১০:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬, ১১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
স্বাধীনতা দিবসে ভারতের রাষ্ট্রপতির শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রী: স্বাধীনতা দিবস আত্মত্যাগ ও দেশপ্রেমকে উজ্জীবিত করে আঞ্চলিক কার্যালয়েও বায়োমেট্রিক যাচাই শুরু দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মায়, উদ্ধারকাজ চলছে তেল মজুদ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি না করার আহ্বান জানালেন তথ্যমন্ত্রী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল দেশরের ১৮তম অ্যাটর্নি জেনারেল ঋণের জট খুলছে: ১.৩ বিলিয়ন ডলারের কিস্তি পাওয়ার সম্ভাবনা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে ঐক্যবद्धভাবে কাজের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষার ক্ষতিপূরণে ১০টি শনিবার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় খোলা রাখার নির্দেশ জুলাই দায়মুক্তি অধ্যাদেশে সবাই একমত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন

কালের সাক্ষী: চারশ বছরজীবী আলগী দিঘি

মাদারীপুর সদর উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের সৈয়দ বাড়ি হাফেজিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন বিশালাকার আলগী দিঘি কালের সাক্ষী হয়ে আজও অটল রয়েছে। স্থানীয়ভাবে আলগী কাজীবাড়ি দিঘি নামেও পরিচিত এই দীঘিটি নানা ইতিহাস ও লোকবিশ্বাসে ভরপুর।

বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ এনায়েত হোসেন জানালেন, ওই দিঘিটি প্রায় চারশো বছর আগে—সম্ভবত ষোড়শ শতাব্দীর দিকে—গায়েবীভাবে সৃষ্টি হয়েছিল বলে স্থানীয়দের গল্প। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, একই সময়ে দিঘির পাশে একটি গায়েবী মসজিদও গড়ে উঠেছিল। সেই কালের ধারণা ও আধ্যাত্মিক বিশ্বাসের কারণে বহু দর্শনার্থী এখানে পুণ্যে আসেন এবং মার্কা-মানত হিসেবে টাকা-পয়সা, হাঁস-মুরগি, ফলমূল, ছাগল ইত্যাদি দান করে থাকেন।

স্থানীয়দের অনেকেই বলেন, কে বা কারা কখন এই দিঘিটি কেটে বা খনন করেছে—এর সঠিক সূত্র তাদের জানা নেই। কেউ কেউ ধারণা করেন, সম্ভবত মোগল সম্রাটের আমলেই এটি খনন করা হয়েছিল। এলাকা জুড়ে প্রচলিত একটি কাহিনী বলছে, বিবাহ-শাদি বা সামাজিক অনুষ্ঠানে রান্না-খাবারের প্রয়োজন হলে যারা দিঘির মালিকের কাছে সহযোগিতা চান, তারা অনুরোধ করলেই কেটে নেই—ডেগ, করাই, থালা-বাসন ইত্যাদি সেই তীরে অদৃশ্যভাবে পড়ে পাওয়া যেত; তবে এধরনের লোকমুখে পাওয়া কাহিনীর কোনো লিখিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

আরেক স্থানীয়, সৈয়দ এনামুল হাসান সোহাগ বলেন, ‘‘দিঘিটি প্রায় পাঁচ-ছয় একর জমির ওপর বিস্তৃত এবং কোথাও গভীরতা তিরিশ-চল্লিশ ফুটের মতো।’’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘‘দিঘিতে প্রচুর দেশীয় প্রজাতির মিঠাপানির মাছ রয়েছে, যা এখানকার মানুষদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ জীবিকা ও খাদ্যাশ্রয় ছিল।’’

দীর্ঘদিন ধরে আশপাশের শত শত পরিবার দৈনন্দিন গৃহস্থালি কাজ এবং গোসলের কাজে এই দিঘির জলে নির্ভর করে চলত। কিন্তু গত কয়েক দশকে তা আর সম্ভব হচ্ছে না। নাব্যতা কমে যাওয়া, যথাযথ সংরক্ষণ ও সংস্কারের অভাব, এবং কচুরিপানা ও আবর্জনার স্তূপে দিঘিটি ঢেকে যাওয়ার ফলে এটি মানুষের ব্যবহার অযোগ্য হয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, দিঘির জৌলুস হারিয়ে যাচ্ছে এবং তা দ্রুত সচেতনতার সঙ্গে রক্ষা না করলে ইতিহাস ও জীববৈচিত্র্য দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

