০২:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

হাসিনার আমলে আমদানি করা ৩০টি বিলাসবহুল গাড়ি পরিবহন পুলে হস্তান্তর

শেখ হাসিনার শেষ মেয়াদে শুল্কমুক্ত সুবিধায় দ্বাদশ সংসদের সদস্যরা আমদানি করা ৩০টি বিলাসবহুল গাড়ি শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীন যানবাহন অধিদপ্তরের পরিবহন পুলে হস্তান্তর করা হয়েছে। এই গাড়িগুলোর জন্য শুল্ক ও কর ছাড় দেওয়া হলেও ভবিষ্যতে জটিলতা এড়াতে কিছু শর্ত সংযুক্ত করা হয়েছে।

গত সেপ্টেম্বরে, নিলামে প্রত্যাশিত দর না ওঠায়, অন্তর্বর্তী সরকার দ্বাদশ সংসদের ৩১ জন সংসদ সদস্যের শুল্ক মুক্ত সুবিধায় আমদানি করা ৩১টি বিলাসবহুল গাড়ি পরিবহন পুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এর আগে সংসদ সদস্যদের গাড়ি সরকার বাহিরে নেওয়ার কোন নজির ছিল না, ফলে এটি কিছুটা জটিলতা তৈরি করে। পরে যানবাহন অধিদপ্তর, কাস্টমস ও বিআরটিএ সমন্বয় করে একটি কমিটি গঠন করা হয়।

সবশেষ, ১২ নভেম্বর, প্রায় ২৭০ কোটি টাকার মূল্যমানসহ গাড়িগুলোর শর্তসাপেক্ষে পরিবহন পুলে দেওয়ার আদেশ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড—এনবিআর। এর আওতায়, ভবিষ্যতে আমদানিকারক বা সাবেক সংসদ সদস্যরা চাইলে নির্ধারিত শুল্ক-কর পরিশোধ করে গাড়িগুলো ফেরত নিতে পারবেন।

এমন কার্যক্রমের মধ্যে, যানবাহন অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বন্দরে সংরক্ষিত গাড়িগুলোর পরিদর্শন সম্পন্ন করেছেন। সব প্রক্রিয়া শেষ হওয়া পর, ৩০টি গাড়ি হস্তান্তর কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার শরিফ আল আমিন জানান, ‘গাড়িগুলোর খালাসের সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। জনপ্রশাসন ও পরিবহন পুলের কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে গাড়িগুলো দেখতে এসে নিজেদের গ্রহণ করেছেন।’

গাড়ি আমদানিকারকদের মতে, উচ্চমূল্য ও জটিল প্রক্রিয়ায় এসব গাড়ি নিলামে বিক্রি করা কঠিন হতো। বন্দরের শেডে রেখে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থেকে রেহায় পাওয়ার জন্যই পরিবহন পুলে দেওয়াটা যুক্তিযুক্ত সিদ্ধান্ত। তবে, সংসদ সদস্যদের জন্য শুল্কমুক্ত সুবিধায় বিলাসবহুল গাড়ি আমদানির আইন সংশোধনের দাবী উঠেছে বারভিডা থেকে।

বারভিডার সাবেক সহ-সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আপনি যদি এমপিদের জন্য গাড়ি দেন, তাহলে ৩ হাজার সিসি পেট্রোল কেন করবেন? তাহলে অন্তত ৩ হাজার সিসির উপর নির্ভর করে চালাতে হবে। একটা স্ল্যাট ভাগ করে দেওয়া উচিত যাতে যেকোনো জায়গা থেকে গাড়ি নামানো যায়।’

সংসদ সদস্যদের শুল্কমুক্ত সুবিধা চালু হয় এরশাদ সরকারের সময়। দ্বাদশ সংসদের সময় এই সুবিধায় ৫১টি গাড়ি আমদানি করা হলেও, সংসদ বিলুপ্তির পরে বেশিরভাগ গাড়ি খালাস হয়নি; যার মধ্যে অধিকাংশই টয়োটা ল্যান্ড ক্রুজার।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

