১১:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

ইংল্যান্ডের ফুটবলের কিংবদন্তি কেভিন কিগান আর নেই

বিশ্ব ফুটবলের আরেকটি উজ্জ্বল নক্ষত্র নিভে গেল। দীর্ঘ দিন ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করার পর ব্রিটিশ সময় অনুযায়ী সোমবার ইংল্যান্ডের সাবেক স্টাইলিশ ফরোয়ার্ড, অধিনায়ক ও কোচ কেভিন কিগান না ফেরার দেশে চলে গেছেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল ৭৫ বছর। শেষকালে পরিবারের সদস্যরা পাশে ছিলেন এবং শোকস্তব্ধ পরিবার ও সাবেক ক্লাব নিউক্যাসল ইউনাইটেড আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। খবরটি প্রকাশিত হতেই ফুটবল বিশ্বে গভীর শোকে পড়ে যায়।

চিকিৎসাজীবনের তথ্য অনুযায়ী কিগানের অসুস্থতার খবরা প্রথমবার সামনে আসে ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে। পরবর্তীতে জুন মাসে চিকিৎসকরা জানান যে তিনি ক্যান্সারের চতুর্থ পর্যায়ে রয়েছেন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে কিগান ছিলেন প্রজন্মের অন্যতম চিত্রহীন ও প্রভাবশালী ফরোয়ার্ড—তার গতি, টেকনিক এবং কখনো হার না মানার মনোবল হাজারো ভক্তকে মুগ্ধ করেছিল। শরীরে অতিরিক্ত উচ্চতা না থাকলেও দুর্দান্ত উপস্থিতি ও নিরন্তর লড়াইয়ের কারণে তাঁকে অনেকে ভালোবেসে ‘মাইটি মাউস’ হিসেবে ডেকেছেন।

ফুটবল জীবনে কেভিন কিগানের অর্জন ছিল বিস্ময়কর। লিভারপুল জার্সিতে তিনবার ফার্স্ট ডিভিশন শিরোপা, একটি এফএ কাপ ও দুইটি উয়েফা কাপ জয় সহ ১৯৭৭ সালে ক্লাবটির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ইউরোপিয়ান কাপ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন তিনি। এরপর জার্মানিতে পাড়ি জমিয়ে তিনি বুন্দেসলিগায় শিরোপা জিতেন এবং সেখানে খেলায় ১৯৭৮ ও ১৯৭৯ সালে অনন্য কীর্তি করে দুইবার ব্যালন ডি’অর লাভ করেন। জাতীয় দলের পক্ষে ইংল্যান্ডকে প্রতিনিধিত্ব করে তিনি খেলেছেন মোট ৬৩ ম্যাচে এবং করেছেন ২১ গোল; তিনি ৩১ ম্যাচে দলের নেতৃত্বও দিয়েছেন।

খেলোয়াড়ি জীবন শেষে কোচিংয়ে নাম লেখান কিগান এবং সেখানেও তিনি নিজেকে প্রমাণ করেন। ১৯৯২ সালে নিউক্যাসল ইউনাইটেডের কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ক্লাবটিকে প্রিমিয়ার লিগে ফেরান এবং তৎকালীন সময়ের দর্শনীয়, আক্রমণাত্মক ফুটবলের ফলে দল বিশ্বজুড়ে প্রশংসা বাটালে। পরবর্তীতে ফুলহাম ও ম্যানচেস্টার সিটির কোচিং করিয়েছেন এবং ১৯৯৯ থেকে ২০০০ পর্যন্ত ইংল্যান্ড জাতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। খেলোয়াড় ও কোচ—দুই ক্ষেত্রেই কিগানের অবদান ইংরেজ ফুটবলের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

কেভিন কিগানের বিদায় ফুটবলের ভক্ত, সহকর্মী ও ক্লাবসমূহের জন্য এক বিশাল শূন্যতা রেখে গেল। তাঁর খেলা, নিষ্ঠা ও টেকসই মনোভাব ভবিষ্যৎ প্রজন্মের খেলোয়াড়দের অনুপ্রাণিত করে যাবে—আর ভক্তদের মনে তিনি চিরকালই অম্লান থাকবেন।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

