০৫:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
ফরিদা খানম ঢাকার নতুন ডিসি মালয়েশিয়ার গভীর জঙ্গল থেকে ২৭ বছর পর দেশে ফিরলেন শরীয়তপুরের আমির হোসেন ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি ও সরকারি প্লট নেবেন না এমপি-রা, বিরোধীও একমত: চিফ হুইপ সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষায় কারো সঙ্গে বৈরী আচরণ করব না: প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর πολιটিক্যাল ও কৃষি উপদেষ্টার সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ আইএফআইসি নেতৃত্বে পটুয়াখালীতে দুইদিনব্যাপী ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ’ সম্প্রসারণ কর্মসূচি জ্বালানির দর বাড়লেই নিত্যপণ্যের দাম সামঞ্জস্য করা হবে: তথ্য উপদেষ্টা কারিগরি ত্রুটিতে এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ, দক্ষিণ ঢাকাসহ গ্যাস সংকট বাণিজ্যমন্ত্রীর আশ্বাস: জ্বালানি দাম বাড়লেও পণ্যের মূল্য বেশি বাড়বে না তারেক রহমান: জুলাই সনদের প্রতিটি শব্দ, অক্ষর আমরা বাস্তবায়ন করবো

বাধা কাটিয়ে অগ্রযাত্রায় দৃঢ় প্রত্যয়

বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম দুই মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেওয়া ৬০টি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ তুলে ধরেছেন তার উপদেষ্টা মাহদী আমিন। শনিবার (১৮ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সরকারের দুই মাস পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব পদক্ষেপ বিস্তারিত হিসেবে উপস্থাপন করেন।

মাহদী আমিন বলেন, এই শুরুটিকে ইতিবাচক ধারাবাহিকতায় রূপান্তর করাই সরকারের লক্ষ্য। তিনি বলেন, ‘‘আগামী দিনগুলোতেও আমরা আশা করি এই ইতিবাচক কাজগুলো অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তথ্যভিত্তিক বক্তব্য দিয়ে অপপ্রচারের বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা পালন করবেন। আমরা আশা করেছিলাম বিরোধী দল সমগ্রভাবে সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা করবে; কিন্তু তাদের কিছু অংশ সংসদে হট্টগোল, রাজপথে আন্দোলনের হুমকি ও গুজব-অপপ্রচার ছড়ানোসহ বিকল্প পথ বেছে নিয়েছে, যা দেশের অগ্রযাত্রায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। এসব প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে দেশের অগ্রযাত্রায় পদক্ষেপ অব্যাহত রাখার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে সরকার।’’

সংবাদ সম্মেলনে যে ৬০টি মূল পদক্ষেপ তুলে ধরা হলো, সেগুলি সংক্ষিপ্ত ও পরিষ্কারভাবে নিম্নরূপ—

১. নারীর ক্ষমতায়নের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রতিটি পরিবারের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেয়ার পাইলট প্রকল্প শেষ করেছে সরকার। ইতোমধ্যে ৩৭,৫৬৭ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হয়েছে।

২. কৃষকের জন্য ১০ ধরনের সুবিধা ও নগদ অর্থায়ন সম্বলিত ‘কৃষক কার্ড’ চালু করা হয়েছে।

৩. প্রায় ১২ লাখ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে।

৪. সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা ও আইনি ধারাবাহিকতা রক্ষায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে দ্রুত ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিষ্পত্তি করে সরকার সংসদীয় গণতন্ত্রের এক নজির স্থাপন করেছে।

৫. সারাদেশে ২০,০০০ কিলোমিটার নদী-খাল ও জলাশয় খনন ও পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে; কাজটি ইতোমধ্যে ৫৪ জেলায় শুরু হয়েছে।

৬. বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট সত্ত্বেও জ্বালানি তেলের মূল্য না বাড়িয়ে রাখা হয়েছে।

৭. জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচি ও নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে মোট ৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে; ২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে ১০,০০০ মেগাওয়াট শক্তি উৎপাদন লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

৮. জ্বালানি উপভোগের জন্য ফুয়েল কার্ড পাইলট প্রকল্প চালু করা হয়েছে।

৯. সরকারি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে; পবিত্র রমজান ও অন্যান্য সময়েও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে।

