২০১০ সালের ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবসে শুরু হয়েছিল বটতলা নাট্যদলের অন্যতম জনপ্রিয় প্রযোজনার যাত্রা—‘খনা’। দীর্ঘ প্রায় ১৬ বছরের দীর্ঘসময় ধরে এই নাটকটি তার গৌরবময় পথচলা চালিয়ে যাচ্ছে, এবং এখন এই নাটক আবারো কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফিরে আসছে তার ঐতিহাসিক শততম প্রদর্শনী উপলক্ষে। এই অসাধারণ অর্জনকে স্মরণীয় করে রাখতে, বটতলা নাট্যদল ১০ ও ১১ এপ্রিল দুটি দিনব্যাপী এক বর্ণাঢ্য উৎসবের আয়োজন করছে। এই উৎসবের মূল আকর্ষণ থাকবে বিষমুক্ত ও নিরাপদ কৃষিপণ্য প্রদর্শনী ও বিক্রির মেলা, যেখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের কৃষকরা রাসায়নিকমুক্ত উৎপাদিত কৃষিপণ্য নিয়ে আসবেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে নিরাপদ খাদ্য উপভোগের সুবিধা দিতে চাচ্ছে সংগঠনটি।
উৎসবের প্রথম দিন, ১০ এপ্রিল সকাল থেকেই মেলার আঙিনা শিশুদের হাসি ও কলতালিতে মুখরিত হয়ে উঠবে। সেখানে থাকছে ‘মাটির পাঠশালা’, যেখানে শিশুদের জন্য মাটি দিয়ে নানা ধরনের কারুশিল্পের পরিচয় দেওয়া হবে। পাশাপাশি থাকছে শিশুদের দলীয় পরিবেশনা। বিকেলের সময়, দর্শকদের জন্য প্রস্তুত রয়েছে যন্ত্রের সংগীত, ব্রতচারী নৃত্য, বিভিন্ন নাট্যদলের সংগীত পরিবেশনা, ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলা ও ধুয়া গানের জমজমাট আসর। পুরো উৎসবজুড়ে শহীদ মিনারের আঙিনায় দেখা যাবে ‘দর্শকের ক্যামেরায় খনা’ শীর্ষক একটি বিশেষ আলোকচিত্র প্রদর্শনী, যেখানে গত দেড় দশকে খনার বিভিন্ন মঞ্চায়নে দর্শকদের তোলা ছবিগুলো দিয়ে সেরা ১০টি ছবি নির্বাচন করে পুরষ্কৃত করা হবে।
নাটকের রচয়িতা সামিনা লুৎফা নিত্রার সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণে ও মোহাম্মদ আলী হায়দারের নির্দেশনায়, ‘খনা’ নাটকটি আজও যথাযোগ্য প্রাসঙ্গিকতা হারায়নি। এই নাটকটি প্রায় দেড় হাজার বছর আগে জীবন যাত্রায় নারীর অধিকার, মেধা ও প্রজ্ঞার লড়াই ফুটিয়ে তোলে। কৃষিভিত্তিক সমাজে খনার অসাধারণ প্রজ্ঞা এবং সমাজ ও পরিবারের সঙ্গে তার আদর্শিক সংঘাত দর্শকদের নতুন দৃষ্টিকোণ উপহার দেয়। নির্দেশক মোহাম্মদ আলী হায়দার বলেন, লাখো মানুষের কাছে পৌঁছানোর জন্য শুরু হওয়া এই যাত্রা আজ শহীদ মিনারে শততম প্রদর্শনীতে এসে এক পূর্ণতা লাভ করছে।
নাটকে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন কাজী রোকসানা রুমা। সঙ্গে রয়েছেন ইভান রিয়াজ, ইমরান খান মুন্না, তৌফিক হাসান, হাফিজা আক্তার ও চন্দন পালসহ বিশিষ্ট শিল্পীদের একটি দল। ১১ এপ্রিল সন্ধ্যায়, এই শততম প্রদর্শনী শেষে, সংশ্লিষ্ট সকল কলাকুশলীকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হবে। বটতলা নাট্যদল এই আয়োজনকে শুধু একটি নাটকের উদযাপন নয়, এটি সুস্থ সংস্কৃতি, প্রজ্ঞা ও নিরাপদ কৃষি চর্চার এক শৈল্পিক সংযোগ হিসেবেও দেখছে। সকল স্তরের দর্শকদের এই উৎসবে অংশগ্রহণের জন্য দলটি আন্তরিকভাবে আমন্ত্রণ জানাচ্ছে।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 

























