১১:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
জনআকাংক্ষা পূরণে প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর কড়া নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কড়া বার্তা: বাংলাদেশে মব কালচারের দিন শেষ সাংবাদিকদের সমস্যা সমাধান না হলে গণমাধ্যমের উন্নয়ন সম্ভব নয়: তথ্যমন্ত্রী বিমান বাংলাদেশের চেয়ারম্যান শেখ বশিরউদ্দীনকে সরকারি অব্যাহতি যত দ্রুত সম্ভব স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজিত হবে: মির্জা ফখরুল ১০ জনকে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নিযুক্ত তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী: গণতন্ত্রের নতুন অধ্যায়ের শুভসূচনা আনসার-ভিডিপি ও SREDA’র সমঝোতা: টেকসই জ্বালানি ও গ্রামীণ কর্মসংস্থানে নতুন দিগন্ত নতুন মন্ত্রিসভায় ২৫ পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ববণ্টন: কে কোথায় পেলেন দায়িত্ব? ২৪ প্রতিমন্ত্রী শপথ নিলেন — নতুন অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকারের যাত্রা শুরু

ইসরায়েলের বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে আল-আকসায় আল-ফিলিস্তিনিদের প্রথম তারাবিহ আদায়

ফিলিস্তিনসহ মধ্যপ্রাচ্যের বেশিরভাগ দেশে বুধবার থেকে পবিত্র রমজান শুরু হওয়ায় মঙ্গলবার রাতেই রমজানের প্রথম তারাবিহ নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে হাজারো ফিলিস্তিনি নামাজ পড়তে উঠেছিলেন, তবে সেখানে ইসরায়েলি বাধা-বিপত্তি ছিল।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, মসজিদটির প্রার্থনালয় ও খোলা প্রাঙ্গণও উপচে পড়ছিল। খতিব শেখ ইউসুফ আবু স্নেইনে তারাবিহে নামাজের নেতৃত্ব দেন। অনলাইনে ছড়ানো ফুটেজে দেখা গেছে, ইসরায়েলি পুলিশ মসজিদের আশপাশে এবং প্রার্থীদের মধ্যেও অবস্থান নিয়েছে—নিরাপত্তা তদারকি করার জানান দেওয়া হলেও তাদের উপস্থিতি অনেকেরই উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

তরুণ ফিলিস্তিনিদের আল-আকসা প্রাঙ্গণে ঢুকতে নানা অজুহাতে বাধা দেওয়া হয়েছে বলে পরিবেশকরা উল্লেখ করেছেন। নামাজ চলাকালীন ইসরায়েলি বাহিনী মসজিদটি ঘিরে রেখেছিল এবং কিছু এলাকায় প্রবেশ-প্রতিবন্ধকতা, আটক ও ধর্মীয় নেতাদের ওপর নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করা হয়। জেরুজালেম গভর্নরের তথ্যমতে, ২০২৬ সালের শুরু থেকেই আল-আকসায় প্রবেশে ২৫০ জনের বেশি ফিলিস্তিনির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

এর আগে জেরুজালেম ও ফিলিস্তিনি অঞ্চলের গ্র্যান্ড মুফতি শেখ মুহাম্মদ হুসাইন অনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন, ঐতিহ্যগতভাবে চাঁদ দেখা অনুযায়ী বুধবার রমজানের প্রথম দিন হবে। তিনি জানান, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ হিজরি ১৪৪৭ সালের রমজানের প্রথম দিন হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে। তাই ১৭ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার রাতের তারাবিহই অনেকে রমজানের প্রথম রাত হিসেবে পালন করেছেন।

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রমজানের আগে পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ইসরায়েলি বিধিনিষেধ আরও কঠোর হয়েছে, যা উপাসনাস্থলে প্রবেশ ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে ব্যাঘাত সৃষ্টি করেছে। ইউরো-মেডিটেরেনিয়ান হিউম্যান রাইটস মনিটরও এই বিধিনিষেধের কথাই তুলে এনেছে।

আল-আকসার ইমাম শেখ মুহাম্মদ আল-আব্বাসিকে সোমবার রাতে ইসরায়েলি পুলিশ আটক করেছিল—কিছু সময় পর তাকে মুক্তি দেওয়া হলেও এক সপ্তাহ মসজিদে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। আল-আব্বাসি বলেছেন, নিষেধাজ্ঞার কারণ জানানো হয়নি এবং এটি তাঁর কাছে বেদনাদায়ক।