১০. ঈদ-উল-ফিতরের সময় দেশের অসহায় ও দরিদ্রদের মধ্যে ত্রাণ ও উপহার বিতরণ করা হয়েছে; জাকাত ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করে দারিদ্র্য বিমোচনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

১১. প্রবাসীদের সুবিধার জন্য শিগগিরই ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

১২. এবছর হজযাত্রার খরচ টিকিট প্রতি প্রায় ১২,০০০ টাকা কমানো হয়েছে; প্রথমবারের মতো দেশের মাটিতেই ‘নুসুক হজ কার্ড’ প্রদান করা হয়েছে।

১৩. সরকারি খালি পদসমূহ পূরণের জন্য ৬ মাস, ১ বছর ও ৫ বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে—বর্তমানে খালি পদসংখ্যা ৪,৬৮,২২০টি।

১৪. পর্যায়ক্রমে সরকারি মালিকানাধীন বন্ধ কারখানা ও শিল্প প্রতিষ্ঠান পুনরায় চালু করে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করা হবে; বিশেষভাবে চিনিকল, রেশম ও পাটশিল্পে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

১৫. ইকোনমিক জোন, ইপিজেড, বিসিক এলাকা, হাই-টেক পার্ক ও ক্লাস্টারের তালিকা তৈরি করে সেগুলোতে সম্ভাবনাময় বাণিজ্য ও স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা শুরু করা হয়েছে।

১৬. অর্থনৈতিক উন্নয়ন আরও শক্তিশালী, স্থিতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার লক্ষ্যে বিভিন্ন বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতিতে রূপান্তরের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

১৭. অর্থনীতিকে স্থিতিশীল ও বিনিয়োগনির্ভর বৃদ্ধির পথে নেওয়ার জন্য পাঁচ বছরের কৌশলগত কাঠামো প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে বাস্তব জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশে উন্নীত করা, মূল্যস্ফীতি কমানো ও প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়ানো লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

১৮. বিদেশি বিনিয়োগ সহজীকরণের জন্য ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ প্রত্যাবাসনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্বানুমোদনের বাধ্যবাধকতা হাত থেকে ছাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

১৯. শ্রমিকদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে এবং শিল্পখাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ব্যাঙ্কিং সহায়তা ও সমন্বিত আলোচনা নিশ্চিত করে সব শিল্পকারখানার শ্রমিকদের ঈদের আগেই বেতন, বোনাস ও অন্যান্য সুবিধা পরিশোধ করা হয়েছে।

২০. মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় খুলছে; দুই দেশের যৌথ বিবৃতিতে অভিবাসন ব্যয় হ্রাস, স্বচ্ছ প্রক্রিয়া ও প্রবাসীদের কল্যাণ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি রয়েছে।

২১. ইউরোপের সাতটি দেশের সঙ্গে বিকল্প শ্রমবাজার গঠনের জন্য দ্বিপাক্ষিক চুক্তির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে—সার্বিয়া, গ্রিস, উত্তর মেসিডোনিয়া, রোমানিয়া, পর্তুগাল, ব্রাজিল ও রাশিয়া।

২২. বিদেশে শ্রমবাজার সম্প্রসারণে দক্ষ ও আধা-দক্ষ জনশক্তি রপ্তানিতে জোর দেয়া হচ্ছে যাতে অভিবাসনের গুণগত ও পরিমাণগত বৃদ্ধিও নিশ্চিত করা যায়।

২৩. উত্তরবঙ্গকে অ্যাগ্রো-প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রির হাব হিসেবে গড়ে তোলার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

২৪. পে-পাল ও অন্যান্য পেমেন্ট গেটওয়ের বাংলাদেশে কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

২৫. দেশের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে ১ লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের ঘোষণা দেয়া হয়েছে; নিয়োগে ৮০ শতাংশ নারী রাখার মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়নকে প্রাধান্য দেয়া হবে।

২৬. মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালুর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে; হাসপাতালগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েনের উদ্যোগও নেয়া হচ্ছে।

