং পজিশন ফেজ’ সম্পর্কিত নিয়ম অনুসারে এই গোলটি বাতিল করার সুযোগ ছিল না। তিনি বলেছেন, গোল হওয়ার আগে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগের খেলোয়াড়রা বলটি উদ্ধার করার জন্য পর্যাপ্ত সময় ও জায়গা পেয়েছিল; তারা অন্তত তিনবার বল ক্লিয়ার করার সম্ভাবনা থাকলেও তা কাজে লাগাতে পারেনি। তাই ফিফার নিজস্ব নীতিমালা অনুযায়ী ডিফেন্ডিং দলে বাস্তবসম্মত নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সুযোগ থাকলে ভিএআর‑এর হস্তক্ষেপ সীমিত হওয়া উচিত ছিল।

ভাইরাল হওয়া রিভিউ ও সিদ্ধান্তটি ম্যাচের গতিপথ বদলে দেয়। শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে মিশরকে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায়ী করে। সেই পরাজয়ের পর মিশরের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের মধ্যে ক্ষোভ প্রকাশ পায়; তাঁরা সিদ্ধান্তটিকে পক্ষপাতদুষ্ট হিসেবে চিহ্নিত করেছেন এবং টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক স্বার্থ ও তারকা খেলোয়াড়দের স্বার্থ রক্ষা করার অভিযোগ তুলেছেন। মাঠে কিছু খেলোয়াড়কে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা গিয়েছিল বলে জানিয়েছে মিশরীয় গণমাধ্যম।

গুয়েরেরো যে ব্যক্তিটি এই সমালোচনা এনেছেন, তিনি বিশ্ব ফুটবলে নিয়ম ও ভিডিও রেফারিং নিয়ে মান্যতা পান এমন একজন রেফারি। ২০২২ বিশ্বকাপে তিনি আর্জেন্টিনা–ফ্রান্স ফাইনালে সাপোর্ট ভিএআর হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন এবং ওই টুর্নামেন্টে জাপান বনাম স্পেন, বেলজিয়াম বনাম মরক্কোর মতো উচ্চপর্যায়ের ম্যাচে ভিএআর বিশেষজ্ঞ হিসাবে কাজ করেছেন। তাঁর মন্তব্যগুলো তাই উল্লেখযোগ্য বলে গণ্য হচ্ছে।

ম্যাচটি শেষ হলেও রেফারিং নিয়ে আলোচনা থামছে না। একজন বিশ্বমানের রেফারিং বিশেষজ্ঞের মন্তব্য ফিফা ও সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি ব্যবহারের স্বচ্ছতা সম্পর্কে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। মিশরের পক্ষের দাবি, মাঠে নেওয়া ওই সিদ্ধান্তই তাদের বিশ্বকাপ স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছে—এমন বিতর্ক এখন আগের চেয়েও জোরালোভাবে চলমান।