০৭:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব উপমহাদেশে এক অনন্য দৃষ্টান্ত: মার্শা বার্নিকাট প্রধান উপদেষ্টার আহ্বান: তরুণদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলুন অনলাইনে প্রতারণা: ঢাকায় ৫ চীনা নাগরিকসহ গ্রেপ্তার ৮, জব্দ ৫১ হাজার সিম প্রধান উপদেষ্টার নির্বাচন কেন্দ্রিক ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় জাতিসংঘের সহায়তা চেয়ে আবেদন আগামীকাল থেকে আবারও শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা: উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনা যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন ঢাকায় পৌঁছেছেন স্মারণ ও বিশ্লেষণে দাবি: নির্বাচন পরিকল্পনায় দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অর্থায়ন মатарবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্রে ভয়াবহ অগ্নিকা- ৯ ঘণ্টা চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে দ্বিগুণেরও বেশি বাজেটে সংশোধিত এডিপি অনুমোদন সংস্কারের নামে পুরোনো আমলাতান্ত্রিক প্রভাবের পুনর্বাসন: টিআইবির অভিযোগ

ছায়ানটের সাংস্কৃতিক ফিরতি অনুষ্ঠান সফলতা লাভ করল

রাজধানীর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের কেন্দ্রবিন্দু ছায়ানট দীর্ঘ বিরতির পর আবারও ধ্রুপদী সুরের সৌরভে মুখর হয়ে উঠেছে। গত শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) থেকে ধানমন্ডির ছায়ানট সংস্কৃতি-ভবনে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী ‘শুদ্ধসংগীত উৎসব’। এই উৎসবটি সব শ্রেণির সংগীতপ্রেমীদের জন্য এক আনন্দের অনুষ্ঠানে রূপ নিয়েছে। এটি ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁকে উৎসর্গ করে অনুষ্ঠিত হওয়ায় এর মাহাত্ম্য আরও বাড়িয়ে তুলেছে। উদ্বোধনী দিনটি দেশের জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে শুরু হয় এবং প্রথম অধিবেশনটি বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত সফলভাবে চলেছে। আজ শনিবারও উৎসবের সেশনের মাধ্যমে প্রথিতযশা শিল্পীরা তাঁদের পারফরম্যান্স তুলে ধরছেন, যার মধ্যে রয়েছে ছোট ও বড় বৈচিত্র্যময় অনুষ্ঠান।

ছায়ানটের এই ফিরতি অনুষ্ঠান কেবল একটি সাধারণ সাংস্কৃতিক আয়োজন নয়, বরং এটি একটি বড় সংকটের পর আত্মবিশ্বাসের প্রকাশ। উল্লেখ্য, ইনকিলাবের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুবিধা নেওয়ার জন্য দুর্বৃত্তরা ছায়ানট ভবনে ন্যাক্কারজনক হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছিল। মহলের পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়েছে যে, এই হামলার সঙ্গে হাদির সমর্থকদের কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল না, বরং হীন স্বার্থের জন্য দুষ্কৃতকারীরা পরিস্থিতির সুযোগ নিয়েছিল। সেই ঘটনার পর নিরাপত্তার জন্য ছায়ানটের সকল পাঠদান ও দাপ্তরিক কার্যক্রম অস্থায়ীভাবে বন্ধ ছিল। পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার পর ১ জানুয়ারি থেকে দাপ্তরিক কাজ চালু হয় এবং ৩ জানুয়ারি থেকে সাধারণ পাঠ্যক্রমও পুনরায় শুরু হয়। তবে, এই সংগীত উৎসবের মাধ্যমে দর্শকদের ছায়ানটে ফিরতে পারার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

উৎসবের উদ্বোধনী ভাষণে ছায়ানটের সভাপতি সারওয়ার আলী বর্তমান প্রেক্ষাপটে সাংস্কৃতিক চর্চার গুরুত্ব ও নিরাপত্তার বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে বললেন, আমাদের একটি নিরাপদ ও স্বনির্ভর দেশ গড়ে তোলাই এখন আমাদের অগ্রাধিকার। তিনি বিশ্বাস করেন, শিল্প ও সংস্কৃতি সমাজের অস্থিরতা দূর করে মানুষের মধ্যে সম্প্রীতির বন্ধন দৃঢ় করতে পারে। সংগীত ও সংস্কৃতির মাধ্যমে এই উৎসব দেখায়, সত্যিকারের শিল্পীর শক্তি অশুভ শক্তির বাধা উপেক্ষা করে এগিয়ে যেতে পারে। কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে এই উৎসব চললেও শিল্পীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, সুশৃঙ্খল সমাজ গড়ে তুলতে সংস্কৃতি অব্যাহত থাকবে। মূল লক্ষ্য হচ্ছে একটি শান্তিপূর্ণ এবং সংস্কৃতিমনা সমাজ প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে সকলের জন্য উন্মুক্ত ও উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

