১০:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বাণিজ্যমন্ত্রীর আশ্বাস: জ্বালানি দাম বাড়লেও পণ্যের মূল্য বেশি বাড়বে না তারেক রহমান: জুলাই সনদের প্রতিটি শব্দ, অক্ষর আমরা বাস্তবায়ন করবো সৌদি আরবের অনুরোধ: ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে দ্রুত বাংলাদেশি পাসপোর্ট প্রদান করা হোক দেশ-বিদেশ সফরে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য নতুন প্রটোকল ও নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনে যাত্রা শুরু করল বগুড়া সিটি করপোরেশন হাম-রুবেলা টিকা নিয়ে অবহেলা করেছিল বিগত সরকার: প্রতিমন্ত্রী টুকু তেলের দাম বাড়লেও পাম্পে দীর্ঘ লাইন ও ভোগান্তি দিনেশ ত্রিবেদী ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার হতে যাচ্ছেন সচিব পদমর্যাদায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেলেন সাবেক তিন আমলা বিশ্ববাজারে তেলদাম দ্বিগুণ হলেও সরকার কেবল সামান্য মূল্যবৃদ্ধি করেছে: জ্বালানি মন্ত্রী

কানাই দাস বাউল আর নেই: ‘রইদ’–এ রাখা গানই তাঁর শেষ প্লেব্যাক

বাউল সঙ্গীত ও লোকজ দর্শনের এক স্বকীয় কণ্ঠ আজ স্তব্ধ হয়ে গেল। পশ্চিমবঙ্গের প্রখ্যাত বাউল শিল্পী কানাই দাস বাউল দীর্ঘ রোগের পর ১৮ এপ্রিল না ফেরার দেশে পাড়ি জমান। দৃষ্টি হারালেও আত্মার আলোর সুরে গ্রাম থেকে গ্রামে ঘুরে মানুষের মনের কথা তিনি বাজাতেন—এভাবেই বাউল পরম্পরায় তাঁর বিচরণ ছিল অনবদ্য।

জীবনভরে একতারা হাতে মেলামেলা, আখড়া ও উৎসবে তাঁর গানের আধ্যাত্মিকতা শ্রোতাদের মুগ্ধ করত। ‘‘মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি’’ কিংবা ‘‘কে বলে মানুষ মরে, আমি বুঝলাম না ব্যাপার’’—এরকম কালজয়ী মানুষের গানগুলোর মাধ্যমে তিনি মানবিকতা ও জীবনের গভীর দর্শন গান করেছেন। দৃষ্টিহীনতা তাঁকে শারীরিকভাবে সীমাবদ্ধ করতে পারেনি; তাঁর অন্তর্দৃষ্টি ও সুরволেই মানুষ খুঁজে পেত শান্তি।

নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমনের আসন্ন চলচ্চিত্র ‘রইদ’—এ রাখাও রয়েছে তাঁর এক অমূল্য উপহার। গত বছর ছবিটির সংগীত কাজের সময় কানাই দাসকে নিয়ে একটি বিশেষ গান রেকর্ড করা হয়। পরিচালক জানাচ্ছেন, যখন তিনি জানতে চেয়েছিলেন শিল্পী আগে কখনও সিনেমায় গেয়েছেন কি না, কানাই দাস বিন্দুমাত্র আবেগহীনভাবে বলে উঠেছিলেন, ‘কেউ তো ডাকেনি!’—তবে এবার তিনি সিনেমার জন্য একটি গান রেকর্ড করেছিলেন, যা শোনার জন্য তিনি গভীর আগ্রহ প্রদর্শন করেছিলেন।

পরিচালক গভীর আফসোসে বলেন, গানটির চূড়ান্ত কাজও সম্পন্ন হয়েছিল, কিন্তু তা প্রকাশের আগেই শিল্পীর চলে যাওয়া সবার জন্য বিষণ্ণ এক মুহূর্ত হয়ে রইল। মেজবাউর রহমান সুমনের কাজের সঙ্গে বাউল দর্শনের ঘন সম্পর্ক রয়েছে—এর আগেও তাঁর হিট সিনেমা ‘হাওয়া’তে বাসুদেব দাস বাউলের কণ্ঠে থাকা গান দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। ‘রইদ’–এ তিনি কানাই দাসের কণ্ঠের সরল ও মেঠো সুরকে আরও বিস্তৃত শ্রোতাপরিসরে পৌঁছে দিতে চেয়েছিলেন।

সিনেমার প্রথম গান ‘রইদে আইলা গা জুড়াইতে’ ইতিমধ্যেই মুক্তি পেয়েছে এবং শ্রোতারা তা গ্রহণ করেছেন। গানটির কথা ও সুর করেছেন সহজিয়া ব্যান্ডের রাজীব আহমেদ রাজু, আর সংগীত পরিচালনায় ছিলেন রাশীদ শরীফ শোয়েব। ছবিটির কেন্দ্রীয় ভূমিকায় রয়েছেন মোস্তাফিজুর নূর ইমরান, নাজিফা তুষি ও গাজী রাকায়েত—তারা সবাই মিলে ‘রইদ’কে একটি শক্তিশালী লোকদৃশ্য হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছেন।

