০৬:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
রাষ্ট্রপতি: সম্মিলিত আন্দোলনেই ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন সংসদে খালেদা জিয়া ও বিশিষ্ট দেশি-বিদেশি ব্যক্তিদের মৃত্যুতে শোকপ্রস্তাব গৃহীত চিফ হুইপ মো. নুরুল ইসলামের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের প্রতি অভিনন্দন খালেদা জিয়া ও মতিয়া চৌধুরীসহ ৩১ জনের স্মরণে সংসদে শোকপ্রস্তাব এডভোকেট আহমেদ আযম খান মন্ত্রী হলেন খালেদা জিয়া ও মতিয়া চৌধুরীসহ ৩১ জনের মৃত্যুতে সংসদে শোকপ্রস্তাব গৃহীত সংসদের আচরণ নিয়ে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী: চিফ হুইপ সংসদীয় দলের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জ্বালানি তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের হাতে এখনও নীতিগত সুযোগ: সিপিডি আত্মসমর্পণকারী কিছু চরমপন্থি ফের সক্রিয়

শাকিবের ‘প্রিন্স’ প্রদর্শনে ঈদে ফের চালু মধুবন সিনেপ্লেক্স

দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ মাসের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও দর্শকদের আমন্ত্রণ জানাচ্ছে বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী মধুবন সিনেপ্লেক্স। ঢালিউড সুপারস্টার শাকিব খানের নতুন সিনেমা ‘প্রিন্স: ওয়ান্স আপন আ টাইম ইন ঢাকা’ প্রদর্শনের মাধ্যমে আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন থেকে এই সিনেমা হল পুনরায় যাত্রা শুরু করবে।

গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর টানা আর্থিক ক্ষতির কারণে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা মধুবন ফের প্রাণ ফিরে পাচ্ছে শাকিবের মেগা ছবির মাধ্যমে। এই ঘোষণার পর থেকেই স্থানীয় চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মধ্যে পুনরায় সিনেমা দেখার আকাঙ্ক্ষা নতুনভাবে জেগে উঠেছে।

মালিক আর এম ইউনুস রুবেল জানান, দীর্ঘ সময় ধরে ধারাবাহিক ক্ষতির বোঝা বইতে গিয়ে তাদের ব্যবসা প্রায় দেয়ালে ঠেকে গিয়েছিল। আর্থিক অবস্থা খারাপ হওয়ার কারণে গত বছর ভবনটি সাময়িকভাবে কমিউনিটি সেন্টার হিসেবে ব্যবহার করা শুরু করেছিলেন তারা। রুবেল বলেন, তিনি দেশের জন্য একটি নির্বাচিত সরকারের আগমনের অপেক্ষায় ছিলেন, যেন সরকারি সহায়তায় কাপাসিটি বাড়ানো বা শিল্পে নতুন পরিকল্পনা নেয়া যায়।

রুবেলের কাছে মধুবন কেবল একটি ব্যবসা নয়; এটি তাঁর বাবার হাতের ছোঁয়া এবং পারিবারিক স্মৃতির এক অমূল্য অংশ। তিনি বলেছেন, প্রেক্ষাগৃহ ব্যবসার বর্তমান সংকট মোকাবিলা করতে বড় ধরনের নীতিগত উদ্যোগ প্রয়োজন। বিশেষ করে তিনি মনে করেন, দেশে নির্মিত মানসম্মত চলচ্চিত্রের পাশাপাশি কলকাতা, মুম্বাই ও হলিউড থেকে মানসম্মত বিদেশি ছবি আমদানি না করলে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগে নির্মিত সিনেপ্লেক্স টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে।

ঐতিহাসিক পরিমণ্ডলে বগুড়া একসময় ছিল দেশের চলচ্চিত্রের উর্বর জমি; একবার একযোগে এখানে ৩৮টি সিনেমাহল চলত। সময়ের বিবর্তনে ৩১টি প্রেক্ষাগৃহ ভেঙে পড়ায় বর্তমানে জেলায় টিকে আছে মাত্র সাতটি হল। শহরের মূল কেন্দ্রে টিকে থাকা দুই হলের একটি হচ্ছে মধুবন; তাই এর পুনরুদ্ধারকে উত্তরের চলচ্চিত্রপাড়ায় ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মধুবন কর্তৃপক্ষের আশা, নির্বাচিত নতুন সরকার যদি প্রেক্ষাগৃহ মালিকদের সহায়তায় কার্যকর ভূমিকা নেয় এবং বিদেশি চলচ্চিত্র আমদানির প্রক্রিয়া সহজ করে, তা হলে এই ধরনের ইতিহাসসংবলিত হলে নতুন জীবন ফিরে আসবে। ঈদে শাকিব খানের ছবির মাধ্যমে মধুবন খোলা শুরু হলেও মালিকরা দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য সরকারের কাছে বড় ধরনের নীতিগত সঙ্কট মোকাবিলার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছেন।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

