০৮:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

বাজারে ভোজ্যতেলের কৃত্রিম সংকট: ভোক্তারা দিচ্ছেন বেশি দাম

রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে ভোজ্যতেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি হওয়ায় ভোক্তাদের বাড়তি দাম দিতে হচ্ছে। কারওয়ান বাজার, মহাখালীসহ প্রধান কিছু বাজার ঘুরে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বোতলজাত সয়াবিন তেলের খুচরা মূল্য এখনও এমআরপি অনুযায়ী থাকলেও ডিলার পর্যায়ে দাম বাড়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে খোলা সয়াবিন ও পাম তেলেরও দাম বাড়ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঈদকে সামনে রেখে ‘‘যুদ্ধ’’–আশঙ্কা দেখিয়ে বাজারে সংকট তৈরির সুযোগ নিচ্ছেন কেউ কেউ।

বিক্রেতারা জানান, ৫ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের এমআরপি ৯৫৫ টাকা। আগে ডিলারদের কাছ থেকে তারা ওই বোতল ৯৩০ টাকায় কিনে ৯৪০ টাকায় বিক্রি করতেন; এতে প্রতি বোতলে ১০ টাকার লাভ হত। কিন্তু গত তিন-চার দিন ধরে একই বোতল তারা ডিলার থেকে ৯৫০ টাকায় কিনছেন এবং বিক্রি করছেন ৯৫৫ টাকায়। অর্থাৎ ডিলার পর্যায়ে দাম ১০ টাকা বাড়ায় খুচরা বিক্রেতার গড় লাভ কমেছে প্রায় ৫ টাকা, আর সাধারণ ক্রেতার পকেট থেকে আগের তুলনায় ৫–১০ টাকা বেশি বেরোচ্ছে।

পাইকারি বাজারে খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দাম কেজিতে প্রায় ৫ টাকা বেড়েছে। কারওয়ান বাজারে পাইকারি আসলে খোলা সয়াবিন তেল এখন কেজিতে ১৯৮–২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে; চার দিন আগে দাম ছিল ১৯৩–১৯৫ টাকা। খোলা পাম তেল কেজিতে এখন বিক্রি হচ্ছে ১৭০ টাকায়, যা চার দিন আগে ছিল ১৬৫ টাকা।

খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, কিছু কোম্পানি সরবরাহ কমিয়ে দাম বাড়ানোর চেষ্টা করছে। ডিলার পর্যায়ে বেড়ে যাওয়া দাম খোলা তেলের বাজারে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে। এছাড়া ক্রেতারা যুদ্ধসংক্রান্ত ভয়াবহ খবরের প্রভাবে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তেল কিনে রাখায় বাজারে চাপ আরো বেড়েছে। ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, যদি আগামী দু-তিন দিনে এই টানাপোড়েন চলতে থাকে তাহলে ভোক্তা পর্যায়ে দাম আরও বাড়তে পারে।

অন্যদিকে আমদানিকারক এবং বাজারজাতকারীরা বলছেন, পণ্যবাহী পরিবহনে ডিজেলের ঘাটতি ও ট্রাক সংকট সরবরাহে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। বিশ্ববাজারে সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক উত্তেজনার কারণে তেলের দামও বেড়েছে; এর কিছুটা প্রভাব দেশের বাজারেও পড়ে। ডিলাররা জানান, সরবরাহ কমার ফলে তারা দাম বাড়াতে বাধ্য হচ্ছেন।

কারওয়ান বাজারের তীর ব্র্যান্ডের ডিলার এটিএন এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. সেলিম বলেন, তীর ব্র্যান্ডের তেলের কোর সংকট রয়েছে; গত শনিবার মাত্র ৫০ কার্টন তেল পেয়েছেন, যেখানে স্বাভাবিক সময় তিনি প্রায় ২০০–২৫০ কার্টন পেতেন।

টি কে গ্রুপের পরিচালক শফিউল আথহার তাসলিম বলেন, পরিবহনে ডিজেল না পাওয়ার কারণে পণ্যবাহী ট্রাকগুলো চাহিদা অনুযায়ী চালানো যাচ্ছে না; ফলে বিভিন্ন স্থানে তেল পৌছাতে সমস্যা হচ্ছে। তৎসহ আন্তর্জাতিক অস্থিরতা বাজারে সরবরাহে প্রভাব ফেলছে।

বাংলাদেশ পাইকারি ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি গোলাম মাওলা বলেন, বোতলজাত তেলের কয়েক দিনের সংকট বাজারে রয়েছে, যার প্রভাব খোলা তেলের বাজারেও পড়েছে। কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, ব্যবসায়ীরা সব সময় অজুহাত খোঁজে; পরিবহন সমস্যার কারণে সরবরাহে ব্যাঘাত হওয়া ঠিকই, তবে তা ভোগ্যপণ্যের শেষ ভোক্তা পর্যায়ে প্রভাব ফেলতে সাধারণত কিছুটা সময় লাগে—তবু অনেক ব্যবসায়ী আগেভাগেই দাম বাড়ানোর কৌশল নিচ্ছে।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক আব্দুল জলিল জানিয়েছেন, তারা প্রতিদিনই বাজার তদারকি করছে; এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য দাম বৃদ্ধির তথ্য নেই; অভিযোগের ভিত্তিতে অধিদপ্তরের টিম পাঠিয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