ইংল্যান্ডের ফুটবলের কিংবদন্তি কেভিন কিগান আর নেই

প্রকাশিতঃ ০৭:২২:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

বিশ্ব ফুটবলের আরেকটি উজ্জ্বল নক্ষত্র নিভে গেল। দীর্ঘ দিন ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করার পর ব্রিটিশ সময় অনুযায়ী সোমবার ইংল্যান্ডের সাবেক স্টাইলিশ ফরোয়ার্ড, অধিনায়ক ও কোচ কেভিন কিগান না ফেরার দেশে চলে গেছেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল ৭৫ বছর। শেষকালে পরিবারের সদস্যরা পাশে ছিলেন এবং শোকস্তব্ধ পরিবার ও সাবেক ক্লাব নিউক্যাসল ইউনাইটেড আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। খবরটি প্রকাশিত হতেই ফুটবল বিশ্বে গভীর শোকে পড়ে যায়।

চিকিৎসাজীবনের তথ্য অনুযায়ী কিগানের অসুস্থতার খবরা প্রথমবার সামনে আসে ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে। পরবর্তীতে জুন মাসে চিকিৎসকরা জানান যে তিনি ক্যান্সারের চতুর্থ পর্যায়ে রয়েছেন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে কিগান ছিলেন প্রজন্মের অন্যতম চিত্রহীন ও প্রভাবশালী ফরোয়ার্ড—তার গতি, টেকনিক এবং কখনো হার না মানার মনোবল হাজারো ভক্তকে মুগ্ধ করেছিল। শরীরে অতিরিক্ত উচ্চতা না থাকলেও দুর্দান্ত উপস্থিতি ও নিরন্তর লড়াইয়ের কারণে তাঁকে অনেকে ভালোবেসে ‘মাইটি মাউস’ হিসেবে ডেকেছেন।

ফুটবল জীবনে কেভিন কিগানের অর্জন ছিল বিস্ময়কর। লিভারপুল জার্সিতে তিনবার ফার্স্ট ডিভিশন শিরোপা, একটি এফএ কাপ ও দুইটি উয়েফা কাপ জয় সহ ১৯৭৭ সালে ক্লাবটির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ইউরোপিয়ান কাপ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন তিনি। এরপর জার্মানিতে পাড়ি জমিয়ে তিনি বুন্দেসলিগায় শিরোপা জিতেন এবং সেখানে খেলায় ১৯৭৮ ও ১৯৭৯ সালে অনন্য কীর্তি করে দুইবার ব্যালন ডি’অর লাভ করেন। জাতীয় দলের পক্ষে ইংল্যান্ডকে প্রতিনিধিত্ব করে তিনি খেলেছেন মোট ৬৩ ম্যাচে এবং করেছেন ২১ গোল; তিনি ৩১ ম্যাচে দলের নেতৃত্বও দিয়েছেন।

খেলোয়াড়ি জীবন শেষে কোচিংয়ে নাম লেখান কিগান এবং সেখানেও তিনি নিজেকে প্রমাণ করেন। ১৯৯২ সালে নিউক্যাসল ইউনাইটেডের কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ক্লাবটিকে প্রিমিয়ার লিগে ফেরান এবং তৎকালীন সময়ের দর্শনীয়, আক্রমণাত্মক ফুটবলের ফলে দল বিশ্বজুড়ে প্রশংসা বাটালে। পরবর্তীতে ফুলহাম ও ম্যানচেস্টার সিটির কোচিং করিয়েছেন এবং ১৯৯৯ থেকে ২০০০ পর্যন্ত ইংল্যান্ড জাতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। খেলোয়াড় ও কোচ—দুই ক্ষেত্রেই কিগানের অবদান ইংরেজ ফুটবলের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

কেভিন কিগানের বিদায় ফুটবলের ভক্ত, সহকর্মী ও ক্লাবসমূহের জন্য এক বিশাল শূন্যতা রেখে গেল। তাঁর খেলা, নিষ্ঠা ও টেকসই মনোভাব ভবিষ্যৎ প্রজন্মের খেলোয়াড়দের অনুপ্রাণিত করে যাবে—আর ভক্তদের মনে তিনি চিরকালই অম্লান থাকবেন।