স্থানীয়রা সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন—দীঘিটির পুঙ্খানুপুঙ্খ খনন, সংস্কার, পরিচর্যা ও পর্যটন দিক নির্দেশনা দিয়ে এটিকে মাদারীপুর জেলার একটি ঐতিহ্যবাহী পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হোক। তবুও উল্লেখযোগ্য, এ দিঘিটি এখনো দূর-দূরান্ত থেকে আগত দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে এবং লোকবিশ্বাস ও স্থানীয় ইতিহাসের একটি জীবন্ত সাক্ষ্য হিসেবে মানুষ এখানে এসে দেখে যান।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

প্রধানমন্ত্রী: স্বাধীনতা দিবস আত্মত্যাগ ও দেশপ্রেমকে উজ্জীবিত করে

কালের সাক্ষী: চারশ বছরজীবী আলগী দিঘি

প্রকাশিতঃ ০৭:২৩:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬

মাদারীপুর সদর উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের সৈয়দ বাড়ি হাফেজিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন বিশালাকার আলগী দিঘি কালের সাক্ষী হয়ে আজও অটল রয়েছে। স্থানীয়ভাবে আলগী কাজীবাড়ি দিঘি নামেও পরিচিত এই দীঘিটি নানা ইতিহাস ও লোকবিশ্বাসে ভরপুর।

বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ এনায়েত হোসেন জানালেন, ওই দিঘিটি প্রায় চারশো বছর আগে—সম্ভবত ষোড়শ শতাব্দীর দিকে—গায়েবীভাবে সৃষ্টি হয়েছিল বলে স্থানীয়দের গল্প। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, একই সময়ে দিঘির পাশে একটি গায়েবী মসজিদও গড়ে উঠেছিল। সেই কালের ধারণা ও আধ্যাত্মিক বিশ্বাসের কারণে বহু দর্শনার্থী এখানে পুণ্যে আসেন এবং মার্কা-মানত হিসেবে টাকা-পয়সা, হাঁস-মুরগি, ফলমূল, ছাগল ইত্যাদি দান করে থাকেন।

স্থানীয়দের অনেকেই বলেন, কে বা কারা কখন এই দিঘিটি কেটে বা খনন করেছে—এর সঠিক সূত্র তাদের জানা নেই। কেউ কেউ ধারণা করেন, সম্ভবত মোগল সম্রাটের আমলেই এটি খনন করা হয়েছিল। এলাকা জুড়ে প্রচলিত একটি কাহিনী বলছে, বিবাহ-শাদি বা সামাজিক অনুষ্ঠানে রান্না-খাবারের প্রয়োজন হলে যারা দিঘির মালিকের কাছে সহযোগিতা চান, তারা অনুরোধ করলেই কেটে নেই—ডেগ, করাই, থালা-বাসন ইত্যাদি সেই তীরে অদৃশ্যভাবে পড়ে পাওয়া যেত; তবে এধরনের লোকমুখে পাওয়া কাহিনীর কোনো লিখিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

আরেক স্থানীয়, সৈয়দ এনামুল হাসান সোহাগ বলেন, ‘‘দিঘিটি প্রায় পাঁচ-ছয় একর জমির ওপর বিস্তৃত এবং কোথাও গভীরতা তিরিশ-চল্লিশ ফুটের মতো।’’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘‘দিঘিতে প্রচুর দেশীয় প্রজাতির মিঠাপানির মাছ রয়েছে, যা এখানকার মানুষদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ জীবিকা ও খাদ্যাশ্রয় ছিল।’’

দীর্ঘদিন ধরে আশপাশের শত শত পরিবার দৈনন্দিন গৃহস্থালি কাজ এবং গোসলের কাজে এই দিঘির জলে নির্ভর করে চলত। কিন্তু গত কয়েক দশকে তা আর সম্ভব হচ্ছে না। নাব্যতা কমে যাওয়া, যথাযথ সংরক্ষণ ও সংস্কারের অভাব, এবং কচুরিপানা ও আবর্জনার স্তূপে দিঘিটি ঢেকে যাওয়ার ফলে এটি মানুষের ব্যবহার অযোগ্য হয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, দিঘির জৌলুস হারিয়ে যাচ্ছে এবং তা দ্রুত সচেতনতার সঙ্গে রক্ষা না করলে ইতিহাস ও জীববৈচিত্র্য দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

স্থানীয়রা সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন—দীঘিটির পুঙ্খানুপুঙ্খ খনন, সংস্কার, পরিচর্যা ও পর্যটন দিক নির্দেশনা দিয়ে এটিকে মাদারীপুর জেলার একটি ঐতিহ্যবাহী পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হোক। তবুও উল্লেখযোগ্য, এ দিঘিটি এখনো দূর-দূরান্ত থেকে আগত দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে এবং লোকবিশ্বাস ও স্থানীয় ইতিহাসের একটি জীবন্ত সাক্ষ্য হিসেবে মানুষ এখানে এসে দেখে যান।