০৪:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
ফরিদা খানম ঢাকার নতুন ডিসি মালয়েশিয়ার গভীর জঙ্গল থেকে ২৭ বছর পর দেশে ফিরলেন শরীয়তপুরের আমির হোসেন ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি ও সরকারি প্লট নেবেন না এমপি-রা, বিরোধীও একমত: চিফ হুইপ সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষায় কারো সঙ্গে বৈরী আচরণ করব না: প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর πολιটিক্যাল ও কৃষি উপদেষ্টার সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ আইএফআইসি নেতৃত্বে পটুয়াখালীতে দুইদিনব্যাপী ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ’ সম্প্রসারণ কর্মসূচি জ্বালানির দর বাড়লেই নিত্যপণ্যের দাম সামঞ্জস্য করা হবে: তথ্য উপদেষ্টা কারিগরি ত্রুটিতে এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ, দক্ষিণ ঢাকাসহ গ্যাস সংকট বাণিজ্যমন্ত্রীর আশ্বাস: জ্বালানি দাম বাড়লেও পণ্যের মূল্য বেশি বাড়বে না তারেক রহমান: জুলাই সনদের প্রতিটি শব্দ, অক্ষর আমরা বাস্তবায়ন করবো

মালয়েশিয়ার গভীর জঙ্গল থেকে ২৭ বছর পর দেশে ফিরলেন শরীয়তপুরের আমির হোসেন

জীবিকার সন্ধানে মালয়েশিয়া গেলে ২৭ বছর নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে দেশে ফিরেছেন শরীয়তপুরের আমির হোসেন তালুকদার। মঙ্গলবার রাত ১২:২০ মিনিটে বাটিক এয়ারের একটি ফ্লাইটে তিনি ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন তার ছেলে বাবু তালুকদার ও ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের কর্মীরা। দীর্ঘ তিন দশকের পরে বাবা ফিরে পাওয়ায় পরিবারের सदस्यরা আবেগে আপ্লুত হন।

নড়িয়া উপজেলার বাসিন্দা ৬২ বছর বয়সী আমির হোসেন ১৯৯৬ সালে রং মিস্ত্রির কাজ নিয়ে মালয়েশিয়ায় যান। প্রথম তিন বছর তিনি পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন ও সংসার খরচ পাঠাতেন। এরপর আচমকা তার সঙ্গে যোগাযোগ ছিন্ন হয়ে গেলে পরিবার দীর্ঘদিন কোনো খোঁজ পাননি এবং এক পর্যায়ে ধরে নিয়েছিলেন তিনি সম্ভবত আর বেঁচে নেই।

সম্প্রতি মালয়েশিয়ার পেনাং এলাকার একটি গভীর জঙ্গলে এক জরাজীর্ণ টিনের ঘরে আটকে থাকা অবস্থায় স্থানীয় কয়েকজন প্রবাসী বাংলাদেশি তাকে খুঁজে পান। উদ্ধারের সময় তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে দুরবস্থায় ছিলেন। সেখানে অবস্থানরত প্রবাসী সাংবাদিক বাপ্পি কুমার দাস, দীপু ও অন্যরা তার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন, যা পরে পরিবারের কাছে পৌঁছে যায় এবং তারা তাকে শনাক্ত করতে সক্ষম হন।

ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ও মালয়েশিয়ায় থাকা বাংলাদেশ দূতাবাস দ্রুত প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেন। যাচাই-বাছাই শেষে তাকে দেশে ফেরানোর জন্য ট্র্যাভেল পাস প্রদান ও আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। বিমানবন্দরে এভিয়েশন সিকিউরিটি ও প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের সহায়তায় তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ব্র্যাকের উদ্যোগে তাকে দেশের রাজধানী থেকে সরিয়ে চোখা বাড়ি শরীয়তপুর পৌছে দেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘ সময় প্রতিকূল পরিবেশে থাকার ফলে বর্তমানে আমির হোসেন শারীরিকভাবে বেশ দুর্বল এবং মানসিকভাবে অসংগঠিত অবস্থায় আছেন। ব্র্যাক জানিয়েছে, তার চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি তারা দিচ্ছে। গ্রামবাসী ও স্বজনেরা তাকে ফিরে পাওয়াকে অলৌকিক ঘটনার মতো মনে করছেন। বর্তমানে তিনি নিজের বাড়িতে আছেন এবং পরিবার ও স্থানীয়দের তত্ত্বাবধানে প্রয়োজনীয় সেবা ও রক্ষণাবেক্ষণ চলছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

