০৩:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব শিশুদের মানবিক গড়ে তোলায় শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ুন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত নগর গড়তে কাজ করছে সরকার: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মানব পাচার ও প্রযুক্তি অপব্যবহার রোধে নতুন আইন কার্যকর হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির প্রয়াণে আজ বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় শোক এলডিসিদের টেকসই উত্তরণে বৈশ্বিক সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান

যৌন নিপীড়ন মামলায় ট্রাম্প ৫.৬ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৬০ কোটি টাকা) পরিশোধ করলেন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ই. জিন ক্যারলের বিরুদ্ধে হওয়া যৌন নিপীড়ন ও মানহানির মামলায় মোট ৫ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৬০ কোটি টাকা) জরিমানা পরিশোধ করেছেন। আদালতের নথি ও ক্যারলের আইনজীবীর বরাতে বার্তা সংস্থা এপি এই অর্থ প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

বিশেষ একটি এসক্রো অ্যাকাউন্ট থেকে এই রাশি ক্যারলের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ২০২৩ সালে জুরির দেওয়া মূল ৫ মিলিয়ন ডলার রায়ের সঙ্গে সময়ের সঙ্গে যোগ হওয়া সুদ জোড়া হয়ে মোট অর্থ দাঁড়িয়েছে ৫.৬ মিলিয়ন ডলারে।

ক্যারলের প্রধান আইনজীবী রবার্টা কাপলান মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) এক বিবৃতিতে অর্থ পাওয়ার সংবাদ নিশ্চিত করে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ৮২ বছর বয়সি কলামিস্ট ই. জিন ক্যারল নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সাবস্টকে লিখেছেন, “ঈগল অবশেষে অবতরণ করেছে,”—যার মাধ্যমে তিনি আনন্দের সঙ্গে টাকা পাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালে জুরি বোর্ডের রায়ের পর আদালত ওই অর্থ একটি জরুরি এসক্রো অ্যাকাউন্টে টাকা রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন। পরে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট দেওয়ানি রায়টাই বহাল রাখায় বিচারক লুইস এ. কাপলানকে আটকে রাখা অর্থ লেখিকার কাছে ছেড়ে দেওয়ার পথে আইনগত বাধা দূর হয়। ট্রumpeর আইনজীবীরা শেষ মুহূর্তে এই অর্থ প্রদান ঠেকাতে জরুরি স্থগিতাদেশের আবেদন করেন, কিন্তু আদালত এক লাইনের সংক্ষিপ্ত আদেশে তাদের আবেদন সরাসরি খারিজ করে দেয়। আদালত ক্যারলকে অর্থ ব্যবহারে কোনো শর্ত আরোপ করেনি।

ক্যারলের আইনজীবীরা বলছেন, তিনি প্রাপ্ত অর্থটি তার অবসরকালীন অ্যাকাউন্টে রেখে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। তবে ট্রাম্পের প্রতিরক্ষা দল এখানেই থেমে যায়নি—তারা এই অর্থ প্রদানের বিরুদ্ধে পুনরায় আপিল করেছে এবং অর্থবিরোধী বা বাতিল চাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

ঘটনার শুরুর কথাই বলতে গেলে, মামলাটি ১৯৯৬ সালের। তদন্ত ও জুরির রায়ে বলা হয়, ওই বছরের এক অনুষ্ঠানে নিউইয়র্কের একটি বিলাসবহুল ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের ড্রেসিংরুমে ই. জিন ক্যারলকে জোরপূর্বক যৌনাহৎকার করা হয়েছিল। এই ঘটনাটি ক্যারল ২০১৯ সালে তাঁর স্মৃতিকথায় প্রকাশ করলে বিষয়টি ফের আলোচনার কেন্দ্র হয়ে দাঁড়ায়।

ঘটনাটি সামনে আসার পর ট্রাম্প ক্যারলের বিরুদ্ধে মানহানি মামলা নিয়েছিলেন এবং জানিয়েছিলেন, তাদের কোনো যৌন সম্পর্ক বা ঘটনার ঘটনা ঘটেনি। ২০১৯ সালের একটি সাক্ষাৎকারে তিনি ক্যারলকে ‘মিথ্যাবাদী’ বলেছিলেন এবং তাদের সঙ্গে তোলা পুরনো একটি গ্রুপ ছবিকেও গুরুত্বহীন দাবি করেছিলেন।

বিচার চলাকালীন ট্রাম্প আদালতে উপস্থিত হননি; অন্যদিকে ক্যারল সরাসরি সাক্ষ্য দিয়ে জানিয়েছিলেন কীভাবে বন্ধুত্বসুলভ দেখা মুহূর্তেই ঘটনা তীব্র সহিংসতায় পরিণত হয়। নিউইয়র্কের আইন বদলায় পুরনো যৌন নিপীড়নের ঘটনার উপর নতুনভাবে মামলা করার সুযোগ পাওয়ার পরই ক্যারল এ মামলা করেন।

এছাড়া, এই মামলার বাইরে ২০২৪ সালে ম্যানহাটনে আরেকটি পৃথক বিচারে একটি জুরি ট্রাম্পকে ক্যারলের মানহানি করার অপরাধে প্রায় ৮৩ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। সেই মামলাতেও ট্রাম্প আপিল করেন এবং বিষয়টি উচ্চ আদালতে আছে। সাধারণত সংবাদমাধ্যম যৌন নির্যাতনের শিকারদের নাম গোপন রাখে, কিন্তু ক্যারল নিজে তার নাম প্রকাশের পূর্ণ সম্মতি দিয়েছেন।

