১০:৫১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

ইস্টার্ন রিফাইনারির সম্প্রসারণে আইএসডিবির ১.০০৪ বিলিয়ন ডলারের ঋণ অনুমোদন

সরকার ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (আইএসডিবি) থেকে ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল)-এর দ্বিতীয় ইউনিট স্থাপনের জন্য মোট ১.০০৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঋণ অনুমোদন করেছে। অ-রিয়াতকালীন ঋণ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটি (এসসিএনসিএল) সম্প্রতি এই অর্থায়নের প্রস্তাবটি সম্মোদন করে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) এই ঋণকে ‘হাইলি নন-কনসেশনাল’ বা উচ্চ ব্যয়বহুল হিসেবে চিহ্নিত করেছে, তবু দেশীয় জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করার কারণে প্রকল্পটিকে কৌশলগত গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

ঋণটি মূলত দুটি ভিন্ন প্যাকেজে বিভক্ত: ‘ফরওয়ার্ড লিজ-১’ প্যাকেজের আওতায় ৫২০.৫৯ মিলিয়ন ডলার এবং ‘ফরওয়ার্ড লিজ-২’ প্যাকেজের অধীনে ৪৮৩.১০ মিলিয়ন ডলার প্রদান করা হবে। ঋণের সুদ নির্ধারিত হবে আন্তর্জাতিক বাজারের টার্ম সিকিউরড ওভারনাইট ফাইন্যান্সিং রেট (SOFR) বেঞ্চমার্কের ভিত্তিতে, যার সঙ্গে নির্দিষ্ট স্প্রেড ও ঝুঁকি প্রিমিয়াম যোগ হবে। ঋণের মেয়াদ ২০ বছর, এবং কিস্তি পরিশোধে ৫ বছরের রেয়াতকাল সুবিধা থাকবে।

বর্তমানে ইস্টার্ন রিফাইনারির বার্ষিক তেল শোধন ক্ষমতা ১৫ লাখ টন। দ্বিতীয় ইউনিট চালু হলে এতে আরও ৩০ লাখ টন যোগ হবে এবং মোট শোধন ক্ষমতা তিনগুণ বাড়ে ৪৫ লাখ টনে উন্নীত হবে। এই বাড়তি সক্ষমতা সরাসরি পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম আমদানির ওপর দেশের নির্ভরতা অনেকাংশে কমাবে। প্রকল্প থেকে ইউরো-৫ মানের ডিজেল ও গ্যাসোলিন উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারিত হয়েছে, যা পরিবেশবান্ধব জ্বালানি নিশ্চিত করার পাশাপাশি সরকারি ভর্তুকির চাপেও হ্রাস আনবে।

প্রকল্পটির মোট বাস্তবায়ন ব্যয় আনুমানিক ৩১,০০০.৫৭ কোটি টাকা ধার্য করা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারের অংশ হবে ১৮,৫৬৬ কোটি টাকা, এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)-এর নিজস্ব তহবিল থেকে ১২,৪৩৩ কোটি টাকা জোগান দেওয়া হবে। উন্নয়ন কাজ ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত চলার পরিকল্পনা। ইআরডি সুপারিশ করেছে, ঋণ হস্তান্তরের আগে বিপিসির আর্থিক সক্ষমতা যাচাই করে নিশ্চিত করতে হবে যাতে ভবিষ্যতে সরকারের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা না পড়ে।

ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট নির্মাণের পরিকল্পনাটি প্রথম নেওয়া হয়েছিল ২০১০ সালে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, অর্থায়ন সংকট এবং নীতিগত পরিবর্তনের কারণে এক দশক ছাড়িয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে বিলম্ব ঘটে। বৈশ্বিক রাজনৈতিক অস্থিরতা ও মধ্যপ্রাচ্য সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখন এই উদ্যোগকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। আগামী আগস্ট মাসে আইএসডিবির প্রেসিডেন্টের বাংলাদেশ সফরের সময় চূড়ান্ত ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

