১০:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
চাঁদাবাজ ও অস্ত্রধারীদের তালিকা করে শিগগিরই সারাদেশে অভিযান: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশিদের উদ্বেগ বাড়ছে: সংঘাত, ভিসা ও ফ্লাইট সমস্যায় রেমিট্যান্স শঙ্কা চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি শহীদ জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন জ্বালানি সংকটে যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা চেয়েছে সরকার: জ্বালানি মন্ত্রী চাঁদাবাজ ও অস্ত্রধারীর তালিকা করে শিগগিরই সারাদেশে অভিযান: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ২ ডিআইজি ও ১ অতিরিক্ত ডিআইজিসহ পুলিশের ৩ কর্মকর্তার বদলি যুক্তরাজ্য নতুন সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী: ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক দুদক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন ও দুই কমিশনার পদত্যাগ প্রধানমন্ত্রী সরানোর নির্দেশ দিলেন অভিনন্দনবাণী সহ বিলবোর্ড ও ব্যানার দ্রুত অপসারণের অভিনন্দনবাহী বিলবোর্ড দ্রুত সরানোর নির্দেশ দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশিদের উদ্বেগ বাড়ছে: সংঘাত, ভিসা ও ফ্লাইট সমস্যায় রেমিট্যান্স শঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ হামলার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে। সংঘাত বাড়ায় উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা বাংলাদেশি কর্মীরা সরাসরি প্রভাবভোগী হয়েছেন। এখন পর্যন্ত দুই বাংলাদেশি কর্মীর নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে এবং সাতজন আহত হয়েছেন।

আকাশসীমা বন্ধের কারণে বহু ফ্লাইট বাতিল হয়েছে; ফলে নির্ধারিত ব্যাফারুটে আটকে পড়েছেন অনেক কর্মী। সৌদি আরব, কাতার ও বাহরাইনের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে বলে বাংলাদেশের বিভিন্ন মিশন থেকে জানা গেছে। এসব কারণে বৈদেশিক কর্মসংস্থানের মূল কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত জিসিসি (জলসৃজনশীল উপসাগরীয়) ছয়টি দেশে নতুন কর্মী পাঠানো কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

কয়েকটি দেশে বিদেশি কর্মীদের ভিসা মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে; ভিসা ও ফ্লাইট সংক্রান্ত অনিশ্চয়তার কারণে অনেকেই উদ্বেগে আছেন। কেউ কেউ জরুরি ছুটি নিয়ে দেশে এসে আটকে পড়েছেন এবং আবার বিদেশে ফেরার সম্ভাবনা অনিশ্চিত হয়ে আছে। পররাষ্ট্র ও প্রবাসী কল্যাণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অনুকূল সমাধানের চেষ্টা করলেও পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে পারে।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জিসিসি-ভুক্ত ছয়টি তেলসমৃদ্ধ দেশে বর্তমানে প্রায় ৪৫ লাখ বাংলাদেশি কর্মরত। প্রবাসী আয়ের দিকে তাকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে মোট প্রবাসী আয়-এর প্রায় ৪৫.৪০ শতাংশই এই ছয়টি দেশ থেকে এসেছে। অর্থাৎ প্রবাসী আয় ও দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার ওপর এই অঞ্চলের বড় ভূমিকা রয়েছে।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দেওয়া ভেরিফায়able সংখ্যার মধ্যে দেশের প্রতি দেশের বিভাগ অনুযায়ী শ্রমিকের সংখ্যা হলো: সৌদি আরবে প্রায় ২০ লাখ, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১০ লাখ, ওমানে ৭ লাখ, কাতারে ৪ লাখ ৫০ হাজার, বাহরাইনে ১ লাখ ৫০ হাজার এবং কুয়েতে ১ লাখ ৪০ হাজার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান থেকেও দেখা যায় ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই–সেপ্টেম্বর) মোট প্রবাসী আয় প্রায় ৭৫৯ কোটি টাকা; এর মধ্যে জিসিসি-ভুক্ত এই ছয়টি দেশ থেকে এসেছে প্রায় ৩৪৪ কোটি টাকা, যা মোটের ৪৫.৪০ শতাংশ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যদি সংঘাত দীর্ঘায়িত হয় তাহলে নতুন কর্মসংস্থান কমতে পারে এবং প্রবাসী আয়ও ধীরগতি অথবা হ্রাস পেতে পারে — এর ফলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

