০৬:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় কিছু মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে একজোট হয়ে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় কিছু মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনলাইন জুয়ার লেনদেনে দিনে ৫ কোটি: টঙ্গী–কুমিল্লায় অভিযানে ছয় গ্রেফতার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব শিশুদের মানবিক গড়ে তোলায় শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী

পপের স্বর্ণযুগের বিদায়: না ফেরার দেশে চলে গেলেন কিংবদন্তি নিল সেডাকা

পঞ্চাশ-ষাটের দশকের জনপ্রিয় পপ সংগীতের এক অমর নাম নিল সেডাকা আর নেই। গত শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ৮৬ বছর বয়সে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন—এই খবরটি পরিবারের এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করা হয়েছে। আধুনিক পপের পথিকৃৎ হিসেবে পরিচিত সেডাকার প্রয়াণে সংগীত জগতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে; ভক্তরা হারিয়েছেন সুরের এক দিকপালকে।

পরিবারের শোকবাণীতে বলা হয়েছে, “রক অ্যান্ড রোলের এক প্রকৃত কিংবদন্তি হিসেবে তিনি আমাদের মাঝে চিরস্মরণীয় থাকবেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন আদর্শ স্বামী, পিতা ও পিতামহ। তাঁর চলে যাওয়া আমাদের কাছে অপূরণীয় শূন্যতা রেখে গেছে।” তবে পরিবারের তরফে সুনির্দিষ্ট কোনো মৃত্যুর কারণ প্রকাশ করা হয়নি।

নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে জন্ম নিল সেডাকা ছোটবেলা থেকেই সুর-সংগীতপ্রেমী ছিলেন। জুলিয়ার্ড স্কুলে পড়াশোনার মাধ্যমে তিনি সংগীতে ভিত্তি গড়েন এবং ১৯৫০-এর দশকে ‘দ্য টোকেনস’ গ্রুপের সঙ্গে যোগ দিয়ে পেশাদার ক্যারিয়ার শুরু করেন। ১৯৫৮ সালে রচিত ‘স্টুপিড কিউপিড’ গানটি আন্তর্জাতিক খ্যাতি এনে দেয়।

গায়ক, গীতিকার ও দক্ষ পিয়ানোবাদকের ভূমিকায় সেডাকা জনপ্রিয়তার শিখরে পৌঁছান। ‘ব্রেকিং আপ ইজ হার্ড টু ডু’, ‘ক্যালেন্ডার গার্ল’, ‘লাফটার ইন দ্য রেইন’ ও ‘ব্যাড ব্লাড’-এর মতো গানগুলো আজও শ্রোতাদের হৃদয়ে অম্লান।

ষাটের দশকে ব্রিটিশ ব্যান্ডদের উদয়ের পর কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লেও সত্তরের দশকে তিনি শক্তভাবে ফিরে আসেন। ১৯৭৫ সালে এল্টন জনের রেকর্ড লেবেলে কাজ করে সেডাকা পুনরায় বিলবোর্ড চার্টে জায়গা করে নেন। তাঁর রচিত ‘লাভ উইল কিপ আস টুগেদার’ পরবর্তীকালে সংগীত ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়।

দীর্ঘ ছয় দশকের ক্যারিয়ারে নিল সেডাকা কেবল নিজের গানই করেননি; বহু সমসাময়িক শিল্পীর জন্য সফল হিট গানও উপহার দিয়েছেন। ২০১২ সালে লন্ডনের রয়্যাল অ্যালবার্ট হলে এক কনসার্টে তিনি মন্তব্য করেছিলেন, গান ও সুরের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে মানুষের ভালোবাসা পাওয়াই তাঁর জীবনের বৃহত্তম সার্থকতা।

