১১:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

ভারতের নিষেধাজ্ঞায় বেনাপোল থেকে রপ্তানি অর্ধেকে নামা, বাণিজ্য ঘাটতির আশঙ্কা

ভারতের একতরফা বিধিনিষেধ ও শর্তের কারণে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশি পণ্যের ভারতে রপ্তানি ব্যাপকভাবে কমে গেছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের সরকার পরিবর্তনের পর থেকে আরোপিত এসব বিধিনিষেধের প্রভাব দুই বৎসর পার হওয়ার পরও রয়ে গেছে এবং এর নেতিবাচক প্রতিফলন পড়ছে দেশের সামগ্রিক বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে।

বন্দর কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বেনাপোল দিয়ে ভারতে রপ্তানি হয়েছিল মোট ৩ লাখ ৮১ হাজার ৪৪০ মেট্রিক টন। কিন্তু ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা হঠাৎ করে প্রায় অর্ধেকে নামিয়ে এসে দাঁড়ায় মাত্র ১ লাখ ৯২ হাজার ৮২ মেট্রিক টনে। এক বছরের ব্যবধানে এই বন্দর দিয়ে রপ্তানি প্রায় ১ লাখ ৮৯ হাজার ৩৫৮ মেট্রিক টন কমেছে।

আমদানি ও রপ্তানির বৈষম্য দৈনন্দিন পণ্যবাহী ট্রাকের চলাচলেও স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, একদিনে ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করা পণ্যবাহী ট্রাকের সংখ্যা ছিল ৩০৫টি, কিন্তু বিপরীতে বাংলাদেশ থেকে ভারতে রপ্তানি হয় মাত্র ৪৪টি ট্রাক। ব্যবসায়ীরা বলছেন, একের পর এক শর্ত ও নিষেধাজ্ঞার ফলে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে এমন বড় ধরনের ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি হয়েছে।

সরকারি ও বণিক সূত্রগুলো বলছে, ২০২৫ সালের ৮ এপ্রিল থেকে সড়কপথে ভারতের বিমানবন্দর ব্যবহার করে তৃতীয় দেশে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি বন্ধ করে দেয় ভারত। এরপর ১৫ এপ্রিল সড়কপথে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয় এবং ১৭ মে জারি করা আরেকটি প্রজ্ঞাপনে স্থলপথে তৈরি পোশাক, সুতা, প্লাস্টিক, কাঠজাত পণ্য ও ফল ও ফলজাত পণ্যের আমদানিতেও কঠোর বিধিনিষেধ লাগানো হয়। এসব পদক্ষেপের ফলে বেনাপোল দিয়ে রপ্তানিতে বড় ধরণের জটিলতা ও ধস দেখা দিয়েছে।

বেনাপোল ব্যবসায়ী নেতারা ভারতের কড়া অবস্থান নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বেনাপোল আমদানি-রপ্তানি সমিতির সহসভাপতি আমিনুর হক বলেন, নতুন গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরও ভারত তাদের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেনি, ফলে বেনাপোল দিয়ে রপ্তানিতে ব্যাপক ঘাটতি সৃষ্টি হয়েছে। বেনাপোল সি অ্যান্ড এফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের দপ্তর সম্পাদক মোস্তাফিজ্জোহা সেলিম বলেন, যদি ভারত এভাবে বাধা হয়ে দাঁড়ায় তবে বাংলাদেশের উচিত দ্রুত বিকল্প বাজার খোঁজা; এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য সরকারের শক্তিশালী কূটনৈতিক উদ্যোগ ও বিকল্প বাজার সম্প্রসারণে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

আঞ্চলিক বাণিজ্যের সুযোগ কাজে লাগানোর পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। ভারত-বাংলাদেশ-নেপাল-ভুটান (বিবিআইএন) ট্রানজিট সুবিধা সঠিকভাবে ব্যবহার করে নেপাল ও ভুটানে বাংলাদেশের পণ্যের রপ্তানি বাড়ালে বর্তমান বাণিজ্য ঘাটতি অনেকটা কমানো সম্ভব, বলেন ভারত-বাংলাদেশ ল্যান্ডপোর্ট ইমপোর্ট-এক্সপোর্ট কমিটির সভাপতি মতিয়ার রহমান।

বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক শামিম হোসেন বলেছেন, বন্দরের মাধ্যমে রপ্তানি আগের স্তরে ফিরিয়ে আনতে এবং পরিধি বাড়াতে কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় উদ্যোগ ও পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। ব্যবসায়ীরা আশা করছেন দ্রুত কূটনৈতিক সমাধান, বিকল্প বাজারের খোঁজ এবং আঞ্চলিক ট্রানজিট ব্যবস্থার সক্রিয় ব্যবহার মিলিয়ে রপ্তানির পরিস্থিতি স্থিতিশীল করা সম্ভব হবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

