০৫:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

হাড়কাঁপানো আতঙ্ক নিয়ে দেশের সিনেপ্লেক্সে ‘দ্য মমি’

আন্তর্জাতিকভাবে যেভাবে ভৌতিক ছবির দর্শককে নতুন করে কাঁপিয়ে তুলেছে, সেই আমেরিকান সিনেমা ‘দ্য মমি’ এখন বাংলাদেশের স্টার সিনেপ্লেক্সের আধুনিক শাখাগুলোতেও প্রদর্শিত হচ্ছে। প্রখ্যাত পরিচালক লি ক্রোনিনের নির্দেশনায় নির্মিত এই সিনেমাটি ফ্র্যাঞ্চাইজির পূর্ববর্তী দর্শন থেকে ভিন্নভাবে যেমন তীব্র, তেমনি অনেকটাই বিভীষিকাময়।

আগের দফার ‘দ্য মমি’ সিনেমাগুলোতে দর্শকরা সাধারণত মারমার করা অ্যাডভেঞ্চার বা ফ্যান্টাসি প্রত্যাশা করলেও এইবারের সংস্করণটি সম্পূর্ণ ভিন্ন — এটি এক ধরনের আর-রেটেড বডি-হরর, যেখানে চরম রক্তপাত এবং মনস্তাত্ত্বিক উত্তেজনার সঙ্গে দর্শককে সরাসরি konfrontation করানো হয়েছে।

কাহিনীর কেন্দ্রস্থল একজন সাংবাদিক ও তাঁর পরিবার। শুরুতে ছবিটি একটি সুখী পরিবারের সাধারণ ছবি দেখালেও হঠাৎ করেই তাঁদের ছোট্ট কন্যা নিখোঁজ হয়ে যায়। বহু খোঁজাখুঁজি ও আট বছরের বিচ্ছিন্নতার পর মরুভূমির এক দুর্গম অঞ্চল থেকে মেয়েটিকে জীবিত অবস্থায় ফিরে পাওয়া যায় — কিন্তু আশ্চর্যজনক ভাবে তার শারীরিক গঠন বা বয়সের কোনো পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায় না।

প্রাথমিক স্বস্তির ছায়ার মধ্যে ছেয়ে পড়ে দ্রুতই অদ্ভুত এবং ভয়াবহ চিহ্ন। বাড়িতে ফেরার পর থেকেই মেয়েটির আচরণে ভীতি-উদ্রেককারী পরিবর্তন দেখা যায়; সে রাতকালে অদ্ভুতভাবে বদলে যায়, মর্মস্পর্শীভাবে রহস্যময় কথা বলে এবং ধাপে ধাপে শারীরিক রূপান্তর ঘটে। পরিবারের সদস্যরা ধীরে ধীরে অনুভব করতে থাকে যে তারা হয়ত তাঁদের ‘নিজের’ শিশুকে ফিরিয়ে আনেনি—বরং কোনো অশুভ সত্তাকে ঘরে তুলেছেন।

এই অদৃশ্য আতঙ্ক পরিবারের ভেতরে বিরাট মানসিক দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করে। মমতাময়ী মা নিজের বিশ্বাসে আপোষ করতে চায়, অন্যদিকে বাবা বাস্তবের ভয়ংকর সত্যটিকে উপলব্ধি করে আতঙ্কিত হয়ে যায়। এক অনিশ্চিত বিশ্বাস ও সন্দেহের জঙ্গল পার হয়ে পরিবারটি ক্রমশঃ বিভেদ ও বিশৃঙ্খলার দিকে ধাবিত হয়, যা ছবিটিকে একটি করুণ পারিবারিক ট্র্যাজেডিতে পরিণত করে।

জ্যাক রেনর, লাইয়া কস্তা, মে ক্যালামাউই এবং নাটালি গ্রেসসহ অভিনয়শিল্পীরা তাঁদের চরিত্রকে গভীরতা দিয়েছেন; বিশেষত নিখোঁজ কন্যার ফিরে এসে দেখানো রহস্যময় রূপান্তর দর্শকের মেরুদণ্ডে কাঁপন তৈরি করতে সক্ষম। সমালোচকরা মনে করছেন পারিবারিক আবেগের সূক্ষ্মতাকে হাড়কাঁপানো ভৌতিক দৃশ্যে মিশিয়ে ক্রোনিন হয়ত এ বছরের সবচেয়ে তীব্র ভৌতিক সিনেমা উপহার দিয়েছেন।

যারা সাধারণ রোমাঞ্চ থেকে একটু দূরে গিয়ে প্রকৃত মেরুদণ্ড-চিক্র ধরা ভয়ানক অভিজ্ঞতা চান, তাদের জন্য ‘দ্য মমি’ এই সংস্করণটি উপযুক্ত হয়ে উঠতে পারে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে ছবিটি ঘিরে দর্শকদের প্রবল আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।

দ্রষ্টব্য: ছবিটি ‘আর-রেটেড’ হওয়ার কারণে প্রাপ্তবয়স্ক দর্শকদের জন্য অনুকূল; এতে চিত্রায়িত কয়েকটি দৃশ্য তীব্র ও রক্তক্ষরণমুখর হতে পারে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

