ইরান ঘোষণা করেছে যে হরমুজ প্রণালিতে বাংলাদেশসহ ছয়টি দেশের বাণিজ্যিক জাহাজকে বিশেষ নিরাপত্তা প্রদান করা হবে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি একটি বিশেষ সাক্ষাৎকারে।
রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরাগচি জানান, তেহরান এই ছয়টি দেশের জাহাজে কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেবে না এবং যুদ্ধকালীন বা যুদ্ধপরবর্তী সময়েও তারা এই জলপথে ‘নিরাপত্তা পাসেজ’ সুবিধা পাবে। তালিকাভুক্ত অন্যান্য দেশগুলো হলো—ভারত, চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান ও ইরাক।
আরাগচি আরও বলেন, ইরান হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করেনি; তবে সেখানে বিদেশি জাহাজ চলাচল কড়াভাবে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। বিশ্বের বহু রাষ্ট্র ইতিমধ্যেই তেহরানের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা চেয়েছে এবং যেগুলোকে ইরান নিজস্ব মিত্র মনে করে, তাদের জন্য ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) আনুষ্ঠানিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে উল্লিখিত ছয় দেশের জাহাজে সামরিক পদক্ষেপ করা হবে না। এই নিরাপত্তা ব্যবস্থার পেছনে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা ও তাদের সম্মতি রয়েছে।
হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব অনেক বড় — এই পথে বিশ্বের অপরিশোধিত তেল ও গ্যাস পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশই চলে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে তেহরান এই প্রণালীতে কঠোর অবরোধ জারি করে। এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির সরবরাহ বিঘ্নিত হয়েছে এবং তেলের দাম বাড়ার প্রভাব দেখা দিয়েছে। ইরান বলছে, তাদের এই বন্ধশৃঙ্খলা মূলত ‘শত্রুভাবাপন্ন’ রাষ্ট্র — যেমন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও তাদের মিত্রদের প্রতি প্রযোজ্য; অন্যদিকে ‘মিত্র’ রাষ্ট্রগুলোর জাহাজ চলাচলে তারা নমনীয় থাকবে।
তবে মিত্রধর্মী জাহাজে হামলা না করার প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি ইরান কিছু শর্তও নির্ধারণ করেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী ওই দেশগুলোর জাহাজগুলোকে হরমুজ প্রবেশের আগে ইরানের সামুদ্রিক চলাচল কর্তৃপক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক অনুমতি নিতে হবে। তদুপরি, জলপথ ব্যবহার করার জন্য টোল আদায়ের কথাও ব্যবহারিক পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে তেহরান। ইরানি পার্লামেন্ট ইতোমধ্যে সেই টোল‑সংক্রান্ত একটি আইনের খসড়া তৈরির কাজ শুরু করেছে।
সামগ্রিকভাবে ইরানের এই ঘোষণা বাংলাদেশের মতো মধ্যম আয়ের ও জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল দেশগুলোর জন্য কোনো রকম স্বস্তির সংবাদ নিয়ে এসেছে। রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝেও ছয়টি দেশের জাহাজের জন্য ইরানের বিশেষ ছাড় আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে তেহরানের মিত্রতার নতুন সমীকরণ তুলে ধরছে। শুধুমাত্র সামুদ্রিক নিরাপত্তাই নয়—বাণিজ্যিক স্থিতিশীলতা রক্ষায়ও এটি এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 























