০৮:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

হার্ট স্টেন্টসহ চার চিকিৎসা পণ্যে ভ্যাট অব্যাহতি আনতে চলছে সরকার

সরকার হার্ট সংশ্লিষ্ট চারটি অত্যান্ত জরুরি চিকিৎসা পণ্যের ওপর থেকে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পথে রয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে, সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় আধুনিক চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে এবং রোগীদের ব্যয়ভার কমাতে শিগগিরই এ সংক্রান্ত একটি বিশেষ প্রজ্ঞাপন (এসআরও) জারি করা হতে পারে।

ভ্যাট ছাড়ের তালিকায় যে চারটি যন্ত্র রয়েছে—ভাসকুলার স্টেন্ট বা হার্ট রিং, অক্সিজেনেটর (রক্তে অক্সিজেন যোগ করার যন্ত্র), পেসমেকার এবং হার্ট ভালভ। বর্তমানে এই পণ্যগুলোতে ব্যবসায়ী পর্যায়ে ৭ দশমিক পাঁচ শতাংশ এবং জোগানদার পর্যায়ে ১০ শতাংশ ভ্যাট আরোপিত আছে।

চলতি অর্থবছরের বাজেটে পূর্বরূপ ঘোষণায় স্টেন্ট সরবরাহ পর্যায়ে ১০ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছিল। তৎকালীন অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তব্যে জানিয়েছিলেন, এই উদ্যোগের ফলে “প্রতিটি রিংয়ে প্রায় ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় কমতে পারে।” এনবিআরের বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী নতুন এসআরও-র মাধ্যমে আমদানি ও বাজারজাতকরণ—উভয় স্তরেই ভ্যাট অব্যাহতি নিশ্চিত করা হবে, যাতে ছাড়ের সুফল সরাসরি রোগীরা পায়। সংশ্লিষ্ট দপ্তর জানিয়েছে, খসড়া প্রজ্ঞাপনটি চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন পেলে দ্রুত কার্যকর করা হবে।

খাত সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে প্রায় ৩৫ হাজার স্টেন্ট প্রতিস্থাপন করা হয় এবং এই বাজারের বার্ষিক মূল্য প্রায় ৩০০ কোটি টাকা। পাশাপাশি বছরে প্রায় ১২০০ থেকে ১৫০০টি হার্ট ভালভ এবং প্রায় ২০০০টি পেসমেকারের চাহিদা তৈরি হয়। বাজারে স্টেন্টের দাম মান ও আমদানিকারকের উপর নির্ভর করে প্রায় ২০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত এবং পেসমেকারের দাম সাধারণত ৮০ হাজার থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত পৌঁছায়।

ভ্যাট অব্যাহতির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে এসব পণ্যের মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসা এবং রোগীদের ওপর ব্যক্তিগত অর্থনৈতিক বোঝা হ্রাস পাওয়ার প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন চিকিৎসা ও শিল্প ক্ষেত্রের সংশ্লিষ্টরা। এনবিআর ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় দ্রুত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করলে এতে দেশের হৃদরোগীদের জন্য আধুনিক চিকিৎসা আরও স্বল্পমুল্যে পৌঁছবে—এটাই সরকারের লক্ষ্য।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

হার্ট স্টেন্টসহ চার চিকিৎসা পণ্যে ভ্যাট অব্যাহতি আনতে চলছে সরকার

প্রকাশিতঃ ১০:৩৯:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

সরকার হার্ট সংশ্লিষ্ট চারটি অত্যান্ত জরুরি চিকিৎসা পণ্যের ওপর থেকে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পথে রয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে, সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় আধুনিক চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে এবং রোগীদের ব্যয়ভার কমাতে শিগগিরই এ সংক্রান্ত একটি বিশেষ প্রজ্ঞাপন (এসআরও) জারি করা হতে পারে।

ভ্যাট ছাড়ের তালিকায় যে চারটি যন্ত্র রয়েছে—ভাসকুলার স্টেন্ট বা হার্ট রিং, অক্সিজেনেটর (রক্তে অক্সিজেন যোগ করার যন্ত্র), পেসমেকার এবং হার্ট ভালভ। বর্তমানে এই পণ্যগুলোতে ব্যবসায়ী পর্যায়ে ৭ দশমিক পাঁচ শতাংশ এবং জোগানদার পর্যায়ে ১০ শতাংশ ভ্যাট আরোপিত আছে।

চলতি অর্থবছরের বাজেটে পূর্বরূপ ঘোষণায় স্টেন্ট সরবরাহ পর্যায়ে ১০ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছিল। তৎকালীন অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তব্যে জানিয়েছিলেন, এই উদ্যোগের ফলে “প্রতিটি রিংয়ে প্রায় ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় কমতে পারে।” এনবিআরের বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী নতুন এসআরও-র মাধ্যমে আমদানি ও বাজারজাতকরণ—উভয় স্তরেই ভ্যাট অব্যাহতি নিশ্চিত করা হবে, যাতে ছাড়ের সুফল সরাসরি রোগীরা পায়। সংশ্লিষ্ট দপ্তর জানিয়েছে, খসড়া প্রজ্ঞাপনটি চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন পেলে দ্রুত কার্যকর করা হবে।

খাত সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে প্রায় ৩৫ হাজার স্টেন্ট প্রতিস্থাপন করা হয় এবং এই বাজারের বার্ষিক মূল্য প্রায় ৩০০ কোটি টাকা। পাশাপাশি বছরে প্রায় ১২০০ থেকে ১৫০০টি হার্ট ভালভ এবং প্রায় ২০০০টি পেসমেকারের চাহিদা তৈরি হয়। বাজারে স্টেন্টের দাম মান ও আমদানিকারকের উপর নির্ভর করে প্রায় ২০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত এবং পেসমেকারের দাম সাধারণত ৮০ হাজার থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত পৌঁছায়।

ভ্যাট অব্যাহতির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে এসব পণ্যের মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসা এবং রোগীদের ওপর ব্যক্তিগত অর্থনৈতিক বোঝা হ্রাস পাওয়ার প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন চিকিৎসা ও শিল্প ক্ষেত্রের সংশ্লিষ্টরা। এনবিআর ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় দ্রুত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করলে এতে দেশের হৃদরোগীদের জন্য আধুনিক চিকিৎসা আরও স্বল্পমুল্যে পৌঁছবে—এটাই সরকারের লক্ষ্য।