০৯:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
আইওএম সহযোগিতায় তেহরান থেকে ১৮৬ বাংলাদেশিকে ফেরত আনা হয়েছে: শামা ওবায়েদ ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে গড়ার ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে সরকার সারাদেশে অভিযান: অবৈধভাবে মজুত করা ২ লাখ ৮ হাজার ৬৫০ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার প্রধানমন্ত্রী: খেলোয়াড়রা রাজনীতিতে না এসে ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে গড়ে তুলুন ৩০ এপ্রিল সিলেট থেকে শুরু হচ্ছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ অবৈধ জ্বালানি তেল মজুত-পাচার রোধে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা পুরস্কারের ঘোষণা মার্চের প্রথম ২৮ দিনে রেমিট্যান্সে নতুন রেকর্ড: ৩.৩৩ বিলিয়ন ডলার বিদ্যুৎমন্ত্রী ঘোষণা: প্রিপেইড মিটারের মাসিক চার্জ বাতিল সরকার ১১ জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক নিয়োগ করেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের মুলতবি অধিবেশন শুরু

মিয়ানমারের নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে মনোনীত জান্তা প্রধান মিন আং হ্লেইং

মিয়ানমারের দীর্ঘ চলমান রাজনৈতিক ও সামরিক সংকতের মধ্যেই জান্তা প্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন আং হ্লেইংকে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। সোমবার (৩০ মার্চ) সংসদের অধিবেশনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা আসে।

মনোনয়ন প্রক্রিয়াটি বিতর্কিত বলে 평가 করা হচ্ছে। গত সাধারণ নির্বাচনে মূল বিরোধীদলগুলোকে অংশগ্রহণের সুযোগ না দিয়ে রাজনৈতিক ময়দান সদ্য সাজানো হয়, ফলে মিন আং হ্লেইংয়ের প্রার্থীতা শুরু থেকেই প্রায় নিশ্চিত ছিল। তাঁর দুজন নামমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী থাকা সত্ত্বেও বিজয়ের বাস্তব সম্ভাবনা ছিল বলার অপেক্ষা রাখে না।

৫ বছর আগে সংঘটিত রক্তক্ষয়ী সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে এই জেনারেলটির ক্ষমতাসঞ্চয় দীর্ঘদিনের কৌশলের ফল বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। ২০২১ সালের অভ্যুত্থান ও পরের সময়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের কারণে তিনি পশ্চিমা বিশ্ব থেকে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে রয়েছেন। বর্তমান সময়ে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেবেন তিনি—এখনকার পরিস্থিতি যেখানে দেশটি একটি তীব্র গৃহযুদ্ধে ডুবে আছে। কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছে এবং বৃহৎসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে কষ্টকর জীবনযাপন করছে; দেশের বিস্তীর্ণ অংশ এখনো জান্তা-বিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিয়ন্ত্রণে রয়ে গেছে।

নতুন গঠিত সংসদের প্রায় ৯০ শতাংশ সদস্যই মিন আং হ্লেইংয়ের প্রতি অনুগত বলে জানানো হয়েছে, যা তাঁর ক্ষমতাকে আরও মজবুত করেছে। সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত হতে হলে তাকে সামরিক বাহিনী থেকে পদত্যাগ করতে হবে। তবু ক্ষমতার চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখার জন্য তিনি তাঁর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী জেনারেল ইয়েউইনওকে পরবর্তী সেনাপ্রধান হিসেবে নির্বাচিত করে রেখেছেন। পাশাপাশি একটি নতুন ‘পরামর্শক কাউন্সিল’ গঠন করা হয়েছে, যা মাধ্যমে তিনি সামরিক ও নন-সামরিক প্রশাসনের ওপর পর্দার আড়াল থেকে প্রভাব চালিয়ে যেতে পারবেন বলে বিশ্লেষকরা বলছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই নতুন প্রশাসন মৌলিকভাবে বর্তমান সামরিক সরকারেরই একটি বিস্তৃত সংস্করণ; এখন এটি নানাভাবে ‘‘বেসামরিক আড়াল’’ নিয়ে পরিচালিত হবে। মিন আং হ্লেইং ও তার সহযোগীরা ক্ষমতা দখলের পর থেকেই যে কঠোর দমননীতির পথ অবলম্বন করেছেন, তাতে কোনো মৌলিক পরিবর্তনের আশা করা মুশকিল। আন্তর্জাতিক মহলে এই সাজানো নির্বাচন ও ক্ষমতা হস্তান্তর মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা কমাতে কতটুকু কাজে লাগবে—এ নিয়ে গভীর সংশয় ও উদ্বেগ প্রবল রয়েছে। সব মিলিয়ে মিয়ানমারের ভবিষ্যৎ রাজনীতি এখন নতুন এক অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে গড়ার ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে সরকার