সামগ্রিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট হিসেবে, ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর গাজার বিরুদ্ধে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের পর থেকে পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে কার্যক্রম জোরদার হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই বছরের যুদ্ধে গাজায় ব্যাপক লোকহানীর ঘটনা ঘটেছে—প্রতিবেদন অনুযায়ী ৭২,০০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত ও প্রায় ১ লাখ ৭১,০০০ আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে অনেকেই নারী ও শিশু। এছাড়া গাজার বেশিরভাগ বসবাসের অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে; ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও বিভিন্ন এলাকায় বিমানহামলা ও ধ্বংসযজ্ঞ অব্যাহত থাকার কথা رپور্টে বলা হয়। (উল্লেখ্য: এই সংখ্যা ও বিবরণ সংশ্লিষ্ট সূত্রে প্রদত্ত।)

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও ছিল তীব্র। হামাস আল-আব্বাসির গ্রেপ্তারের নিন্দা জানিয়ে ইসরায়েলি পদক্ষেপগুলোকে মসজিদের ওপর প্রকাশ্য হস্তক্ষেপ ও ইমামদের উপর আক্রমণ হিসেবে অভিহিত করেছে। তারা অভিযোগ করেছে, আল-আকসার ওপর ব্যবস্থা ও মুসল্লিদের প্রবেশ-নিয়ন্ত্রণ মুসলিম উপাসনাস্থানের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করছে এবং মসজিদকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ‘‘ইহুদীকরণ’’ চেষ্টা চলছে বলে তীব্র আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।

অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ জানিয়েছেন, গাজায় হামাসকে নিষ্ক্রিয় না করা পর্যন্ত তারা ‘ইয়েলো লাইন’ থেকে সরে যাবে না। তিনি বলেন, হামাসের অস্ত্র, সুড়ঙ্গ ও অন্যান্য সামর্থ্য বিনষ্ট না হওয়া পর্যন্ত ওই সীমানা থেকেই তারা পিছু সরে যাবে না।

রমজান শুরু হওয়ার সময় এই ভিড়, প্রার্থনা ও নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যে আল-আকসা মসজিদ ও আশেপাশের পুরোনো শহরটি আবারও উত্তেজনায় ছিল। বহু মুসল্লি সেখানে একত্রিত হলেও প্রবেশ ও আচার-অনুষ্ঠানে বাধা, আটক ও নিষেধাজ্ঞা নিয়ে উদ্বেগ এখনো বিদ্যমান।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

জনআকাংক্ষা পূরণে প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর কড়া নির্দেশ

ইসরায়েলের বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে আল-আকসায় আল-ফিলিস্তিনিদের প্রথম তারাবিহ আদায়

প্রকাশিতঃ ০৮:২৫:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ফিলিস্তিনসহ মধ্যপ্রাচ্যের বেশিরভাগ দেশে বুধবার থেকে পবিত্র রমজান শুরু হওয়ায় মঙ্গলবার রাতেই রমজানের প্রথম তারাবিহ নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে হাজারো ফিলিস্তিনি নামাজ পড়তে উঠেছিলেন, তবে সেখানে ইসরায়েলি বাধা-বিপত্তি ছিল।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, মসজিদটির প্রার্থনালয় ও খোলা প্রাঙ্গণও উপচে পড়ছিল। খতিব শেখ ইউসুফ আবু স্নেইনে তারাবিহে নামাজের নেতৃত্ব দেন। অনলাইনে ছড়ানো ফুটেজে দেখা গেছে, ইসরায়েলি পুলিশ মসজিদের আশপাশে এবং প্রার্থীদের মধ্যেও অবস্থান নিয়েছে—নিরাপত্তা তদারকি করার জানান দেওয়া হলেও তাদের উপস্থিতি অনেকেরই উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

