১১:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

আইআরজিসি দাবি: কুয়েতে মার্কিন রাডার ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা লক্ষ্যভিত্তিকভাবে আঘাত

মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা সংকট নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে—ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) কুয়েতে মোতায়েন মার্কিন সামরিক স্থাপনায় সফল হামলার দাবি করেছে। তাসনিম নিউজ ও আলজাজিরার প্রতিবেদনের বরাতে আইআরজিসি মঙ্গলবার এই অভিযানের বিস্তারিত জানায় এবং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কথা বলেছে।

আইআরজিসির প্রথম বিবৃতিতে বলা হয়, কুয়েতে থাকা একটি দূরপাল্লার রাডার কেন্দ্র, টেলিযোগাযোগ কেন্দ্র এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা রাডারে নির্ভুলভাবে আঘাত করা হয়েছে। একই সঙ্গে আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটিতে অবস্থিত একটি এমকিউ-৯ ড্রোন হ্যাঙ্গারও লক্ষ্মণীয়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; তাদের দাবী অনুযায়ী সেখানে থাকা কয়েকটি ড্রোন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত অথবা ধ্বংস হয়েছে।

বিবৃতির পর আইআরজিসি দ্রুত দ্বিতীয় এক যৌথ ঘোষণা দিয়ে জানায়, আহমেদ আল-জাবের ঘাঁটিতে থাকা আগাম সতর্কীকরণ রাডার, এফপিএস-১১৭ রাডার এবং প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপরও আক্রমণ চালানো হয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, ভবিষ্যতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র অভিযান চালানোর পূর্বেই মার্কিন রাডার ও নজরদারি সক্ষমতাকে দুর্বল করতে এই পরিকল্পিত আক্রমণ করা হয়েছে।

আইআরজিসির দাবির সমান্তরালে ইরানের নিয়মিত সামরিক বাহিনীকেও পৃথক এক বিবৃতিতে অভিযানের তথ্য নিশ্চিত করতে দেখা গেছে। তারা দাবি করেছে, কুয়েতের তিনটি কৌশলগত মার্কিন অবস্থানে ‘‘কামিকাজে’’ ড্রোন ব্যবহার করে আক্রমণ চালানো হয়েছে। এই হামলায় ক্যাম্প আরিফজানের প্রশাসনিক ভবন ও নির্দেশনামূলক অ্যান্টেনাসহ ক্যাম্প আল-আদিরির হেলিকপ্টার পার্কিং এবং আহমেদ আল-জাবের ঘাঁটির সেনাসংশ্লিষ্ট আবাসন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ইরানি সামরিক নেতৃত্ব জানিয়েছে, অঞ্চলজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বারবার আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত করছে এবং তাই নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষার জন্য এই প্রতিক্রিয়াশীল সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তবে এই দাবির প্রেক্ষিতে এখন পর্যন্ত মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর বা কুয়েত সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো আইআরজিসির দাবির সত্যতা যাচাইয়ের চেষ্টা করছে এবং ঘটনার বিষয়ে স্বাধীন সূত্র থেকে নিশ্চিতকরণ করা এখনও বাকি আছে।

এই ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে বিদ্যমান উত্তেজনা আরও জোরালো আকার নিয়েছে। ভবিষ্যতে প্রতিক্রিয়া বা পাল্টা পদক্ষেপ কেমন হবে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি কীভাবে প্রভাবিত হবে সেটাই এখন বড় প্রশ্ন হিসেবে রয়ে গেছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

আইআরজিসি দাবি: কুয়েতে মার্কিন রাডার ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা লক্ষ্যভিত্তিকভাবে আঘাত

প্রকাশিতঃ ০২:২৪:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা সংকট নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে—ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) কুয়েতে মোতায়েন মার্কিন সামরিক স্থাপনায় সফল হামলার দাবি করেছে। তাসনিম নিউজ ও আলজাজিরার প্রতিবেদনের বরাতে আইআরজিসি মঙ্গলবার এই অভিযানের বিস্তারিত জানায় এবং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কথা বলেছে।

আইআরজিসির প্রথম বিবৃতিতে বলা হয়, কুয়েতে থাকা একটি দূরপাল্লার রাডার কেন্দ্র, টেলিযোগাযোগ কেন্দ্র এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা রাডারে নির্ভুলভাবে আঘাত করা হয়েছে। একই সঙ্গে আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটিতে অবস্থিত একটি এমকিউ-৯ ড্রোন হ্যাঙ্গারও লক্ষ্মণীয়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; তাদের দাবী অনুযায়ী সেখানে থাকা কয়েকটি ড্রোন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত অথবা ধ্বংস হয়েছে।

বিবৃতির পর আইআরজিসি দ্রুত দ্বিতীয় এক যৌথ ঘোষণা দিয়ে জানায়, আহমেদ আল-জাবের ঘাঁটিতে থাকা আগাম সতর্কীকরণ রাডার, এফপিএস-১১৭ রাডার এবং প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপরও আক্রমণ চালানো হয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, ভবিষ্যতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র অভিযান চালানোর পূর্বেই মার্কিন রাডার ও নজরদারি সক্ষমতাকে দুর্বল করতে এই পরিকল্পিত আক্রমণ করা হয়েছে।

আইআরজিসির দাবির সমান্তরালে ইরানের নিয়মিত সামরিক বাহিনীকেও পৃথক এক বিবৃতিতে অভিযানের তথ্য নিশ্চিত করতে দেখা গেছে। তারা দাবি করেছে, কুয়েতের তিনটি কৌশলগত মার্কিন অবস্থানে ‘‘কামিকাজে’’ ড্রোন ব্যবহার করে আক্রমণ চালানো হয়েছে। এই হামলায় ক্যাম্প আরিফজানের প্রশাসনিক ভবন ও নির্দেশনামূলক অ্যান্টেনাসহ ক্যাম্প আল-আদিরির হেলিকপ্টার পার্কিং এবং আহমেদ আল-জাবের ঘাঁটির সেনাসংশ্লিষ্ট আবাসন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ইরানি সামরিক নেতৃত্ব জানিয়েছে, অঞ্চলজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বারবার আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত করছে এবং তাই নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষার জন্য এই প্রতিক্রিয়াশীল সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তবে এই দাবির প্রেক্ষিতে এখন পর্যন্ত মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর বা কুয়েত সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো আইআরজিসির দাবির সত্যতা যাচাইয়ের চেষ্টা করছে এবং ঘটনার বিষয়ে স্বাধীন সূত্র থেকে নিশ্চিতকরণ করা এখনও বাকি আছে।

এই ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে বিদ্যমান উত্তেজনা আরও জোরালো আকার নিয়েছে। ভবিষ্যতে প্রতিক্রিয়া বা পাল্টা পদক্ষেপ কেমন হবে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি কীভাবে প্রভাবিত হবে সেটাই এখন বড় প্রশ্ন হিসেবে রয়ে গেছে।