০১:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
অনলাইন জুয়ার লেনদেনে দিনে ৫ কোটি: টঙ্গী–কুমিল্লায় অভিযানে ছয় গ্রেফতার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব শিশুদের মানবিক গড়ে তোলায় শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ুন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত নগর গড়তে কাজ করছে সরকার: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মানব পাচার ও প্রযুক্তি অপব্যবহার রোধে নতুন আইন কার্যকর হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অর্থনৈতিকভাবে দুর্বলদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল জনগোষ্ঠীর কাছে ন্যায়বিচারে পৌঁছানো নিশ্চিত করতে সরকার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। ন্যায়বিচার প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার; সংবিধানের ২৭ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সব নাগরিক আইনের দিক থেকে সমান এবং আইনের আশ্রয় পাওয়ার অধিকার রাখে—যা জাতিসংঘের মূল ঘোষণাপত্রের নীতিরও প্রতিফলন। বর্তমান সরকার বিশ্বাস করে, কেউ অর্থের অভাবে আইনের কাছে গিয়ে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হবে না—এটাই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মৌলিক দাবি।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর শাহবাগের শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে ‘জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস-২০২৬’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করেন যে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে তিনি নিজেও দীর্ঘ সময় কারাগারে ছিলেন। তখন কারাগারে বহু মানুষ ছিলেন, যারা আর্থিক দুরবস্থার কারণে বছরের পর বছর নির্যাতিত ও বিনা বিচারে অবস্থান করতে বাধ্য হয়েছেন। এসব অভিজ্ঞতার আলোকে সরকার নিশ্চিত করতে চায় যে, আর্থিক সীমাবদ্ধতা কারো ন্যায়বিচার পাওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবে না।

তিনি আরও বলেন, ন্যায়বিচার কেবল আদালত বা আইনের বিষয় নয়—এটি একটি মানবিক ও দায়বদ্ধ রাষ্ট্রব্যবস্থার মূল ধারা। একটি দেশের অগ্রগতি ও শান্তি প্রতিষ্ঠা পায় তখনই, যখন সমাজে সমতা, পারস্পরিক আস্থা ও সহমর্মিতা রয়ে যায়। আইন মানুষের ওপর প্রয়োগের হাতিয়ার না হয়ে তাদের মর্যাদা ও অধিকার রক্ষার মাধ্যম হলেই ন্যায়পরায়ণতা কাজের রূপ নেয়।

দীর্ঘ দেড় দশক পর জনগণ পুনরায় গণতন্ত্রের পথে ফিরে এসেছে—এই পথকে সুসংহত করতে রাষ্ট্রে ন্যায়বিচারের শাসন প্রতিষ্ঠা অনিবার্য, বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, ন্যায়বিচার কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের মাত্র কাজ নয়; এটি প্রতিটি রাষ্ট্রনীতি ও সংস্থার কার্যক্রমে প্রতিফলিত হওয়া উচিত।

সরকারের লিগ্যাল এইড (আইনি সহায়তা) কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, যাতে কোনো ভুক্তভোগী কেবল টাকার অভাবে আইনজীবীর সহায়তা নিতে না পেরে বিচার থেকে বঞ্চিত না হয়, সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। ন্যায়বিচারের বিষয়টি শুধুই আইনের বইয়ে সীমাবদ্ধ থাকবে না, সমাজের প্রতিটি মানুষের বাস্তব জীবনে তা নিশ্চিত হবে—এটাই সরকারের লক্ষ্যমাত্রা।

বিচারে দীর্ঘ বিলম্বকে বিচারাবিচার হিসেবে দেখা যায়—এই বাস্তবতা মাথায় রেখে সরকার মামলা শুরুর আগেই মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা চালু করেছে। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে ইতোমধ্যেই হাজারো বিরোধ দ্রুত, কম ব্যয়ে ও আদালতের বাইরে সমাধান হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে কয়েক মাস কিংবা বছরের পরিবর্তে মাত্র কয়েক বৈঠকে সমস্যার সমাধান সম্ভব হওয়ায় আদালতের ওপর চাপও কমেছে এবং সরকারের ব্যয়ও হ্রাস পেয়েছে।

জনগণের প্রতি আস্থা বজায় রাখতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ: যেকোনো প্রয়োজনে রাষ্ট্র নাগরিকদের পাশে থাকবে এবং লিগ্যাল এইড সেই আস্থার প্রতিফলন হবে। প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত সবাইকে এক সঙ্গে একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক রাষ্ট্র গড়ে তোলার আহ্বান জানান, যেখানে ন্যায়বিচারই শেষ কথা হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সেরা প্যানেল আইনজীবী হিসেবে ঢাকার সায়েম খান ও রাজশাহীর নীলিমা বিশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে ক্রেস্ট ও সম্মাননা গ্রহণ করেন। এছাড়া সারাদেশে লিগ্যাল এইড কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাককে (সমাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা কর্মসূচি) মনোনীত করা হয়; ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ সম্মানপত্র ও ক্রেস্ট গ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মনজুরুল হাসান প্রমুখ বক্তব্য দেন। প্রধানমন্ত্রীর কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর বার্তাটি স্পষ্ট—আইন ও ন্যায়বিচারের সত্যিকারের প্রয়োগ নিশ্চিত করতেই সরকার প্রয়োজনীয় নীতিগত ও কর্মতৎপরতা বাড়াচ্ছে, যাতে প্রতিটি নাগরিক, বিশেষত অর্থনৈতিকভাবে দুর্বলরা, মর্যাদাহীনতা ও অবিচারের শিকার না হয়।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