দূতের দিকে থেকে নেওয়া লোকসানের কিছু সীমিত মোকাবিলা হিসেবে কাতার ইতিমধ্যেই এন্ট্রি ভিসার মেয়াদ এক মাস বাড়িয়ে দিয়েছে। কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এক মাসের জন্য এই দীর্ঘত্তোর কার্যকর করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় সময়সীমা বাড়ানোও যেতে পারে। তারা জানিয়েছে ভিসা বৃদ্ধি ইলেকট্রনিক সিস্টেমের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে করা হবে, এর জন্য কোনো ফি নেই এবং সংশ্লিষ্টদের কোনো আলাদা আবেদন বা দপ্তরে উপস্থিত থাকা লাগবে না। তবে ২৮ ফেব্রুয়ারির আগে মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে যাওয়া ভিসাগুলোর ক্ষেত্রে নির্ধারিত জরিমানা পরিশোধের পরই মেয়াদবৃদ্ধির সুযোগ পাওয়া যাবে বলে বলা হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও কূটনৈতিক সূত্র বলছেন ভিসা ও ফ্লাইট সংশ্লিষ্ট সমস্যাগুলো ধীরে ধীরে সমাধান হবে বলে আশা করা হলেও এখনই নতুন কর্মীর প্রেরণ প্রায় অনিশ্চিত। ওই কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশ বিমানের টিকিট কেটে রাখা যাত্রীদের টিকিট রিশিডিউল করার বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, এবং অন্যান্য এয়ারলাইন্সগুলোকেও বাংলাদেশি কর্মীদের টিকিট পুনঃনির্ধারণে সহযোগিতা করার অনুরোধ করা হয়েছে।

সামগ্রিকভাবে, মধ্যপ্রাচ্যের এই অবস্থা সরাসরি মানবিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব ফেলছে—কর্মী নিরাপত্তা, ভিসা-অবস্থা ও যাতায়াতের অনিশ্চয়তার কারণে প্রবাসী পরিবারের উদ্বেগ বাড়ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত কূটনৈতিক সমাধান ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা না হলে প্রবাসী আয় এবং বিদেশী কর্মসংস্থানে বড় ধরনের ধাক্কা পড়া সম্ভাবনা রয়েছে। কর্তৃপক্ষ এই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত রাখছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশিদের উদ্বেগ বাড়ছে: সংঘাত, ভিসা ও ফ্লাইট সমস্যায় রেমিট্যান্স শঙ্কা

মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশিদের উদ্বেগ বাড়ছে: সংঘাত, ভিসা ও ফ্লাইট সমস্যায় রেমিট্যান্স শঙ্কা

প্রকাশিতঃ ০৮:২৮:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ হামলার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে। সংঘাত বাড়ায় উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা বাংলাদেশি কর্মীরা সরাসরি প্রভাবভোগী হয়েছেন। এখন পর্যন্ত দুই বাংলাদেশি কর্মীর নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে এবং সাতজন আহত হয়েছেন।

আকাশসীমা বন্ধের কারণে বহু ফ্লাইট বাতিল হয়েছে; ফলে নির্ধারিত ব্যাফারুটে আটকে পড়েছেন অনেক কর্মী। সৌদি আরব, কাতার ও বাহরাইনের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে বলে বাংলাদেশের বিভিন্ন মিশন থেকে জানা গেছে। এসব কারণে বৈদেশিক কর্মসংস্থানের মূল কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত জিসিসি (জলসৃজনশীল উপসাগরীয়) ছয়টি দেশে নতুন কর্মী পাঠানো কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

