০৩:১২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
অনলাইন জুয়ার লেনদেনে দিনে ৫ কোটি: টঙ্গী–কুমিল্লায় অভিযানে ছয় গ্রেফতার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব শিশুদের মানবিক গড়ে তোলায় শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ুন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত নগর গড়তে কাজ করছে সরকার: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মানব পাচার ও প্রযুক্তি অপব্যবহার রোধে নতুন আইন কার্যকর হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রানা প্লাজা ধসের ১৩ বছর: বিচার থেমে, ন্যায়বিচারের অপেক্ষা অব্যাহত

আজ রানা প্লাজা ধসের ১৩তম বার্ষিকী। ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারের সেই বহুতল ভবন ধসে বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ শিল্পদুর্ঘটনায় পরিণত হয়েছিল—এই দুর্ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়ায় ১১৩৬, আর আহত হন সহস্রাধিক শ্রমিক। ওই দিন ও পরে চলে উদ্ধারকাজ, যা সারাবিশ্বে প্রশস্ত নৃশংসতার প্রতিচ্ছবি হয়ে ওঠে এবং দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশ নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে তীব্র প্রশ্ন তোলেনা ছিল না।

দুর্ঘটনার দুই বছর পর, ২০১৫ সালে সিআইডি ৪১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়; প্রধান আসামি ছিলেন সোহেল রানা। ২০১৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার শুরু হলেও পরের বছরগুলোতে বহু আইনি কৌশল, উচ্চ আদালতে স্থগিতাদেশের আবেদন ও আসামিপক্ষের বারবার সময়প্রার্থনার কারণে মামলার কার্যক্রম অপ্রত্যাশিতভাবে বিলম্বিত হয়।

সাক্ষ্যগ্রহণ ২০২২ সালে পুনরায় শুরু করা হলেও গতি ছিল চরম মন্থর। মোট ৫৯৪ জন সাক্ষীর মধ্যে গত আট বছরে মাত্র ১৪৫ জনই আদালতে গিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ রয়েছে—কর্যকরভাবে গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের আদালতে হাজির করা হচ্ছে না এবং পুলিশের উদাসীনতার ফলেই বিচার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

২০২৪ সালের জানুয়ারিতে দেশের সর্বোচ্চ আদালত ছয় মাসের মধ্যে মামলাটি নিষ্পত্তি করার জোরালো নির্দেশনা দিলেও বাস্তবে তেমন কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয় না। প্রধান আসামি সোহেল রানা নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন এবং দীর্ঘ সময় আটক থাকাকে অন্যায় বলে মনে করেন। আবার নিহতদের পরিবার ও আহত শ্রমিকরা বহু বছরে বিধ্বস্ত জীবনযাপন করেছেন; তাদের দাবি এখনও অপরিবর্তিত—সর্বোচ্চ শাস্তি, সুবিচার, ক্ষতিপূরণ এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণ।

স্মরণ দিবসে শুক্রবার সকালে সাভারের দুর্ঘটনাস্থলে অস্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন নিহতদের আত্মীয়-স্বজন, শ্রমিক ও বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা। একই সঙ্গে বহুগুণিত দাবিতে মিছিল ও মানববন্ধনও অনুষ্ঠিত হয়—দ্রুত বিচার এবং ক্ষতিগ্রস্তদের যথাযথ পুনর্বাসন তারা বারবার জোর দিয়ে বলেছেন।

মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে আগামী ৩০ এপ্রিল। মামলার সংশ্লিষ্টরা মনে করেন—রাষ্ট্রপক্ষ যদি প্রতিসাক্ষীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করে এবং তদন্ত ও আদালত সম্মিলিতভাবে গতিশীল ভূমিকা রাখে, তবেই দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই বিচারিক প্রক্রিয়ার সমাপ্তি ও ন্যায়বিচার আসা সম্ভব হবে। পরিবারের অপেক্ষা এখনও অবসান লাভ করেনি; ততক্ষণ এই ট্র্যাজেডির বেদনাটা বাংলাদেশের মনে জেগে থাকবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

রানা প্লাজা ধসের ১৩ বছর: বিচার থেমে, ন্যায়বিচারের অপেক্ষা অব্যাহত

প্রকাশিতঃ ০২:২৭:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

আজ রানা প্লাজা ধসের ১৩তম বার্ষিকী। ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারের সেই বহুতল ভবন ধসে বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ শিল্পদুর্ঘটনায় পরিণত হয়েছিল—এই দুর্ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়ায় ১১৩৬, আর আহত হন সহস্রাধিক শ্রমিক। ওই দিন ও পরে চলে উদ্ধারকাজ, যা সারাবিশ্বে প্রশস্ত নৃশংসতার প্রতিচ্ছবি হয়ে ওঠে এবং দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশ নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে তীব্র প্রশ্ন তোলেনা ছিল না।

দুর্ঘটনার দুই বছর পর, ২০১৫ সালে সিআইডি ৪১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়; প্রধান আসামি ছিলেন সোহেল রানা। ২০১৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার শুরু হলেও পরের বছরগুলোতে বহু আইনি কৌশল, উচ্চ আদালতে স্থগিতাদেশের আবেদন ও আসামিপক্ষের বারবার সময়প্রার্থনার কারণে মামলার কার্যক্রম অপ্রত্যাশিতভাবে বিলম্বিত হয়।

সাক্ষ্যগ্রহণ ২০২২ সালে পুনরায় শুরু করা হলেও গতি ছিল চরম মন্থর। মোট ৫৯৪ জন সাক্ষীর মধ্যে গত আট বছরে মাত্র ১৪৫ জনই আদালতে গিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ রয়েছে—কর্যকরভাবে গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের আদালতে হাজির করা হচ্ছে না এবং পুলিশের উদাসীনতার ফলেই বিচার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

২০২৪ সালের জানুয়ারিতে দেশের সর্বোচ্চ আদালত ছয় মাসের মধ্যে মামলাটি নিষ্পত্তি করার জোরালো নির্দেশনা দিলেও বাস্তবে তেমন কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয় না। প্রধান আসামি সোহেল রানা নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন এবং দীর্ঘ সময় আটক থাকাকে অন্যায় বলে মনে করেন। আবার নিহতদের পরিবার ও আহত শ্রমিকরা বহু বছরে বিধ্বস্ত জীবনযাপন করেছেন; তাদের দাবি এখনও অপরিবর্তিত—সর্বোচ্চ শাস্তি, সুবিচার, ক্ষতিপূরণ এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণ।

স্মরণ দিবসে শুক্রবার সকালে সাভারের দুর্ঘটনাস্থলে অস্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন নিহতদের আত্মীয়-স্বজন, শ্রমিক ও বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা। একই সঙ্গে বহুগুণিত দাবিতে মিছিল ও মানববন্ধনও অনুষ্ঠিত হয়—দ্রুত বিচার এবং ক্ষতিগ্রস্তদের যথাযথ পুনর্বাসন তারা বারবার জোর দিয়ে বলেছেন।

মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে আগামী ৩০ এপ্রিল। মামলার সংশ্লিষ্টরা মনে করেন—রাষ্ট্রপক্ষ যদি প্রতিসাক্ষীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করে এবং তদন্ত ও আদালত সম্মিলিতভাবে গতিশীল ভূমিকা রাখে, তবেই দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই বিচারিক প্রক্রিয়ার সমাপ্তি ও ন্যায়বিচার আসা সম্ভব হবে। পরিবারের অপেক্ষা এখনও অবসান লাভ করেনি; ততক্ষণ এই ট্র্যাজেডির বেদনাটা বাংলাদেশের মনে জেগে থাকবে।