অর্থনৈতিকভাবে দুর্বলদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিতঃ ০৭:২৮:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল জনগোষ্ঠীর কাছে ন্যায়বিচারে পৌঁছানো নিশ্চিত করতে সরকার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। ন্যায়বিচার প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার; সংবিধানের ২৭ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সব নাগরিক আইনের দিক থেকে সমান এবং আইনের আশ্রয় পাওয়ার অধিকার রাখে—যা জাতিসংঘের মূল ঘোষণাপত্রের নীতিরও প্রতিফলন। বর্তমান সরকার বিশ্বাস করে, কেউ অর্থের অভাবে আইনের কাছে গিয়ে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হবে না—এটাই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মৌলিক দাবি।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর শাহবাগের শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে ‘জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস-২০২৬’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করেন যে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে তিনি নিজেও দীর্ঘ সময় কারাগারে ছিলেন। তখন কারাগারে বহু মানুষ ছিলেন, যারা আর্থিক দুরবস্থার কারণে বছরের পর বছর নির্যাতিত ও বিনা বিচারে অবস্থান করতে বাধ্য হয়েছেন। এসব অভিজ্ঞতার আলোকে সরকার নিশ্চিত করতে চায় যে, আর্থিক সীমাবদ্ধতা কারো ন্যায়বিচার পাওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবে না।

তিনি আরও বলেন, ন্যায়বিচার কেবল আদালত বা আইনের বিষয় নয়—এটি একটি মানবিক ও দায়বদ্ধ রাষ্ট্রব্যবস্থার মূল ধারা। একটি দেশের অগ্রগতি ও শান্তি প্রতিষ্ঠা পায় তখনই, যখন সমাজে সমতা, পারস্পরিক আস্থা ও সহমর্মিতা রয়ে যায়। আইন মানুষের ওপর প্রয়োগের হাতিয়ার না হয়ে তাদের মর্যাদা ও অধিকার রক্ষার মাধ্যম হলেই ন্যায়পরায়ণতা কাজের রূপ নেয়।

দীর্ঘ দেড় দশক পর জনগণ পুনরায় গণতন্ত্রের পথে ফিরে এসেছে—এই পথকে সুসংহত করতে রাষ্ট্রে ন্যায়বিচারের শাসন প্রতিষ্ঠা অনিবার্য, বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, ন্যায়বিচার কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের মাত্র কাজ নয়; এটি প্রতিটি রাষ্ট্রনীতি ও সংস্থার কার্যক্রমে প্রতিফলিত হওয়া উচিত।

সরকারের লিগ্যাল এইড (আইনি সহায়তা) কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, যাতে কোনো ভুক্তভোগী কেবল টাকার অভাবে আইনজীবীর সহায়তা নিতে না পেরে বিচার থেকে বঞ্চিত না হয়, সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। ন্যায়বিচারের বিষয়টি শুধুই আইনের বইয়ে সীমাবদ্ধ থাকবে না, সমাজের প্রতিটি মানুষের বাস্তব জীবনে তা নিশ্চিত হবে—এটাই সরকারের লক্ষ্যমাত্রা।

বিচারে দীর্ঘ বিলম্বকে বিচারাবিচার হিসেবে দেখা যায়—এই বাস্তবতা মাথায় রেখে সরকার মামলা শুরুর আগেই মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা চালু করেছে। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে ইতোমধ্যেই হাজারো বিরোধ দ্রুত, কম ব্যয়ে ও আদালতের বাইরে সমাধান হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে কয়েক মাস কিংবা বছরের পরিবর্তে মাত্র কয়েক বৈঠকে সমস্যার সমাধান সম্ভব হওয়ায় আদালতের ওপর চাপও কমেছে এবং সরকারের ব্যয়ও হ্রাস পেয়েছে।

জনগণের প্রতি আস্থা বজায় রাখতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ: যেকোনো প্রয়োজনে রাষ্ট্র নাগরিকদের পাশে থাকবে এবং লিগ্যাল এইড সেই আস্থার প্রতিফলন হবে। প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত সবাইকে এক সঙ্গে একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক রাষ্ট্র গড়ে তোলার আহ্বান জানান, যেখানে ন্যায়বিচারই শেষ কথা হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সেরা প্যানেল আইনজীবী হিসেবে ঢাকার সায়েম খান ও রাজশাহীর নীলিমা বিশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে ক্রেস্ট ও সম্মাননা গ্রহণ করেন। এছাড়া সারাদেশে লিগ্যাল এইড কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাককে (সমাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা কর্মসূচি) মনোনীত করা হয়; ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ সম্মানপত্র ও ক্রেস্ট গ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মনজুরুল হাসান প্রমুখ বক্তব্য দেন। প্রধানমন্ত্রীর কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর বার্তাটি স্পষ্ট—আইন ও ন্যায়বিচারের সত্যিকারের প্রয়োগ নিশ্চিত করতেই সরকার প্রয়োজনীয় নীতিগত ও কর্মতৎপরতা বাড়াচ্ছে, যাতে প্রতিটি নাগরিক, বিশেষত অর্থনৈতিকভাবে দুর্বলরা, মর্যাদাহীনতা ও অবিচারের শিকার না হয়।