২৭. শিক্ষা ক্ষেত্রে ভর্তির খরচ কমাতে প্রতি বছর পুনরায় ভর্তি ফি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে; লটারি বন্ধ করে আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক ভর্তি প্রক্রিয়া চালু করা হবে। শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো ও শিক্ষাবৃত্তির পরিমাণ দ্বিগুণ করা হয়েছে।

২৮. বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে সর্বোচ্চ ১০ লক্ষ টাকা জামানতবিহীন ব্যাংক গ্যারান্টি প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

২৯. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৯,০০০ ধর্মীয় শিক্ষক ও বিভিন্ন শূন্য পদে পর্যায়ক্রমে শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে।

৩০. প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ শিশু-কিশোরদের জন্য উন্মুক্ত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে; উপজেলা পর্যায়ে ছয় খেলা প্রতিযোগিতার জন্য তিনজন করে মোট ১৮ জন ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগ শুরু হয়েছে। মহানগরগুলোতেও উন্মুক্ত খেলা মাঠের ব্যবস্থা করা হবে এবং চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করা হবে।

৩১. শিশুদের প্রতিভা অন্বেষণের প্রতিযোগিতা ‘নতুন কুঁড়ি’ আবার চালু করা হয়েছে; এবার ক্রীড়া ও কোরআন তেলাওয়াত একসাথে সংযুক্ত করা হচ্ছে। জাতীয় সংসদের গ্যালারিতে শিক্ষার্থীদের জন্য ১৫০ আসন বরাদ্দ করা হয়েছে এবং বইপড়াকে উৎসাহিত করতে বেসরকারি খাতের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

৩২. সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুই লাখ শিশুকে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস, জুতা ও পাটের ব্যাগ বিতরণের কার্যক্রম চলছে; ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ পাইলটসহ শিক্ষাক্রমে কারিগরি শিক্ষা, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি যোগ করা হচ্ছে।

৩৩. মাদ্রাসা শিক্ষাকে যুগোপযোগী করতে স্মার্ট ক্লাসরুম, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও কারিগরি কোর্স অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

৩৪. স্পোর্টস কার্ড ও স্পোর্টস এলাউন্স কর্মসূচি কার্যকর হয়েছে; ইতোমধ্যে শতাধিক ক্রীড়াবিদকে ভাতা দেওয়া হচ্ছে।

৩৫. পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ ও সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ১ কোটি ৫০ লাখ বিভিন্ন প্রজাতির চারার উৎপাদন করা হয়েছে; চলতি বর্ষায় রোপণের পরিকল্পনা আছে।

৩৬. রাষ্ট্রীয় ভ্রমণে অর্থসংকট নিরসনে প্রধানমন্ত্রী নিজ বাসভবন ব্যবহার, নিজের গাড়ি ও নিজ ব্যয়ের তেল ব্যবহার করেছেন—রাষ্ট্রীয় ব্যয় হ্রাসে এটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বলা হয়েছে।

৩৭. প্রধানমন্ত্রীর দুয়ার অফিস করার সংস্কৃতি ধরে রাখা হয়েছে—শনিবারও অফিস করা, কর্মকর্তাদের সকাল ৯টার মধ্যে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা ও অতি সাধারণ চলাফেরায় ভিভিআইপি প্রটোকল সীমিত রেখে ট্রাফিক ব্যবস্থায় পরিবর্তন এনেছে প্রশাসন। রাষ্ট্রীয় সফরের সময় বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা সীমিত করা হয়েছে।

৩৮. দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগীদের টানাপোড়েন বন্ধ করতে অনলাইন আবেদন বাধ্যতামমূলক করা হয়েছে; অনলাইন ভূমি উন্নয়ন কর ব্যবস্থা চালু এবং ডিজিটাল ম্যাপিং পাইলটিং শুরু করে নকশা জালিয়াতি প্রতিরোধ করা হচ্ছে। ২৪/৭ হটলাইনও চালু করা হয়েছে।

৩৯. পদ্মা অববাহিকার বিস্তৃত কৃষি অঞ্চলকে মরুকরণ থেকে রক্ষা ও শুষ্ক মৌসুমে পর্যাপ্ত পানি নিশ্চিত করার জন্য পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।

৪০. এমপি-মন্ত্রীদের শুল্কমুক্ত গাড়ি ও সরকারি প্লট গ্রহণ না করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, ফলে রাষ্ট্রীয় ব্যয় কমবে।