ইস্টার্ন রিফাইনারির সম্প্রসারণে আইএসডিবির ১.০০৪ বিলিয়ন ডলারের ঋণ অনুমোদন

প্রকাশিতঃ ০৭:২৪:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

সরকার ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (আইএসডিবি) থেকে ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল)-এর দ্বিতীয় ইউনিট স্থাপনের জন্য মোট ১.০০৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঋণ অনুমোদন করেছে। অ-রিয়াতকালীন ঋণ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটি (এসসিএনসিএল) সম্প্রতি এই অর্থায়নের প্রস্তাবটি সম্মোদন করে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) এই ঋণকে ‘হাইলি নন-কনসেশনাল’ বা উচ্চ ব্যয়বহুল হিসেবে চিহ্নিত করেছে, তবু দেশীয় জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করার কারণে প্রকল্পটিকে কৌশলগত গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

ঋণটি মূলত দুটি ভিন্ন প্যাকেজে বিভক্ত: ‘ফরওয়ার্ড লিজ-১’ প্যাকেজের আওতায় ৫২০.৫৯ মিলিয়ন ডলার এবং ‘ফরওয়ার্ড লিজ-২’ প্যাকেজের অধীনে ৪৮৩.১০ মিলিয়ন ডলার প্রদান করা হবে। ঋণের সুদ নির্ধারিত হবে আন্তর্জাতিক বাজারের টার্ম সিকিউরড ওভারনাইট ফাইন্যান্সিং রেট (SOFR) বেঞ্চমার্কের ভিত্তিতে, যার সঙ্গে নির্দিষ্ট স্প্রেড ও ঝুঁকি প্রিমিয়াম যোগ হবে। ঋণের মেয়াদ ২০ বছর, এবং কিস্তি পরিশোধে ৫ বছরের রেয়াতকাল সুবিধা থাকবে।

বর্তমানে ইস্টার্ন রিফাইনারির বার্ষিক তেল শোধন ক্ষমতা ১৫ লাখ টন। দ্বিতীয় ইউনিট চালু হলে এতে আরও ৩০ লাখ টন যোগ হবে এবং মোট শোধন ক্ষমতা তিনগুণ বাড়ে ৪৫ লাখ টনে উন্নীত হবে। এই বাড়তি সক্ষমতা সরাসরি পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম আমদানির ওপর দেশের নির্ভরতা অনেকাংশে কমাবে। প্রকল্প থেকে ইউরো-৫ মানের ডিজেল ও গ্যাসোলিন উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারিত হয়েছে, যা পরিবেশবান্ধব জ্বালানি নিশ্চিত করার পাশাপাশি সরকারি ভর্তুকির চাপেও হ্রাস আনবে।

প্রকল্পটির মোট বাস্তবায়ন ব্যয় আনুমানিক ৩১,০০০.৫৭ কোটি টাকা ধার্য করা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারের অংশ হবে ১৮,৫৬৬ কোটি টাকা, এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)-এর নিজস্ব তহবিল থেকে ১২,৪৩৩ কোটি টাকা জোগান দেওয়া হবে। উন্নয়ন কাজ ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত চলার পরিকল্পনা। ইআরডি সুপারিশ করেছে, ঋণ হস্তান্তরের আগে বিপিসির আর্থিক সক্ষমতা যাচাই করে নিশ্চিত করতে হবে যাতে ভবিষ্যতে সরকারের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা না পড়ে।

ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট নির্মাণের পরিকল্পনাটি প্রথম নেওয়া হয়েছিল ২০১০ সালে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, অর্থায়ন সংকট এবং নীতিগত পরিবর্তনের কারণে এক দশক ছাড়িয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে বিলম্ব ঘটে। বৈশ্বিক রাজনৈতিক অস্থিরতা ও মধ্যপ্রাচ্য সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখন এই উদ্যোগকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। আগামী আগস্ট মাসে আইএসডিবির প্রেসিডেন্টের বাংলাদেশ সফরের সময় চূড়ান্ত ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।