মিয়ানমারের নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে মনোনীত জান্তা প্রধান মিন আং হ্লেইং

প্রকাশিতঃ ০২:২৫:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

মিয়ানমারের দীর্ঘ চলমান রাজনৈতিক ও সামরিক সংকতের মধ্যেই জান্তা প্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন আং হ্লেইংকে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। সোমবার (৩০ মার্চ) সংসদের অধিবেশনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা আসে।

মনোনয়ন প্রক্রিয়াটি বিতর্কিত বলে 평가 করা হচ্ছে। গত সাধারণ নির্বাচনে মূল বিরোধীদলগুলোকে অংশগ্রহণের সুযোগ না দিয়ে রাজনৈতিক ময়দান সদ্য সাজানো হয়, ফলে মিন আং হ্লেইংয়ের প্রার্থীতা শুরু থেকেই প্রায় নিশ্চিত ছিল। তাঁর দুজন নামমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী থাকা সত্ত্বেও বিজয়ের বাস্তব সম্ভাবনা ছিল বলার অপেক্ষা রাখে না।

৫ বছর আগে সংঘটিত রক্তক্ষয়ী সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে এই জেনারেলটির ক্ষমতাসঞ্চয় দীর্ঘদিনের কৌশলের ফল বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। ২০২১ সালের অভ্যুত্থান ও পরের সময়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের কারণে তিনি পশ্চিমা বিশ্ব থেকে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে রয়েছেন। বর্তমান সময়ে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেবেন তিনি—এখনকার পরিস্থিতি যেখানে দেশটি একটি তীব্র গৃহযুদ্ধে ডুবে আছে। কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছে এবং বৃহৎসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে কষ্টকর জীবনযাপন করছে; দেশের বিস্তীর্ণ অংশ এখনো জান্তা-বিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিয়ন্ত্রণে রয়ে গেছে।

নতুন গঠিত সংসদের প্রায় ৯০ শতাংশ সদস্যই মিন আং হ্লেইংয়ের প্রতি অনুগত বলে জানানো হয়েছে, যা তাঁর ক্ষমতাকে আরও মজবুত করেছে। সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত হতে হলে তাকে সামরিক বাহিনী থেকে পদত্যাগ করতে হবে। তবু ক্ষমতার চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখার জন্য তিনি তাঁর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী জেনারেল ইয়েউইনওকে পরবর্তী সেনাপ্রধান হিসেবে নির্বাচিত করে রেখেছেন। পাশাপাশি একটি নতুন ‘পরামর্শক কাউন্সিল’ গঠন করা হয়েছে, যা মাধ্যমে তিনি সামরিক ও নন-সামরিক প্রশাসনের ওপর পর্দার আড়াল থেকে প্রভাব চালিয়ে যেতে পারবেন বলে বিশ্লেষকরা বলছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই নতুন প্রশাসন মৌলিকভাবে বর্তমান সামরিক সরকারেরই একটি বিস্তৃত সংস্করণ; এখন এটি নানাভাবে ‘‘বেসামরিক আড়াল’’ নিয়ে পরিচালিত হবে। মিন আং হ্লেইং ও তার সহযোগীরা ক্ষমতা দখলের পর থেকেই যে কঠোর দমননীতির পথ অবলম্বন করেছেন, তাতে কোনো মৌলিক পরিবর্তনের আশা করা মুশকিল। আন্তর্জাতিক মহলে এই সাজানো নির্বাচন ও ক্ষমতা হস্তান্তর মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা কমাতে কতটুকু কাজে লাগবে—এ নিয়ে গভীর সংশয় ও উদ্বেগ প্রবল রয়েছে। সব মিলিয়ে মিয়ানমারের ভবিষ্যৎ রাজনীতি এখন নতুন এক অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।