তরুণ ফিলিস্তিনিদের আল-আকসা প্রাঙ্গণে ঢুকতে নানা অজুহাতে বাধা দেওয়া হয়েছে বলে পরিবেশকরা উল্লেখ করেছেন। নামাজ চলাকালীন ইসরায়েলি বাহিনী মসজিদটি ঘিরে রেখেছিল এবং কিছু এলাকায় প্রবেশ-প্রতিবন্ধকতা, আটক ও ধর্মীয় নেতাদের ওপর নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করা হয়। জেরুজালেম গভর্নরের তথ্যমতে, ২০২৬ সালের শুরু থেকেই আল-আকসায় প্রবেশে ২৫০ জনের বেশি ফিলিস্তিনির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

এর আগে জেরুজালেম ও ফিলিস্তিনি অঞ্চলের গ্র্যান্ড মুফতি শেখ মুহাম্মদ হুসাইন অনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন, ঐতিহ্যগতভাবে চাঁদ দেখা অনুযায়ী বুধবার রমজানের প্রথম দিন হবে। তিনি জানান, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ হিজরি ১৪৪৭ সালের রমজানের প্রথম দিন হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে। তাই ১৭ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার রাতের তারাবিহই অনেকে রমজানের প্রথম রাত হিসেবে পালন করেছেন।

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রমজানের আগে পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ইসরায়েলি বিধিনিষেধ আরও কঠোর হয়েছে, যা উপাসনাস্থলে প্রবেশ ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে ব্যাঘাত সৃষ্টি করেছে। ইউরো-মেডিটেরেনিয়ান হিউম্যান রাইটস মনিটরও এই বিধিনিষেধের কথাই তুলে এনেছে।

আল-আকসার ইমাম শেখ মুহাম্মদ আল-আব্বাসিকে সোমবার রাতে ইসরায়েলি পুলিশ আটক করেছিল—কিছু সময় পর তাকে মুক্তি দেওয়া হলেও এক সপ্তাহ মসজিদে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। আল-আব্বাসি বলেছেন, নিষেধাজ্ঞার কারণ জানানো হয়নি এবং এটি তাঁর কাছে বেদনাদায়ক।

সামগ্রিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট হিসেবে, ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর গাজার বিরুদ্ধে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের পর থেকে পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে কার্যক্রম জোরদার হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই বছরের যুদ্ধে গাজায় ব্যাপক লোকহানীর ঘটনা ঘটেছে—প্রতিবেদন অনুযায়ী ৭২,০০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত ও প্রায় ১ লাখ ৭১,০০০ আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে অনেকেই নারী ও শিশু। এছাড়া গাজার বেশিরভাগ বসবাসের অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে; ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও বিভিন্ন এলাকায় বিমানহামলা ও ধ্বংসযজ্ঞ অব্যাহত থাকার কথা رپور্টে বলা হয়। (উল্লেখ্য: এই সংখ্যা ও বিবরণ সংশ্লিষ্ট সূত্রে প্রদত্ত।)

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও ছিল তীব্র। হামাস আল-আব্বাসির গ্রেপ্তারের নিন্দা জানিয়ে ইসরায়েলি পদক্ষেপগুলোকে মসজিদের ওপর প্রকাশ্য হস্তক্ষেপ ও ইমামদের উপর আক্রমণ হিসেবে অভিহিত করেছে। তারা অভিযোগ করেছে, আল-আকসার ওপর ব্যবস্থা ও মুসল্লিদের প্রবেশ-নিয়ন্ত্রণ মুসলিম উপাসনাস্থানের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করছে এবং মসজিদকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ‘‘ইহুদীকরণ’’ চেষ্টা চলছে বলে তীব্র আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।

অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ জানিয়েছেন, গাজায় হামাসকে নিষ্ক্রিয় না করা পর্যন্ত তারা ‘ইয়েলো লাইন’ থেকে সরে যাবে না। তিনি বলেন, হামাসের অস্ত্র, সুড়ঙ্গ ও অন্যান্য সামর্থ্য বিনষ্ট না হওয়া পর্যন্ত ওই সীমানা থেকেই তারা পিছু সরে যাবে না।

রমজান শুরু হওয়ার সময় এই ভিড়, প্রার্থনা ও নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যে আল-আকসা মসজিদ ও আশেপাশের পুরোনো শহরটি আবারও উত্তেজনায় ছিল। বহু মুসল্লি সেখানে একত্রিত হলেও প্রবেশ ও আচার-অনুষ্ঠানে বাধা, আটক ও নিষেধাজ্ঞা নিয়ে উদ্বেগ এখনো বিদ্যমান।