১১:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

সরকার তিন দেশ থেকে ১ লাখ ৮৫ হাজার টন সার আমদানিতে জোর দিচ্ছে — ব্যয় ১,৬৩৬ কোটি ৪২ লাখ ৩১ হাজার ৩২ টাকা

খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখতে মরক্কো, সৌদি আরব ও রাশিয়া থেকে মোট ১ লাখ ৮৫ হাজার মেট্রিক টন সার আমদানির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই আমদানিতে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১,৬৩৬ কোটি ৪২ লাখ ৩১ হাজার ৩২ টাকা।

বুধবার (১৫ জুলাই) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি (সিসিজিপি)-এর এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তিনটি পৃথক প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করা হয়। বৈঠকটি কার্যনির্বাহীভাবে পরিচালনা করেন বর্তমান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

সরকারি সূত্রে জানা যায়, সবচেয়ে বড় অংশটি আসবে মরক্কো থেকে। জি-টু-জি (সরকার-টু-সরকার) চুক্তির আওতায় মরক্কোর ওসিপি নিউট্রিক্রপস প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে দুই ধাপে মোট ৬০ হাজার মেট্রিক টন ট্রিপল সুপার ফসফেট (টিএসপি) সরবরাহ নেওয়া হবে। প্রথম লটে প্রায় ২৫৪ কোটি ৩৯ লাখ টাকায় ৩০ হাজার মেট্রিক টন (±১০%) টিএসপি কেনা হবে; প্রতি মেট্রিক টনের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৮৮ মার্কিন ডলার। দ্বিতীয় লটে আরও ৩০ হাজার মেট্রিক টন (±১০%) টিএসপি নেওয়া হবে, যার প্রতি মেট্রিক টনের মূল্য ৭২৬.৩৩ মার্কিন ডলার এবং উদ্দেশ্যমূলক মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২৬৮ কোটি ৫৬ লাখ টাকা।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয়ে শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব অনুযায়ী সৌদি আরবের সাবিক অ্যাগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস এবং রাশিয়ার সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরকার-টু-সরকার চুক্তির মাধ্যমে মোট ১ লাখ ২৫ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া আমদানি করা হবে। এই দুই দেশের ইউরিয়া চালানের মোট ব্যয় সরকারি হিসাব অনুযায়ী প্রায় ১ হাজার ১১৩ কোটি টাকার অধিক। এভাবে দেশে ইউরিয়া সারের চাহিদা পূরণে সহায়তা করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, আসন্ন আমন ও রবি মৌসুমে প্রান্তিক কৃষকদের জন্য পর্যাপ্ত সার মজুত নিশ্চিত করতেই এই বৃহৎ আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে সারের দাম ওঠা-নামা করলেও সরকার সময়মতো প্রয়োজনীয় সারের ব্যবস্থা করে কৃষি কার্যক্রমে বিঘ্ন আসা রোধ করতে চায়।

কৃষি বিশেষজ্ঞরা মনে করান যে, বাংলাদেশের বার্ষিক রসায়নিক সার চাহিদা অত্যধিক এবং স্থানীয় উৎপাদন চাহিদা মেটাতে অপ্রতুল। তাই নির্বিঘ্নে বীজপতন এবং সার প্রয়োগের জন্য নির্ধারিত সময়ে পর্যাপ্ত আমদানিই একমাত্র কার্যকর উপায়। কর্তৃপক্ষ আশা করছে, এই চুক্তিগুলো কার্যকরভাবে সম্পন্ন হলে কৃষকরা নির্ধারিত মৌসুমে মাঠে নামতে পারবেন এবং খাদ্য উৎপাদনে কোন বড় ব্যাঘাত হবে না।

সরকারি উচ্চপর্যায়ের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, চালানগুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে পরিবেশনের জন্য প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেয়া হবে যাতে মাঠ পর্যায়ে সারের সরবরাহে কোন বিলম্ব না ঘটে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

