০৭:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
গণমাধ্যম ও রাজনীতিতে জবাবদিহিতার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী বিএনপি চায় বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়া ফরিদা খানম ঢাকার নতুন ডিসি মালয়েশিয়ার গভীর জঙ্গল থেকে ২৭ বছর পর দেশে ফিরলেন শরীয়তপুরের আমির হোসেন ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি ও সরকারি প্লট নেবেন না এমপি-রা, বিরোধীও একমত: চিফ হুইপ সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষায় কারো সঙ্গে বৈরী আচরণ করব না: প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর πολιটিক্যাল ও কৃষি উপদেষ্টার সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ আইএফআইসি নেতৃত্বে পটুয়াখালীতে দুইদিনব্যাপী ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ’ সম্প্রসারণ কর্মসূচি জ্বালানির দর বাড়লেই নিত্যপণ্যের দাম সামঞ্জস্য করা হবে: তথ্য উপদেষ্টা কারিগরি ত্রুটিতে এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ, দক্ষিণ ঢাকাসহ গ্যাস সংকট

অস্থির বিশ্ববাজারে সোনার দাম আবার বাড়লো

বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তা ও ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার ছায়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম আবারও বাড়ছে। গত একদিনের ব্যবধানে ফের মূল্যচলন ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানকে আরও ত্বরান্বিত করেছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববাজারে স্পট গোল্ডের দাম আউন্সপ্রতি প্রায় 5,187 ডলারের কাছাকাছি ছিল। এর আগের দিন একই মূল্য ছিল 5,165 ডলার—অর্থাৎ মোটামুটি 24 ঘণ্টায় প্রায় 22 ডলার বেড়েছে।

চলতি বছরের শুরু থেকেই সোনার বাজার বেশ অস্থিরতায় ভুগছে। জানুয়ারির শেষ দিকে আউন্সপ্রতি দাম সর্বোচ্চ 5,594 ডলারে পৌঁছেছিল। বর্তমানে তা কিছুটা কম হলেও গত বছরের তুলনায় সোনার মূল্য প্রায় 64 শতাংশ বেড়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, 2026 সালের শুরু থেকে মাত্র দু’মাসে সোনার দাম প্রায় 20 শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক উত্থানের পেছনে কয়েকটি মূল কারণ রয়েছে। প্রথমত, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং নতুন নিষেধাজ্ঞা বা সংঘাতের আশঙ্কা বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ সম্পদ হিসেবে সোনার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। দ্বিতীয়ত, যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর শুল্ক নীতি এবং বাণিজ্যজনিত অনিশ্চয়তা ডলারের ওপর আস্থা বইভূত করছে, ফলে বিকল্প নিরাপদ সম্পদ হিসেবে সোনায় বিনিয়োগ বাড়ছে। তৃতীয়ত, বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ বৈচিত্র্যকরণে সোনার ভান্ডার বাড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। চাহিদা বাড়লেও সরবরাহ সীমিত থাকার কারণে দাম আরও চাপে পড়ছে।

ভবিষ্যৎ তেমনই ঊর্ধ্বমুখী দেখা যাচ্ছে। ইউবিএস ও গোল্ডম্যান স্যাকসের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, 2026 সালের শেষ নাগাদ আউন্সপ্রতি সোনার দাম 5,400 থেকে 6,300 ডলারের মধ্যে পৌঁছতে পারে। বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় বিশ্লেষকরা ভূ-রাজনৈতিক ঘটনাবলি, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিগত পরিবর্তন ও ডলারের গতিবেগকে বিশেষভাবে নজরদারি করার পরামর্শ দিচ্ছেন।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

বিএনপি চায় বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়া

অস্থির বিশ্ববাজারে সোনার দাম আবার বাড়লো

প্রকাশিতঃ ০৮:২৪:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তা ও ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার ছায়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম আবারও বাড়ছে। গত একদিনের ব্যবধানে ফের মূল্যচলন ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানকে আরও ত্বরান্বিত করেছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববাজারে স্পট গোল্ডের দাম আউন্সপ্রতি প্রায় 5,187 ডলারের কাছাকাছি ছিল। এর আগের দিন একই মূল্য ছিল 5,165 ডলার—অর্থাৎ মোটামুটি 24 ঘণ্টায় প্রায় 22 ডলার বেড়েছে।

চলতি বছরের শুরু থেকেই সোনার বাজার বেশ অস্থিরতায় ভুগছে। জানুয়ারির শেষ দিকে আউন্সপ্রতি দাম সর্বোচ্চ 5,594 ডলারে পৌঁছেছিল। বর্তমানে তা কিছুটা কম হলেও গত বছরের তুলনায় সোনার মূল্য প্রায় 64 শতাংশ বেড়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, 2026 সালের শুরু থেকে মাত্র দু’মাসে সোনার দাম প্রায় 20 শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক উত্থানের পেছনে কয়েকটি মূল কারণ রয়েছে। প্রথমত, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং নতুন নিষেধাজ্ঞা বা সংঘাতের আশঙ্কা বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ সম্পদ হিসেবে সোনার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। দ্বিতীয়ত, যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর শুল্ক নীতি এবং বাণিজ্যজনিত অনিশ্চয়তা ডলারের ওপর আস্থা বইভূত করছে, ফলে বিকল্প নিরাপদ সম্পদ হিসেবে সোনায় বিনিয়োগ বাড়ছে। তৃতীয়ত, বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ বৈচিত্র্যকরণে সোনার ভান্ডার বাড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। চাহিদা বাড়লেও সরবরাহ সীমিত থাকার কারণে দাম আরও চাপে পড়ছে।

ভবিষ্যৎ তেমনই ঊর্ধ্বমুখী দেখা যাচ্ছে। ইউবিএস ও গোল্ডম্যান স্যাকসের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, 2026 সালের শেষ নাগাদ আউন্সপ্রতি সোনার দাম 5,400 থেকে 6,300 ডলারের মধ্যে পৌঁছতে পারে। বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় বিশ্লেষকরা ভূ-রাজনৈতিক ঘটনাবলি, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিগত পরিবর্তন ও ডলারের গতিবেগকে বিশেষভাবে নজরদারি করার পরামর্শ দিচ্ছেন।