নিল সেডাকার প্রয়াণের মাধ্যমে বিশ্বসংগীতের একটি রঙিন অধ্যায়ের সমাপ্তি হলো, তবে তাঁর সুর এবং রচনাবলি চিরকাল শ্রোতাদের মনে বেঁচে থাকবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় কিছু মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পপের স্বর্ণযুগের বিদায়: না ফেরার দেশে চলে গেলেন কিংবদন্তি নিল সেডাকা

প্রকাশিতঃ ১১:৩৬:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬

পঞ্চাশ-ষাটের দশকের জনপ্রিয় পপ সংগীতের এক অমর নাম নিল সেডাকা আর নেই। গত শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ৮৬ বছর বয়সে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন—এই খবরটি পরিবারের এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করা হয়েছে। আধুনিক পপের পথিকৃৎ হিসেবে পরিচিত সেডাকার প্রয়াণে সংগীত জগতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে; ভক্তরা হারিয়েছেন সুরের এক দিকপালকে।

পরিবারের শোকবাণীতে বলা হয়েছে, “রক অ্যান্ড রোলের এক প্রকৃত কিংবদন্তি হিসেবে তিনি আমাদের মাঝে চিরস্মরণীয় থাকবেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন আদর্শ স্বামী, পিতা ও পিতামহ। তাঁর চলে যাওয়া আমাদের কাছে অপূরণীয় শূন্যতা রেখে গেছে।” তবে পরিবারের তরফে সুনির্দিষ্ট কোনো মৃত্যুর কারণ প্রকাশ করা হয়নি।

নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে জন্ম নিল সেডাকা ছোটবেলা থেকেই সুর-সংগীতপ্রেমী ছিলেন। জুলিয়ার্ড স্কুলে পড়াশোনার মাধ্যমে তিনি সংগীতে ভিত্তি গড়েন এবং ১৯৫০-এর দশকে ‘দ্য টোকেনস’ গ্রুপের সঙ্গে যোগ দিয়ে পেশাদার ক্যারিয়ার শুরু করেন। ১৯৫৮ সালে রচিত ‘স্টুপিড কিউপিড’ গানটি আন্তর্জাতিক খ্যাতি এনে দেয়।

গায়ক, গীতিকার ও দক্ষ পিয়ানোবাদকের ভূমিকায় সেডাকা জনপ্রিয়তার শিখরে পৌঁছান। ‘ব্রেকিং আপ ইজ হার্ড টু ডু’, ‘ক্যালেন্ডার গার্ল’, ‘লাফটার ইন দ্য রেইন’ ও ‘ব্যাড ব্লাড’-এর মতো গানগুলো আজও শ্রোতাদের হৃদয়ে অম্লান।

ষাটের দশকে ব্রিটিশ ব্যান্ডদের উদয়ের পর কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লেও সত্তরের দশকে তিনি শক্তভাবে ফিরে আসেন। ১৯৭৫ সালে এল্টন জনের রেকর্ড লেবেলে কাজ করে সেডাকা পুনরায় বিলবোর্ড চার্টে জায়গা করে নেন। তাঁর রচিত ‘লাভ উইল কিপ আস টুগেদার’ পরবর্তীকালে সংগীত ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়।

দীর্ঘ ছয় দশকের ক্যারিয়ারে নিল সেডাকা কেবল নিজের গানই করেননি; বহু সমসাময়িক শিল্পীর জন্য সফল হিট গানও উপহার দিয়েছেন। ২০১২ সালে লন্ডনের রয়্যাল অ্যালবার্ট হলে এক কনসার্টে তিনি মন্তব্য করেছিলেন, গান ও সুরের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে মানুষের ভালোবাসা পাওয়াই তাঁর জীবনের বৃহত্তম সার্থকতা।

নিল সেডাকার প্রয়াণের মাধ্যমে বিশ্বসংগীতের একটি রঙিন অধ্যায়ের সমাপ্তি হলো, তবে তাঁর সুর এবং রচনাবলি চিরকাল শ্রোতাদের মনে বেঁচে থাকবে।