মালয়েশিয়ার গভীর জঙ্গল থেকে ২৭ বছর পর দেশে ফিরলেন শরীয়তপুরের আমির হোসেন

প্রকাশিতঃ ০২:২৯:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

জীবিকার সন্ধানে মালয়েশিয়া গেলে ২৭ বছর নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে দেশে ফিরেছেন শরীয়তপুরের আমির হোসেন তালুকদার। মঙ্গলবার রাত ১২:২০ মিনিটে বাটিক এয়ারের একটি ফ্লাইটে তিনি ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন তার ছেলে বাবু তালুকদার ও ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের কর্মীরা। দীর্ঘ তিন দশকের পরে বাবা ফিরে পাওয়ায় পরিবারের सदस्यরা আবেগে আপ্লুত হন।

নড়িয়া উপজেলার বাসিন্দা ৬২ বছর বয়সী আমির হোসেন ১৯৯৬ সালে রং মিস্ত্রির কাজ নিয়ে মালয়েশিয়ায় যান। প্রথম তিন বছর তিনি পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন ও সংসার খরচ পাঠাতেন। এরপর আচমকা তার সঙ্গে যোগাযোগ ছিন্ন হয়ে গেলে পরিবার দীর্ঘদিন কোনো খোঁজ পাননি এবং এক পর্যায়ে ধরে নিয়েছিলেন তিনি সম্ভবত আর বেঁচে নেই।

সম্প্রতি মালয়েশিয়ার পেনাং এলাকার একটি গভীর জঙ্গলে এক জরাজীর্ণ টিনের ঘরে আটকে থাকা অবস্থায় স্থানীয় কয়েকজন প্রবাসী বাংলাদেশি তাকে খুঁজে পান। উদ্ধারের সময় তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে দুরবস্থায় ছিলেন। সেখানে অবস্থানরত প্রবাসী সাংবাদিক বাপ্পি কুমার দাস, দীপু ও অন্যরা তার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন, যা পরে পরিবারের কাছে পৌঁছে যায় এবং তারা তাকে শনাক্ত করতে সক্ষম হন।

ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ও মালয়েশিয়ায় থাকা বাংলাদেশ দূতাবাস দ্রুত প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেন। যাচাই-বাছাই শেষে তাকে দেশে ফেরানোর জন্য ট্র্যাভেল পাস প্রদান ও আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। বিমানবন্দরে এভিয়েশন সিকিউরিটি ও প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের সহায়তায় তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ব্র্যাকের উদ্যোগে তাকে দেশের রাজধানী থেকে সরিয়ে চোখা বাড়ি শরীয়তপুর পৌছে দেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘ সময় প্রতিকূল পরিবেশে থাকার ফলে বর্তমানে আমির হোসেন শারীরিকভাবে বেশ দুর্বল এবং মানসিকভাবে অসংগঠিত অবস্থায় আছেন। ব্র্যাক জানিয়েছে, তার চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি তারা দিচ্ছে। গ্রামবাসী ও স্বজনেরা তাকে ফিরে পাওয়াকে অলৌকিক ঘটনার মতো মনে করছেন। বর্তমানে তিনি নিজের বাড়িতে আছেন এবং পরিবার ও স্থানীয়দের তত্ত্বাবধানে প্রয়োজনীয় সেবা ও রক্ষণাবেক্ষণ চলছে।