৪১. সরকার পাটজাত পণ্যের ব্যবহার বাড়াতে বিভিন্ন সরকারি অফিস ও বেসরকারি শিল্পকে পাটজাত পণ্য ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছে।

৪২. ডেঙ্গু প্রতিরোধে সাপ্তাহিক জাতীয় পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলছে; স্থানীয় প্রশাসন ও কমিউনিটির সমন্বয়ে কার্যক্রম চলমান।

৪৩. দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা হামের টিকাদান কর্মসূচি পুনরায় চালু করে দ্রুত সারাদেশে টিকা প্রদানের লক্ষ্যে কাজ চলছে।

৪৪. চাঁদাবাজি ও অনৈতিক কার্যকারিতার বিরুদ্ধে গোয়েন্দা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছে; জনবান্ধব পুলিশ গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

৪৫. ঢাকায় পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক বাস চালু করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে; নারীদের জন্য নিরাপদ বিশেষায়িত পিংক বাস সার্ভিস চালুরও প্রস্তুতি চলছে।

৪৬. জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন আইন সংশোধনের খসড়া চূড়ান্ত হয়েছে—নদী দখল ও দূষণকে ফৌজদারি অপরাধ গণ্য করার এবং কঠোর শাস্তির বিধান রাখার প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

৪৭. বিদ্যুৎ ও অর্থ অপচয় রোধে রাষ্ট্রীয় ইফতার সীমিত করা হয়েছে; সরকারি প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে ১১ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

৪৮. প্রথমবারের মতো এনটিআরসির মাধ্যমে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, কলেজ অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ নিয়োগে পরীক্ষাভিত্তিক মেধা-নির্ভর পদ্ধতি প্রবর্তনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

৪৯. দেশের একমাত্র সরকারি তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারির সক্ষমতা বাড়াতে দ্বিতীয় ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে; ২০২৯ সালে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চালু করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ও আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হবে।

৫০. ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসন ও ভিন্ন স্থানে ব্যবসা চালানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

৫১. সরকার একটি মুক্ত, উদার ও গণতান্ত্রিক সমাজ গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ; মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, স্বাধীন গণমাধ্যম ও বাধাহীন চিন্তার পরিবেশ রক্ষায় গত দুই মাসে কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি বলে দাবি করা হয়েছে।

৫২. ত্রিপাক্ষিক আলোচনা ও কর্মকৌশল নির্ধারণ করে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল দ্রুত চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

৫৩. বিমানবন্দরে ফ্রি ইন্টারনেট ব্যবস্থা চালুর নির্দেশ দেয়া হয়েছে; ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও সৈয়দপুর বিমানবন্দরে ইতোমধ্যে এই সেবা দেয়া শুরু হয়েছে।

৫৪. চলন্ত ট্রেনের যাত্রীসুবিধার জন্য ফ্রি ইন্টারনেট সেবা চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে; কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর আধুনিকীকরণে আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে ২,৩৩৬টি কারিগরি ও ৮,২৩২টি মাদ্রাসায় ফ্রি ওয়াইফাই চালুর পরিকল্পনা আছে।

৫৫. অর্থনৈতিক কূটনীতিতে প্রবাসীদের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে; দূতাবাস ও মিশনগুলোকে বাণিজ্য প্রচার, বিনিয়োগ আকর্ষণ ও বৈদেশিক জনশক্তি রপ্তানিতে ভূমিকা রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

৫৬. পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার মাধ্যমে বিশ্বের সকল দেশের সঙ্গে সম্পর্ক শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে—পানিসীমা, সীমান্ত হত্যা রোধ, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও শিক্ষা-সংস্কৃতিতে দ্বিপক্ষীয় সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেয়া হচ্ছে।

৫৭. বিদেশে পাচারকৃত অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে প্রাথমিকভাবে ১০টি দেশের সঙ্গে সম্পদ শনাক্তকরণ এবং পারস্পরিক আইনগত সহায়তা জোরদার করা হচ্ছে।

৫৮. উপকূলীয় অঞ্চলে নদীভাঙন রোধ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ঘোষণা করা হয়েছে।