হাড়কাঁপানো আতঙ্ক নিয়ে দেশের সিনেপ্লেক্সে ‘দ্য মমি’

প্রকাশিতঃ ১০:৩৬:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

আন্তর্জাতিকভাবে যেভাবে ভৌতিক ছবির দর্শককে নতুন করে কাঁপিয়ে তুলেছে, সেই আমেরিকান সিনেমা ‘দ্য মমি’ এখন বাংলাদেশের স্টার সিনেপ্লেক্সের আধুনিক শাখাগুলোতেও প্রদর্শিত হচ্ছে। প্রখ্যাত পরিচালক লি ক্রোনিনের নির্দেশনায় নির্মিত এই সিনেমাটি ফ্র্যাঞ্চাইজির পূর্ববর্তী দর্শন থেকে ভিন্নভাবে যেমন তীব্র, তেমনি অনেকটাই বিভীষিকাময়।

আগের দফার ‘দ্য মমি’ সিনেমাগুলোতে দর্শকরা সাধারণত মারমার করা অ্যাডভেঞ্চার বা ফ্যান্টাসি প্রত্যাশা করলেও এইবারের সংস্করণটি সম্পূর্ণ ভিন্ন — এটি এক ধরনের আর-রেটেড বডি-হরর, যেখানে চরম রক্তপাত এবং মনস্তাত্ত্বিক উত্তেজনার সঙ্গে দর্শককে সরাসরি konfrontation করানো হয়েছে।

কাহিনীর কেন্দ্রস্থল একজন সাংবাদিক ও তাঁর পরিবার। শুরুতে ছবিটি একটি সুখী পরিবারের সাধারণ ছবি দেখালেও হঠাৎ করেই তাঁদের ছোট্ট কন্যা নিখোঁজ হয়ে যায়। বহু খোঁজাখুঁজি ও আট বছরের বিচ্ছিন্নতার পর মরুভূমির এক দুর্গম অঞ্চল থেকে মেয়েটিকে জীবিত অবস্থায় ফিরে পাওয়া যায় — কিন্তু আশ্চর্যজনক ভাবে তার শারীরিক গঠন বা বয়সের কোনো পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায় না।

প্রাথমিক স্বস্তির ছায়ার মধ্যে ছেয়ে পড়ে দ্রুতই অদ্ভুত এবং ভয়াবহ চিহ্ন। বাড়িতে ফেরার পর থেকেই মেয়েটির আচরণে ভীতি-উদ্রেককারী পরিবর্তন দেখা যায়; সে রাতকালে অদ্ভুতভাবে বদলে যায়, মর্মস্পর্শীভাবে রহস্যময় কথা বলে এবং ধাপে ধাপে শারীরিক রূপান্তর ঘটে। পরিবারের সদস্যরা ধীরে ধীরে অনুভব করতে থাকে যে তারা হয়ত তাঁদের ‘নিজের’ শিশুকে ফিরিয়ে আনেনি—বরং কোনো অশুভ সত্তাকে ঘরে তুলেছেন।

এই অদৃশ্য আতঙ্ক পরিবারের ভেতরে বিরাট মানসিক দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করে। মমতাময়ী মা নিজের বিশ্বাসে আপোষ করতে চায়, অন্যদিকে বাবা বাস্তবের ভয়ংকর সত্যটিকে উপলব্ধি করে আতঙ্কিত হয়ে যায়। এক অনিশ্চিত বিশ্বাস ও সন্দেহের জঙ্গল পার হয়ে পরিবারটি ক্রমশঃ বিভেদ ও বিশৃঙ্খলার দিকে ধাবিত হয়, যা ছবিটিকে একটি করুণ পারিবারিক ট্র্যাজেডিতে পরিণত করে।

জ্যাক রেনর, লাইয়া কস্তা, মে ক্যালামাউই এবং নাটালি গ্রেসসহ অভিনয়শিল্পীরা তাঁদের চরিত্রকে গভীরতা দিয়েছেন; বিশেষত নিখোঁজ কন্যার ফিরে এসে দেখানো রহস্যময় রূপান্তর দর্শকের মেরুদণ্ডে কাঁপন তৈরি করতে সক্ষম। সমালোচকরা মনে করছেন পারিবারিক আবেগের সূক্ষ্মতাকে হাড়কাঁপানো ভৌতিক দৃশ্যে মিশিয়ে ক্রোনিন হয়ত এ বছরের সবচেয়ে তীব্র ভৌতিক সিনেমা উপহার দিয়েছেন।

যারা সাধারণ রোমাঞ্চ থেকে একটু দূরে গিয়ে প্রকৃত মেরুদণ্ড-চিক্র ধরা ভয়ানক অভিজ্ঞতা চান, তাদের জন্য ‘দ্য মমি’ এই সংস্করণটি উপযুক্ত হয়ে উঠতে পারে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে ছবিটি ঘিরে দর্শকদের প্রবল আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।

দ্রষ্টব্য: ছবিটি ‘আর-রেটেড’ হওয়ার কারণে প্রাপ্তবয়স্ক দর্শকদের জন্য অনুকূল; এতে চিত্রায়িত কয়েকটি দৃশ্য তীব্র ও রক্তক্ষরণমুখর হতে পারে।