১১:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

এলডিসি পরবর্তী প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য প্রযুক্তিনির্ভর পোশাকশিল্প গড়ার আহ্বান

স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পর বিশ্ববাজারের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রযুক্তিনির্ভর এবং উচ্চমূল্য সংযোজনমুখী পোশাকশিল্প গড়ে তোলার দাবী উঠেছে। রাজধানীর হোটেল র‍্যাডিসনে গত সোমবার বাংলাদেশ অ্যাপারেল ইয়ুথ লিডার্স অ্যালায়েন্স (বায়লা) আয়োজিত ‘‘বায়লা ফিউচার সামিট–২০২৬’’ শীর্ষক দুই দিনের সম্মেলনের উদ্বোধনী দিনে দেশের শীর্ষ উদ্যোক্তা ও নীতিনির্ধারকরা এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, আগামী দিনে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত কেবল সস্তা শ্রম বা বাজার সুবিধার ওপর নির্ভর করে টিকে থাকতে পারবে না। উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, আধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণ, উদ্ভাবন এবং টেকসই উৎপাদনই হবে দীর্ঘমেয়াদী প্রতিযোগিতার মূল চালক। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), অটোমেশন ও ডিজিটাল প্রযুক্তি দ্রুত গ্রহণ না করলে অনেক কারখানা ভবিষ্যতে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, “তৈরি পোশাকই আমাদের দেশের এক প্রধান কর্মসংস্থানের উৎস। প্রযুক্তিনির্ভর শিল্প তৈরি করতে শ্রমশক্তিকে নতুন দক্ষতায় গড়ে তোলা এবং যুবসমাজে উদ্ভাবনী নেতৃত্ব তৈরিই এখন সময়ের দাবি। সরকার শ্রমিক-মালিক উভয়ের স্বার্থের ভারসাম্য রেখে শিল্পবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে এবং টেকসই শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা দিচ্ছে।”

নিট পোশাক খাতের শীর্ষ সংগঠন বিকেএমইএ’র সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম মন্তব্য করেন, “এআই ও ডিজিটাল ইন্টিগ্রেশন ছাড়া ভবিষ্যতে কোনো পোশাক কারখানা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারবে না। আমাদের প্রথম প্রজন্ম এই খাতকে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ রপ্তানিকারক হিসেবেই প্রতিষ্ঠিত করেছে; এখন সেই অর্জন আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব নতুন প্রজন্মের।”

বিজিএমইএ’র সহসভাপতি বিদিয়া অমৃত খান বলেন, এলডিসি পরবর্তী বাস্তবতায় কেবল চুক্তিভিত্তিক উৎপাদন করে থাকা যথেষ্ট হবে না। দেশকে মূল্য সংযোজন বাড়াতে, নিজস্ব ব্র্যান্ড গড়তে, নকশা ও উদ্ভাবনে মনোযোগ দিতে হবে। তিনি চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রযুক্তি ও এআইয়ের ব্যবহার দ্রুত প্রসারে জোর দেন।

শেলটেক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর আহমেদ স্মরণ করান, কোটা-পরবর্তী সময় এবং কোভিড-১৯–এর মতো বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশে আছে। তিনি বলেন, “এলডিসি পরবর্তী বাস্তবতায় টিকে থাকতে অটোমেশন, দক্ষ মানবসম্পদ বৃদ্ধি, বাজার বহুমুখীকরণ, লজিস্টিকস উন্নয়ন এবং উচ্চ মূল্য সংযোজনপণ্য তৈরিতে আরও বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।”

ইউরোচ্যাম বাংলাদেশের চেয়ারম্যান নুরিয়া লোপেজ বলেন, ‘‘ইইউ বাজারে বাংলাদেশের পোশাকের চাহিদা এখনও শক্তিশালী। তবু টেকসই উৎপাদন, পরিবেশগত মান অক্ষুণ্ণ রাখা এবং পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো না হলে ভবিষ্যতে প্রতিযোগিতায় অবস্থান ধরে রাখা কঠিন হবে।’’

বায়লা সভাপতি আবরার হোসেন সায়েম অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আজকের প্রচলিত ব্যবসায়িক মডেল দিয়েই আগামীর বাজারে প্রতিযোগিতা করা যাবে না। ‘থিংক বিয়ন্ড টুডে’ কেবল শ্লোগান নয়, এটা ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতির মানসিকতা। নতুন প্রজন্মের উদ্যোক্তাদের দ্রুত এআই, ইন্ডাস্ট্রি 4.0 ও উদ্ভাবন গ্রহণ করতে হবে।”

অনুষ্ঠানের শুরুতে বায়লার প্রথম সহসভাপতি হাসিন আরমান স্বাগত বক্তব্য রাখেন। সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীরা নীতিনির্ধারক ও শিল্পখাতের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে প্রযুক্তিনির্ভর বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করার উপর গুরুত্বারোপ করেন এবং তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য দক্ষতা উন্নয়ন ও ইনোভেশন রোডম্যাপ তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

