১১:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

আরাগচি: যুক্তরাষ্ট্রের হুমকিতে ইরান ভয় পায় না — ‘আমরা ভেনেজুয়েলা নই’

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করত, সেটি ইতিহাসে একটি বড় ভুল হয়ে যেত। তেহরানের সামরিক সক্ষমতা সম্পর্কে ওয়াশিংটনের মূল্যায়ন সম্পূর্ণ ভুল ছিল বলে তিনি দাবী করেছেন। তুরস্কের একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এসব মন্তব্য করেন এবং অভিমত জানিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ইরানকে দ্রুত ও স্বল্পমেয়াদে দুর্বল করার পরিকল্পনা করেছিল — কিন্তু বাস্তবতা তাদের ধারণার উল্টোটাই প্রমাণ হয়েছে।

আরাগচি সাক্ষাৎকারে জোর দিয়ে বলেন, “ইরান কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের হুমকিতে ভয় পায়নি। আমরা ভেনেজুয়েলা নই।” তিনি আরও বলেন, শত্রুরা ভেবেছিল সোনাচিলেই ইরানকে নত করা সম্ভব, কিন্তু তেহরান তার নিরাপত্তা এবং প্রতিরোধ ক্ষমতা ধরে রেখেছে।

বক্তব্যের দ্বিতীয় অংশে আরাগচি এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলে বলেন যে, ইরানের অভ্যন্তরীণ কিছু তথ্য ফাঁস হওয়ায় ইসরায়েল নির্দিষ্ট ও সুচিন্তিত হামলা চালাতে সক্ষম হয়েছিল। তিনি স্বীকার করেন যে রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কিছু দুর্বলতা রয়েছে এবং সেগুলো এখনও পুরোপুরি মেটানো হয়নি।

আরাগচি আরো বলেন, ইসরায়েলি গোয়েন্দারা প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রতিদিন সকালকার দপ্তর উপস্থিতির রুটিন খুঁজে পেয়েছিল এবং সেই তথ্যকে কাজে লাগিয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিল। তবু তেহরানও প্রতিরোধে নেয়া পদক্ষেপে পিছিয়ে ছিল না — সর্বোচ্চ নেতার ওপর কোনো আঘাত কখনোই একতরফা গ্রহণযোগ্য নয়, তাই ইরান আগে থেকেই বিকল্প কৌশল নির্ধারণ করেছিল, যার মধ্যে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার মতো শক্তিশালী প্রতিরোধমূলক বিষয়ও ছিল।

বর্তমান সামরিক এবং কূটনৈতিক অবস্থার প্রসঙ্গে আরাগচি জানান যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পূর্বে যে প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল, তা ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের পূর্ণ অনুমোদন নিয়ে করা হয়েছিল। ইরান মূলত কূটনৈতিক পথে সংকট সমাধানের সম্ভাবনা যাচাই করতেই আলোচনায় সর্ম্পকে ছিল। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে আবার আলাপচারিতায় বসা হবে কি না, তা নিয়ে নীতিনির্ধারণি পর্যায়ে গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

আরাগচির কড়া ভাষা ও সতর্ক ব্যাখ্যা থেকে স্পষ্ট যে তেহরান বর্তমান সংঘাত মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদী প্রস্তুতি ও কৌশল গ্রহণ করে রেখেছে। তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন যে, ইরানকে হালকাভাবে নেওয়া হবে না এবং দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় উপায় গ্রহণ করা হবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

আরাগচি: যুক্তরাষ্ট্রের হুমকিতে ইরান ভয় পায় না — ‘আমরা ভেনেজুয়েলা নই’

প্রকাশিতঃ ০২:২৪:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করত, সেটি ইতিহাসে একটি বড় ভুল হয়ে যেত। তেহরানের সামরিক সক্ষমতা সম্পর্কে ওয়াশিংটনের মূল্যায়ন সম্পূর্ণ ভুল ছিল বলে তিনি দাবী করেছেন। তুরস্কের একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এসব মন্তব্য করেন এবং অভিমত জানিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ইরানকে দ্রুত ও স্বল্পমেয়াদে দুর্বল করার পরিকল্পনা করেছিল — কিন্তু বাস্তবতা তাদের ধারণার উল্টোটাই প্রমাণ হয়েছে।

আরাগচি সাক্ষাৎকারে জোর দিয়ে বলেন, “ইরান কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের হুমকিতে ভয় পায়নি। আমরা ভেনেজুয়েলা নই।” তিনি আরও বলেন, শত্রুরা ভেবেছিল সোনাচিলেই ইরানকে নত করা সম্ভব, কিন্তু তেহরান তার নিরাপত্তা এবং প্রতিরোধ ক্ষমতা ধরে রেখেছে।

বক্তব্যের দ্বিতীয় অংশে আরাগচি এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলে বলেন যে, ইরানের অভ্যন্তরীণ কিছু তথ্য ফাঁস হওয়ায় ইসরায়েল নির্দিষ্ট ও সুচিন্তিত হামলা চালাতে সক্ষম হয়েছিল। তিনি স্বীকার করেন যে রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কিছু দুর্বলতা রয়েছে এবং সেগুলো এখনও পুরোপুরি মেটানো হয়নি।

আরাগচি আরো বলেন, ইসরায়েলি গোয়েন্দারা প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রতিদিন সকালকার দপ্তর উপস্থিতির রুটিন খুঁজে পেয়েছিল এবং সেই তথ্যকে কাজে লাগিয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিল। তবু তেহরানও প্রতিরোধে নেয়া পদক্ষেপে পিছিয়ে ছিল না — সর্বোচ্চ নেতার ওপর কোনো আঘাত কখনোই একতরফা গ্রহণযোগ্য নয়, তাই ইরান আগে থেকেই বিকল্প কৌশল নির্ধারণ করেছিল, যার মধ্যে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার মতো শক্তিশালী প্রতিরোধমূলক বিষয়ও ছিল।

বর্তমান সামরিক এবং কূটনৈতিক অবস্থার প্রসঙ্গে আরাগচি জানান যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পূর্বে যে প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল, তা ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের পূর্ণ অনুমোদন নিয়ে করা হয়েছিল। ইরান মূলত কূটনৈতিক পথে সংকট সমাধানের সম্ভাবনা যাচাই করতেই আলোচনায় সর্ম্পকে ছিল। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে আবার আলাপচারিতায় বসা হবে কি না, তা নিয়ে নীতিনির্ধারণি পর্যায়ে গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

আরাগচির কড়া ভাষা ও সতর্ক ব্যাখ্যা থেকে স্পষ্ট যে তেহরান বর্তমান সংঘাত মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদী প্রস্তুতি ও কৌশল গ্রহণ করে রেখেছে। তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন যে, ইরানকে হালকাভাবে নেওয়া হবে না এবং দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় উপায় গ্রহণ করা হবে।