১০:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ৪ বাংলাদেশি নিহত, ৩০ কর্মী রাশিয়ায় পাঠানো হয়েছে অভিযোগ

রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতে চার জন বাংলাদেশি নিহত হওয়া এবং মোট ৩০ জন কর্মীকে রাশিয়া পাঠিয়ে জোরপূর্বক যুদ্ধে অংশ করানোর অভিযোগ সংসদে জানানো হয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী গত ৯ জুলাই জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে এই তথ্য প্রকাশ করেন।

মন্ত্রী বলেন, উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভনে গত ২৪ এপ্রিল তিনটি রিক্রুটিং এজেন্সি (লাইসেন্স নম্বর: আরএল-১৪৫৫, আরএল-১৪২৮ ও আরএল-২৫০৫) জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) থেকে ম্যানপাওয়ার ক্লিয়ারেন্স নিয়ে ৩০ জন বাংলাদেশিকে রাশিয়ায় পাঠায়।

কর্তৃপক্ষের কাছে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর ওই কর্মীদের জোর করে সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় এবং তাদের ইউক্রেনের যুদ্ধে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করার চেষ্টা চলছিল। পরিস্থিতি সম্পর্কে খবর পেয়ে সরকার ব্যবস্থা নেয় এবং রাশিয়ার মস্কোতে বাংলাদেশ দূতাবাসকে প্রাণহানির ঝুঁকিতে থাকা কর্মীদের উদ্ধার ও দেশে ফেরাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ১৫ জুন নোটিশ পাঠায়।

মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যে ৩০ জনের মধ্যে চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বাকি কর্মীদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য রাশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ চালানো হচ্ছে এবং তাদের উদ্ধারের আশা করা হচ্ছে।

আবেদনকারীদের পরিবাররা অভিযোগ করেছেন, চাকরিতে যোগদানের বদলে তাদের স্বজনদের সামরিক প্রশিক্ষণ দিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সরকার তৎক্ষণাৎ তদন্ত শুরু করে এবং কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমও তদন্ত করে এবং চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে সামরিক কাজে ব্যবহার করার অভিযোগ তুলে প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

মন্ত্রী বলেন, সরকার সংশ্লিষ্ট এজেন্সি ও দূতাবাসের মাধ্যমে দ্রুত এবং নিরাপদভাবে বেঁচে থাকা কর্মীদের ফিরে আনার জন্য কাজ করছে। তদন্ত চলমান রয়েছে এবং অভিযুক্ত রিক্রুটিং এজেন্সিসমূহের ভূমিকা নির্ণয় করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ৪ বাংলাদেশি নিহত, ৩০ কর্মী রাশিয়ায় পাঠানো হয়েছে অভিযোগ

প্রকাশিতঃ ০৭:২৫:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতে চার জন বাংলাদেশি নিহত হওয়া এবং মোট ৩০ জন কর্মীকে রাশিয়া পাঠিয়ে জোরপূর্বক যুদ্ধে অংশ করানোর অভিযোগ সংসদে জানানো হয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী গত ৯ জুলাই জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে এই তথ্য প্রকাশ করেন।

মন্ত্রী বলেন, উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভনে গত ২৪ এপ্রিল তিনটি রিক্রুটিং এজেন্সি (লাইসেন্স নম্বর: আরএল-১৪৫৫, আরএল-১৪২৮ ও আরএল-২৫০৫) জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) থেকে ম্যানপাওয়ার ক্লিয়ারেন্স নিয়ে ৩০ জন বাংলাদেশিকে রাশিয়ায় পাঠায়।

কর্তৃপক্ষের কাছে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর ওই কর্মীদের জোর করে সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় এবং তাদের ইউক্রেনের যুদ্ধে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করার চেষ্টা চলছিল। পরিস্থিতি সম্পর্কে খবর পেয়ে সরকার ব্যবস্থা নেয় এবং রাশিয়ার মস্কোতে বাংলাদেশ দূতাবাসকে প্রাণহানির ঝুঁকিতে থাকা কর্মীদের উদ্ধার ও দেশে ফেরাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ১৫ জুন নোটিশ পাঠায়।

মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যে ৩০ জনের মধ্যে চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বাকি কর্মীদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য রাশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ চালানো হচ্ছে এবং তাদের উদ্ধারের আশা করা হচ্ছে।

আবেদনকারীদের পরিবাররা অভিযোগ করেছেন, চাকরিতে যোগদানের বদলে তাদের স্বজনদের সামরিক প্রশিক্ষণ দিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সরকার তৎক্ষণাৎ তদন্ত শুরু করে এবং কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমও তদন্ত করে এবং চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে সামরিক কাজে ব্যবহার করার অভিযোগ তুলে প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

মন্ত্রী বলেন, সরকার সংশ্লিষ্ট এজেন্সি ও দূতাবাসের মাধ্যমে দ্রুত এবং নিরাপদভাবে বেঁচে থাকা কর্মীদের ফিরে আনার জন্য কাজ করছে। তদন্ত চলমান রয়েছে এবং অভিযুক্ত রিক্রুটিং এজেন্সিসমূহের ভূমিকা নির্ণয় করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।