রাষ্ট্রপতি: সম্মিলিত আন্দোলনেই ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন

শাকিবের ‘প্রিন্স’ প্রদর্শনে ঈদে ফের চালু মধুবন সিনেপ্লেক্স

প্রকাশিতঃ ০২:৪৮:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ মাসের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও দর্শকদের আমন্ত্রণ জানাচ্ছে বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী মধুবন সিনেপ্লেক্স। ঢালিউড সুপারস্টার শাকিব খানের নতুন সিনেমা ‘প্রিন্স: ওয়ান্স আপন আ টাইম ইন ঢাকা’ প্রদর্শনের মাধ্যমে আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন থেকে এই সিনেমা হল পুনরায় যাত্রা শুরু করবে।

গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর টানা আর্থিক ক্ষতির কারণে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা মধুবন ফের প্রাণ ফিরে পাচ্ছে শাকিবের মেগা ছবির মাধ্যমে। এই ঘোষণার পর থেকেই স্থানীয় চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মধ্যে পুনরায় সিনেমা দেখার আকাঙ্ক্ষা নতুনভাবে জেগে উঠেছে।

মালিক আর এম ইউনুস রুবেল জানান, দীর্ঘ সময় ধরে ধারাবাহিক ক্ষতির বোঝা বইতে গিয়ে তাদের ব্যবসা প্রায় দেয়ালে ঠেকে গিয়েছিল। আর্থিক অবস্থা খারাপ হওয়ার কারণে গত বছর ভবনটি সাময়িকভাবে কমিউনিটি সেন্টার হিসেবে ব্যবহার করা শুরু করেছিলেন তারা। রুবেল বলেন, তিনি দেশের জন্য একটি নির্বাচিত সরকারের আগমনের অপেক্ষায় ছিলেন, যেন সরকারি সহায়তায় কাপাসিটি বাড়ানো বা শিল্পে নতুন পরিকল্পনা নেয়া যায়।

রুবেলের কাছে মধুবন কেবল একটি ব্যবসা নয়; এটি তাঁর বাবার হাতের ছোঁয়া এবং পারিবারিক স্মৃতির এক অমূল্য অংশ। তিনি বলেছেন, প্রেক্ষাগৃহ ব্যবসার বর্তমান সংকট মোকাবিলা করতে বড় ধরনের নীতিগত উদ্যোগ প্রয়োজন। বিশেষ করে তিনি মনে করেন, দেশে নির্মিত মানসম্মত চলচ্চিত্রের পাশাপাশি কলকাতা, মুম্বাই ও হলিউড থেকে মানসম্মত বিদেশি ছবি আমদানি না করলে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগে নির্মিত সিনেপ্লেক্স টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে।

ঐতিহাসিক পরিমণ্ডলে বগুড়া একসময় ছিল দেশের চলচ্চিত্রের উর্বর জমি; একবার একযোগে এখানে ৩৮টি সিনেমাহল চলত। সময়ের বিবর্তনে ৩১টি প্রেক্ষাগৃহ ভেঙে পড়ায় বর্তমানে জেলায় টিকে আছে মাত্র সাতটি হল। শহরের মূল কেন্দ্রে টিকে থাকা দুই হলের একটি হচ্ছে মধুবন; তাই এর পুনরুদ্ধারকে উত্তরের চলচ্চিত্রপাড়ায় ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মধুবন কর্তৃপক্ষের আশা, নির্বাচিত নতুন সরকার যদি প্রেক্ষাগৃহ মালিকদের সহায়তায় কার্যকর ভূমিকা নেয় এবং বিদেশি চলচ্চিত্র আমদানির প্রক্রিয়া সহজ করে, তা হলে এই ধরনের ইতিহাসসংবলিত হলে নতুন জীবন ফিরে আসবে। ঈদে শাকিব খানের ছবির মাধ্যমে মধুবন খোলা শুরু হলেও মালিকরা দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য সরকারের কাছে বড় ধরনের নীতিগত সঙ্কট মোকাবিলার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছেন।