০৫:২৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বাণিজ্যমন্ত্রীর আশ্বাস: জ্বালানি দাম বাড়লেও পণ্যের মূল্য বেশি বাড়বে না তারেক রহমান: জুলাই সনদের প্রতিটি শব্দ, অক্ষর আমরা বাস্তবায়ন করবো সৌদি আরবের অনুরোধ: ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে দ্রুত বাংলাদেশি পাসপোর্ট প্রদান করা হোক দেশ-বিদেশ সফরে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য নতুন প্রটোকল ও নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনে যাত্রা শুরু করল বগুড়া সিটি করপোরেশন হাম-রুবেলা টিকা নিয়ে অবহেলা করেছিল বিগত সরকার: প্রতিমন্ত্রী টুকু তেলের দাম বাড়লেও পাম্পে দীর্ঘ লাইন ও ভোগান্তি দিনেশ ত্রিবেদী ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার হতে যাচ্ছেন সচিব পদমর্যাদায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেলেন সাবেক তিন আমলা বিশ্ববাজারে তেলদাম দ্বিগুণ হলেও সরকার কেবল সামান্য মূল্যবৃদ্ধি করেছে: জ্বালানি মন্ত্রী

হাসিনার আমলে আমদানি করা ৩০টি বিলাসবহুল গাড়ি পরিবহন পুলে হস্তান্তর

শেখ হাসিনার শেষ মেয়াদে শুল্কমুক্ত সুবিধায় দ্বাদশ সংসদের সদস্যরা আমদানি করা ৩০টি বিলাসবহুল গাড়ি শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীন যানবাহন অধিদপ্তরের পরিবহন পুলে হস্তান্তর করা হয়েছে। এই গাড়িগুলোর জন্য শুল্ক ও কর ছাড় দেওয়া হলেও ভবিষ্যতে জটিলতা এড়াতে কিছু শর্ত সংযুক্ত করা হয়েছে।

গত সেপ্টেম্বরে, নিলামে প্রত্যাশিত দর না ওঠায়, অন্তর্বর্তী সরকার দ্বাদশ সংসদের ৩১ জন সংসদ সদস্যের শুল্ক মুক্ত সুবিধায় আমদানি করা ৩১টি বিলাসবহুল গাড়ি পরিবহন পুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এর আগে সংসদ সদস্যদের গাড়ি সরকার বাহিরে নেওয়ার কোন নজির ছিল না, ফলে এটি কিছুটা জটিলতা তৈরি করে। পরে যানবাহন অধিদপ্তর, কাস্টমস ও বিআরটিএ সমন্বয় করে একটি কমিটি গঠন করা হয়।

সবশেষ, ১২ নভেম্বর, প্রায় ২৭০ কোটি টাকার মূল্যমানসহ গাড়িগুলোর শর্তসাপেক্ষে পরিবহন পুলে দেওয়ার আদেশ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড—এনবিআর। এর আওতায়, ভবিষ্যতে আমদানিকারক বা সাবেক সংসদ সদস্যরা চাইলে নির্ধারিত শুল্ক-কর পরিশোধ করে গাড়িগুলো ফেরত নিতে পারবেন।

এমন কার্যক্রমের মধ্যে, যানবাহন অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বন্দরে সংরক্ষিত গাড়িগুলোর পরিদর্শন সম্পন্ন করেছেন। সব প্রক্রিয়া শেষ হওয়া পর, ৩০টি গাড়ি হস্তান্তর কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার শরিফ আল আমিন জানান, ‘গাড়িগুলোর খালাসের সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। জনপ্রশাসন ও পরিবহন পুলের কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে গাড়িগুলো দেখতে এসে নিজেদের গ্রহণ করেছেন।’

গাড়ি আমদানিকারকদের মতে, উচ্চমূল্য ও জটিল প্রক্রিয়ায় এসব গাড়ি নিলামে বিক্রি করা কঠিন হতো। বন্দরের শেডে রেখে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থেকে রেহায় পাওয়ার জন্যই পরিবহন পুলে দেওয়াটা যুক্তিযুক্ত সিদ্ধান্ত। তবে, সংসদ সদস্যদের জন্য শুল্কমুক্ত সুবিধায় বিলাসবহুল গাড়ি আমদানির আইন সংশোধনের দাবী উঠেছে বারভিডা থেকে।

বারভিডার সাবেক সহ-সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আপনি যদি এমপিদের জন্য গাড়ি দেন, তাহলে ৩ হাজার সিসি পেট্রোল কেন করবেন? তাহলে অন্তত ৩ হাজার সিসির উপর নির্ভর করে চালাতে হবে। একটা স্ল্যাট ভাগ করে দেওয়া উচিত যাতে যেকোনো জায়গা থেকে গাড়ি নামানো যায়।’

সংসদ সদস্যদের শুল্কমুক্ত সুবিধা চালু হয় এরশাদ সরকারের সময়। দ্বাদশ সংসদের সময় এই সুবিধায় ৫১টি গাড়ি আমদানি করা হলেও, সংসদ বিলুপ্তির পরে বেশিরভাগ গাড়ি খালাস হয়নি; যার মধ্যে অধিকাংশই টয়োটা ল্যান্ড ক্রুজার।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

তারেক রহমান: জুলাই সনদের প্রতিটি শব্দ, অক্ষর আমরা বাস্তবায়ন করবো

হাসিনার আমলে আমদানি করা ৩০টি বিলাসবহুল গাড়ি পরিবহন পুলে হস্তান্তর

প্রকাশিতঃ ১১:৫২:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫

শেখ হাসিনার শেষ মেয়াদে শুল্কমুক্ত সুবিধায় দ্বাদশ সংসদের সদস্যরা আমদানি করা ৩০টি বিলাসবহুল গাড়ি শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীন যানবাহন অধিদপ্তরের পরিবহন পুলে হস্তান্তর করা হয়েছে। এই গাড়িগুলোর জন্য শুল্ক ও কর ছাড় দেওয়া হলেও ভবিষ্যতে জটিলতা এড়াতে কিছু শর্ত সংযুক্ত করা হয়েছে।

গত সেপ্টেম্বরে, নিলামে প্রত্যাশিত দর না ওঠায়, অন্তর্বর্তী সরকার দ্বাদশ সংসদের ৩১ জন সংসদ সদস্যের শুল্ক মুক্ত সুবিধায় আমদানি করা ৩১টি বিলাসবহুল গাড়ি পরিবহন পুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এর আগে সংসদ সদস্যদের গাড়ি সরকার বাহিরে নেওয়ার কোন নজির ছিল না, ফলে এটি কিছুটা জটিলতা তৈরি করে। পরে যানবাহন অধিদপ্তর, কাস্টমস ও বিআরটিএ সমন্বয় করে একটি কমিটি গঠন করা হয়।

সবশেষ, ১২ নভেম্বর, প্রায় ২৭০ কোটি টাকার মূল্যমানসহ গাড়িগুলোর শর্তসাপেক্ষে পরিবহন পুলে দেওয়ার আদেশ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড—এনবিআর। এর আওতায়, ভবিষ্যতে আমদানিকারক বা সাবেক সংসদ সদস্যরা চাইলে নির্ধারিত শুল্ক-কর পরিশোধ করে গাড়িগুলো ফেরত নিতে পারবেন।

এমন কার্যক্রমের মধ্যে, যানবাহন অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বন্দরে সংরক্ষিত গাড়িগুলোর পরিদর্শন সম্পন্ন করেছেন। সব প্রক্রিয়া শেষ হওয়া পর, ৩০টি গাড়ি হস্তান্তর কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার শরিফ আল আমিন জানান, ‘গাড়িগুলোর খালাসের সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। জনপ্রশাসন ও পরিবহন পুলের কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে গাড়িগুলো দেখতে এসে নিজেদের গ্রহণ করেছেন।’

গাড়ি আমদানিকারকদের মতে, উচ্চমূল্য ও জটিল প্রক্রিয়ায় এসব গাড়ি নিলামে বিক্রি করা কঠিন হতো। বন্দরের শেডে রেখে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থেকে রেহায় পাওয়ার জন্যই পরিবহন পুলে দেওয়াটা যুক্তিযুক্ত সিদ্ধান্ত। তবে, সংসদ সদস্যদের জন্য শুল্কমুক্ত সুবিধায় বিলাসবহুল গাড়ি আমদানির আইন সংশোধনের দাবী উঠেছে বারভিডা থেকে।

বারভিডার সাবেক সহ-সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আপনি যদি এমপিদের জন্য গাড়ি দেন, তাহলে ৩ হাজার সিসি পেট্রোল কেন করবেন? তাহলে অন্তত ৩ হাজার সিসির উপর নির্ভর করে চালাতে হবে। একটা স্ল্যাট ভাগ করে দেওয়া উচিত যাতে যেকোনো জায়গা থেকে গাড়ি নামানো যায়।’

সংসদ সদস্যদের শুল্কমুক্ত সুবিধা চালু হয় এরশাদ সরকারের সময়। দ্বাদশ সংসদের সময় এই সুবিধায় ৫১টি গাড়ি আমদানি করা হলেও, সংসদ বিলুপ্তির পরে বেশিরভাগ গাড়ি খালাস হয়নি; যার মধ্যে অধিকাংশই টয়োটা ল্যান্ড ক্রুজার।