ভারতের নিষেধাজ্ঞায় বেনাপোল থেকে রপ্তানি অর্ধেকে নামা, বাণিজ্য ঘাটতির আশঙ্কা

প্রকাশিতঃ ০৭:২৩:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

ভারতের একতরফা বিধিনিষেধ ও শর্তের কারণে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশি পণ্যের ভারতে রপ্তানি ব্যাপকভাবে কমে গেছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের সরকার পরিবর্তনের পর থেকে আরোপিত এসব বিধিনিষেধের প্রভাব দুই বৎসর পার হওয়ার পরও রয়ে গেছে এবং এর নেতিবাচক প্রতিফলন পড়ছে দেশের সামগ্রিক বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে।

বন্দর কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বেনাপোল দিয়ে ভারতে রপ্তানি হয়েছিল মোট ৩ লাখ ৮১ হাজার ৪৪০ মেট্রিক টন। কিন্তু ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা হঠাৎ করে প্রায় অর্ধেকে নামিয়ে এসে দাঁড়ায় মাত্র ১ লাখ ৯২ হাজার ৮২ মেট্রিক টনে। এক বছরের ব্যবধানে এই বন্দর দিয়ে রপ্তানি প্রায় ১ লাখ ৮৯ হাজার ৩৫৮ মেট্রিক টন কমেছে।

আমদানি ও রপ্তানির বৈষম্য দৈনন্দিন পণ্যবাহী ট্রাকের চলাচলেও স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, একদিনে ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করা পণ্যবাহী ট্রাকের সংখ্যা ছিল ৩০৫টি, কিন্তু বিপরীতে বাংলাদেশ থেকে ভারতে রপ্তানি হয় মাত্র ৪৪টি ট্রাক। ব্যবসায়ীরা বলছেন, একের পর এক শর্ত ও নিষেধাজ্ঞার ফলে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে এমন বড় ধরনের ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি হয়েছে।

সরকারি ও বণিক সূত্রগুলো বলছে, ২০২৫ সালের ৮ এপ্রিল থেকে সড়কপথে ভারতের বিমানবন্দর ব্যবহার করে তৃতীয় দেশে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি বন্ধ করে দেয় ভারত। এরপর ১৫ এপ্রিল সড়কপথে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয় এবং ১৭ মে জারি করা আরেকটি প্রজ্ঞাপনে স্থলপথে তৈরি পোশাক, সুতা, প্লাস্টিক, কাঠজাত পণ্য ও ফল ও ফলজাত পণ্যের আমদানিতেও কঠোর বিধিনিষেধ লাগানো হয়। এসব পদক্ষেপের ফলে বেনাপোল দিয়ে রপ্তানিতে বড় ধরণের জটিলতা ও ধস দেখা দিয়েছে।

বেনাপোল ব্যবসায়ী নেতারা ভারতের কড়া অবস্থান নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বেনাপোল আমদানি-রপ্তানি সমিতির সহসভাপতি আমিনুর হক বলেন, নতুন গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরও ভারত তাদের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেনি, ফলে বেনাপোল দিয়ে রপ্তানিতে ব্যাপক ঘাটতি সৃষ্টি হয়েছে। বেনাপোল সি অ্যান্ড এফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের দপ্তর সম্পাদক মোস্তাফিজ্জোহা সেলিম বলেন, যদি ভারত এভাবে বাধা হয়ে দাঁড়ায় তবে বাংলাদেশের উচিত দ্রুত বিকল্প বাজার খোঁজা; এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য সরকারের শক্তিশালী কূটনৈতিক উদ্যোগ ও বিকল্প বাজার সম্প্রসারণে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

আঞ্চলিক বাণিজ্যের সুযোগ কাজে লাগানোর পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। ভারত-বাংলাদেশ-নেপাল-ভুটান (বিবিআইএন) ট্রানজিট সুবিধা সঠিকভাবে ব্যবহার করে নেপাল ও ভুটানে বাংলাদেশের পণ্যের রপ্তানি বাড়ালে বর্তমান বাণিজ্য ঘাটতি অনেকটা কমানো সম্ভব, বলেন ভারত-বাংলাদেশ ল্যান্ডপোর্ট ইমপোর্ট-এক্সপোর্ট কমিটির সভাপতি মতিয়ার রহমান।

বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক শামিম হোসেন বলেছেন, বন্দরের মাধ্যমে রপ্তানি আগের স্তরে ফিরিয়ে আনতে এবং পরিধি বাড়াতে কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় উদ্যোগ ও পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। ব্যবসায়ীরা আশা করছেন দ্রুত কূটনৈতিক সমাধান, বিকল্প বাজারের খোঁজ এবং আঞ্চলিক ট্রানজিট ব্যবস্থার সক্রিয় ব্যবহার মিলিয়ে রপ্তানির পরিস্থিতি স্থিতিশীল করা সম্ভব হবে।