নাগরিকদের অবিলম্বে ইরান ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

ছায়ানটের সাংস্কৃতিক ফিরতি অনুষ্ঠান সফলতা লাভ করল

প্রকাশিতঃ ১১:৫৫:০৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

রাজধানীর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের কেন্দ্রবিন্দু ছায়ানট দীর্ঘ বিরতির পর আবারও ধ্রুপদী সুরের সৌরভে মুখর হয়ে উঠেছে। গত শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) থেকে ধানমন্ডির ছায়ানট সংস্কৃতি-ভবনে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী ‘শুদ্ধসংগীত উৎসব’। এই উৎসবটি সব শ্রেণির সংগীতপ্রেমীদের জন্য এক আনন্দের অনুষ্ঠানে রূপ নিয়েছে। এটি ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁকে উৎসর্গ করে অনুষ্ঠিত হওয়ায় এর মাহাত্ম্য আরও বাড়িয়ে তুলেছে। উদ্বোধনী দিনটি দেশের জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে শুরু হয় এবং প্রথম অধিবেশনটি বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত সফলভাবে চলেছে। আজ শনিবারও উৎসবের সেশনের মাধ্যমে প্রথিতযশা শিল্পীরা তাঁদের পারফরম্যান্স তুলে ধরছেন, যার মধ্যে রয়েছে ছোট ও বড় বৈচিত্র্যময় অনুষ্ঠান।

ছায়ানটের এই ফিরতি অনুষ্ঠান কেবল একটি সাধারণ সাংস্কৃতিক আয়োজন নয়, বরং এটি একটি বড় সংকটের পর আত্মবিশ্বাসের প্রকাশ। উল্লেখ্য, ইনকিলাবের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুবিধা নেওয়ার জন্য দুর্বৃত্তরা ছায়ানট ভবনে ন্যাক্কারজনক হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছিল। মহলের পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়েছে যে, এই হামলার সঙ্গে হাদির সমর্থকদের কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল না, বরং হীন স্বার্থের জন্য দুষ্কৃতকারীরা পরিস্থিতির সুযোগ নিয়েছিল। সেই ঘটনার পর নিরাপত্তার জন্য ছায়ানটের সকল পাঠদান ও দাপ্তরিক কার্যক্রম অস্থায়ীভাবে বন্ধ ছিল। পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার পর ১ জানুয়ারি থেকে দাপ্তরিক কাজ চালু হয় এবং ৩ জানুয়ারি থেকে সাধারণ পাঠ্যক্রমও পুনরায় শুরু হয়। তবে, এই সংগীত উৎসবের মাধ্যমে দর্শকদের ছায়ানটে ফিরতে পারার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

উৎসবের উদ্বোধনী ভাষণে ছায়ানটের সভাপতি সারওয়ার আলী বর্তমান প্রেক্ষাপটে সাংস্কৃতিক চর্চার গুরুত্ব ও নিরাপত্তার বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে বললেন, আমাদের একটি নিরাপদ ও স্বনির্ভর দেশ গড়ে তোলাই এখন আমাদের অগ্রাধিকার। তিনি বিশ্বাস করেন, শিল্প ও সংস্কৃতি সমাজের অস্থিরতা দূর করে মানুষের মধ্যে সম্প্রীতির বন্ধন দৃঢ় করতে পারে। সংগীত ও সংস্কৃতির মাধ্যমে এই উৎসব দেখায়, সত্যিকারের শিল্পীর শক্তি অশুভ শক্তির বাধা উপেক্ষা করে এগিয়ে যেতে পারে। কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে এই উৎসব চললেও শিল্পীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, সুশৃঙ্খল সমাজ গড়ে তুলতে সংস্কৃতি অব্যাহত থাকবে। মূল লক্ষ্য হচ্ছে একটি শান্তিপূর্ণ এবং সংস্কৃতিমনা সমাজ প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে সকলের জন্য উন্মুক্ত ও উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।