এলডিসি পরবর্তী প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য প্রযুক্তিনির্ভর পোশাকশিল্প গড়ার আহ্বান

প্রকাশিতঃ ১০:৩৮:৪৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পর বিশ্ববাজারের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রযুক্তিনির্ভর এবং উচ্চমূল্য সংযোজনমুখী পোশাকশিল্প গড়ে তোলার দাবী উঠেছে। রাজধানীর হোটেল র‍্যাডিসনে গত সোমবার বাংলাদেশ অ্যাপারেল ইয়ুথ লিডার্স অ্যালায়েন্স (বায়লা) আয়োজিত ‘‘বায়লা ফিউচার সামিট–২০২৬’’ শীর্ষক দুই দিনের সম্মেলনের উদ্বোধনী দিনে দেশের শীর্ষ উদ্যোক্তা ও নীতিনির্ধারকরা এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, আগামী দিনে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত কেবল সস্তা শ্রম বা বাজার সুবিধার ওপর নির্ভর করে টিকে থাকতে পারবে না। উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, আধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণ, উদ্ভাবন এবং টেকসই উৎপাদনই হবে দীর্ঘমেয়াদী প্রতিযোগিতার মূল চালক। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), অটোমেশন ও ডিজিটাল প্রযুক্তি দ্রুত গ্রহণ না করলে অনেক কারখানা ভবিষ্যতে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, “তৈরি পোশাকই আমাদের দেশের এক প্রধান কর্মসংস্থানের উৎস। প্রযুক্তিনির্ভর শিল্প তৈরি করতে শ্রমশক্তিকে নতুন দক্ষতায় গড়ে তোলা এবং যুবসমাজে উদ্ভাবনী নেতৃত্ব তৈরিই এখন সময়ের দাবি। সরকার শ্রমিক-মালিক উভয়ের স্বার্থের ভারসাম্য রেখে শিল্পবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে এবং টেকসই শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা দিচ্ছে।”

নিট পোশাক খাতের শীর্ষ সংগঠন বিকেএমইএ’র সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম মন্তব্য করেন, “এআই ও ডিজিটাল ইন্টিগ্রেশন ছাড়া ভবিষ্যতে কোনো পোশাক কারখানা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারবে না। আমাদের প্রথম প্রজন্ম এই খাতকে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ রপ্তানিকারক হিসেবেই প্রতিষ্ঠিত করেছে; এখন সেই অর্জন আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব নতুন প্রজন্মের।”

বিজিএমইএ’র সহসভাপতি বিদিয়া অমৃত খান বলেন, এলডিসি পরবর্তী বাস্তবতায় কেবল চুক্তিভিত্তিক উৎপাদন করে থাকা যথেষ্ট হবে না। দেশকে মূল্য সংযোজন বাড়াতে, নিজস্ব ব্র্যান্ড গড়তে, নকশা ও উদ্ভাবনে মনোযোগ দিতে হবে। তিনি চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রযুক্তি ও এআইয়ের ব্যবহার দ্রুত প্রসারে জোর দেন।

শেলটেক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর আহমেদ স্মরণ করান, কোটা-পরবর্তী সময় এবং কোভিড-১৯–এর মতো বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশে আছে। তিনি বলেন, “এলডিসি পরবর্তী বাস্তবতায় টিকে থাকতে অটোমেশন, দক্ষ মানবসম্পদ বৃদ্ধি, বাজার বহুমুখীকরণ, লজিস্টিকস উন্নয়ন এবং উচ্চ মূল্য সংযোজনপণ্য তৈরিতে আরও বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।”

ইউরোচ্যাম বাংলাদেশের চেয়ারম্যান নুরিয়া লোপেজ বলেন, ‘‘ইইউ বাজারে বাংলাদেশের পোশাকের চাহিদা এখনও শক্তিশালী। তবু টেকসই উৎপাদন, পরিবেশগত মান অক্ষুণ্ণ রাখা এবং পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো না হলে ভবিষ্যতে প্রতিযোগিতায় অবস্থান ধরে রাখা কঠিন হবে।’’

বায়লা সভাপতি আবরার হোসেন সায়েম অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আজকের প্রচলিত ব্যবসায়িক মডেল দিয়েই আগামীর বাজারে প্রতিযোগিতা করা যাবে না। ‘থিংক বিয়ন্ড টুডে’ কেবল শ্লোগান নয়, এটা ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতির মানসিকতা। নতুন প্রজন্মের উদ্যোক্তাদের দ্রুত এআই, ইন্ডাস্ট্রি 4.0 ও উদ্ভাবন গ্রহণ করতে হবে।”

অনুষ্ঠানের শুরুতে বায়লার প্রথম সহসভাপতি হাসিন আরমান স্বাগত বক্তব্য রাখেন। সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীরা নীতিনির্ধারক ও শিল্পখাতের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে প্রযুক্তিনির্ভর বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করার উপর গুরুত্বারোপ করেন এবং তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য দক্ষতা উন্নয়ন ও ইনোভেশন রোডম্যাপ তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।