০৮:২৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

রপ্তানি, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে বেপজার নতুন রেকর্ড

বিশ্ব অর্থনীতি মন্দার মুখে থাকলেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা) অভূতপূর্ব প্রবৃদ্ধি দেখিয়েছে। জাতীয় পর্যায়ে সামগ্রিক রপ্তানি পরিস্থিতি কিছুটা নেতিবাচক থাকলেও বেপজার জোনগুলোতে উৎপাদন ও রপ্তানি অটুট থাকার কারণে সংস্থাটির অর্জন নজরকাড়া।

তথ্য অনুযায়ী, বিদায়ী অর্থবছরে দেশের মোট রপ্তানি আয় শূন্য দশমিক ৫৮ শতাংশ হ্রাস পেলেও বেপজার আওতাধীন জোনগুলোর রপ্তানি গত বছরের তুলনায় ২ দশমিক ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশের মোট ৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রপ্তানি আয়ের মধ্যে বেপজা থেকে এসেছে ৮ দশমিক ৪১ বিলিয়ন ডলার—চলতি রপ্তানির প্রায় ১৭ দশমিক ৫১ শতাংশ। এই ফলাফলে প্রতিকূল অর্থনৈতিক পরিবেশে বেপজার শিল্পাঞ্চলগুলো তাদের উৎপাদনশীলতা বজায় রাখতে সক্ষম болған প্রমাণ মিলেছে।

বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও ২০২৫-২৬ বেপজার জন্য ছিল সফল বছর। চীন, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশের ৩৬টি প্রতিষ্ঠান বেপজার সঙ্গে বিনিয়োগ চুক্তি করেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের দেওয়া বিনিয়োগ প্রস্তাবের মোট পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭১৭ দশমিক ৭১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে, যা বেপজার ইতিহাসে এক বছরে সর্বোচ্চ রেকর্ড। এগুলো বাস্তবায়িত হলে আনুমানিক ৭৫ হাজার ৭৪৪ জনের নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

পণ্য বহুমুখীকরণের ক্ষেত্রে বেপজা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। প্রচলিত পোশাক শিল্পের বাইরেও এখন অনেক প্রতিষ্ঠান ব্লুটুথ হেডফোন, ড্রোন, ল্যাগেজ এবং উন্নত প্রযুক্তির ইলেকট্রনিক্স পণ্য নির্মাণ করছে। ফলস্বরূপ বেপজার জোনগুলোতে কর্মরত শ্রমিকের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে এখন দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৫৮ হাজার ৬৯১ জন, যা এ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই কর্মসংস্থানের প্রসার দেশের দারিদ্র্য কমাতে সহায়ক হবে।

দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও ব্যবসায়িক অনুকূল পরিবেশের কারণে অনেক বিদেশি প্রতিষ্ঠান বেপজায় তাদের কার্যক্রম বাড়াচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে চীনের খাইশি গ্রুপ আবারও বড় অঙ্কের বিনিয়োগ চুক্তি করেছে। বর্তমানে বেপজা উৎপাদিত পণ্য বিশ্বের ১২৯টি দেশে সরবরাহ করা হচ্ছে, যা বাংলাদেশের ব্র্যান্ড ইমেজকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে শক্তিশালী করছে।

বিশ্লেষক ও সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, বেপজার এই সফলতা দেশের শিল্পায়ন এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রতিকূল বৈশ্বিক পরিস্থিতির মধ্যেও দেশের রপ্তানি, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়িয়ে বেপজা একটি নির্ভরযোগ্য ইন্ডাস্ট্রিয়াল হাব হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও দৃঢ় করেছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

রপ্তানি, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে বেপজার নতুন রেকর্ড

প্রকাশিতঃ ০২:২৪:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

বিশ্ব অর্থনীতি মন্দার মুখে থাকলেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা) অভূতপূর্ব প্রবৃদ্ধি দেখিয়েছে। জাতীয় পর্যায়ে সামগ্রিক রপ্তানি পরিস্থিতি কিছুটা নেতিবাচক থাকলেও বেপজার জোনগুলোতে উৎপাদন ও রপ্তানি অটুট থাকার কারণে সংস্থাটির অর্জন নজরকাড়া।

তথ্য অনুযায়ী, বিদায়ী অর্থবছরে দেশের মোট রপ্তানি আয় শূন্য দশমিক ৫৮ শতাংশ হ্রাস পেলেও বেপজার আওতাধীন জোনগুলোর রপ্তানি গত বছরের তুলনায় ২ দশমিক ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশের মোট ৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রপ্তানি আয়ের মধ্যে বেপজা থেকে এসেছে ৮ দশমিক ৪১ বিলিয়ন ডলার—চলতি রপ্তানির প্রায় ১৭ দশমিক ৫১ শতাংশ। এই ফলাফলে প্রতিকূল অর্থনৈতিক পরিবেশে বেপজার শিল্পাঞ্চলগুলো তাদের উৎপাদনশীলতা বজায় রাখতে সক্ষম болған প্রমাণ মিলেছে।

বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও ২০২৫-২৬ বেপজার জন্য ছিল সফল বছর। চীন, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশের ৩৬টি প্রতিষ্ঠান বেপজার সঙ্গে বিনিয়োগ চুক্তি করেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের দেওয়া বিনিয়োগ প্রস্তাবের মোট পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭১৭ দশমিক ৭১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে, যা বেপজার ইতিহাসে এক বছরে সর্বোচ্চ রেকর্ড। এগুলো বাস্তবায়িত হলে আনুমানিক ৭৫ হাজার ৭৪৪ জনের নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

পণ্য বহুমুখীকরণের ক্ষেত্রে বেপজা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। প্রচলিত পোশাক শিল্পের বাইরেও এখন অনেক প্রতিষ্ঠান ব্লুটুথ হেডফোন, ড্রোন, ল্যাগেজ এবং উন্নত প্রযুক্তির ইলেকট্রনিক্স পণ্য নির্মাণ করছে। ফলস্বরূপ বেপজার জোনগুলোতে কর্মরত শ্রমিকের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে এখন দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৫৮ হাজার ৬৯১ জন, যা এ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই কর্মসংস্থানের প্রসার দেশের দারিদ্র্য কমাতে সহায়ক হবে।

দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও ব্যবসায়িক অনুকূল পরিবেশের কারণে অনেক বিদেশি প্রতিষ্ঠান বেপজায় তাদের কার্যক্রম বাড়াচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে চীনের খাইশি গ্রুপ আবারও বড় অঙ্কের বিনিয়োগ চুক্তি করেছে। বর্তমানে বেপজা উৎপাদিত পণ্য বিশ্বের ১২৯টি দেশে সরবরাহ করা হচ্ছে, যা বাংলাদেশের ব্র্যান্ড ইমেজকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে শক্তিশালী করছে।

বিশ্লেষক ও সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, বেপজার এই সফলতা দেশের শিল্পায়ন এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রতিকূল বৈশ্বিক পরিস্থিতির মধ্যেও দেশের রপ্তানি, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়িয়ে বেপজা একটি নির্ভরযোগ্য ইন্ডাস্ট্রিয়াল হাব হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও দৃঢ় করেছে।