১১:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

হরমুজ এড়িয়ে ইয়ানবু থেকে বিকল্প পথে ১ লক্ষ টন তেল চট্টগ্রামে আসছে

হরমুজ প্রণালির জটিলতা এড়াতে বাংলাদেশ এবার বিকল্প রুটে সৌদি আরব থেকে এক লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারিতে আনা হচ্ছে। লোহিত সাগরের তীরবর্তী ইয়ানবু কমার্শিয়াল পোর্ট থেকে লোড করে লোহিত সাগর ও লাল সাগর পার হয়ে সরাসরি চট্টগ্রাম বন্দর পৌঁছানো হবে। ওই তেলবাহী ট্যাংকারটি আগামী ২০ এপ্রিল লোড করার কথা রয়েছে।

তবে একই সময়ে ‘এমটি নরডিক পলুকস’ নামের আরেকটি জাহাজে থাকা এক লাখ মেট্রিক টন ক্রুড তেল হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়েছে। জাহাজটি বর্তমানে সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে অবস্থান করলেও ইরান থেকে বিশেষ ছাড়পত্র না পাওয়ায় এটি বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে এগোতে পারছে না। যদিও ইরান সম্প্রতি বাংলাদেশের ছয়টি জাহাজকে চলাচলের অনুমতি দিয়েছে, এই জাহাজটি সেই তালিকায় নেই।

বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি) বলছে, ইয়ানবু থেকে ২০ এপ্রিল লোড করা এক লাখ টন তেল ঢুকলে, ‘এমটি নরডিক পলুকস’ এর থাকা এক লাখ টন যোগ হলে মে মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে মোট দুই লাখ মেট্রিক টন তেলের সংগ্রহ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। পরে এসব অপরিশোধিত তেল ইস্টার্ন রিফাইনারিতে পরিশোধন করে বাজারজাত করা হবে, যা চলমান জ্বালানি সংকট অনেকটাই লাঘব করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ইস্টার্ন রিফাইনারির সূত্রে জানানো হয়েছে, পরিশোধনের পরে এই দুই লাখ মেট্রিক টন ক্রুড তেল থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি উৎপাদন সম্ভব হবে। আনুমানিক উৎপাদন বলা হচ্ছে: ৫২ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল, ৩২ হাজার মেট্রিক টন পেট্রোল, ১৬ হাজার মেট্রিক টন অকটেন, ৪৮ হাজার মেট্রিক টন ফার্নেস অয়েল এবং ৪২ হাজার মেট্রিক টন কেরোসিন।

বিএসসি ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক জানান, জটিলতা নিরসনে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে এবং ইরানি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বিশেষ অনুমতি পাওয়ার চেষ্টা চলছে। অনুমতি মিলে গেলে ‘এমটি নরডিক পলুকস’ সরাসরি চট্টগ্রামে আসবে।

বিএসসি আরও জানিয়েছে, চলতি বছরের মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকে এখন পর্যন্ত ক্রুড অয়েল, এলপিজি, এলএনজিসহ বিভিন্ন জ্বালানি নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে অন্তত ৩৩টি জাহাজ এসেছে। এছাড়া ইয়ানবু বন্দর হরমুজ প্রণালির বাইরে হওয়ায় এ রুটে তেল পরিবহনে সামরিক বা রাজনৈতিক বাধার আশঙ্কা কম বলে কর্মকর্তারা মনে করছেন।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

হরমুজ এড়িয়ে ইয়ানবু থেকে বিকল্প পথে ১ লক্ষ টন তেল চট্টগ্রামে আসছে

প্রকাশিতঃ ০৭:২৭:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

হরমুজ প্রণালির জটিলতা এড়াতে বাংলাদেশ এবার বিকল্প রুটে সৌদি আরব থেকে এক লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারিতে আনা হচ্ছে। লোহিত সাগরের তীরবর্তী ইয়ানবু কমার্শিয়াল পোর্ট থেকে লোড করে লোহিত সাগর ও লাল সাগর পার হয়ে সরাসরি চট্টগ্রাম বন্দর পৌঁছানো হবে। ওই তেলবাহী ট্যাংকারটি আগামী ২০ এপ্রিল লোড করার কথা রয়েছে।

তবে একই সময়ে ‘এমটি নরডিক পলুকস’ নামের আরেকটি জাহাজে থাকা এক লাখ মেট্রিক টন ক্রুড তেল হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়েছে। জাহাজটি বর্তমানে সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে অবস্থান করলেও ইরান থেকে বিশেষ ছাড়পত্র না পাওয়ায় এটি বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে এগোতে পারছে না। যদিও ইরান সম্প্রতি বাংলাদেশের ছয়টি জাহাজকে চলাচলের অনুমতি দিয়েছে, এই জাহাজটি সেই তালিকায় নেই।

বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি) বলছে, ইয়ানবু থেকে ২০ এপ্রিল লোড করা এক লাখ টন তেল ঢুকলে, ‘এমটি নরডিক পলুকস’ এর থাকা এক লাখ টন যোগ হলে মে মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে মোট দুই লাখ মেট্রিক টন তেলের সংগ্রহ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। পরে এসব অপরিশোধিত তেল ইস্টার্ন রিফাইনারিতে পরিশোধন করে বাজারজাত করা হবে, যা চলমান জ্বালানি সংকট অনেকটাই লাঘব করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ইস্টার্ন রিফাইনারির সূত্রে জানানো হয়েছে, পরিশোধনের পরে এই দুই লাখ মেট্রিক টন ক্রুড তেল থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি উৎপাদন সম্ভব হবে। আনুমানিক উৎপাদন বলা হচ্ছে: ৫২ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল, ৩২ হাজার মেট্রিক টন পেট্রোল, ১৬ হাজার মেট্রিক টন অকটেন, ৪৮ হাজার মেট্রিক টন ফার্নেস অয়েল এবং ৪২ হাজার মেট্রিক টন কেরোসিন।

বিএসসি ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক জানান, জটিলতা নিরসনে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে এবং ইরানি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বিশেষ অনুমতি পাওয়ার চেষ্টা চলছে। অনুমতি মিলে গেলে ‘এমটি নরডিক পলুকস’ সরাসরি চট্টগ্রামে আসবে।

বিএসসি আরও জানিয়েছে, চলতি বছরের মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকে এখন পর্যন্ত ক্রুড অয়েল, এলপিজি, এলএনজিসহ বিভিন্ন জ্বালানি নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে অন্তত ৩৩টি জাহাজ এসেছে। এছাড়া ইয়ানবু বন্দর হরমুজ প্রণালির বাইরে হওয়ায় এ রুটে তেল পরিবহনে সামরিক বা রাজনৈতিক বাধার আশঙ্কা কম বলে কর্মকর্তারা মনে করছেন।