০৯:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বাজারে অযৌক্তিক মূল্যবৈষম্য তদন্তে ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করবে সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী জ্বালানি সংকটে বন্ধ আশুগঞ্জ সার কারখানা, মাসিক ক্ষতি প্রায় ১৫৬ কোটি টাকা ডা. জাহেদ উর রহমানকে তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব লাইলাতুল কদর: প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিক শুভেচ্ছা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ গ্লোবাল ফ্রড সামিটে অংশ নিতে ভিয়েনা যাচ্ছেন অন্তর্বর্তী সরকারের ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাইয়ের জন্য বিশেষ কমিটি গঠন জামিনে মুক্তি: আনিস আলমগীর বললেন—’শুধু অন্যায় নয়, আমার ওপর জুলুম করা হয়েছে’ নোয়াবের নতুন সভাপতি হলেন মতিউর রহমান চৌধুরী সংবিধান সংস্কারের সিদ্ধান্ত সংসদেই হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমর একুশে গ্রন্থমেলায় মো. আসাদুজ্জামানের ‘শুধু মাধবীর জন্য’ মোড়ক উন্মোচন

সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইরানের ড্রোন-মিসাইল হামলা

মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আশঙ্কাজনকভাবে তীব্র হয়ে উঠেছে। রোববার (১৫ মার্চ) ইরানের সামরিক বাহিনী একযোগে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের কৌশলগত বিমানঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। হামলার ফলে অঞ্চলজুড়ে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রিয়াদ মহানগরের আকাশে পৌঁছানোর আগেই তাদের আায়ত্তে থাকা চারটি ইরানি ড্রোন লক্ষ্যভ্রষ্ট করে ধ্বংস করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক এই হামলায় সৌদি আরবে অন্তত দু’জন নিহত হয়েছেন এবং আরও ১২ জন গুরুতর আহত।

ইরানের এহেন আক্রমণের ধারাবাহিকতা সম্পর্কে বলা হচ্ছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যে ত্রি-মুখী সংঘাত শুরু হয়েছে—তার পর থেকে সৌদি আরব বারবার ইরানের নিশানায় পড়েছে। তেহরান কেবল সামরিক লক্ষ্যবস্তুতেই সংসীমাবদ্ধ নয়; গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো, মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং জনবহুল এলাকার ওপরও লক্ষ্য রেখে হামলা চালানো হচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-ধাফরা বিমানঘাঁটিও একই আঘাতের শিকার হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। তারা জানিয়েছে যে অভিযানে একযোগে ১০টি শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র এবং কয়েকটি ড্রোন ব্যবহৃত হয়েছে এবং লক্ষ্য ছিল ওই ঘাঁটিতে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনী। তবে আমেরিকান বাহিনীর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো স্পষ্ট নয়। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে সরাসরি আঘাত যুদ্ধের জটিলতা আরও বাড়াবে।

অন্যদিকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট হামলায় ইসরায়েলও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে আল জাজিরা ও এএফপির খবরে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সংঘর্ষের প্রভাবে ১০৮ জনকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৩ হাজার ১৯৫ জন ইসরায়েলে চিকিৎসা নিয়েছেন এবং এর মধ্যে অনেকে এখনও হাসপাতালে রয়েছেন। কর্তৃপক্ষ দ্বারা নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার সূত্রে সৃষ্টি হওয়া ভিড় ও বিশৃঙ্খলার পরিস্থিতিও হতাহত বাড়ানোর একটি কারণে হিসাব করা হচ্ছে।

এই আক্রমণগুলো কেবল militares প্রতিক্রিয়া নয়; আঞ্চলিক রাজনৈতিক স্থিতি, তেলের বাজার ও বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপরও তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব পড়তে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ রয়েছে। ইরানের রকেট ও ড্রোন হামলা ঘন হওয়ায় পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল এখন দ্রুততা নিয়ে একে অপরের দিকে ধাবিত সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র উদ্বেগ বিরাজ করছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

বাজারে অযৌক্তিক মূল্যবৈষম্য তদন্তে ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করবে সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী

সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইরানের ড্রোন-মিসাইল হামলা

প্রকাশিতঃ ০২:২৪:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আশঙ্কাজনকভাবে তীব্র হয়ে উঠেছে। রোববার (১৫ মার্চ) ইরানের সামরিক বাহিনী একযোগে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের কৌশলগত বিমানঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। হামলার ফলে অঞ্চলজুড়ে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রিয়াদ মহানগরের আকাশে পৌঁছানোর আগেই তাদের আায়ত্তে থাকা চারটি ইরানি ড্রোন লক্ষ্যভ্রষ্ট করে ধ্বংস করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক এই হামলায় সৌদি আরবে অন্তত দু’জন নিহত হয়েছেন এবং আরও ১২ জন গুরুতর আহত।

ইরানের এহেন আক্রমণের ধারাবাহিকতা সম্পর্কে বলা হচ্ছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যে ত্রি-মুখী সংঘাত শুরু হয়েছে—তার পর থেকে সৌদি আরব বারবার ইরানের নিশানায় পড়েছে। তেহরান কেবল সামরিক লক্ষ্যবস্তুতেই সংসীমাবদ্ধ নয়; গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো, মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং জনবহুল এলাকার ওপরও লক্ষ্য রেখে হামলা চালানো হচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-ধাফরা বিমানঘাঁটিও একই আঘাতের শিকার হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। তারা জানিয়েছে যে অভিযানে একযোগে ১০টি শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র এবং কয়েকটি ড্রোন ব্যবহৃত হয়েছে এবং লক্ষ্য ছিল ওই ঘাঁটিতে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনী। তবে আমেরিকান বাহিনীর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো স্পষ্ট নয়। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে সরাসরি আঘাত যুদ্ধের জটিলতা আরও বাড়াবে।

অন্যদিকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট হামলায় ইসরায়েলও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে আল জাজিরা ও এএফপির খবরে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সংঘর্ষের প্রভাবে ১০৮ জনকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৩ হাজার ১৯৫ জন ইসরায়েলে চিকিৎসা নিয়েছেন এবং এর মধ্যে অনেকে এখনও হাসপাতালে রয়েছেন। কর্তৃপক্ষ দ্বারা নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার সূত্রে সৃষ্টি হওয়া ভিড় ও বিশৃঙ্খলার পরিস্থিতিও হতাহত বাড়ানোর একটি কারণে হিসাব করা হচ্ছে।

এই আক্রমণগুলো কেবল militares প্রতিক্রিয়া নয়; আঞ্চলিক রাজনৈতিক স্থিতি, তেলের বাজার ও বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপরও তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব পড়তে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ রয়েছে। ইরানের রকেট ও ড্রোন হামলা ঘন হওয়ায় পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল এখন দ্রুততা নিয়ে একে অপরের দিকে ধাবিত সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র উদ্বেগ বিরাজ করছে।