১১:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
২৩ কোটি টাকা মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামানসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ: বাংলাদেশের অর্থনীতি ঝুঁকিতে নূরুল ইসলাম মনি ত্রয়োদশ সংসদের চীফ হুইপ নিযুক্ত ডুবোচর ও বর্জ্যে ইলিশহীন পায়রা, সংকটে ১৪,৬৮৯ জেলে নরসিংদীতে কিশোরী ধর্ষণ ও হত্যা: এজাহারভুক্ত আরও এক আসামি গ্রেফতার চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সৌজন্য সাক্ষাৎ মিশরের প্রেসিডেন্ট আল-সিসি তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী: নিজেকে দক্ষ ও মানবিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তুলুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী: নিজেকে দক্ষ ও মানবিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তুলুন মধ্যপ্রাচ্য সংকটে আটকা পড়া প্রবাসীদের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

হাসিনার আমলে আমদানি করা ৩০টি বিলাসবহুল গাড়ি পরিবহন পুলে হস্তান্তর

শেখ হাসিনার শেষ মেয়াদে শুল্কমুক্ত সুবিধায় দ্বাদশ সংসদের সদস্যরা আমদানি করা ৩০টি বিলাসবহুল গাড়ি শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীন যানবাহন অধিদপ্তরের পরিবহন পুলে হস্তান্তর করা হয়েছে। এই গাড়িগুলোর জন্য শুল্ক ও কর ছাড় দেওয়া হলেও ভবিষ্যতে জটিলতা এড়াতে কিছু শর্ত সংযুক্ত করা হয়েছে।

গত সেপ্টেম্বরে, নিলামে প্রত্যাশিত দর না ওঠায়, অন্তর্বর্তী সরকার দ্বাদশ সংসদের ৩১ জন সংসদ সদস্যের শুল্ক মুক্ত সুবিধায় আমদানি করা ৩১টি বিলাসবহুল গাড়ি পরিবহন পুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এর আগে সংসদ সদস্যদের গাড়ি সরকার বাহিরে নেওয়ার কোন নজির ছিল না, ফলে এটি কিছুটা জটিলতা তৈরি করে। পরে যানবাহন অধিদপ্তর, কাস্টমস ও বিআরটিএ সমন্বয় করে একটি কমিটি গঠন করা হয়।

সবশেষ, ১২ নভেম্বর, প্রায় ২৭০ কোটি টাকার মূল্যমানসহ গাড়িগুলোর শর্তসাপেক্ষে পরিবহন পুলে দেওয়ার আদেশ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড—এনবিআর। এর আওতায়, ভবিষ্যতে আমদানিকারক বা সাবেক সংসদ সদস্যরা চাইলে নির্ধারিত শুল্ক-কর পরিশোধ করে গাড়িগুলো ফেরত নিতে পারবেন।

এমন কার্যক্রমের মধ্যে, যানবাহন অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বন্দরে সংরক্ষিত গাড়িগুলোর পরিদর্শন সম্পন্ন করেছেন। সব প্রক্রিয়া শেষ হওয়া পর, ৩০টি গাড়ি হস্তান্তর কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার শরিফ আল আমিন জানান, ‘গাড়িগুলোর খালাসের সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। জনপ্রশাসন ও পরিবহন পুলের কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে গাড়িগুলো দেখতে এসে নিজেদের গ্রহণ করেছেন।’

গাড়ি আমদানিকারকদের মতে, উচ্চমূল্য ও জটিল প্রক্রিয়ায় এসব গাড়ি নিলামে বিক্রি করা কঠিন হতো। বন্দরের শেডে রেখে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থেকে রেহায় পাওয়ার জন্যই পরিবহন পুলে দেওয়াটা যুক্তিযুক্ত সিদ্ধান্ত। তবে, সংসদ সদস্যদের জন্য শুল্কমুক্ত সুবিধায় বিলাসবহুল গাড়ি আমদানির আইন সংশোধনের দাবী উঠেছে বারভিডা থেকে।

বারভিডার সাবেক সহ-সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আপনি যদি এমপিদের জন্য গাড়ি দেন, তাহলে ৩ হাজার সিসি পেট্রোল কেন করবেন? তাহলে অন্তত ৩ হাজার সিসির উপর নির্ভর করে চালাতে হবে। একটা স্ল্যাট ভাগ করে দেওয়া উচিত যাতে যেকোনো জায়গা থেকে গাড়ি নামানো যায়।’

সংসদ সদস্যদের শুল্কমুক্ত সুবিধা চালু হয় এরশাদ সরকারের সময়। দ্বাদশ সংসদের সময় এই সুবিধায় ৫১টি গাড়ি আমদানি করা হলেও, সংসদ বিলুপ্তির পরে বেশিরভাগ গাড়ি খালাস হয়নি; যার মধ্যে অধিকাংশই টয়োটা ল্যান্ড ক্রুজার।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

২৩ কোটি টাকা মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামানসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট

হাসিনার আমলে আমদানি করা ৩০টি বিলাসবহুল গাড়ি পরিবহন পুলে হস্তান্তর

প্রকাশিতঃ ১১:৫২:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫

শেখ হাসিনার শেষ মেয়াদে শুল্কমুক্ত সুবিধায় দ্বাদশ সংসদের সদস্যরা আমদানি করা ৩০টি বিলাসবহুল গাড়ি শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীন যানবাহন অধিদপ্তরের পরিবহন পুলে হস্তান্তর করা হয়েছে। এই গাড়িগুলোর জন্য শুল্ক ও কর ছাড় দেওয়া হলেও ভবিষ্যতে জটিলতা এড়াতে কিছু শর্ত সংযুক্ত করা হয়েছে।

গত সেপ্টেম্বরে, নিলামে প্রত্যাশিত দর না ওঠায়, অন্তর্বর্তী সরকার দ্বাদশ সংসদের ৩১ জন সংসদ সদস্যের শুল্ক মুক্ত সুবিধায় আমদানি করা ৩১টি বিলাসবহুল গাড়ি পরিবহন পুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এর আগে সংসদ সদস্যদের গাড়ি সরকার বাহিরে নেওয়ার কোন নজির ছিল না, ফলে এটি কিছুটা জটিলতা তৈরি করে। পরে যানবাহন অধিদপ্তর, কাস্টমস ও বিআরটিএ সমন্বয় করে একটি কমিটি গঠন করা হয়।

সবশেষ, ১২ নভেম্বর, প্রায় ২৭০ কোটি টাকার মূল্যমানসহ গাড়িগুলোর শর্তসাপেক্ষে পরিবহন পুলে দেওয়ার আদেশ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড—এনবিআর। এর আওতায়, ভবিষ্যতে আমদানিকারক বা সাবেক সংসদ সদস্যরা চাইলে নির্ধারিত শুল্ক-কর পরিশোধ করে গাড়িগুলো ফেরত নিতে পারবেন।

এমন কার্যক্রমের মধ্যে, যানবাহন অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বন্দরে সংরক্ষিত গাড়িগুলোর পরিদর্শন সম্পন্ন করেছেন। সব প্রক্রিয়া শেষ হওয়া পর, ৩০টি গাড়ি হস্তান্তর কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার শরিফ আল আমিন জানান, ‘গাড়িগুলোর খালাসের সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। জনপ্রশাসন ও পরিবহন পুলের কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে গাড়িগুলো দেখতে এসে নিজেদের গ্রহণ করেছেন।’

গাড়ি আমদানিকারকদের মতে, উচ্চমূল্য ও জটিল প্রক্রিয়ায় এসব গাড়ি নিলামে বিক্রি করা কঠিন হতো। বন্দরের শেডে রেখে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থেকে রেহায় পাওয়ার জন্যই পরিবহন পুলে দেওয়াটা যুক্তিযুক্ত সিদ্ধান্ত। তবে, সংসদ সদস্যদের জন্য শুল্কমুক্ত সুবিধায় বিলাসবহুল গাড়ি আমদানির আইন সংশোধনের দাবী উঠেছে বারভিডা থেকে।

বারভিডার সাবেক সহ-সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আপনি যদি এমপিদের জন্য গাড়ি দেন, তাহলে ৩ হাজার সিসি পেট্রোল কেন করবেন? তাহলে অন্তত ৩ হাজার সিসির উপর নির্ভর করে চালাতে হবে। একটা স্ল্যাট ভাগ করে দেওয়া উচিত যাতে যেকোনো জায়গা থেকে গাড়ি নামানো যায়।’

সংসদ সদস্যদের শুল্কমুক্ত সুবিধা চালু হয় এরশাদ সরকারের সময়। দ্বাদশ সংসদের সময় এই সুবিধায় ৫১টি গাড়ি আমদানি করা হলেও, সংসদ বিলুপ্তির পরে বেশিরভাগ গাড়ি খালাস হয়নি; যার মধ্যে অধিকাংশই টয়োটা ল্যান্ড ক্রুজার।