৫৯. মানবাধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করা বিএনপির ইশতেহারের অন্যতম অঙ্গ—মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্রের মানদণ্ডে সরকার মানবাধিকার রক্ষার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।

৬০. সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন উল্লেখ করেছেন, এই ৬০টি পদক্ষেপই সরকারের অগ্রযাত্রার ভিত্তি; বাধা থাকলে তা কাটিয়ে আগামী দিনগুলোতে দেশের সার্বিক উন্নয়ন অগ্রসর রাখাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। তিনি সবাইকে দেশের উন্নয়নকে অটল রাখার জন্য দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

বাধা কাটিয়ে অগ্রযাত্রায় দৃঢ় প্রত্যয়

প্রকাশিতঃ ০২:২৭:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম দুই মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেওয়া ৬০টি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ তুলে ধরেছেন তার উপদেষ্টা মাহদী আমিন। শনিবার (১৮ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সরকারের দুই মাস পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব পদক্ষেপ বিস্তারিত হিসেবে উপস্থাপন করেন।

মাহদী আমিন বলেন, এই শুরুটিকে ইতিবাচক ধারাবাহিকতায় রূপান্তর করাই সরকারের লক্ষ্য। তিনি বলেন, ‘‘আগামী দিনগুলোতেও আমরা আশা করি এই ইতিবাচক কাজগুলো অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তথ্যভিত্তিক বক্তব্য দিয়ে অপপ্রচারের বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা পালন করবেন। আমরা আশা করেছিলাম বিরোধী দল সমগ্রভাবে সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা করবে; কিন্তু তাদের কিছু অংশ সংসদে হট্টগোল, রাজপথে আন্দোলনের হুমকি ও গুজব-অপপ্রচার ছড়ানোসহ বিকল্প পথ বেছে নিয়েছে, যা দেশের অগ্রযাত্রায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। এসব প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে দেশের অগ্রযাত্রায় পদক্ষেপ অব্যাহত রাখার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে সরকার।’’

সংবাদ সম্মেলনে যে ৬০টি মূল পদক্ষেপ তুলে ধরা হলো, সেগুলি সংক্ষিপ্ত ও পরিষ্কারভাবে নিম্নরূপ—

১. নারীর ক্ষমতায়নের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রতিটি পরিবারের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেয়ার পাইলট প্রকল্প শেষ করেছে সরকার। ইতোমধ্যে ৩৭,৫৬৭ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হয়েছে।

২. কৃষকের জন্য ১০ ধরনের সুবিধা ও নগদ অর্থায়ন সম্বলিত ‘কৃষক কার্ড’ চালু করা হয়েছে।

৩. প্রায় ১২ লাখ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে।

৪. সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা ও আইনি ধারাবাহিকতা রক্ষায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে দ্রুত ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিষ্পত্তি করে সরকার সংসদীয় গণতন্ত্রের এক নজির স্থাপন করেছে।

৫. সারাদেশে ২০,০০০ কিলোমিটার নদী-খাল ও জলাশয় খনন ও পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে; কাজটি ইতোমধ্যে ৫৪ জেলায় শুরু হয়েছে।

৬. বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট সত্ত্বেও জ্বালানি তেলের মূল্য না বাড়িয়ে রাখা হয়েছে।

৭. জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচি ও নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে মোট ৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে; ২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে ১০,০০০ মেগাওয়াট শক্তি উৎপাদন লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

৮. জ্বালানি উপভোগের জন্য ফুয়েল কার্ড পাইলট প্রকল্প চালু করা হয়েছে।

৯. সরকারি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে; পবিত্র রমজান ও অন্যান্য সময়েও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে।

১০. ঈদ-উল-ফিতরের সময় দেশের অসহায় ও দরিদ্রদের মধ্যে ত্রাণ ও উপহার বিতরণ করা হয়েছে; জাকাত ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করে দারিদ্র্য বিমোচনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

১১. প্রবাসীদের সুবিধার জন্য শিগগিরই ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

১২. এবছর হজযাত্রার খরচ টিকিট প্রতি প্রায় ১২,০০০ টাকা কমানো হয়েছে; প্রথমবারের মতো দেশের মাটিতেই ‘নুসুক হজ কার্ড’ প্রদান করা হয়েছে।