কানাই দাসের শেষ এই প্লেব্যাক বাংলা লোকসংগীতের ইতিহাসে একটি আবেগঘন দলিল হয়ে থাকবে। তাঁর গাওয়া সেই গান দ্রুতই শ্রোতাদের সামনে আসবে বলে নির্মাতা নিশ্চিত করেছেন। সব মিলিয়ে ‘রইদ’ শুধু একটি সিনেমা নয়—এটি কানাই দাস বাউলের স্মৃতি ও বাউল ঐতিহ্যের প্রতি একটি শ্রদ্ধাঞ্জলি।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

তারেক রহমান: জুলাই সনদের প্রতিটি শব্দ, অক্ষর আমরা বাস্তবায়ন করবো

কানাই দাস বাউল আর নেই: ‘রইদ’–এ রাখা গানই তাঁর শেষ প্লেব্যাক

প্রকাশিতঃ ০৭:২১:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

বাউল সঙ্গীত ও লোকজ দর্শনের এক স্বকীয় কণ্ঠ আজ স্তব্ধ হয়ে গেল। পশ্চিমবঙ্গের প্রখ্যাত বাউল শিল্পী কানাই দাস বাউল দীর্ঘ রোগের পর ১৮ এপ্রিল না ফেরার দেশে পাড়ি জমান। দৃষ্টি হারালেও আত্মার আলোর সুরে গ্রাম থেকে গ্রামে ঘুরে মানুষের মনের কথা তিনি বাজাতেন—এভাবেই বাউল পরম্পরায় তাঁর বিচরণ ছিল অনবদ্য।

জীবনভরে একতারা হাতে মেলামেলা, আখড়া ও উৎসবে তাঁর গানের আধ্যাত্মিকতা শ্রোতাদের মুগ্ধ করত। ‘‘মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি’’ কিংবা ‘‘কে বলে মানুষ মরে, আমি বুঝলাম না ব্যাপার’’—এরকম কালজয়ী মানুষের গানগুলোর মাধ্যমে তিনি মানবিকতা ও জীবনের গভীর দর্শন গান করেছেন। দৃষ্টিহীনতা তাঁকে শারীরিকভাবে সীমাবদ্ধ করতে পারেনি; তাঁর অন্তর্দৃষ্টি ও সুরволেই মানুষ খুঁজে পেত শান্তি।

নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমনের আসন্ন চলচ্চিত্র ‘রইদ’—এ রাখাও রয়েছে তাঁর এক অমূল্য উপহার। গত বছর ছবিটির সংগীত কাজের সময় কানাই দাসকে নিয়ে একটি বিশেষ গান রেকর্ড করা হয়। পরিচালক জানাচ্ছেন, যখন তিনি জানতে চেয়েছিলেন শিল্পী আগে কখনও সিনেমায় গেয়েছেন কি না, কানাই দাস বিন্দুমাত্র আবেগহীনভাবে বলে উঠেছিলেন, ‘কেউ তো ডাকেনি!’—তবে এবার তিনি সিনেমার জন্য একটি গান রেকর্ড করেছিলেন, যা শোনার জন্য তিনি গভীর আগ্রহ প্রদর্শন করেছিলেন।

পরিচালক গভীর আফসোসে বলেন, গানটির চূড়ান্ত কাজও সম্পন্ন হয়েছিল, কিন্তু তা প্রকাশের আগেই শিল্পীর চলে যাওয়া সবার জন্য বিষণ্ণ এক মুহূর্ত হয়ে রইল। মেজবাউর রহমান সুমনের কাজের সঙ্গে বাউল দর্শনের ঘন সম্পর্ক রয়েছে—এর আগেও তাঁর হিট সিনেমা ‘হাওয়া’তে বাসুদেব দাস বাউলের কণ্ঠে থাকা গান দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। ‘রইদ’–এ তিনি কানাই দাসের কণ্ঠের সরল ও মেঠো সুরকে আরও বিস্তৃত শ্রোতাপরিসরে পৌঁছে দিতে চেয়েছিলেন।

সিনেমার প্রথম গান ‘রইদে আইলা গা জুড়াইতে’ ইতিমধ্যেই মুক্তি পেয়েছে এবং শ্রোতারা তা গ্রহণ করেছেন। গানটির কথা ও সুর করেছেন সহজিয়া ব্যান্ডের রাজীব আহমেদ রাজু, আর সংগীত পরিচালনায় ছিলেন রাশীদ শরীফ শোয়েব। ছবিটির কেন্দ্রীয় ভূমিকায় রয়েছেন মোস্তাফিজুর নূর ইমরান, নাজিফা তুষি ও গাজী রাকায়েত—তারা সবাই মিলে ‘রইদ’কে একটি শক্তিশালী লোকদৃশ্য হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছেন।

কানাই দাসের শেষ এই প্লেব্যাক বাংলা লোকসংগীতের ইতিহাসে একটি আবেগঘন দলিল হয়ে থাকবে। তাঁর গাওয়া সেই গান দ্রুতই শ্রোতাদের সামনে আসবে বলে নির্মাতা নিশ্চিত করেছেন। সব মিলিয়ে ‘রইদ’ শুধু একটি সিনেমা নয়—এটি কানাই দাস বাউলের স্মৃতি ও বাউল ঐতিহ্যের প্রতি একটি শ্রদ্ধাঞ্জলি।