০৯:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ২৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
জ্বালানি তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের হাতে এখনও নীতিগত সুযোগ: সিপিডি আত্মসমর্পণকারী কিছু চরমপন্থি ফের সক্রিয় ঢাবিতে পিটিয়ে হত্যা: ২২ আসামিকে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এক মাসের কম সময়ে জনগণের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছি নোয়াবের ঘোষণাঃ ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সংবাদপত্রে ৫ দিন ছুটি জ্বালানিতে সংকট নেই, দাম বৃদ্ধির পরিকল্পনাও নেই: প্রতিমন্ত্রী ঈদে ডিএসসিসির বিশেষ উদ্যোগ: অবৈধ কাউন্টার উচ্ছেদ ও টার্মিনাল সংস্কার কঠোর নির্দেশনা নোয়াব ঘোষণা: সংবাদপত্রে পাঁচ দিনের ঈদুল ফিতরের ছুটি জ্বালানিতে সংকট নেই, দাম বাড়ানো হবে না: প্রতিমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর এক মাসেরও কম সময়ে জনগণের প্রতিশ্রুতির কাজ শুরু

ইরান ঘোষণা: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আর কোনো আলোচনা নয় — দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধে প্রস্তুত

মধ্যপ্রাচ্যের তীব্র অস্থিরতার মাঝে ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো কূটনৈতিক আলাপচারিতার পথ আর খোলা নেই। তেহরানের সর্বোচ্চ নেতার পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা কামাল খারাজি আজ এক কড়া বার্তায় জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সংলাপ কিংবা আলোচনার জন্য আর কোনো জায়গা নেই।

খারাজি বলেন, তেহরান এখন অনমনীয় অবস্থান গ্রহণ করেছে এবং দেশের সামরিক বাহিনী সব ধরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার পাশাপাশি সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বিগ্নতার ঢেউ তুলে দিয়েছে এবং অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনার হেদায়েতে যে ক্ষীণ সুযোগ ছিল তা দ্রুত মিলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ভাষার পেছনে দাঁড়ানো এই অবস্থানকে বহু বিশ্লেষক সরাসরি সামরিক হুঁশিয়ারি হিসেবে দেখছেন, যা ওই অঞ্চলের অস্থিরতার সম্ভাবনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তেহরান ও ওয়াশিংটনের बीच ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এখন কেবল দ্বিপাক্ষিক নয়; তা বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও অর্থনীতির ওপরও সরাসরি প্রভাব ফেলছে।

বিশ্ববাজার ইতোমধ্যেই এর প্রতিক্রিয়া দেখতে শুরু করেছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ’hরমুজ প্রণালী’তে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হওয়ায় তেলের সরবরাহে চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি হয়েছে, যা তেলবাজারে বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে। খ্যাতনামা বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান গোল্ডম্যান স্যাকস সতর্ক করেছে, যদি দ্রুত হরমুজ প্রণালীতে সরবরাহ স্বাভাবিক করা না যায়, তাহলে জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত বাড়ে এবং প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলার থেকে ১৫০ ডলারের মধ্যে যেতে পারে।

বর্তমান সংঘাতের কারণে ওই পথের বাণিজ্যিক চলাচল প্রায় ৮০ শতাংশ কমে গেছে বলে জানা গেছে। এর ফলে শত শত তেলবাহী ট্যাঙ্কার সমুদ্রে আটকে আছে এবং এই পরিস্থিতি বৈশ্বিক পণ্য সরবরাহ চেইনকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করার হুমকি দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উভয় পক্ষকে সংযমের আহ্বান জানালেও মাঠপর্যায়ের প্রতিক্রিয়া এখনও শান্তির দিকে ইঙ্গিত করছে না। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার রিপোর্ট অনুযায়ী, পুরো অঞ্চল এখন অনিশ্চিত ও ঝুঁকিপূর্ণ এক মুহূর্তের মধ্যে প্রবেশ করেছে।

দুই মহাশক্তির মধ্যকার এই তীব্র টানাপোড়েনের ফল রূপে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা—এসবের ওপর ইতিমধ্যেই চাপ পড়েছে। পরবর্তী পদক্ষেপগুলো বিশ্বমঞ্চে বড় প্রভাব ফেলতে পারে, তাই আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

জ্বালানি তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের হাতে এখনও নীতিগত সুযোগ: সিপিডি

ইরান ঘোষণা: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আর কোনো আলোচনা নয় — দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধে প্রস্তুত

প্রকাশিতঃ ০২:২৬:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের তীব্র অস্থিরতার মাঝে ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো কূটনৈতিক আলাপচারিতার পথ আর খোলা নেই। তেহরানের সর্বোচ্চ নেতার পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা কামাল খারাজি আজ এক কড়া বার্তায় জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সংলাপ কিংবা আলোচনার জন্য আর কোনো জায়গা নেই।

খারাজি বলেন, তেহরান এখন অনমনীয় অবস্থান গ্রহণ করেছে এবং দেশের সামরিক বাহিনী সব ধরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার পাশাপাশি সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বিগ্নতার ঢেউ তুলে দিয়েছে এবং অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনার হেদায়েতে যে ক্ষীণ সুযোগ ছিল তা দ্রুত মিলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ভাষার পেছনে দাঁড়ানো এই অবস্থানকে বহু বিশ্লেষক সরাসরি সামরিক হুঁশিয়ারি হিসেবে দেখছেন, যা ওই অঞ্চলের অস্থিরতার সম্ভাবনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তেহরান ও ওয়াশিংটনের बीच ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এখন কেবল দ্বিপাক্ষিক নয়; তা বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও অর্থনীতির ওপরও সরাসরি প্রভাব ফেলছে।

বিশ্ববাজার ইতোমধ্যেই এর প্রতিক্রিয়া দেখতে শুরু করেছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ’hরমুজ প্রণালী’তে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হওয়ায় তেলের সরবরাহে চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি হয়েছে, যা তেলবাজারে বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে। খ্যাতনামা বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান গোল্ডম্যান স্যাকস সতর্ক করেছে, যদি দ্রুত হরমুজ প্রণালীতে সরবরাহ স্বাভাবিক করা না যায়, তাহলে জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত বাড়ে এবং প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলার থেকে ১৫০ ডলারের মধ্যে যেতে পারে।

বর্তমান সংঘাতের কারণে ওই পথের বাণিজ্যিক চলাচল প্রায় ৮০ শতাংশ কমে গেছে বলে জানা গেছে। এর ফলে শত শত তেলবাহী ট্যাঙ্কার সমুদ্রে আটকে আছে এবং এই পরিস্থিতি বৈশ্বিক পণ্য সরবরাহ চেইনকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করার হুমকি দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উভয় পক্ষকে সংযমের আহ্বান জানালেও মাঠপর্যায়ের প্রতিক্রিয়া এখনও শান্তির দিকে ইঙ্গিত করছে না। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার রিপোর্ট অনুযায়ী, পুরো অঞ্চল এখন অনিশ্চিত ও ঝুঁকিপূর্ণ এক মুহূর্তের মধ্যে প্রবেশ করেছে।

দুই মহাশক্তির মধ্যকার এই তীব্র টানাপোড়েনের ফল রূপে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা—এসবের ওপর ইতিমধ্যেই চাপ পড়েছে। পরবর্তী পদক্ষেপগুলো বিশ্বমঞ্চে বড় প্রভাব ফেলতে পারে, তাই আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।