বাজারে ভোজ্যতেলের কৃত্রিম সংকট: ভোক্তারা দিচ্ছেন বেশি দাম

প্রকাশিতঃ ০৭:২৬:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬

রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে ভোজ্যতেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি হওয়ায় ভোক্তাদের বাড়তি দাম দিতে হচ্ছে। কারওয়ান বাজার, মহাখালীসহ প্রধান কিছু বাজার ঘুরে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বোতলজাত সয়াবিন তেলের খুচরা মূল্য এখনও এমআরপি অনুযায়ী থাকলেও ডিলার পর্যায়ে দাম বাড়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে খোলা সয়াবিন ও পাম তেলেরও দাম বাড়ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঈদকে সামনে রেখে ‘‘যুদ্ধ’’–আশঙ্কা দেখিয়ে বাজারে সংকট তৈরির সুযোগ নিচ্ছেন কেউ কেউ।

বিক্রেতারা জানান, ৫ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের এমআরপি ৯৫৫ টাকা। আগে ডিলারদের কাছ থেকে তারা ওই বোতল ৯৩০ টাকায় কিনে ৯৪০ টাকায় বিক্রি করতেন; এতে প্রতি বোতলে ১০ টাকার লাভ হত। কিন্তু গত তিন-চার দিন ধরে একই বোতল তারা ডিলার থেকে ৯৫০ টাকায় কিনছেন এবং বিক্রি করছেন ৯৫৫ টাকায়। অর্থাৎ ডিলার পর্যায়ে দাম ১০ টাকা বাড়ায় খুচরা বিক্রেতার গড় লাভ কমেছে প্রায় ৫ টাকা, আর সাধারণ ক্রেতার পকেট থেকে আগের তুলনায় ৫–১০ টাকা বেশি বেরোচ্ছে।

পাইকারি বাজারে খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দাম কেজিতে প্রায় ৫ টাকা বেড়েছে। কারওয়ান বাজারে পাইকারি আসলে খোলা সয়াবিন তেল এখন কেজিতে ১৯৮–২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে; চার দিন আগে দাম ছিল ১৯৩–১৯৫ টাকা। খোলা পাম তেল কেজিতে এখন বিক্রি হচ্ছে ১৭০ টাকায়, যা চার দিন আগে ছিল ১৬৫ টাকা।

খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, কিছু কোম্পানি সরবরাহ কমিয়ে দাম বাড়ানোর চেষ্টা করছে। ডিলার পর্যায়ে বেড়ে যাওয়া দাম খোলা তেলের বাজারে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে। এছাড়া ক্রেতারা যুদ্ধসংক্রান্ত ভয়াবহ খবরের প্রভাবে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তেল কিনে রাখায় বাজারে চাপ আরো বেড়েছে। ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, যদি আগামী দু-তিন দিনে এই টানাপোড়েন চলতে থাকে তাহলে ভোক্তা পর্যায়ে দাম আরও বাড়তে পারে।

অন্যদিকে আমদানিকারক এবং বাজারজাতকারীরা বলছেন, পণ্যবাহী পরিবহনে ডিজেলের ঘাটতি ও ট্রাক সংকট সরবরাহে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। বিশ্ববাজারে সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক উত্তেজনার কারণে তেলের দামও বেড়েছে; এর কিছুটা প্রভাব দেশের বাজারেও পড়ে। ডিলাররা জানান, সরবরাহ কমার ফলে তারা দাম বাড়াতে বাধ্য হচ্ছেন।

কারওয়ান বাজারের তীর ব্র্যান্ডের ডিলার এটিএন এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. সেলিম বলেন, তীর ব্র্যান্ডের তেলের কোর সংকট রয়েছে; গত শনিবার মাত্র ৫০ কার্টন তেল পেয়েছেন, যেখানে স্বাভাবিক সময় তিনি প্রায় ২০০–২৫০ কার্টন পেতেন।

টি কে গ্রুপের পরিচালক শফিউল আথহার তাসলিম বলেন, পরিবহনে ডিজেল না পাওয়ার কারণে পণ্যবাহী ট্রাকগুলো চাহিদা অনুযায়ী চালানো যাচ্ছে না; ফলে বিভিন্ন স্থানে তেল পৌছাতে সমস্যা হচ্ছে। তৎসহ আন্তর্জাতিক অস্থিরতা বাজারে সরবরাহে প্রভাব ফেলছে।

বাংলাদেশ পাইকারি ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি গোলাম মাওলা বলেন, বোতলজাত তেলের কয়েক দিনের সংকট বাজারে রয়েছে, যার প্রভাব খোলা তেলের বাজারেও পড়েছে। কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, ব্যবসায়ীরা সব সময় অজুহাত খোঁজে; পরিবহন সমস্যার কারণে সরবরাহে ব্যাঘাত হওয়া ঠিকই, তবে তা ভোগ্যপণ্যের শেষ ভোক্তা পর্যায়ে প্রভাব ফেলতে সাধারণত কিছুটা সময় লাগে—তবু অনেক ব্যবসায়ী আগেভাগেই দাম বাড়ানোর কৌশল নিচ্ছে।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক আব্দুল জলিল জানিয়েছেন, তারা প্রতিদিনই বাজার তদারকি করছে; এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য দাম বৃদ্ধির তথ্য নেই; অভিযোগের ভিত্তিতে অধিদপ্তরের টিম পাঠিয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।