১১:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশকে পাশে রাখবে ইইউ ও জি-৭৭

জাতিসংঘে বিশেষ বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও গ্রুপ অব ৭৭ অ্যান্ড চায়না (জি-৭৭) বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে মসৃণ, টেকসই ও স্থিতিশীলভাবে উত্তরণে সমর্থন জানিয়েছেন। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে এ আশ্বাস দেয়া হয়। বৈঠকগুলি শুক্রবার (১৭ জুলাই) অনুষ্ঠিত হয় বলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

বৈঠকে মন্ত্রী তিন বছরের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে চলমান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক রূপান্তর, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা, জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ এবং কাঠামোগত সংস্কারের কার্যকর বাস্তবায়নের স্বার্থে অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন। এমন সময় সরকারকে সংস্কারগুলো সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার সুযোগ দিতে প্রস্তুতিকাল বাড়ানো জরুরি—এটাই মন্ত্রীর মূল দাবিটি ছিল।

মন্ত্রী আরও বলেন, সরকার সুশাসন প্রতিষ্ঠা, আর্থিক খাত শক্তিশালীকরণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, অভ্যন্তরীণ সম্পদ সংগ্রহ বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলায় দৃঢ়ভাবে কাজ করছে। প্রস্তাবিত অতিরিক্ত প্রস্তুতি সময় এসব সংস্কারকে আরও সুসংহত করতে, শিল্পের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়াতে এবং এলডিসি উত্তরণকে মসৃণ, টেকসই ও অপরিবর্তনীয় করতে সহায়ক হবে।

ইইউ প্রতিনিধি দলের প্রধান রাষ্ট্রদূত স্টাভরোস ল্যামব্রিনিডিস বাংলাদেশ সরকারের সুশাসন ও টেকসই উন্নয়নে নেওয়া উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি বাংলাদেশ ও ইইউর মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা শুরুকে স্বাগত জানান এবং বাংলাদেশের মসৃণ এলডিসি উত্তরণে ইইউর অব্যাহত সমর্থনের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি তিনি সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ অংশীদারত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

জি-৭৭ অ্যান্ড চায়নার চেয়ারম্যান ও জাতিসংঘে উরুগুয়ের স্থায়ী প্রতিনিধি লারা দুপুই লাসেরে বাংলাদেশের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর যুক্তিকে শক্তিশালী ও গ্রহণযোগ্য বলে অভিহিত করেন। তিনি সরকারের বাস্তবমুখী সংস্কার কর্মসূচির প্রশংসা করে জি-৭৭-এর সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন এবং সদস্য রাষ্ট্রদের জন্য বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ কৌশল নিয়ে একটি বিশেষ ব্রিফিং আয়োজনের প্রস্তাব দেন, যা বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল স্বাগত জানায়।

বৈঠকের শেষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী বলেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে।’ তিনি জানান, ইইউ তাদের অব্যাহত সমর্থনের আশ্বাস দিয়েছে এবং বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণ প্রক্রিয়াকে মসৃণ ও টেকসই করতে সহায়তা করবে।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী, ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর এবং বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান।

প্রধান বার্তা স্পষ্ট: আন্তর্জাতিক অংশীদাররা বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণকে গুরুত্ব দিয়ে দেখে এবং সংলগ্ন সমর্থন বাড়ানোর ব্যাপারে প্রস্তুত। সরকারি কর্মকর্তারা বলেছেন, প্রয়োজনীয় সময় ও সহযোগিতা পেলে দেশ প্রয়োজনীয় সংস্কার সমাপ্ত করে স্থিতিশীল ও টেকসই উত্তরণের লক্ষ্যে এগোতে পারবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশকে পাশে রাখবে ইইউ ও জি-৭৭

প্রকাশিতঃ ০৭:২৬:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

জাতিসংঘে বিশেষ বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও গ্রুপ অব ৭৭ অ্যান্ড চায়না (জি-৭৭) বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে মসৃণ, টেকসই ও স্থিতিশীলভাবে উত্তরণে সমর্থন জানিয়েছেন। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে এ আশ্বাস দেয়া হয়। বৈঠকগুলি শুক্রবার (১৭ জুলাই) অনুষ্ঠিত হয় বলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

বৈঠকে মন্ত্রী তিন বছরের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে চলমান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক রূপান্তর, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা, জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ এবং কাঠামোগত সংস্কারের কার্যকর বাস্তবায়নের স্বার্থে অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন। এমন সময় সরকারকে সংস্কারগুলো সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার সুযোগ দিতে প্রস্তুতিকাল বাড়ানো জরুরি—এটাই মন্ত্রীর মূল দাবিটি ছিল।

মন্ত্রী আরও বলেন, সরকার সুশাসন প্রতিষ্ঠা, আর্থিক খাত শক্তিশালীকরণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, অভ্যন্তরীণ সম্পদ সংগ্রহ বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলায় দৃঢ়ভাবে কাজ করছে। প্রস্তাবিত অতিরিক্ত প্রস্তুতি সময় এসব সংস্কারকে আরও সুসংহত করতে, শিল্পের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়াতে এবং এলডিসি উত্তরণকে মসৃণ, টেকসই ও অপরিবর্তনীয় করতে সহায়ক হবে।

ইইউ প্রতিনিধি দলের প্রধান রাষ্ট্রদূত স্টাভরোস ল্যামব্রিনিডিস বাংলাদেশ সরকারের সুশাসন ও টেকসই উন্নয়নে নেওয়া উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি বাংলাদেশ ও ইইউর মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা শুরুকে স্বাগত জানান এবং বাংলাদেশের মসৃণ এলডিসি উত্তরণে ইইউর অব্যাহত সমর্থনের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি তিনি সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ অংশীদারত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

জি-৭৭ অ্যান্ড চায়নার চেয়ারম্যান ও জাতিসংঘে উরুগুয়ের স্থায়ী প্রতিনিধি লারা দুপুই লাসেরে বাংলাদেশের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর যুক্তিকে শক্তিশালী ও গ্রহণযোগ্য বলে অভিহিত করেন। তিনি সরকারের বাস্তবমুখী সংস্কার কর্মসূচির প্রশংসা করে জি-৭৭-এর সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন এবং সদস্য রাষ্ট্রদের জন্য বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ কৌশল নিয়ে একটি বিশেষ ব্রিফিং আয়োজনের প্রস্তাব দেন, যা বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল স্বাগত জানায়।

বৈঠকের শেষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী বলেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে।’ তিনি জানান, ইইউ তাদের অব্যাহত সমর্থনের আশ্বাস দিয়েছে এবং বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণ প্রক্রিয়াকে মসৃণ ও টেকসই করতে সহায়তা করবে।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী, ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর এবং বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান।

প্রধান বার্তা স্পষ্ট: আন্তর্জাতিক অংশীদাররা বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণকে গুরুত্ব দিয়ে দেখে এবং সংলগ্ন সমর্থন বাড়ানোর ব্যাপারে প্রস্তুত। সরকারি কর্মকর্তারা বলেছেন, প্রয়োজনীয় সময় ও সহযোগিতা পেলে দেশ প্রয়োজনীয় সংস্কার সমাপ্ত করে স্থিতিশীল ও টেকসই উত্তরণের লক্ষ্যে এগোতে পারবে।