সরকার তিন দেশ থেকে ১ লাখ ৮৫ হাজার টন সার আমদানিতে জোর দিচ্ছে — ব্যয় ১,৬৩৬ কোটি ৪২ লাখ ৩১ হাজার ৩২ টাকা

প্রকাশিতঃ ০২:২৪:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখতে মরক্কো, সৌদি আরব ও রাশিয়া থেকে মোট ১ লাখ ৮৫ হাজার মেট্রিক টন সার আমদানির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই আমদানিতে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১,৬৩৬ কোটি ৪২ লাখ ৩১ হাজার ৩২ টাকা।

বুধবার (১৫ জুলাই) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি (সিসিজিপি)-এর এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তিনটি পৃথক প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করা হয়। বৈঠকটি কার্যনির্বাহীভাবে পরিচালনা করেন বর্তমান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

সরকারি সূত্রে জানা যায়, সবচেয়ে বড় অংশটি আসবে মরক্কো থেকে। জি-টু-জি (সরকার-টু-সরকার) চুক্তির আওতায় মরক্কোর ওসিপি নিউট্রিক্রপস প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে দুই ধাপে মোট ৬০ হাজার মেট্রিক টন ট্রিপল সুপার ফসফেট (টিএসপি) সরবরাহ নেওয়া হবে। প্রথম লটে প্রায় ২৫৪ কোটি ৩৯ লাখ টাকায় ৩০ হাজার মেট্রিক টন (±১০%) টিএসপি কেনা হবে; প্রতি মেট্রিক টনের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৮৮ মার্কিন ডলার। দ্বিতীয় লটে আরও ৩০ হাজার মেট্রিক টন (±১০%) টিএসপি নেওয়া হবে, যার প্রতি মেট্রিক টনের মূল্য ৭২৬.৩৩ মার্কিন ডলার এবং উদ্দেশ্যমূলক মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২৬৮ কোটি ৫৬ লাখ টাকা।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয়ে শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব অনুযায়ী সৌদি আরবের সাবিক অ্যাগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস এবং রাশিয়ার সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরকার-টু-সরকার চুক্তির মাধ্যমে মোট ১ লাখ ২৫ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া আমদানি করা হবে। এই দুই দেশের ইউরিয়া চালানের মোট ব্যয় সরকারি হিসাব অনুযায়ী প্রায় ১ হাজার ১১৩ কোটি টাকার অধিক। এভাবে দেশে ইউরিয়া সারের চাহিদা পূরণে সহায়তা করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, আসন্ন আমন ও রবি মৌসুমে প্রান্তিক কৃষকদের জন্য পর্যাপ্ত সার মজুত নিশ্চিত করতেই এই বৃহৎ আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে সারের দাম ওঠা-নামা করলেও সরকার সময়মতো প্রয়োজনীয় সারের ব্যবস্থা করে কৃষি কার্যক্রমে বিঘ্ন আসা রোধ করতে চায়।

কৃষি বিশেষজ্ঞরা মনে করান যে, বাংলাদেশের বার্ষিক রসায়নিক সার চাহিদা অত্যধিক এবং স্থানীয় উৎপাদন চাহিদা মেটাতে অপ্রতুল। তাই নির্বিঘ্নে বীজপতন এবং সার প্রয়োগের জন্য নির্ধারিত সময়ে পর্যাপ্ত আমদানিই একমাত্র কার্যকর উপায়। কর্তৃপক্ষ আশা করছে, এই চুক্তিগুলো কার্যকরভাবে সম্পন্ন হলে কৃষকরা নির্ধারিত মৌসুমে মাঠে নামতে পারবেন এবং খাদ্য উৎপাদনে কোন বড় ব্যাঘাত হবে না।

সরকারি উচ্চপর্যায়ের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, চালানগুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে পরিবেশনের জন্য প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেয়া হবে যাতে মাঠ পর্যায়ে সারের সরবরাহে কোন বিলম্ব না ঘটে।