সার্বিকভাবে বলা যায়, এবারের অর্থপ্রদান লেখিকার হাতে পৌঁছালেও আইনি লড়াই পুরোপুরি শেষ হয়নি। ট্রাম্পের টিম আপিলের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ চালিয়ে যেতে পারে, ফলে বিষয়টির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনও অপসংহত।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন

যৌন নিপীড়ন মামলায় ট্রাম্প ৫.৬ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৬০ কোটি টাকা) পরিশোধ করলেন

প্রকাশিতঃ ০২:২৫:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ই. জিন ক্যারলের বিরুদ্ধে হওয়া যৌন নিপীড়ন ও মানহানির মামলায় মোট ৫ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৬০ কোটি টাকা) জরিমানা পরিশোধ করেছেন। আদালতের নথি ও ক্যারলের আইনজীবীর বরাতে বার্তা সংস্থা এপি এই অর্থ প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

বিশেষ একটি এসক্রো অ্যাকাউন্ট থেকে এই রাশি ক্যারলের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ২০২৩ সালে জুরির দেওয়া মূল ৫ মিলিয়ন ডলার রায়ের সঙ্গে সময়ের সঙ্গে যোগ হওয়া সুদ জোড়া হয়ে মোট অর্থ দাঁড়িয়েছে ৫.৬ মিলিয়ন ডলারে।

ক্যারলের প্রধান আইনজীবী রবার্টা কাপলান মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) এক বিবৃতিতে অর্থ পাওয়ার সংবাদ নিশ্চিত করে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ৮২ বছর বয়সি কলামিস্ট ই. জিন ক্যারল নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সাবস্টকে লিখেছেন, “ঈগল অবশেষে অবতরণ করেছে,”—যার মাধ্যমে তিনি আনন্দের সঙ্গে টাকা পাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালে জুরি বোর্ডের রায়ের পর আদালত ওই অর্থ একটি জরুরি এসক্রো অ্যাকাউন্টে টাকা রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন। পরে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট দেওয়ানি রায়টাই বহাল রাখায় বিচারক লুইস এ. কাপলানকে আটকে রাখা অর্থ লেখিকার কাছে ছেড়ে দেওয়ার পথে আইনগত বাধা দূর হয়। ট্রumpeর আইনজীবীরা শেষ মুহূর্তে এই অর্থ প্রদান ঠেকাতে জরুরি স্থগিতাদেশের আবেদন করেন, কিন্তু আদালত এক লাইনের সংক্ষিপ্ত আদেশে তাদের আবেদন সরাসরি খারিজ করে দেয়। আদালত ক্যারলকে অর্থ ব্যবহারে কোনো শর্ত আরোপ করেনি।

ক্যারলের আইনজীবীরা বলছেন, তিনি প্রাপ্ত অর্থটি তার অবসরকালীন অ্যাকাউন্টে রেখে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। তবে ট্রাম্পের প্রতিরক্ষা দল এখানেই থেমে যায়নি—তারা এই অর্থ প্রদানের বিরুদ্ধে পুনরায় আপিল করেছে এবং অর্থবিরোধী বা বাতিল চাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

ঘটনার শুরুর কথাই বলতে গেলে, মামলাটি ১৯৯৬ সালের। তদন্ত ও জুরির রায়ে বলা হয়, ওই বছরের এক অনুষ্ঠানে নিউইয়র্কের একটি বিলাসবহুল ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের ড্রেসিংরুমে ই. জিন ক্যারলকে জোরপূর্বক যৌনাহৎকার করা হয়েছিল। এই ঘটনাটি ক্যারল ২০১৯ সালে তাঁর স্মৃতিকথায় প্রকাশ করলে বিষয়টি ফের আলোচনার কেন্দ্র হয়ে দাঁড়ায়।

ঘটনাটি সামনে আসার পর ট্রাম্প ক্যারলের বিরুদ্ধে মানহানি মামলা নিয়েছিলেন এবং জানিয়েছিলেন, তাদের কোনো যৌন সম্পর্ক বা ঘটনার ঘটনা ঘটেনি। ২০১৯ সালের একটি সাক্ষাৎকারে তিনি ক্যারলকে ‘মিথ্যাবাদী’ বলেছিলেন এবং তাদের সঙ্গে তোলা পুরনো একটি গ্রুপ ছবিকেও গুরুত্বহীন দাবি করেছিলেন।

বিচার চলাকালীন ট্রাম্প আদালতে উপস্থিত হননি; অন্যদিকে ক্যারল সরাসরি সাক্ষ্য দিয়ে জানিয়েছিলেন কীভাবে বন্ধুত্বসুলভ দেখা মুহূর্তেই ঘটনা তীব্র সহিংসতায় পরিণত হয়। নিউইয়র্কের আইন বদলায় পুরনো যৌন নিপীড়নের ঘটনার উপর নতুনভাবে মামলা করার সুযোগ পাওয়ার পরই ক্যারল এ মামলা করেন।

এছাড়া, এই মামলার বাইরে ২০২৪ সালে ম্যানহাটনে আরেকটি পৃথক বিচারে একটি জুরি ট্রাম্পকে ক্যারলের মানহানি করার অপরাধে প্রায় ৮৩ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। সেই মামলাতেও ট্রাম্প আপিল করেন এবং বিষয়টি উচ্চ আদালতে আছে। সাধারণত সংবাদমাধ্যম যৌন নির্যাতনের শিকারদের নাম গোপন রাখে, কিন্তু ক্যারল নিজে তার নাম প্রকাশের পূর্ণ সম্মতি দিয়েছেন।

সার্বিকভাবে বলা যায়, এবারের অর্থপ্রদান লেখিকার হাতে পৌঁছালেও আইনি লড়াই পুরোপুরি শেষ হয়নি। ট্রাম্পের টিম আপিলের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ চালিয়ে যেতে পারে, ফলে বিষয়টির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনও অপসংহত।