১২:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
শুভ বৌদ্ধ পূর্ণিমায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৌদ্ধ নেতাদের শুভেচ্ছা বিনিময় ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হবে না: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরবরাহ সংকটে সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে সংবিধান সংশোধনের জন্য ১৭ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন হবে সরকার বন্ধ বিমানবন্দর পুনরায় চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে সেতুমন্ত্রী জামায়াতকে রাজনীতি শেখার পরামর্শ দিলেন ৫ জেলায় বন্যার আশঙ্কা, চার নদী বিপৎসীমার ওপর সাংসদে অসুস্থ এমপি রবিউল বাশারের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী রোজ গার্ডেন কেনায় রাষ্ট্রকে ৩৩২ কোটি টাকার ক্ষতির অভিযোগ অর্থনৈতিকভাবে দুর্বলদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

এফবিসিআই প্রস্তাব: ব্যক্তিগত করমুক্ত আয়সীমা ৫ লাখ টাকা করা হোক

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে ব্যক্তিগত করমুক্ত আয়সীমা বাড়িয়ে ৫ লাখ টাকা করার জোরালো প্রস্তাব দিয়েছে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন এফবিসিসিআই। সংগঠনটি সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখা, করের পরিধি বিস্তৃত করা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এক সিরিজ সুপারিশ তুলে ধরেছে।

বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও এফবিসিসিআইয়ের ৪৬তম পরামর্শক কমিটির সভায় এসব প্রস্তাবনা আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করেন এফবিসিসিআই প্রশাসক মো. আবদুর রহিম খান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

করনীতির ক্ষেত্রে সংস্থাটি সাধারণ নাগরিকদের জন্য করমুক্ত সীমা ৫ লাখ এবং নারী ও প্রবীণ নাগরিকদের জন্য তা ৫.৫ লাখ টাকা করার সুপারিশ করেছে। এফবিসিসিআই মনে করে এতে ভোক্তা চাহিদি বজায় রেখে জীবনযাত্রার ব্যয় সহজতর হবে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত নয় এমন প্রতিষ্ঠানের করপোরেট করহার বর্তমান ২৭.৫ শতাংশ থেকে আগাম ২৫ শতাংশ করা ও ভবিষ্যতে তা ধাপে ধাপে ২০–২২ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি। ব্যবসায়িক ব্যয়ের বোঝা কমাতে ন্যূনতম কর হার ১ শতাংশ থেকে ০.৫ শতাংশে নামিয়ে পরবর্তীকালে সম্পূর্ণ বন্ধ করার কথাও বলা হয়েছে।

অ_import_ কাঁচামালের ওপর অগ্রিম কর ২ শতাংশ থেকে ১ শতাংশ করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে যাতে উৎপাদন ব্যয় কমে এবং রপ্তানিমুখী শিল্পের প্রতিযোগিতা বাড়ে। একই সঙ্গে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য ইলেকট্রনিক ইনভয়েসিং (ই-ইনভয়েস) চালু ও রাজস্ব প্রশাসনের আধুনিকায়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এফবিসিসিআই সরকারের ২০৩৫ সালের মধ্যে কর-জিডিপি অনুপাত ১৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যকে বৈধতা দেয় এবং এ লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রশাসনিক সংস্কার প্রয়োজনীয় বলেও মত প্রকাশ করে।

দেশের আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে এফবিসিচিআই। পাশাপাশি বিদেশে অর্থ পাচার রোধ ও পাচারকৃত সম্পদ ফেরানোর ব্যাপারে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

রপ্তানিমুখী শিল্পকে সহায়তা দিতে সংগঠনটি পরামর্শ দিয়েছে আগামী পাঁচ বছরে উৎসে কর ০.৫০ শতাংশে রেখে সুবিধা বজায় রাখতে; তৈরি পোশাকসহ সব রপ্তানিমুখী খাতের জন্য এ সুবিধা অপরিহার্য বলে তারা মনে করে। ক্ষুদ্র রপ্তানিকারীদের সুবিধার জন্য একটি কেন্দ্রীয় বন্ডেড ওয়্যারহাউস নির্মাণ এবং এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের (ইডিএফ) পরিধি সম্প্রসারণেরও প্রস্তাব করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির মতো ইউটিলিটি সার্ভিসে বিশেষ প্রণোদনারও আহ্বান জানানো হয়েছে।

ব্যবসায়িক সক্ষমতা বাড়াতে সুদের হার কমানো, এবং ঢাকা ও চট্টগ্রামে পৃথক লার্জ ও মিডিয়াম ট্যাক্সপেয়ার ইউনিট (LTU/MTU) স্থাপনের প্রস্তাবও করা হয়েছে। এফবিসিসিআই বলছে, এসব উদ্যোগ করপ্রণয়ন ও অবকাঠামো উন্নয়নে সহায়ক হবে এবং বিনিয়োগ বাড়াবে।

সংস্থাটি আগামী ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারে রূপান্তর এবং পরবর্তী পাঁচ বছরে এক কোটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছে। সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারের জন্য বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ভাতা বৃদ্ধির পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ভাষা শিক্ষা ও আধুনিক দক্ষতায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে বৈদেশিক শ্রমবাজারে অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।

