পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে আদিয়ালা কারাগারে রেখেই তার চোখের চিকিৎসা নিয়ে সরকার ও পরিবারের মধ্যে নতুন করে তর্ক-সমাধান তৈরি হয়েছে। সরকারের মেডিকেল বোর্ডের দাবি ও পরিবারের প্রণীত ভাষ্যের মধ্যে মতানৈক্য তীব্র হয়ে উঠেছে।
একটি আদালত প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল ইমরান খান একচোখের দৃষ্টিশক্তির প্রায় ৮৫ শতাংশ হারিয়েছেন। এরপর রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে দু’সদস্যের সরকারি মেডিকেল বোর্ড তাকে পরীক্ষা করে এবং রিপোর্টে জানায়, চিকিৎসার ফলে তার ডান চোখের দৃষ্টি ৬/৩৬ থেকে উন্নতি হয়ে এখন ৬/৯ এ উঠেছে—অর্থাৎ সাধারণ মানুষ যে দূরত্ব থেকে কিছু দেখে, তিনি তা কম দূরত্ব থেকে দেখতে পারেন।
তবে এই সরকারি দাবিকে সরাসরি অগ্রহণযোগ্য বলে অভিহিত করেছেন ইমরানের বোন আলিমা খান। মঙ্গলবার আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, রিপোর্ট ভিত্তিহীন এবং পরিবারের কোনও প্রতিনিধিকে পরীক্ষার সময় উপস্থিত থাকতে দেয়া হয়নি। তিনি এটিকে “সুপারিশ্চিত অপরাধ” বলে আখ্যায়িত করে বলেন, তাদের পক্ষ থেকে ইমরানকে দ্রুত ইসলামাবাদে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তর করার দাবি জানানো হয়েছে।
ইমরানের ব্যক্তিগত চিকিৎসক ড. আসিম ইউসুফও জানান, সরকারি চিকিৎসকরা উন্নতির কথা বললেও তিনি নিজে ইমরানকে দেখা না পাওয়ায় তা যাচাই করতে পারেননি। পরিবারের এবং দলের পর্যায় থেকে রিপোর্টে আস্থা নেই বলেই বারবার জানানো হয়েছে।
পিটিআই নেতা-নেত্রীরা অভিযোগ করেছেন, সরকার ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে তথ্য গোপন করছে। দলের সাধারণ সম্পাদক সালমান আকরাম রাজা বলেছেন, চিকিৎসকরা দাবি করেছেন যে ইমরান এখন দেয়ালের ঘড়ি দেখতে পাচ্ছেন, যা আগে পারতেন না—কিন্তু এই দাবি নিয়ে পরিবারের সন্দেহ থেকেই যায়। আলিমা প্রশ্ন তুলেছেন, যদি সত্যিই অবস্থার উন্নতি হয়, তাহলে কেন পরিবারের সদস্য ও ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের তাকে দেখতে দেয়া হচ্ছে না?
অন্যদিকে সরকার ও আইনমন্ত্রী আজম নাজির তারার দাবি, রোগনির্ণয় ও চিকিৎসা যথাযথ স্বচ্ছতার মধ্যে করা হয়েছে এবং ইমরান খানের শারীরিক অবস্থায় উন্নতি লক্ষ করা যাচ্ছে।
চিকিৎসা-সংক্রান্ত এই অচলাবস্থায় পিটিআই সমর্থকরা পার্লামেন্টের সামনে অবস্থান ধর্মঘট পালন করছেন। আলিমা জানান, তিনি আজ আদিয়ালা কারাগারের সামনে সংবাদ সম্মেলন করবেন। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, লন্ডনে থাকা ইমরানের দুই ছেলের ভিসা আবেদনও ঝুলে আছে, যা তাদের বাবার সঙ্গে দেখা করার পথ কঠিন করে তুলছে।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 























