০৭:৩০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
অনলাইন জুয়ার লেনদেনে দিনে ৫ কোটি: টঙ্গী–কুমিল্লায় অভিযানে ছয় গ্রেফতার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব শিশুদের মানবিক গড়ে তোলায় শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ুন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত নগর গড়তে কাজ করছে সরকার: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মানব পাচার ও প্রযুক্তি অপব্যবহার রোধে নতুন আইন কার্যকর হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সিটি নির্বাচনের আগে ঢাকায় নতুন ভোটার তালিকা প্রণয়নের দাবি — ডিএসসিসি প্রশাসক

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম বলেছেন, সিটি নির্বাচনের আগে ঢাকায় নতুন ও স্বচ্ছ ভোটার তালিকা তৈরি করা উচিত। তিনি বলেন, শুধুমাত্র যারা স্থায়ীভাবে ঢাকায় বসবাস করেন, তারাই এখানে ভোটার হিসেবে থাকতে পারবেন; অন্য জায়গা থেকে এসে ভোট দেওয়ার অনুচিত প্রবণতা চলবে না।

শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘জিয়া শিশু কিশোর মেলা’ নামক আলোচনাসভায় এসব মন্তব্য করেন তিনি। এই সভার সভাপতি ছিলেন জাহাঙ্গীর শিকদার।

ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ ব্যক্ত করে আবদুস সালাম বলেন, অনেক বাড়িতে আগে সাত-অথবা দশটি ভোট রেকর্ড ছিল, হঠাৎ ওগুলোতে শতাধিক—১৫০টির মতো—ভোটার দেখানো হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে বাড়ির মালিকরাও জানেন না বাড়িতে এত ভোটার কোথা থেকে এসেছে। তিনি এই অনানুষ্ঠানিকতা বন্ধ করে কেবল স্থানীয় স্থায়ী বাসিন্দাদের ভোটার করে নিবন্ধন করার দাবি জানান।

নির্বাচনী পরিবেশ সম্পর্কে বক্তব্য রাখার সময় তিনি বলেন, ‘‘দেশে যখনই নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে তখনই বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে। বিএনপি সবসময় জনগণের ভোটের অধিকারকে গুরুত্ব দিয়ে এসেছে।’’

দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্তিতি নিয়ে তিনি বলেন, সারা বিশ্বে মন্দা ও যুদ্ধের কারণে চ্যালেঞ্জ বাড়ছে; এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় নেতৃত্বের সাহস প্রয়োজন। আবদুস সালাম দাবি করেন, বর্তমান সময়ের কিছু কর্মসূচি—যেমন পরিবারের জন্য বিতর্কিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’—প্রথমে সমালোচিত হলেও এখন তা বিতরণ শুরু হয়েছে; পাশাপাশি কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালু ও অনেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যাংক ঋণ মওকুফের উদ্যোগ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্দিষ্ট চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর একটি দৃষ্টান্তমূলক কথাবার্তা হলো সরকারি দপ্তরে অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ ব্যয় কমানো—যেমন অফিসে এসি কম ব্যবহার ও অতিরিক্ত আলো না জ্বালানো—এগুলো দেশের শক্তি সাশ্রয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। এ সময় তিনি বিরোধীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, কেউ যদি দেশের ক্ষতি করতে অস্থির কর্মসূচি নেয়, তা চলবে না।

অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিবর্তন সময় নিয়ে হয়—এ বিষয়ে ধৈর্যের আহ্বান জানিয়ে আবদুস সালাম বলেন, ১৭ বছর পর যে ধারা মানুষ গণতন্ত্র দেখছে, সব কিছু এক-দুই মাসে ঠিক করা সম্ভব নয়; তাই হঠকারী পদক্ষেপে দেশের ক্ষতি করা উচিত হবে না।

মুক্তিযুদ্ধের অতীত ও ইতিহাস সংরক্ষণ নিয়ে তিনি উদ্বেগ ব্যক্ত করে বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই ইতিহাসকে নিয়ে নানা বিতর্ক হচ্ছে। যারা মুক্তিযুদ্ধের পর ক্ষমতায় ছিল, তাদের মনোভাবের কারণেই কখনো কখনো প্রকৃত ইতিহাস বিকৃত হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

আলোচনাসভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ মালেক, একুশে পদকপ্রাপ্ত ছড়াকার আবু সালেহ এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মোশারফ আহমেদ ঠাকুরসহ অন্যান্যরা।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

সিটি নির্বাচনের আগে ঢাকায় নতুন ভোটার তালিকা প্রণয়নের দাবি — ডিএসসিসি প্রশাসক

প্রকাশিতঃ ১০:৪১:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম বলেছেন, সিটি নির্বাচনের আগে ঢাকায় নতুন ও স্বচ্ছ ভোটার তালিকা তৈরি করা উচিত। তিনি বলেন, শুধুমাত্র যারা স্থায়ীভাবে ঢাকায় বসবাস করেন, তারাই এখানে ভোটার হিসেবে থাকতে পারবেন; অন্য জায়গা থেকে এসে ভোট দেওয়ার অনুচিত প্রবণতা চলবে না।

শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘জিয়া শিশু কিশোর মেলা’ নামক আলোচনাসভায় এসব মন্তব্য করেন তিনি। এই সভার সভাপতি ছিলেন জাহাঙ্গীর শিকদার।

ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ ব্যক্ত করে আবদুস সালাম বলেন, অনেক বাড়িতে আগে সাত-অথবা দশটি ভোট রেকর্ড ছিল, হঠাৎ ওগুলোতে শতাধিক—১৫০টির মতো—ভোটার দেখানো হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে বাড়ির মালিকরাও জানেন না বাড়িতে এত ভোটার কোথা থেকে এসেছে। তিনি এই অনানুষ্ঠানিকতা বন্ধ করে কেবল স্থানীয় স্থায়ী বাসিন্দাদের ভোটার করে নিবন্ধন করার দাবি জানান।

নির্বাচনী পরিবেশ সম্পর্কে বক্তব্য রাখার সময় তিনি বলেন, ‘‘দেশে যখনই নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে তখনই বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে। বিএনপি সবসময় জনগণের ভোটের অধিকারকে গুরুত্ব দিয়ে এসেছে।’’

দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্তিতি নিয়ে তিনি বলেন, সারা বিশ্বে মন্দা ও যুদ্ধের কারণে চ্যালেঞ্জ বাড়ছে; এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় নেতৃত্বের সাহস প্রয়োজন। আবদুস সালাম দাবি করেন, বর্তমান সময়ের কিছু কর্মসূচি—যেমন পরিবারের জন্য বিতর্কিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’—প্রথমে সমালোচিত হলেও এখন তা বিতরণ শুরু হয়েছে; পাশাপাশি কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালু ও অনেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যাংক ঋণ মওকুফের উদ্যোগ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্দিষ্ট চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর একটি দৃষ্টান্তমূলক কথাবার্তা হলো সরকারি দপ্তরে অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ ব্যয় কমানো—যেমন অফিসে এসি কম ব্যবহার ও অতিরিক্ত আলো না জ্বালানো—এগুলো দেশের শক্তি সাশ্রয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। এ সময় তিনি বিরোধীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, কেউ যদি দেশের ক্ষতি করতে অস্থির কর্মসূচি নেয়, তা চলবে না।

অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিবর্তন সময় নিয়ে হয়—এ বিষয়ে ধৈর্যের আহ্বান জানিয়ে আবদুস সালাম বলেন, ১৭ বছর পর যে ধারা মানুষ গণতন্ত্র দেখছে, সব কিছু এক-দুই মাসে ঠিক করা সম্ভব নয়; তাই হঠকারী পদক্ষেপে দেশের ক্ষতি করা উচিত হবে না।

মুক্তিযুদ্ধের অতীত ও ইতিহাস সংরক্ষণ নিয়ে তিনি উদ্বেগ ব্যক্ত করে বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই ইতিহাসকে নিয়ে নানা বিতর্ক হচ্ছে। যারা মুক্তিযুদ্ধের পর ক্ষমতায় ছিল, তাদের মনোভাবের কারণেই কখনো কখনো প্রকৃত ইতিহাস বিকৃত হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

আলোচনাসভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ মালেক, একুশে পদকপ্রাপ্ত ছড়াকার আবু সালেহ এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মোশারফ আহমেদ ঠাকুরসহ অন্যান্যরা।