১৩. সরকারি খালি পদসমূহ পূরণের জন্য ৬ মাস, ১ বছর ও ৫ বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে—বর্তমানে খালি পদসংখ্যা ৪,৬৮,২২০টি।

১৪. পর্যায়ক্রমে সরকারি মালিকানাধীন বন্ধ কারখানা ও শিল্প প্রতিষ্ঠান পুনরায় চালু করে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করা হবে; বিশেষভাবে চিনিকল, রেশম ও পাটশিল্পে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

১৫. ইকোনমিক জোন, ইপিজেড, বিসিক এলাকা, হাই-টেক পার্ক ও ক্লাস্টারের তালিকা তৈরি করে সেগুলোতে সম্ভাবনাময় বাণিজ্য ও স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা শুরু করা হয়েছে।

১৬. অর্থনৈতিক উন্নয়ন আরও শক্তিশালী, স্থিতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার লক্ষ্যে বিভিন্ন বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতিতে রূপান্তরের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

১৭. অর্থনীতিকে স্থিতিশীল ও বিনিয়োগনির্ভর বৃদ্ধির পথে নেওয়ার জন্য পাঁচ বছরের কৌশলগত কাঠামো প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে বাস্তব জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশে উন্নীত করা, মূল্যস্ফীতি কমানো ও প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়ানো লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

১৮. বিদেশি বিনিয়োগ সহজীকরণের জন্য ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ প্রত্যাবাসনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্বানুমোদনের বাধ্যবাধকতা হাত থেকে ছাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

১৯. শ্রমিকদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে এবং শিল্পখাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ব্যাঙ্কিং সহায়তা ও সমন্বিত আলোচনা নিশ্চিত করে সব শিল্পকারখানার শ্রমিকদের ঈদের আগেই বেতন, বোনাস ও অন্যান্য সুবিধা পরিশোধ করা হয়েছে।

২০. মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় খুলছে; দুই দেশের যৌথ বিবৃতিতে অভিবাসন ব্যয় হ্রাস, স্বচ্ছ প্রক্রিয়া ও প্রবাসীদের কল্যাণ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি রয়েছে।

২১. ইউরোপের সাতটি দেশের সঙ্গে বিকল্প শ্রমবাজার গঠনের জন্য দ্বিপাক্ষিক চুক্তির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে—সার্বিয়া, গ্রিস, উত্তর মেসিডোনিয়া, রোমানিয়া, পর্তুগাল, ব্রাজিল ও রাশিয়া।

২২. বিদেশে শ্রমবাজার সম্প্রসারণে দক্ষ ও আধা-দক্ষ জনশক্তি রপ্তানিতে জোর দেয়া হচ্ছে যাতে অভিবাসনের গুণগত ও পরিমাণগত বৃদ্ধিও নিশ্চিত করা যায়।

২৩. উত্তরবঙ্গকে অ্যাগ্রো-প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রির হাব হিসেবে গড়ে তোলার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

২৪. পে-পাল ও অন্যান্য পেমেন্ট গেটওয়ের বাংলাদেশে কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

২৫. দেশের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে ১ লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের ঘোষণা দেয়া হয়েছে; নিয়োগে ৮০ শতাংশ নারী রাখার মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়নকে প্রাধান্য দেয়া হবে।

২৬. মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালুর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে; হাসপাতালগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েনের উদ্যোগও নেয়া হচ্ছে।

২৭. শিক্ষা ক্ষেত্রে ভর্তির খরচ কমাতে প্রতি বছর পুনরায় ভর্তি ফি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে; লটারি বন্ধ করে আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক ভর্তি প্রক্রিয়া চালু করা হবে। শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো ও শিক্ষাবৃত্তির পরিমাণ দ্বিগুণ করা হয়েছে।

২৮. বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে সর্বোচ্চ ১০ লক্ষ টাকা জামানতবিহীন ব্যাংক গ্যারান্টি প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

২৯. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৯,০০০ ধর্মীয় শিক্ষক ও বিভিন্ন শূন্য পদে পর্যায়ক্রমে শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে।

৩০. প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ শিশু-কিশোরদের জন্য উন্মুক্ত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে; উপজেলা পর্যায়ে ছয় খেলা প্রতিযোগিতার জন্য তিনজন করে মোট ১৮ জন ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগ শুরু হয়েছে। মহানগরগুলোতেও উন্মুক্ত খেলা মাঠের ব্যবস্থা করা হবে এবং চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করা হবে।

৩১. শিশুদের প্রতিভা অন্বেষণের প্রতিযোগিতা ‘নতুন কুঁড়ি’ আবার চালু করা হয়েছে; এবার ক্রীড়া ও কোরআন তেলাওয়াত একসাথে সংযুক্ত করা হচ্ছে। জাতীয় সংসদের গ্যালারিতে শিক্ষার্থীদের জন্য ১৫০ আসন বরাদ্দ করা হয়েছে এবং বইপড়াকে উৎসাহিত করতে বেসরকারি খাতের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

৩২. সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুই লাখ শিশুকে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস, জুতা ও পাটের ব্যাগ বিতরণের কার্যক্রম চলছে; ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ পাইলটসহ শিক্ষাক্রমে কারিগরি শিক্ষা, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি যোগ করা হচ্ছে।

৩৩. মাদ্রাসা শিক্ষাকে যুগোপযোগী করতে স্মার্ট ক্লাসরুম, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও কারিগরি কোর্স অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

৩৪. স্পোর্টস কার্ড ও স্পোর্টস এলাউন্স কর্মসূচি কার্যকর হয়েছে; ইতোমধ্যে শতাধিক ক্রীড়াবিদকে ভাতা দেওয়া হচ্ছে।

৩৫. পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ ও সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ১ কোটি ৫০ লাখ বিভিন্ন প্রজাতির চারার উৎপাদন করা হয়েছে; চলতি বর্ষায় রোপণের পরিকল্পনা আছে।

৩৬. রাষ্ট্রীয় ভ্রমণে অর্থসংকট নিরসনে প্রধানমন্ত্রী নিজ বাসভবন ব্যবহার, নিজের গাড়ি ও নিজ ব্যয়ের তেল ব্যবহার করেছেন—রাষ্ট্রীয় ব্যয় হ্রাসে এটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বলা হয়েছে।

৩৭. প্রধানমন্ত্রীর দুয়ার অফিস করার সংস্কৃতি ধরে রাখা হয়েছে—শনিবারও অফিস করা, কর্মকর্তাদের সকাল ৯টার মধ্যে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা ও অতি সাধারণ চলাফেরায় ভিভিআইপি প্রটোকল সীমিত রেখে ট্রাফিক ব্যবস্থায় পরিবর্তন এনেছে প্রশাসন। রাষ্ট্রীয় সফরের সময় বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা সীমিত করা হয়েছে।

৩৮. দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগীদের টানাপোড়েন বন্ধ করতে অনলাইন আবেদন বাধ্যতামমূলক করা হয়েছে; অনলাইন ভূমি উন্নয়ন কর ব্যবস্থা চালু এবং ডিজিটাল ম্যাপিং পাইলটিং শুরু করে নকশা জালিয়াতি প্রতিরোধ করা হচ্ছে। ২৪/৭ হটলাইনও চালু করা হয়েছে।

৩৯. পদ্মা অববাহিকার বিস্তৃত কৃষি অঞ্চলকে মরুকরণ থেকে রক্ষা ও শুষ্ক মৌসুমে পর্যাপ্ত পানি নিশ্চিত করার জন্য পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।

৪০. এমপি-মন্ত্রীদের শুল্কমুক্ত গাড়ি ও সরকারি প্লট গ্রহণ না করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, ফলে রাষ্ট্রীয় ব্যয় কমবে।

৪১. সরকার পাটজাত পণ্যের ব্যবহার বাড়াতে বিভিন্ন সরকারি অফিস ও বেসরকারি শিল্পকে পাটজাত পণ্য ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছে।

৪২. ডেঙ্গু প্রতিরোধে সাপ্তাহিক জাতীয় পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলছে; স্থানীয় প্রশাসন ও কমিউনিটির সমন্বয়ে কার্যক্রম চলমান।