হাসিনার আমলে আমদানি করা ৩০টি বিলাসবহুল গাড়ি পরিবহন পুলে হস্তান্তর

প্রকাশিতঃ ১১:৫২:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫

শেখ হাসিনার শেষ মেয়াদে শুল্কমুক্ত সুবিধায় দ্বাদশ সংসদের সদস্যরা আমদানি করা ৩০টি বিলাসবহুল গাড়ি শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীন যানবাহন অধিদপ্তরের পরিবহন পুলে হস্তান্তর করা হয়েছে। এই গাড়িগুলোর জন্য শুল্ক ও কর ছাড় দেওয়া হলেও ভবিষ্যতে জটিলতা এড়াতে কিছু শর্ত সংযুক্ত করা হয়েছে।

গত সেপ্টেম্বরে, নিলামে প্রত্যাশিত দর না ওঠায়, অন্তর্বর্তী সরকার দ্বাদশ সংসদের ৩১ জন সংসদ সদস্যের শুল্ক মুক্ত সুবিধায় আমদানি করা ৩১টি বিলাসবহুল গাড়ি পরিবহন পুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এর আগে সংসদ সদস্যদের গাড়ি সরকার বাহিরে নেওয়ার কোন নজির ছিল না, ফলে এটি কিছুটা জটিলতা তৈরি করে। পরে যানবাহন অধিদপ্তর, কাস্টমস ও বিআরটিএ সমন্বয় করে একটি কমিটি গঠন করা হয়।

সবশেষ, ১২ নভেম্বর, প্রায় ২৭০ কোটি টাকার মূল্যমানসহ গাড়িগুলোর শর্তসাপেক্ষে পরিবহন পুলে দেওয়ার আদেশ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড—এনবিআর। এর আওতায়, ভবিষ্যতে আমদানিকারক বা সাবেক সংসদ সদস্যরা চাইলে নির্ধারিত শুল্ক-কর পরিশোধ করে গাড়িগুলো ফেরত নিতে পারবেন।

এমন কার্যক্রমের মধ্যে, যানবাহন অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বন্দরে সংরক্ষিত গাড়িগুলোর পরিদর্শন সম্পন্ন করেছেন। সব প্রক্রিয়া শেষ হওয়া পর, ৩০টি গাড়ি হস্তান্তর কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার শরিফ আল আমিন জানান, ‘গাড়িগুলোর খালাসের সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। জনপ্রশাসন ও পরিবহন পুলের কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে গাড়িগুলো দেখতে এসে নিজেদের গ্রহণ করেছেন।’

গাড়ি আমদানিকারকদের মতে, উচ্চমূল্য ও জটিল প্রক্রিয়ায় এসব গাড়ি নিলামে বিক্রি করা কঠিন হতো। বন্দরের শেডে রেখে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থেকে রেহায় পাওয়ার জন্যই পরিবহন পুলে দেওয়াটা যুক্তিযুক্ত সিদ্ধান্ত। তবে, সংসদ সদস্যদের জন্য শুল্কমুক্ত সুবিধায় বিলাসবহুল গাড়ি আমদানির আইন সংশোধনের দাবী উঠেছে বারভিডা থেকে।

বারভিডার সাবেক সহ-সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আপনি যদি এমপিদের জন্য গাড়ি দেন, তাহলে ৩ হাজার সিসি পেট্রোল কেন করবেন? তাহলে অন্তত ৩ হাজার সিসির উপর নির্ভর করে চালাতে হবে। একটা স্ল্যাট ভাগ করে দেওয়া উচিত যাতে যেকোনো জায়গা থেকে গাড়ি নামানো যায়।’

সংসদ সদস্যদের শুল্কমুক্ত সুবিধা চালু হয় এরশাদ সরকারের সময়। দ্বাদশ সংসদের সময় এই সুবিধায় ৫১টি গাড়ি আমদানি করা হলেও, সংসদ বিলুপ্তির পরে বেশিরভাগ গাড়ি খালাস হয়নি; যার মধ্যে অধিকাংশই টয়োটা ল্যান্ড ক্রুজার।