কয়েকটি দেশে বিদেশি কর্মীদের ভিসা মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে; ভিসা ও ফ্লাইট সংক্রান্ত অনিশ্চয়তার কারণে অনেকেই উদ্বেগে আছেন। কেউ কেউ জরুরি ছুটি নিয়ে দেশে এসে আটকে পড়েছেন এবং আবার বিদেশে ফেরার সম্ভাবনা অনিশ্চিত হয়ে আছে। পররাষ্ট্র ও প্রবাসী কল্যাণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অনুকূল সমাধানের চেষ্টা করলেও পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে পারে।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জিসিসি-ভুক্ত ছয়টি তেলসমৃদ্ধ দেশে বর্তমানে প্রায় ৪৫ লাখ বাংলাদেশি কর্মরত। প্রবাসী আয়ের দিকে তাকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে মোট প্রবাসী আয়-এর প্রায় ৪৫.৪০ শতাংশই এই ছয়টি দেশ থেকে এসেছে। অর্থাৎ প্রবাসী আয় ও দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার ওপর এই অঞ্চলের বড় ভূমিকা রয়েছে।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দেওয়া ভেরিফায়able সংখ্যার মধ্যে দেশের প্রতি দেশের বিভাগ অনুযায়ী শ্রমিকের সংখ্যা হলো: সৌদি আরবে প্রায় ২০ লাখ, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১০ লাখ, ওমানে ৭ লাখ, কাতারে ৪ লাখ ৫০ হাজার, বাহরাইনে ১ লাখ ৫০ হাজার এবং কুয়েতে ১ লাখ ৪০ হাজার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান থেকেও দেখা যায় ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই–সেপ্টেম্বর) মোট প্রবাসী আয় প্রায় ৭৫৯ কোটি টাকা; এর মধ্যে জিসিসি-ভুক্ত এই ছয়টি দেশ থেকে এসেছে প্রায় ৩৪৪ কোটি টাকা, যা মোটের ৪৫.৪০ শতাংশ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যদি সংঘাত দীর্ঘায়িত হয় তাহলে নতুন কর্মসংস্থান কমতে পারে এবং প্রবাসী আয়ও ধীরগতি অথবা হ্রাস পেতে পারে — এর ফলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

দূতের দিকে থেকে নেওয়া লোকসানের কিছু সীমিত মোকাবিলা হিসেবে কাতার ইতিমধ্যেই এন্ট্রি ভিসার মেয়াদ এক মাস বাড়িয়ে দিয়েছে। কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এক মাসের জন্য এই দীর্ঘত্তোর কার্যকর করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় সময়সীমা বাড়ানোও যেতে পারে। তারা জানিয়েছে ভিসা বৃদ্ধি ইলেকট্রনিক সিস্টেমের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে করা হবে, এর জন্য কোনো ফি নেই এবং সংশ্লিষ্টদের কোনো আলাদা আবেদন বা দপ্তরে উপস্থিত থাকা লাগবে না। তবে ২৮ ফেব্রুয়ারির আগে মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে যাওয়া ভিসাগুলোর ক্ষেত্রে নির্ধারিত জরিমানা পরিশোধের পরই মেয়াদবৃদ্ধির সুযোগ পাওয়া যাবে বলে বলা হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও কূটনৈতিক সূত্র বলছেন ভিসা ও ফ্লাইট সংশ্লিষ্ট সমস্যাগুলো ধীরে ধীরে সমাধান হবে বলে আশা করা হলেও এখনই নতুন কর্মীর প্রেরণ প্রায় অনিশ্চিত। ওই কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশ বিমানের টিকিট কেটে রাখা যাত্রীদের টিকিট রিশিডিউল করার বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, এবং অন্যান্য এয়ারলাইন্সগুলোকেও বাংলাদেশি কর্মীদের টিকিট পুনঃনির্ধারণে সহযোগিতা করার অনুরোধ করা হয়েছে।

সামগ্রিকভাবে, মধ্যপ্রাচ্যের এই অবস্থা সরাসরি মানবিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব ফেলছে—কর্মী নিরাপত্তা, ভিসা-অবস্থা ও যাতায়াতের অনিশ্চয়তার কারণে প্রবাসী পরিবারের উদ্বেগ বাড়ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত কূটনৈতিক সমাধান ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা না হলে প্রবাসী আয় এবং বিদেশী কর্মসংস্থানে বড় ধরনের ধাক্কা পড়া সম্ভাবনা রয়েছে। কর্তৃপক্ষ এই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত রাখছে।