৪৩. দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা হামের টিকাদান কর্মসূচি পুনরায় চালু করে দ্রুত সারাদেশে টিকা প্রদানের লক্ষ্যে কাজ চলছে।

৪৪. চাঁদাবাজি ও অনৈতিক কার্যকারিতার বিরুদ্ধে গোয়েন্দা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছে; জনবান্ধব পুলিশ গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

৪৫. ঢাকায় পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক বাস চালু করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে; নারীদের জন্য নিরাপদ বিশেষায়িত পিংক বাস সার্ভিস চালুরও প্রস্তুতি চলছে।

৪৬. জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন আইন সংশোধনের খসড়া চূড়ান্ত হয়েছে—নদী দখল ও দূষণকে ফৌজদারি অপরাধ গণ্য করার এবং কঠোর শাস্তির বিধান রাখার প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

৪৭. বিদ্যুৎ ও অর্থ অপচয় রোধে রাষ্ট্রীয় ইফতার সীমিত করা হয়েছে; সরকারি প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে ১১ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

৪৮. প্রথমবারের মতো এনটিআরসির মাধ্যমে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, কলেজ অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ নিয়োগে পরীক্ষাভিত্তিক মেধা-নির্ভর পদ্ধতি প্রবর্তনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

৪৯. দেশের একমাত্র সরকারি তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারির সক্ষমতা বাড়াতে দ্বিতীয় ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে; ২০২৯ সালে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চালু করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ও আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হবে।

৫০. ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসন ও ভিন্ন স্থানে ব্যবসা চালানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

৫১. সরকার একটি মুক্ত, উদার ও গণতান্ত্রিক সমাজ গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ; মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, স্বাধীন গণমাধ্যম ও বাধাহীন চিন্তার পরিবেশ রক্ষায় গত দুই মাসে কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি বলে দাবি করা হয়েছে।

৫২. ত্রিপাক্ষিক আলোচনা ও কর্মকৌশল নির্ধারণ করে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল দ্রুত চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

৫৩. বিমানবন্দরে ফ্রি ইন্টারনেট ব্যবস্থা চালুর নির্দেশ দেয়া হয়েছে; ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও সৈয়দপুর বিমানবন্দরে ইতোমধ্যে এই সেবা দেয়া শুরু হয়েছে।

৫৪. চলন্ত ট্রেনের যাত্রীসুবিধার জন্য ফ্রি ইন্টারনেট সেবা চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে; কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর আধুনিকীকরণে আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে ২,৩৩৬টি কারিগরি ও ৮,২৩২টি মাদ্রাসায় ফ্রি ওয়াইফাই চালুর পরিকল্পনা আছে।

৫৫. অর্থনৈতিক কূটনীতিতে প্রবাসীদের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে; দূতাবাস ও মিশনগুলোকে বাণিজ্য প্রচার, বিনিয়োগ আকর্ষণ ও বৈদেশিক জনশক্তি রপ্তানিতে ভূমিকা রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

৫৬. পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার মাধ্যমে বিশ্বের সকল দেশের সঙ্গে সম্পর্ক শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে—পানিসীমা, সীমান্ত হত্যা রোধ, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও শিক্ষা-সংস্কৃতিতে দ্বিপক্ষীয় সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেয়া হচ্ছে।

৫৭. বিদেশে পাচারকৃত অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে প্রাথমিকভাবে ১০টি দেশের সঙ্গে সম্পদ শনাক্তকরণ এবং পারস্পরিক আইনগত সহায়তা জোরদার করা হচ্ছে।

৫৮. উপকূলীয় অঞ্চলে নদীভাঙন রোধ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ঘোষণা করা হয়েছে।

৫৯. মানবাধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করা বিএনপির ইশতেহারের অন্যতম অঙ্গ—মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্রের মানদণ্ডে সরকার মানবাধিকার রক্ষার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।

৬০. সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন উল্লেখ করেছেন, এই ৬০টি পদক্ষেপই সরকারের অগ্রযাত্রার ভিত্তি; বাধা থাকলে তা কাটিয়ে আগামী দিনগুলোতে দেশের সার্বিক উন্নয়ন অগ্রসর রাখাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। তিনি সবাইকে দেশের উন্নয়নকে অটল রাখার জন্য দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।