এফবিসিসিআইয়ের কাছে ঐসব প্রস্তাব বাজেট প্রণয়নের সময় গুরুত্ব পেলে একটি স্বচ্ছ, আধুনিক ও ব্যবসাবান্ধব কর ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে বলে তারা বিশ্বাস করে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হবে না: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

এফবিসিআই প্রস্তাব: ব্যক্তিগত করমুক্ত আয়সীমা ৫ লাখ টাকা করা হোক

প্রকাশিতঃ ০২:২৪:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে ব্যক্তিগত করমুক্ত আয়সীমা বাড়িয়ে ৫ লাখ টাকা করার জোরালো প্রস্তাব দিয়েছে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন এফবিসিসিআই। সংগঠনটি সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখা, করের পরিধি বিস্তৃত করা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এক সিরিজ সুপারিশ তুলে ধরেছে।

বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও এফবিসিসিআইয়ের ৪৬তম পরামর্শক কমিটির সভায় এসব প্রস্তাবনা আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করেন এফবিসিসিআই প্রশাসক মো. আবদুর রহিম খান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

করনীতির ক্ষেত্রে সংস্থাটি সাধারণ নাগরিকদের জন্য করমুক্ত সীমা ৫ লাখ এবং নারী ও প্রবীণ নাগরিকদের জন্য তা ৫.৫ লাখ টাকা করার সুপারিশ করেছে। এফবিসিসিআই মনে করে এতে ভোক্তা চাহিদি বজায় রেখে জীবনযাত্রার ব্যয় সহজতর হবে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত নয় এমন প্রতিষ্ঠানের করপোরেট করহার বর্তমান ২৭.৫ শতাংশ থেকে আগাম ২৫ শতাংশ করা ও ভবিষ্যতে তা ধাপে ধাপে ২০–২২ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি। ব্যবসায়িক ব্যয়ের বোঝা কমাতে ন্যূনতম কর হার ১ শতাংশ থেকে ০.৫ শতাংশে নামিয়ে পরবর্তীকালে সম্পূর্ণ বন্ধ করার কথাও বলা হয়েছে।

অ_import_ কাঁচামালের ওপর অগ্রিম কর ২ শতাংশ থেকে ১ শতাংশ করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে যাতে উৎপাদন ব্যয় কমে এবং রপ্তানিমুখী শিল্পের প্রতিযোগিতা বাড়ে। একই সঙ্গে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য ইলেকট্রনিক ইনভয়েসিং (ই-ইনভয়েস) চালু ও রাজস্ব প্রশাসনের আধুনিকায়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এফবিসিসিআই সরকারের ২০৩৫ সালের মধ্যে কর-জিডিপি অনুপাত ১৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যকে বৈধতা দেয় এবং এ লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রশাসনিক সংস্কার প্রয়োজনীয় বলেও মত প্রকাশ করে।

দেশের আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে এফবিসিচিআই। পাশাপাশি বিদেশে অর্থ পাচার রোধ ও পাচারকৃত সম্পদ ফেরানোর ব্যাপারে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

রপ্তানিমুখী শিল্পকে সহায়তা দিতে সংগঠনটি পরামর্শ দিয়েছে আগামী পাঁচ বছরে উৎসে কর ০.৫০ শতাংশে রেখে সুবিধা বজায় রাখতে; তৈরি পোশাকসহ সব রপ্তানিমুখী খাতের জন্য এ সুবিধা অপরিহার্য বলে তারা মনে করে। ক্ষুদ্র রপ্তানিকারীদের সুবিধার জন্য একটি কেন্দ্রীয় বন্ডেড ওয়্যারহাউস নির্মাণ এবং এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের (ইডিএফ) পরিধি সম্প্রসারণেরও প্রস্তাব করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির মতো ইউটিলিটি সার্ভিসে বিশেষ প্রণোদনারও আহ্বান জানানো হয়েছে।

ব্যবসায়িক সক্ষমতা বাড়াতে সুদের হার কমানো, এবং ঢাকা ও চট্টগ্রামে পৃথক লার্জ ও মিডিয়াম ট্যাক্সপেয়ার ইউনিট (LTU/MTU) স্থাপনের প্রস্তাবও করা হয়েছে। এফবিসিসিআই বলছে, এসব উদ্যোগ করপ্রণয়ন ও অবকাঠামো উন্নয়নে সহায়ক হবে এবং বিনিয়োগ বাড়াবে।

সংস্থাটি আগামী ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারে রূপান্তর এবং পরবর্তী পাঁচ বছরে এক কোটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছে। সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারের জন্য বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ভাতা বৃদ্ধির পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ভাষা শিক্ষা ও আধুনিক দক্ষতায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে বৈদেশিক শ্রমবাজারে অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।

এফবিসিসিআইয়ের কাছে ঐসব প্রস্তাব বাজেট প্রণয়নের সময় গুরুত্ব পেলে একটি স্বচ্ছ, আধুনিক ও ব্যবসাবান্ধব কর ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে বলে তারা বিশ্বাস করে।